somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

বইপত্র

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১২:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমার কিছু মনে থাকে না।
আমি অনেক বই পড়েছি কিন্তু তার অধিকাংশই ভুলে গেছি। পড়া বই হাতে নিই কিন্তু বইয়ের কাহিনী কিচ্ছু মনে পড়ে না। তবে, বই পড়ার ফলে, এখনকার আমি'র সাথে আগের আমি'র অনেক তফাৎ। এবং সেজন্যই আমি বই পড়ে যাব। মনে থাকুক আর নাইবা থাকুক। সম্প্রতি পড়ে শেষ করলাম, চৌরঙ্গী। শঙ্কর এর লেখা উপন্যাস। এই লেখকের বইগুলো পড়তে ভালো লাগে। কেমন একটা আলাদা স্বাদ পাওয়া যায়। চৌরঙ্গীর কাহিনী হলোঃ সম্ভ্রান্ত পরিবারের এক বেকার যুবকের সংগ্রাম দিয়ে গল্পের শুরু। তারপর ঘটনা এগিয়ে গেছে নানান দিকে। 'আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর' পড়তে শুরু করেছি। সাংবাদিক আবুল মনসুর আহমদ এর লেখা। আবুল মনসুর আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সিনিয়ত ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। পূর্ব পাকিস্তানের মন্ত্রীও ছিলেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনার সমন্বয় হচ্ছে এই বই।

হুমায়ুন আজাদ স্যারের লেখা 'নারী'
আমার এই ক্ষুদ্র জীবনে পড়া শ্রেষ্ঠতম বইগুলোর একটা। এই বইটা জীবনে সবারই একবার না একবার পড়াটা দরকার। বইয়ের নামঃ 'অন দ্য শর্টনেস অব লাইফ'। লেখকের নামঃ সেনেকা। অনুবাদ: সাবিদিন ইব্রাহিম। এই স্বল্পমেয়াদী জীবনকে যদি ফলবান, মূল্যবান করতে চাইলে, সময়কে কীভাবে কাজে লাগাতে হবে সে বিষয়ে কার্যকরী সদুপদেশ নিয়ে সেনেকার এই বই। চেতন ভগতের 'হাফ গার্লফ্রেন্ড'। বইটার খুব নাম ডাক শুনেছি। কিন্তু আমার কাছে ভালো লাগে নি। লেখকের প্রতি সম্মান রেখেই বলতে চাই, বইটা আমার ভালো লাগে নি এর সম্পূর্ন দায়ভার আমার। আজগুবি যুক্তিহীন কাহিনীর মধ্যে সামঞ্জস্যহীন ঘটনা প্রবাহতে ভরপুর একটি বই আমার 'ফিলিংস' গুলোকেই ভোঁতা করে দিয়েছিল। এই বইটা নিয়ে মুভিও হয়েছে।

প্রতিটা বাঙ্গালীর একটা বই পড়া দরকার।
সেটা হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী'। বইয়ের নাম- 'পালামৌ'। লিখেছেন- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এক বসায় পড়ে ফেলার মতন ছোট একটি বই। প্রকৃতির অসাধারণ সব বর্ণনা আর পরতে পরতে কিছু হালকা-পাতলা জীবনদর্শন, কোল উপজাতি আর সংস্কৃতির কথা- সব মিলিয়ে এক সুখকর পাঠ। স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্বভ্রমণ করেছিলেন। প্রথমে ভারতবর্ষ ঘুরেন। এরপর দুই ধাপে ইউরোপ ঘুরেছেন। সেখানে উনি যা দেখেছেন, শুনেছেন তার বেশকিছু অভিজ্ঞতা নিজস্ব সহজ স্বাভাবিক ভাষায় অত্যন্ত পরিশীলিত রসবোধের মাধ্যমে লিখে গেছেন। স্বামী বিবেকানন্দ এর 'পরিব্রাজক'। দারুন একটা বই। 'বাঙ্গালীর ইতিহাস' বইটি লিখেছেন- নীহার রঞ্জন রায়। গোটা দুনিয়ার লোকজনের হাঁড়ির খবর রাখা বাঙালির নিজেদের ইতিহাস জানতে তীব্র অনীহা। কেন রে ভাই! বইটা পড়ুন ভালো লাগবে।

প্রবীর ঘোষের কোনো লেখা কি আপনারা পড়েছেন?
আমি পড়েছি- 'আমি কেন ঈশ্বরে বিশ্বাস করিনা' বইটি। ঈশ্বর বিশ্বাসী মানুষদের সরলতার সুযোগ নিয়ে এক শ্রেনীর লোক ধর্ম ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এই বই এইসব লোকজনের ভণ্ডামির মুখোশ খুলে দিয়েছে। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় উপন্যাস ‘ঘরজামাই’ পড়ে শেষ করলাম। মাত্র ২৭ পৃষ্ঠার একটি উপন্যাস। উপন্যাসের মূল চরিত্র বিষ্ণুপদ। সে উঠতি বয়সে একটু ধন দৌলত এর লোভে ঘরজামাই হয়ে শ্বশুরবাড়ি যায় আর ফিরে আসেনা। উপন্যাসের শেষে এসে তার জামাই গোবিন্দ তাকে পদে পদে শিক্ষা দেয় এবং তার চোখে খুলে দেয়। বিষ্ণুপদ'র একজন কৃষক এবং সেই গ্রামের এক পাগলও বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা বলে। পারিবারিক জীবনের অনেক শিক্ষাই এই ২৭ পৃষ্ঠার উপন্যাসটিতে পেয়ে যাবেন আশা করছি।

নিমাই ভট্টাচার্যের 'মেমসাহেব' বইটা আমার ভীষন প্রিয়।
শত টানাপোড়েনের পরেও একজন বেকার কিভাবে তার পেশার সর্বোচ্চ পর্যায়ে উপনীত হয় তা এই বইয়ের মূল উপজীব্য। আর সমগ্র উপন্যাসটি চিঠির আকারে বর্ণনা করা হয়েছে। উপন্যাসটি কখনো আপনাকে হাসাবে, কখনো কাঁদাবে, আবার কখনোবা স্বপ্ন দেখতে শেখাবে। ইয়স্তেন গার্ডারের একটা বই পড়েছিলাম, 'সোফির জগৎ'। বইটা পড়ে কিচ্ছু বুঝি নি। অবশ্য এটা আমার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারনে। লেখকের কোনো দোষ নেই। তবে, দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের 'যে গল্পের শেষ নেই' বইটি ভালো লেগেছে। বইটি পৃথিবীর ইতিহাসের বই। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য অবশ্য পাঠ্য। বইটি পাঠ করলে ভালো লাগবে। মোটেও সময় অপচয় হবে না। বিখ্যাত ফরাসি উপন্যাস 'লা মিজারেবল'। এর লেখকের নাম ভিক্টর হুগো। দারুন এক বই।


আপনার জীবন বইয়ের মত সুন্দর হোক!
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১২:৪০
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×