
পৃথিবীতে মানুষের বসবাস আদি পিতা আদম (আ.) ও আদি মাতা হাওয়া (আ.) এর দ্বারা শুরু হলেও এর বহুকাল আগ থেকেই এই ধরণীতে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ও জীবজন্তুর অস্তিত্বের প্রমান পাওয়া যায়। এই গ্রহের সর্বত্রই তাদের বিচরণ ছিল। একটা সময় মানুষ বন-জঙ্গল, সাগর-মহাসাগর, পাহাড়-পর্বত, মরুভূমি-বরফাঞ্চল এসবে ভূত-পেত্নী, দৈত্য-দানো, রাক্ষস-খোক্ষস থাকত বলে বিশ্বাস করত। ঊনবিংশ শতাব্দীতেও মানুষ মায়া সভ্যতা, ইনকা সভ্যতা, স্টোনহেঞ্জ, পিরামিড, ইয়েতি, বারমুডা ট্রায়াঙ্গল, আমাজন জঙ্গল, অ্যান্টার্কটিকা প্রভৃতির মধ্যে অপার রহস্য খুঁজে পেত। শিল্পবিপ্লবের পর যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটল, পৃথিবী এল মানুষের হাতের মুঠোয়, আর মানুষের বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতাও গেল কমে। সবকিছুরই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আসতে শুরু করল, রহস্য-টহস্য গেল ঘুচে। আগে মানুষ একটা বাঘের ছবি দেখলে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে থাকত, আর এখন মহাকাশ স্টেশনে নভোচারীদের ভাসতে দেখেও মানুষের বিস্ময় জাগে না।
পৃথিবীতে অলৌকিক বলে কিছু হয় না।
কঠোর সাধনায় এমন কিছু শক্তি মানুষ অর্জন করতে পারে যেটা সাধারণ মানুষের মধ্যে সহজাতভাবে নেই। তাই আমরা এই ঘটনা গুলিকে অলৌকিক ঘটনা বলে উল্লেখ করি। বরিশালের একটা ঘটনা বলি, বাংলাদেশ নামটার অস্তিত্ব তখন ছিল না, সেটা বলাই বাহুল্য। পুরো ভারতবর্ষে তখন ইংরেজদের আধিপত্য। ১৮৭০ সালের ঘটনা। আচমকা একটা বিকট শব্দ হয়। আর বরিশালের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ঘটা এই বিকট শব্দগুলোর নামই হলো ‘বরিশাল গানস’ বা গানস অব বরিশাল । ব্রিটিশরা বরিশালে আসার সময় নাম ছিল বাকেরগঞ্জ। বাকেরগঞ্জের ততকালীন ব্রিটিশ সিভিল সার্জন প্রথম ঘটনাটা লেখেন। বর্ষা আসার আগে আগে গভীর সাগরের দিক থেকে রহস্যময় কামান দাগার আওয়াজ আসতো। ব্রিটিশরা সাগরে জলদস্যু ভেবে খোজা খুজি করেও রহস্যভেদ করতে পারে নাই। সুফিয়া কামাল সহ বিভিন্ন সাহিত্য কর্মে এর নিদর্শন রয়েছে।
আপনি আছেন, আমি আছি, পাড়ার কুকুরটা আছে।
আমাদের সৃষ্টি করেছেন আমাদের বাবা-মা, তাঁদের সৃষ্টি করেছেন আমাদের পূর্বপুরুষ। কিন্তু সবার আগে এককোষী যে প্রোটোজোয়া? তাকে কে সৃষ্টি করল? না। কেউ এদের হাতে ধরে সৃষ্টি করেনি। এরা সৃষ্টি হয়েছে। যদি এই সৌর মন্ডল দেখেন, যদি প্রজাপতির ডানায় আঁকা অদ্ভুত সুন্দর নকশা দেখেন, তা হলে ভাবতে ইচ্ছে হবেই, এ নিশ্চই কারুর হাতের নিপুণ কাজ। কিন্তু আদতে তা হয়েছে অসংখ্য বছরের বিবর্তনের ফলে।
হোয়াইট হাউজ আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্টের বাসভবনই নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক ভবনও বটে। এখানকার কর্মচারী ও আশে পাশের মানুষ নিজের মুখেই স্বীকার করেছে তারা বিভিন্ন সময় হোয়াইট হাউসের প্রথম ফার্স্ট লেডি এবিগেইল অ্যাডামসের ভূত, কর্মচারী ডলি ম্যাডিসন সহ আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন, রুজভেল্ট, হ্যারিসন, রিগ্যান, অ্যান্ড্রু জ্যাকসনসহ আরও অনেকের আত্না তারা নিজ চক্ষে দেখেছে। এসব ঘটনা বড় বড় গণ মাধ্যমেও প্রকাশ পেয়েছে।
ইতিহাসের এক স্মরণীয় পুরুষ চেঙ্গিস খান।
ঘোড়া চালনা শিখেছিলেন বাল্যকালেই। এমনকি মাত্র ছ’ বছর বয়সেই তিনি তার নিজ গোত্রের সাথে শিকার অভিযানে বের হন। মঙ্গোল জাতির পত্তন ঘটানোর পর ৪০- ৫০ বছর বয়সের সময় তিনি বের হন বিশ্বজয়ে। ইতিহাসের এত বড় একজন মানুষ! এত বিখ্যাত, এত সমালোচিত, তিনি মারা গেলেন, আর তার সমাধি কোথায়, সেটা কেউ জানে না। এটা কীভাবে সম্ভব? আদৌ কি বিশ্বাসযোগ্য? কিন্তু বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও বিশ্বাস করতেই হবে। সত্যি তার সমাধির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এমনকি যারা তাকে সমাধিস্থ করেছিল, তাদের সম্পর্কেই জানা যায়নি তেমন কিছু। পৃথিবীর অনেক মানুষই বিশ্বাস করে চেঙ্গিস খানের সমাধিতে আছে অমূল্য রত্নভাণ্ডার!
প্রাচীন পৃথিবীর অনেক রহস্যই এখনো মানুষের কাছে উন্মোচিত হয়নি। এমনই এক রহস্যময় সভ্যতা হচ্ছে ইনকা সভ্যতা। বর্তমান পেরুর কুজকো এলাকায় সুপ্রাচীন ইনকা সভ্যতার যাত্রা শুরু হয়েছিল একটি উপজাতি হিসেবে। ইকুয়েডর, পেরু, বলিভিয়া, উত্তর পশ্চিম আর্জেন্টিনা, উত্তর চিলি ও দক্ষিণ কলম্বিয়া ইনকা সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




