
বাংলাদেশ গরীব দেশ নয়।
অথচ ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি আমাদের দেশটা গরীব। একে তো গরীব তার উপরে মানুষ বেশি। দেশে সমস্যার শেষ নেই। দেশ স্বাধীন হলো কত বছর হয়ে গেলো তবুও আমরা গরীব। কিন্তু আমাদের গরীব থাকার কথা ছিলো না। সরকারি আয়ের প্রধান উৎস হলো কর রাজস্ব বাবদ সংগৃহীত অর্থ। সারা বছর কর থেকে যত টাকা ইনকাম হয় সরকারের তার চেয়ে বেশী ইনকাম করা সম্ভব। কিভাবে? দেশের সমস্ত দূর্নীতিবাজের কাছে যে পরিমান অর্থ আছে, সেই টাকা ও সম্পদ গুলো নিয়ে নিলে অথবা দূর্নীতি বন্ধ করতে পারলে আমাদের টাকার অভাব হবে না।
প্রতিটা দূর্নীতিবাজের ঘরে কমপক্ষে পাঁচ শ' কেজি সোনা আছে। এবং নগদ টাকা যে পরিমানে আছে, সেই টাকা একটা ব্যাংকেও নেই। একজন দূর্নীতিবাজকে গর্ব করে বলতে শুনেছি, সারা বাংলাদেশে ক্যাশ টাকা আমার চেয়ে বেশি আর কারো কাছে নেই। প্রতিটা দূর্নীতিবাজের কাছে প্রচুর ক্যাশ টাকা আছে। আলমারিতে থরে থরে সাজানো টাকা। এমন কি তারা সেই টাকা নানান পরিচিত মানুষের কাছে গচ্ছিত রেখেছে। নানান নামে ব্যাংকে তো রেখেছেই। দূর্নিতিবাজদের ঘর সার্চ করলে বস্তা-বস্তা ভর্তি টাকা পাওয়া যাবে। যাবেই। প্রতিটা দূর্নীতিবাজের দুই তিন হাজার বিঘা করে জমি আছে। বিদেশে কি কি করেছে সেই সঠিক হিসাব আমার কাছে নেই। অথচ দেশে বেকারের অভাব নেই। দরিদ্র লোকের অভাব নেই।
রাজস্ব আয়ের বাইরে সরকারের জন্য অর্থের উৎস হচ্ছে ঋণ নেওয়া। কিন্তু ঋণ নেওয়ার কোনো দরকার নাই সরকারের। দূর্নীতিবাজদের ধরে ধরে তাদের টাকা এবং সম্পদগুলো নিয়ে সরকারি কোষাগারে জমা করতে হবে। চারিদিকে এত এত দূর্নীতিবাজ যে সরকার তাদের সম্পত্তি জব্দ, ক্রোক ও বাজেয়াপ্ত করলে দেশে টাকা আর সম্পদের অভাব হবে না। কৃষক, কামার, কুমার, জেলে এদের কাছে টাকা এবং সম্পত্তি পাওয়া যাবে না। কিন্তু যারা রাজনীতি করে, যারা সরকারী চাকরি করে, মন্ত্রী, এমপি, সচিব, জনপ্রতিনিধি এবং যারা রাজনীতিবিদদের ছত্রছায়ায় থাকে তাদের টাকার অভাব নাই। তাদের শহর ও গ্রামের ঘরবাড়ি, সিন্ধুক, উঠান, স্টোর রুম, পুকুর, গোয়াল ঘর, ইত্যাদি তল্লাশি করলে যে পরিমান ক্যাশ টাকা, গহনা, এবং ডলার পাওয়া যাবে তা দিয়ে সরকার দেশটা সুন্দর করে সাজাতে পারবে। অবশ্য এসব চোরেরা শেখ হাসিনার আশে পাশেই থাকে। সব সম্পদই রাষ্ট্রের। অথচ ওরা নিজের বাপের সম্পদ মনে করে দখল করে আছে। সরকার নিরব, যেন কিছুই জানে না।
ভূমি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি হচ্ছে সেই রকম।
ঘুষ ছাড়া কাজ হয়েছে এমন ঘটনা বিরল সরকারী অফিস গুলোতে। বছর তিনেক আগে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা বাড়ানো হয়েছে শতকরা ৮০ শতাং। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি ছিল নজীরবিহীন ঘটনা। সরকারের তরফ থেকে যুক্তি দেখানো হয়েছিল, বেতন ভাতা বৃদ্ধি করলে সরকারি অফিসে দুর্নীতির প্রবণতা কমে আসবে। কিন্তু বাস্তবে সেটির কোন প্রতিফলন দেখা যায়নি। পৃথিবীর কোন দেশেই শুধু বেতন বাড়িয়ে দুর্নীতি বন্ধ করা যায়নি। দুর্নীতি করলে শাস্তি পেতে হবে- এটা দুদক নিশ্চিত করতে পারে নি আজও। রাষ্ট্রযন্ত্রের যদি সদিচ্ছা থাকে তাহলে দুর্নীতি কমিয়ে আনা সময়ের ব্যাপার মাত্র। বাংলাদেশের রাজনীতি কিছু পরিবার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই পরিবার গুলো সিন্দাবাদের ভূতের মতো বাংলাদেশের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে আছে। স্বাধীন দেশের স্বাধীন মানুষ হয়েও নিজেদের দুর্নীতির কারণে আমরা তলিয়ে যাচ্ছি ক্ষুধা, দারিদ্র্য, হতাশা আর সামাজিক সংকটের অতল সমুদ্রে।
একটি প্রবাদ আছে- ‘যে লঙ্কায় যায়, সেই রাবণ হয়।’
অর্থাৎ যে ব্যক্তি ক্ষমতা হাতে পায় সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে। ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা সবাইকে তাদের হাতের মুঠোয় নিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সকলের ওপর তাদের কর্তৃত্ব থাকে। তাই তারা নির্বিঘ্নে দুর্নীতি করতে পারে। তাদেরকে কারো কাছে জবাবদিহি করতে হয় না। দুর্নীতি দেশকে আরো বেশি দরিদ্র করে ফলে। দেশের সামাজিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে। বাংলাদেশে পরিবার থেকেই শিশুরা ছোটখাটো অন্যায় শিখে বড় হয়। শৈশবে পরিবার থেকে, সমাজ থেকেই সাধুতার শিক্ষা, নীতি এবং নৈতিকতার শিক্ষা মানুষ পায়। ছোটখাট অপরাধই বড় অন্যায় ও দুর্নীতির দিকে মানুষকে নিয়ে যায়। দুর্নীতি দমন কমিশন বড় দুর্নীতিবাজদের ধরতে পারছে না। ফলে দুর্নীতি কমছে না। বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি কখনো থামেনি, দুর্নীতিও কমেনি। দু'টোই বাড়ছে।
বঙ্গবন্ধু বেপরোয়া দুর্নীতিপরায়নদের শায়েস্তা তো দূরের কথা, নিয়ন্ত্রণও করতেও ব্যর্থ হয়েছিলেন। আমরা তো সাধারণ মানুষ। দুর্নীতিবাজদের ক্ষমতা ও পেশি শক্তির কাছে আমরা নিতান্তই নিরীহ। সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে, ব্যথা পেলে শিশু হাসে না, জনসংখ্যা প্রতিদিন বাড়ে এবং দুর্নীতিও বাড়ে। সরকারের সর্বস্তরের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা করা উচিত। মাদকের চেয়ে দুর্নীতি বেশী খারাপ। হোক সে আমলা, রাজনীতিবিদ বা সরকারের যে কোনো উঁচু পদের কেউ। সব দুর্নীতিবাজদের প্রতি সমান ঘৃণা। কারন আমি আমার দেশটাকে ভালোবাসি। যারা এই দেশটার বারোটা বাজাচ্ছে তাদের জন্য আছে একরাশ ঘৃণা।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১২:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




