somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ভালো মানুষ

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



একজন ভালোমানুষ অবশ্যই দয়ালু হবে।
সে সবসময় সত্যি কথা বলবে। যাকে বিনা দ্বিধায় যেন সবাই বিশ্বাস করতে পারে। আর ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে নয় সোজাসুজি কথা বলবে। সৎ থাকবে। নিজের এবং অন্যের ক্ষতি হয় এমন কাজ ভালো মানুষেরা করে না। কাউকে কষ্ট দিবে না। প্রত্যেক মানুষের মধ্যে ভালো ও মন্দ স্বত্ত্বা বিদ্যমান। সেই অনুপাত প্রকট ও প্রচ্ছন্ন রূপে আছে। কারো মধ্যে খারাপ স্বত্ত্বা যে অনুপাতে প্রকোট সেই অনুপাতে খারাপ। অন্য দিকে ভালোর ভালো স্বত্ত্বা বেশি করে প্রকোট, তাই সে ভালো। ভালো মানুষদের কথা বার্তায় রুডনেস প্রকাশ পায় না। আর ভুল বশত কখনও প্রকাশ পেলেই তারা ক্ষমা চেয়ে নেন। তারা মানুষদের সাথে কথা বলার সময় অতি নম্র ভাবে কথা বলেন।

খারাপ মানুষ যা করে, আপনি তা করবেন না।
তাহলেই ভালো মানুষ হতে পারবেন। আপনি নিজের ভালোর চিন্তা যদি ভালো ভাবে করতে পারেন তবে অবশ্যই আপনি ভালো মানুষ হতে পারবেন। পৃথিবীতে মূল্যবান বস্তু হচ্ছে হীরা, সোনা, মনি, মুক্তা। হীরা হীরাকেই তৈরী করে, ঠিক তেমনি ভালো পরিবারের আচার আচরণ এতো'ই ভালো যে স্বভাবগত ভাবে তাদের সন্তারদের জীবনে প্রাপ্ত হয়। আমরা জানি, এই পৃথিবীতে প্রত্যেকটি মানুষ আলাদা। আলাদা তার চিন্তা ভাবনা, ব্যবহার ও বৈশিষ্ট্য। আমরা যদি আমাদের মতো করে অন্যকে ভাবতে যাই, বিচার করি তখনি বাঁধে ঝামেলা। অন্যকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করা উচিত। আমার বিশ্বাস, একজন ভালো মানুষ হতে গেলে স্বর্গের প্রলোভন বা মর্ত্যের ভয় কোনোটাই থাকবে না। যারা প্রলোভন আর ভয় ছাড়া ভালো কাজ করতে অক্ষম তারা একদম ভালো মানুষ।

আমি নিজেকে অত্যন্ত ভাল মানুষ বলে মনে করি।
তা আপনি যাই বলুন। মানুষ হওয়ার কারনে আমাকে মৃত্যুর পরে আল্লাহর সামনে হিসেব দিতে হবে। কত ভালো হত যদি আমার জন্ম না হত বা আমি ছোট অবস্থায়'ই মারা যেতাম। বাংলাদেশের মানুষ যেমন পুলিশের রিমান্ডকে ভয় পায়, কিন্তু দুনিয়ার রিমান্ড যে কোন ভাবে এড়ানোর ব্যবস্থা আছে। কিন্তু মৃত্যুর পরে আল্লাহর কাছে দুর্নীতি চলে না। মানুষের মন কৌতূহলী, সামনে নতুন কিছু পেলেই কৌতূহল তার সর্বস্ব নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মানুষ হিসেবে অন্যের সম্পর্কে আমরা আলোচনা সমালোচনা করতেই বেশি পছন্দ করে থাকি। ভালো জামা কাপড় পড়লেই, ভালো মানুষ হয় না। ঠোঁটে সিগারেট গুঁজে স্মার্ট হওয়া যায় না। অনেকে বলেন, ধার্মিক মানুষরাই ভালো মানুষ। সে হোক ছেলে আর হোক মেয়ে। কারণ প্রতিটি ধর্মেই মানুষকে ভালো হওয়ার দিকে ধাবিত করে। আর তাই, যে মানুষ ধর্ম চর্চা করে, সে ভালো মানুষ হিসেবেই নিজেকে তৈরি করতে শিখে যায়।

আমাদের সমাজে এমন কিছু লোক আছেন যারা নিজেদেরকে খুব জ্ঞানী কিংবা কনফিডেন্স জাহির করতে চায়। আপনি যদি কোনো কাজ জান-প্রাণ দিয়েও করার চেষ্টা করেন তখন তারা আপনাকে বিভিন্ন ভাবে ডিমোটিভেট কিংবা উস্কানিমূলক কথা বলবে। আসলে এমন মানুষ কখনো চায় না যে, আরেকটা মানুষ তাদের চেয়ে আরো বেশি এগিয়ে যাক কিংবা উন্নতি করুক। এজন্য তারা অন্যদেরকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করে। যখন দিন শেষে মানুষটা সত্যি সফল হয় তখন তারা মানুষটার চোখে নিচু না হওয়ার জন্য না হওয়ার জন্য এ ধরনের কথা বলে যে, তুমি যাতে আরো বেশি বেশি করে চেষ্টা করো এ জন্যই তো তুমি আমি তোমাকে উস্কানি দিয়েছিলাম। আমার ভালো লাগার বিষয় হলো- মানুষ আর মানব চরিত্র। নতুন জন্মানো শিশু থেকে মৃত্যুর খুব কাছে থাকা মানুষটিও আমার শিক্ষক। সেই হিসেবে সবাই আমার শিক্ষক। আমার সার্টিফিকেট গুলো অর্জন করা বৃথাই গেলো।

এই পৃথিবীতে অনেক ধরনের মানুষই রয়েছে।
কেউ হয়তবা অনেক ভালো, কেউ অনেক বেশি খারাপ, কেউ আবার মাঝামাঝি পর্যায়ের। কিন্তু মানুষ জন্মগতভাবে কখনই খারাপ থাকে না। জন্মের পর পরিবেশগত কারণে বা অন্য কোনো বাস্তব কারণে খারাপের পথে অগ্রসর হয়। তবু সব মানুষের ভেতরেই একটি পবিত্র সত্ত্বা রয়েছে। পৃথিবীটিতে অনেক খারাপ কাজের মাঝে নিজেকে ভালো রাখাও অনেক কঠিন একটি কাজ। এই সমাজে শিশুদের নির্মোহভাবে চিন্তা করতে শেখানো সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ। সে যেন তার পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে যেটা শুনছে, পড়ছে বা দেখছে, সেটাকে অন্ধের মতো বিশ্বাস না করে, সবকিছুকেই যেন সে যাচাই বাছাই করে দেখার ক্ষমতা অর্জন করতে পারে। মৃত্যুর পর সৃষ্টিকর্তা যদি আমার উপর সন্তুষ্ট থাকেন এবং আমাকে স্বর্গের জন্য নির্বাচিত করেন তাহলে আমি বলতে পারবো আমি পৃথিবীতে ভালো কাজ করেছিলাম ও একজন ভালো মানুষ ছিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:০৮
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাইভেট জব

লিখেছেন রোদ্র রশিদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:১০



গত পনেরো দিন ধরে নতুন ম্যাডাম ইংরেজি ক্লাস নিচ্ছেন। ট্রায়াল ক্লাস। ম্যাডামকে এখনো কলেজে পারমানেন্ট করা হয়নি। উনি খুব একটা খারাপ পড়ান না।

আজকের ক্লাস শেষে ম্যাডামের মন খুব খারাপ।
খুব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জন্য ৭-গ্রেডভিত্তিক ন্যায়সংগত সরকারি বেতন ও প্রশাসনিক সংস্কার একটি প্রস্তাবিত নীতিপত্র

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য হ্রাস, মেধার মূল্যায়ন এবং দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সমন্বিত প্রস্তাব

বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ২০টি গ্রেডের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

দশ বছরের ব্লগিং—মিষ্টি মুখ হোক সবার

লিখেছেন কাওসার_সিদ্দিকী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৯

আজ আমার ব্লগিং যাত্রার দশ বছর দুই মাস পূর্ণ হলো। এই দীর্ঘ সময়ে পাঠকদের ভালোবাসা, মন্তব্য আর সমর্থন আমাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

এই আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাই আপনাদের সবার সাথে—তাই আজকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×