somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমাদের শাহেদ জামাল (চৌদ্দ)

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১০:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে।
বৃষ্টির মধ্যে রমনা পার্কে যাওয়া যাবে না। আবার ঘরের মধ্যে সারাদিন থাকাও আনন্দময় কিছু না। শাহেদ জামালের ধারনা ঘরের লোকজন আজকাল তাকে আর পছন্দ করছে না। পছন্দ না করার কারন শাহেদ 'বেকার'। দীর্ঘদিন ধরে বেকার। বেকার শ্রেনীকে কেউ পছন্দ করে না। বেকার সব জায়গায় অবহেলিত। যেন তারা দুষিত। এদেরকে কাছে আসতে দেওয়া যাবে না। সকাল এগারোটা। শাহেদ যে এক কাপ চা চাইবে, তা তার সাহসে কুলাচ্ছে না। চা চাইলেই হয়তো তাকে ঝারি খেতে হবে। শাহেদ কাউকে বিরক্ত করতে চায় না। এই বৃষ্টির মধ্যে শাহেদ বের হলো। রাস্তার মোড়ের দোকানে গিয়ে এক কাপ চা নিলো। চায়ে চুমুক দিয়ে শাহেদের মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো। প্রচুর চিনি দিয়েছে। টাঙ্গাইলের চমচম এর চেয়ে বেশি মিষ্টি হয়ে গেছে চা। এক কাপ চায়ের দাম রাখে দশ টাকা। অথচ এই চা তিন টাকা হলেও বেশি হয়ে যায়। যার যা মন চায়, তাই করছে। কোনো নিয়ম কানুন নেই।

শাহেদ বড় রাস্তায় এসে দাড়ালো।
গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়েই যাচ্ছে। শাহেদ বেশ ভিজে গেছে। ভিজতে ভিজতেই শাহেদ একটা সিগারেট ধরালো। একটা সিগারেটের দাম ১৪ টাকা! ভাবা যায়? দাম ১৪ টাকা হলেও, রাখে ১৫ টাকা। সকাল থেকে অলরেডি ২৫ টাকা খরচ হয়ে গেছে। শাহেদের মেজাজ প্রচন্ড খারাপ হয়ে গেলো। বাসা থেকে এক শ' টাকা নিয়ে সে বের হয়েছে। এখন আছে ৭৫ টাকা। ৭৫ টাকা দিয়ে সারাদিন কিভাবে পার হবে! আজও কি দুপুরে না খেয়ে থাকতে হবে! গত সাত মাসে শাহেদের ওজন সাত কেজি কমেছে। এখন তাকে দেখলে জন্ডিসের রোগী বলে মনে হয়। অথচ শাহেদ ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছে তার চেহারা দেখতে গৌতম বুদ্ধের ছেলে রাহুলের মতোন। এবং তার চোখ কুনালের মতোন। মানুষ আসলে বাড়িয়ে বাড়িয়ে বলে। মানুষের সব কথা বিশ্বাস করতে হয় না।

শাহেদ এখন যাবে মতিঝিল।
সেখানে তার এক বড় ভাই আছেন। অগ্রনী ব্যাংকের বড় অফিসার। এই বড় ভাইয়ের সাথে শাহেদ আগে একটা সংগঠন করে ছিলো। তাদের সংগঠন থেকে দুঃস্থ অসহায় মানুষদের সাহায্য করা হতো। শাহেদকে দেখেই বড় ভাই বললেন, হে হে শাহেদ জামাল যে! আমার কী সৌভাগ্য! কত দিন পর এলে! শাহেদ এই বড় ভাইয়ের কাছে তিন মাস পর-পর আসে। বড় ভাই জোর করে দুপুরে খাইয়ে দেয়। যাবার সময় একটা খাম ধরিয়ে দেয় হাতে। খামে ৫ হাজার টাকা থাকে। গত পাঁচ বছর ধরে এরকমই হচ্ছে। বড় ভাই বললেন, দুপুর হয়ে গেছে। কি খাবে? শাহেদ বলে হাজির বিরানী। মতিঝিলে একটা শাখা আছে ওদের। বড় ভাই তার পিয়নকে পাঠিয়ে হাজির বিরানী আনেন, সাথে কোকও আনেন। শাহেদ জামাল বেশ আরাম করে খায়। তার খুব ভালো লাগে। আকাশের দিকে তাকাতেই শাহেদের চোখের সামনে দিয়ে একটা দোয়েল পাখি চলে গেলো।

শাহেদ বড় ভাই এর কাছ থেকে ছাড়া পেলো বিকাল চার টায়।
এই বড় ভাই মেকি ভালোবাসা দেখান না। একদম মন থেকে শাহেদকে ভালোবাসেন। শাহেদ অনেক খুশি। দুপুরে আরাম করে প্রিয় খাবার খেয়েছে। ক্যান্টিন থেকে বড় ভাই কফি আনিয়ে খাইয়েছেন। কফিটাও খুব ভালো ছিলো। শাহেদ পথে নামলো। আকাশ পরিস্কার। তার মন অনেক ভালো আজ। পকেটে একটা খাম আছে। খামে পাঁচ হাজার টাকা আছে। আজ বিকালে নীলাকে নিয়ে বের হলে কেমন হয়? অনেকদিন নীলার সাথে কোথাও যাওয়া হয় না। দু'জনে মিলে কোথাও বসে থাই স্যুপ খেলো। নীলা থাই স্যুপটা খুব পছন্দ করে। সাথে অনথন। নীলাকে একটা নীল শাড়ি কিনে দিলে কেমন হয়! নীলা নিশ্চয়ই খুব অবাক হবে। ভাববে শাহেদ বুঝি চাকরি পেয়েছে। একটা চাকরি পাওয়া এবং চাকরি চলে যাওয়া অনেক বড় ব্যাপার।

যদিও সন্ধ্যা ঘনায়মান।
নীলা শাহেদ বসে আছে ফুলার রোডে। আজ নীলা আকাশি নীল রঙের একটা শাড়ি পরেছে। শাড়ি পরাটা সুন্দর হয়েছে। কুচি ও শাড়ির পাড় ঠিকঠাক আছে। বেশির ভাগ মেয়েই সুন্দর করে শাড়ি পড়তে পারে না। চোখে কাজল দেওয়াতে নীলাকে খুব বেশি মায়াবতি লাগছে। নীলা যখন হাত নেড়ে নেড়ে কথা বলে তখনই তার হাতের কাঁচের চুড়ি গুলোতে রিনঝিন শব্দ হয়। শ্রুতিমধুর একটা শব্দ। এই কাঁচের চুড়ির শব্দটা শাহেদ এর খুব ভালো লাগে। নীলার কন্ঠ অতি মিষ্টি। শুনলে শুধু শুনতেই ইচ্ছা করে। বিয়ের পর নীলাকে সামনে বসিয়ে শাহেদ বলবে তুমি ননস্টপ কথা বলে যাও। একটুও থামবে না।
আকাশে বিজলি চমকাচ্ছে। ঠান্ডা বাতাসও দিচ্ছে। মনে হচ্ছে আবার বৃষ্টি শুরু হবে। শাহেদের খুব ইচ্ছা করছে নীলার হাতটা ধরতে। হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে একদন শহীদ মিনার পর্যন্ত যাবে। শাহেদ জানে মানুষের জীবনে বহু ইচ্ছা পূরন হবার নয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১০:৩১
৭টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বসনিয়ার জংগলে বসবাসরত বাংগালীদের নিয়ে আপনাদের বক্তব্য কি?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১:৫৪



বসনিয়া ও ক্রোয়েশিয়া সীমান্তের জংগলে প্রায় ২০০ বাংগালী ২ বছর বাস করছেন; এরা ক্রোয়েশিয়া ও শ্লোভেনিয়া অতিক্রম করে ইতালী, অষ্ট্রিয়া, ফ্রান্স, জার্মানী যাবার চেষ্টা করছেন; এছাড়া, জংগল থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসসালামু আলাইকুম - আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক'

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০২

শুদ্ধভাবে সালাম দেয়া ও আল্লাহ হাফেজ বলাকে বিএনপি-জামায়াতের মাসয়ালা ও জঙ্গিবাদের চর্চা বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান। ঢাবির অধ্যাপকের এই বক্তব্যে অনলাইনে প্রতিবাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান পারমানবিক বর্জ্য মেশানো পানি সাগরে ফেলবে

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৪


জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন ফুকুশিমার ১২ লাখ টন আনবিক তেজস্ক্রিয় পানি সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হবে । ২০১১ সালে এক ভুমিকম্প জনিত সুনামিতে ফুকুশিমা আনবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পপসিকল স্টিকসে আমার পুতুলের ঘর বাড়ি টেবিল চেয়ার টিভি

লিখেছেন শায়মা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩৭


ছোট্টবেলায় পুতুল খেলা খেলেনি এমন মেয়ে মনে হয় বাংলাদেশে তথা সারা বিশ্বেই খুঁজে পাওয়া যাবে না। দেশ বর্ণ জাতি ভেদেও সব মেয়েই ছোট্টবেলায় পুতুল খেলে। আবার কেউ কেউ বড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

বুয়েট-ছাত্র আবরার হত্যার দ্রুত বিচার কেন প্রয়োজন?

লিখেছেন এমএলজি, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:৪২

বুয়েট-ছাত্র আবরার হত্যার দ্রুত বিচার কেন প্রয়োজন?

আমি যে বুয়েটে পড়েছি সেই বুয়েট এই বুয়েট নয়। আমার পড়া বুয়েটে দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীদের পাঠিয়ে পিতামাতা নিশ্চিন্ত থাকতেন। আমার ব্যাচের দেশের সবকটি শিক্ষাবোর্ডের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×