
মানুষ ঝগড়া কেন করে?
ঝগড়া করে তো শেষমেশ কিছুই পাওয়া যায় না। দুইজন মানুষ খুব কাছে অথচ চিৎকার করে কথা বলছে। ঝগড়ার সময় মানুষ আস্তে কথা বলতে পারে না। আসলে তখন তারা মনের দিক থেকে অনেক দূরে চলে যায়। তাই চিল্লাইয়া চিল্লাইয়া কথা বলে। এই শহরে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ঝগড়া হয়'ই। ভাই ভাই ঝগড়া করে, ভাই বোন ঝগড়া করে, ঝগড়া হয় মায়ের সাথে, বাবার সাথে। বন্ধুর সাথে। রিকশাওয়ালার সাথে, সবজি বিক্রেতার সাথে। বাসের কন্টাকটরের সাথে। চারিদিকে ঝগড়া আর ঝগড়া। মানুষ পারেও ঝগড়া করতে। ঝগড়া করে তো কোনো লাভ হয় না। শুধু দূরত্ব'ই বাড়ে। একটু 'ছাড়' দেওয়ার মানসিকতা থাকলে কিন্তু ঝগড়া হয় না। এই সমাজে কেউ 'ছাড়' টাই দিতে চায় না। শিশু বয়সে সন্তানের সবচেয়ে বড় শাস্তি বাবা মায়ের ঝগড়া দেখা।
রাস্তাঘাটে প্রচুর ঝগড়া হয়।
সেই সমস্ত ঝগড়া আমি এড়িয়ে যাই না। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখি। বুঝতে চেষ্টা করি, কার দোষ বেশি। ঝগড়াটা লাগলো কেন? মাঝে মাঝে খুব সাহসী হয়ে ঝগড়া মিটমাট করার চেষ্টা করি। এজন্য সুরভির কাছ থেকে অনেক বোকা খেয়েছি। সম্পূর্ন অপরিচিত লোকদের ঝগড়া মিটমাট করতে আমার ভালো লাগে। বেশির ভাগ সময় আমি দুই পক্ষের কথা শুনি। তারপর তাদের হাত মিলিয়ে দেই- একদম নিরপেক্ষ থেকে। রাস্তাঘাটে যত ঝগড়া হয়- সবাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মজা দেখে। কিন্তু কেউ এসে ঝগড়া থামাবার চেষ্টা করে না। বেশীর ভাগ ঝগড়া শেষমেশ মারামারির পর্যায়ে চলে যায়। কতদিন মারামারি থামাতে গিয়ে আমি দুই পক্ষের মাঝখানে পড়ে ব্যথা পেয়েছি- তার হিসাব নাই। চোখের সামনে ঝগড়াঝাটি দেখলে না গিয়ে পারি না।
আমাদের পাশের বাসায় ইদানিং খুব ঝগড়া হচ্ছে।
শুধু ঝগড়া না ঝগড়ার সাথে কুৎসিত সব গালি। রাত দুইটা বেজে যায় তবু ঝগড়া থামে না। ভদ্রমহিলা তার ছেলে এবং ছেলের বউদের কুৎসিত সব গালাগাল দেয়। ছেলের বৌ'রাও আজকাল আর চুপ থাকছে না। তারাও খারাপ গালি দেওয়া শুরু করেছে। বৌ শ্বাশুরির ঝগড়া মনে হয় অতি প্রাচীন। ঝগড়া শুনে আমি পাশের বাসায় গিয়েছিলাম- তাদের ঝগড়া থামাতে। ভদ্রমহিলা আমাকে কুৎসিত সব গালি দিয়েছেন। অথচ এই মহিলা একবার অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তখন তার বাসায় কেউ ছিলো না। আমি তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। আমি বললাম, আন্টি নিজের ছেলেকে কেউ এমন গালি দেয়? তাছাড়া আপনার ছেলের বৌয়েরা তো খারাপ না। তারা শিক্ষিত মানুষ। ভালো মানুষ। আন্টি রেগে গিয়ে আমাকে কিছুক্ষন অভিশাপ দিলেন। ভয়াবহ সব অভিশাপ। সেদিন ছিলো আবার ঈদের দিন। পৃথিবীতে ঝগড়া না থাকলে পৃথিবীটা আরো সুন্দর হতো।
তালি কখনোই এক হাতে বাজে না।
ঝগড়াতে তারাই জোরে কথা বলে, যাদের ঝগড়াতে কোনো যুক্তি থাকে না। ফলে অবচেতন থেকে তারা জোরে কথা বলতে থাকে এবং মনে করে জোরে বললেই সম্ভবত যুক্তি প্রতিষ্ঠা করা যাবে। ঝগড়া করে জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট করাটা চরম বোকামী। প্রয়োজনে চোখ বন্ধ করে বিনা দ্বিধায় ক্ষমা করে দিন, তবু ঝগড়া করতে যাবেন না। আমি কারো সাথে ঝগড়া করি না। কেউ আমার সাথে ঝগড়া করলেও আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে ক্ষমা করে দেই। কাউকে ক্ষমা করে দিলে মনে অনেক আনন্দ পাওয়া যায়। এই সমাজে শতকরা ৯০ ভাগ ডিভোর্সের কারণ হল ঝগড়া। ঝগড়াতে কেউ কখনো জয়লাভ করেনা। ঝগড়ায় অর্থ হোক, সম্মান হোক কিছু না কিছু হারাবেই। ঝগড়া করা পশুর স্বভাব কারণ পশুরা ভাল ব্যাবহার বোঝে না কিন্তু ঝগড়া, মারামারি ঠিকই করতে পারে।
আমি আমার এ ছোট্ট জীবনে একটি জিনিস শিখেছি-
আর তা হল আপনি না চাইলে কেউ আপনার সাথে ঝগড়া করার সুযোগ পাবে না। ঝগড়া করে সমস্যার সমাধান হয়না। সমাধান চাইলে আলোচনায় বসতে হবে। মনে রাখবেন, একজন সুস্থ ব্যক্তি কখনো ঝগড়া করতে পারেনা। সুতরাং যিনি ঝগড়া করছেন তিনি মানসিক বা শারিরীক ভাবে অসুস্থ। টিভিতে যখন রাজনৈতিক বচসা হয়, তখন খুব তর্কাতর্কি, চিল্লাচিল্লি হয়। বহু লোক আছেন নিজের বন্ধু, ভাই বা আত্মীয় স্বজনের সাথে ঝগড়া করে ৫/৭ বা দশ বছর ধরে কথা বলেন না। এমন কি মুখের দিকে তাকান না পর্যন্ত। জীবন অনেক ছোট। কি দরকার ভাই- ঝগড়া করার? ঝগড়ার পর কথা বন্ধ, মুখ দেখাদেখি বন্ধ। শেষমেশ তাতে লাভটা কি হয়? কোনো লাভ নাই। এড়িয়ে যান, ছাড় দিন, ক্ষমা করে দিন- তাহলেই আর ঝগড়া হবে না। সবচেয়ে বড় কথা মানুষকে ভালোবাসুন। ভালোবাসলে ঝগড়া হয় না।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ১১:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




