somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ঝগড়া

৩০ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ১১:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




মানুষ ঝগড়া কেন করে?
ঝগড়া করে তো শেষমেশ কিছুই পাওয়া যায় না। দুইজন মানুষ খুব কাছে অথচ চিৎকার করে কথা বলছে। ঝগড়ার সময় মানুষ আস্তে কথা বলতে পারে না। আসলে তখন তারা মনের দিক থেকে অনেক দূরে চলে যায়। তাই চিল্লাইয়া চিল্লাইয়া কথা বলে। এই শহরে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ঝগড়া হয়'ই। ভাই ভাই ঝগড়া করে, ভাই বোন ঝগড়া করে, ঝগড়া হয় মায়ের সাথে, বাবার সাথে। বন্ধুর সাথে। রিকশাওয়ালার সাথে, সবজি বিক্রেতার সাথে। বাসের কন্টাকটরের সাথে। চারিদিকে ঝগড়া আর ঝগড়া। মানুষ পারেও ঝগড়া করতে। ঝগড়া করে তো কোনো লাভ হয় না। শুধু দূরত্ব'ই বাড়ে। একটু 'ছাড়' দেওয়ার মানসিকতা থাকলে কিন্তু ঝগড়া হয় না। এই সমাজে কেউ 'ছাড়' টাই দিতে চায় না। শিশু বয়সে সন্তানের সবচেয়ে বড় শাস্তি বাবা মায়ের ঝগড়া দেখা।

রাস্তাঘাটে প্রচুর ঝগড়া হয়।
সেই সমস্ত ঝগড়া আমি এড়িয়ে যাই না। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখি। বুঝতে চেষ্টা করি, কার দোষ বেশি। ঝগড়াটা লাগলো কেন? মাঝে মাঝে খুব সাহসী হয়ে ঝগড়া মিটমাট করার চেষ্টা করি। এজন্য সুরভির কাছ থেকে অনেক বোকা খেয়েছি। সম্পূর্ন অপরিচিত লোকদের ঝগড়া মিটমাট করতে আমার ভালো লাগে। বেশির ভাগ সময় আমি দুই পক্ষের কথা শুনি। তারপর তাদের হাত মিলিয়ে দেই- একদম নিরপেক্ষ থেকে। রাস্তাঘাটে যত ঝগড়া হয়- সবাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মজা দেখে। কিন্তু কেউ এসে ঝগড়া থামাবার চেষ্টা করে না। বেশীর ভাগ ঝগড়া শেষমেশ মারামারির পর্যায়ে চলে যায়। কতদিন মারামারি থামাতে গিয়ে আমি দুই পক্ষের মাঝখানে পড়ে ব্যথা পেয়েছি- তার হিসাব নাই। চোখের সামনে ঝগড়াঝাটি দেখলে না গিয়ে পারি না।

আমাদের পাশের বাসায় ইদানিং খুব ঝগড়া হচ্ছে।
শুধু ঝগড়া না ঝগড়ার সাথে কুৎসিত সব গালি। রাত দুইটা বেজে যায় তবু ঝগড়া থামে না। ভদ্রমহিলা তার ছেলে এবং ছেলের বউদের কুৎসিত সব গালাগাল দেয়। ছেলের বৌ'রাও আজকাল আর চুপ থাকছে না। তারাও খারাপ গালি দেওয়া শুরু করেছে। বৌ শ্বাশুরির ঝগড়া মনে হয় অতি প্রাচীন। ঝগড়া শুনে আমি পাশের বাসায় গিয়েছিলাম- তাদের ঝগড়া থামাতে। ভদ্রমহিলা আমাকে কুৎসিত সব গালি দিয়েছেন। অথচ এই মহিলা একবার অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তখন তার বাসায় কেউ ছিলো না। আমি তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। আমি বললাম, আন্টি নিজের ছেলেকে কেউ এমন গালি দেয়? তাছাড়া আপনার ছেলের বৌয়েরা তো খারাপ না। তারা শিক্ষিত মানুষ। ভালো মানুষ। আন্টি রেগে গিয়ে আমাকে কিছুক্ষন অভিশাপ দিলেন। ভয়াবহ সব অভিশাপ। সেদিন ছিলো আবার ঈদের দিন। পৃথিবীতে ঝগড়া না থাকলে পৃথিবীটা আরো সুন্দর হতো।

তালি কখনোই এক হাতে বাজে না।
ঝগড়াতে তারাই জোরে কথা বলে, যাদের ঝগড়াতে কোনো যুক্তি থাকে না। ফলে অবচেতন থেকে তারা জোরে কথা বলতে থাকে এবং মনে করে জোরে বললেই সম্ভবত যুক্তি প্রতিষ্ঠা করা যাবে। ঝগড়া করে জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট করাটা চরম বোকামী। প্রয়োজনে চোখ বন্ধ করে বিনা দ্বিধায় ক্ষমা করে দিন, তবু ঝগড়া করতে যাবেন না। আমি কারো সাথে ঝগড়া করি না। কেউ আমার সাথে ঝগড়া করলেও আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে ক্ষমা করে দেই। কাউকে ক্ষমা করে দিলে মনে অনেক আনন্দ পাওয়া যায়। এই সমাজে শতকরা ৯০ ভাগ ডিভোর্সের কারণ হল ঝগড়া। ঝগড়াতে কেউ কখনো জয়লাভ করেনা। ঝগড়ায় অর্থ হোক, সম্মান হোক কিছু না কিছু হারাবেই। ঝগড়া করা পশুর স্বভাব কারণ পশুরা ভাল ব্যাবহার বোঝে না কিন্তু ঝগড়া, মারামারি ঠিকই করতে পারে।

আমি আমার এ ছোট্ট জীবনে একটি জিনিস শিখেছি-
আর তা হল আপনি না চাইলে কেউ আপনার সাথে ঝগড়া করার সুযোগ পাবে না। ঝগড়া করে সমস্যার সমাধান হয়না। সমাধান চাইলে আলোচনায় বসতে হবে। মনে রাখবেন, একজন সুস্থ ব্যক্তি কখনো ঝগড়া করতে পারেনা। সুতরাং যিনি ঝগড়া করছেন তিনি মানসিক বা শারিরীক ভাবে অসুস্থ। টিভিতে যখন রাজনৈতিক বচসা হয়, তখন খুব তর্কাতর্কি, চিল্লাচিল্লি হয়। বহু লোক আছেন নিজের বন্ধু, ভাই বা আত্মীয় স্বজনের সাথে ঝগড়া করে ৫/৭ বা দশ বছর ধরে কথা বলেন না। এমন কি মুখের দিকে তাকান না পর্যন্ত। জীবন অনেক ছোট। কি দরকার ভাই- ঝগড়া করার? ঝগড়ার পর কথা বন্ধ, মুখ দেখাদেখি বন্ধ। শেষমেশ তাতে লাভটা কি হয়? কোনো লাভ নাই। এড়িয়ে যান, ছাড় দিন, ক্ষমা করে দিন- তাহলেই আর ঝগড়া হবে না। সবচেয়ে বড় কথা মানুষকে ভালোবাসুন। ভালোবাসলে ঝগড়া হয় না।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ১১:০৭
১৯টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাদিক হাসনাতের প্রোগামে রাজাকার মঈনুদ্দীন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



এই ছবিটি লন্ডনে অনুষ্ঠিত হওয়া নিজেস্ব অর্থায়নে সাদিক হাসনাতের প্রোগামের। অসংখ্য আঙ্কেল আন্টিদের মাঝে একজন বিশেশ লোককে দেখা গেল সেখানে। লোকটাকে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে ছবিতে। এই লোকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চেয়ে চেয়ে দেখুন

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৩১


আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ; স্বাভাবিকভাবেই তারা অনলাইনে কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে। মাঝেমধ্যে ঝটিকা মিছিল করে তাদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে।

রাজনীতিতে সক্রিয় বিএনপি ও জামায়াত-এনসিপি গং। বিএনপি ও জামায়াত আগে জোটবদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



'এই জল ভালো লাগে; বৃষ্টির রূপালি জল কত দিন এসে
ধুয়েছে আমার দেহ- বুলায়ে দিয়েছে চুল-চোখের উপরে
তার শান-স্নিগ্ধ হাত রেখে কত খেলিয়াছে, আবেগের ভরে
ঠোঁটে এসে চুমো দিয়ে চলে গেছে কুমারীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাম্বা/খাল তারেক কে কিছু উপলব্ধি শেয়ার করছি

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪২

আজ আর মনের মাধুরী মিশিয়ে বকাঝকা করব না। আজ কিছু ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা শেয়ার করব।



খাল খনন বা ঢাকার বাসস্ট্যান্ড সরানোর চেয়ে কি কি গুরুত্বপূর্ন কাজ এই অর্থবছরে করা যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×