
একটা ইরানি সিনেমা দেখলাম।
সিনেমায় ব্যাভিচারের শাস্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে। এক মহিলাকে গর্ত করে অর্ধেক মাটিতে পুতে একদল ছেলে, বুড়া মহা উৎসাহে পাথর ছুড়ে ছুড়ে মহিলাকে মারছে। পাথর এসে লাগছে মহিলার চোখে, মুখে, বুকে, গালে, কপালে। মহিলার পুরো মূখ রক্তে মাখামাখি। তবু পাথর নিক্ষেপ চলছেই। এটা এত মর্মান্তিক যা আমার মনে গভীর দাগ কেটে যায়। সিনেমাটা সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত। আমার জানা ছিল না ইসলামে নাকি এইটা আইন। আল্লাহর আইন। নবী নিজেই এই আইন প্রয়োগ করেছেন বহুবার। আমি অনেক আলেমদের সাথে কথা বললাম তারা সবাই বললেন হ্যা এটাই আল্লাহর আদেশ। এবং নির্দেশ হলো এই শাস্তি প্রয়োগ করার সময় কারো প্রতি করুনা করা যাবে না।
এখন বিজ্ঞানের যুগ।
মানুষ এখন জানতে শিখেছে, বুঝতেও শিখেছে। এখন যেকোনো ঘটনার ব্যাখ্যা বের করতে সক্ষম। ফলে সব কিছু অলৌকিক মনে হয় না। আমাদের দেশের সাধুসন্ত, যোগী ঋষিদের জীবন কাহিনীতে, নানারকম অলৌকিক ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায়। আমার দেখা এক সাধু বাবার কথা বলি- আমি আমার চাচার দোকানে বসে আছি। তখন এক পাগলা সাধু বাবা এলেন। আমি একটা একশো টাকার নোট কাউন্টারের উপর রেখে সাধু বাবাকে বললাম, টাকাটা ধরো আর যদি পারো আমাকে কিছু অলৌকিক ক্রিয়াকলাপ দেখাও। সাধু মুচকি হেসে বলছে আমি ওসব জানি না আর গায়ের কম্বল থেকে আঁশ ছিড়ছে। অল্প একটু আঁশ ছিঁড়ে মুঠোয় নিয়ে চাপ দিতেই মুঠো থেকে ঝরঝর করে পানি পড়তে থাকলো। অদ্ভুত ব্যাপার! এবার কম্বলের একটা খুট মুঠোয় নিয়ে চাপ দিতেই পানি ঝরতে শুরু করলো। এ এক তাজ্জব ব্যাপার, যারা দোকানে উপস্থিত ছিলেন তাদের কয়েকজন সাধুর কম্বল গা থেকে খুলে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালালো। কোথাও পানির কোন অস্তিত্ব খুঁজে পেল না। সাধু বাবা মুচকি হেসে বললো, এটা কোন অলৌকিক ক্ষমতা নয় এ হলো ম্যাজিক।
২০১২ সালের ঘটনা।
আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে পদ্মা নদী। সময় মোটামুটি বিকেল চারটা। এমন সময় পদ্মা নদীর পানি উরন্ত গতিতে চক্রাকারে ঘুরতে ঘুরতে আকাশের দিকে উঠতে থাকে। ভু পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত। চক্রটির ব্যাস ছিল প্রায় ১৫০ মিটার, এবং উপরের বাকি অংশটির ব্যাসার্ধ ছিল প্রায় ৭ থেকে ৬সিএম পাইপের মত। গ্রামবাসীদের মতে এটি দেখে মনে হচ্ছিল উপর থেকে হাতি যেন তার শূর নামিয়ে নদী থেকে পানি তুলছে। এই পানি বৃষ্টি আকারে অন্য কোথাও পতিত হবে। এই প্রক্রিয়াটি মোটামুটি ২০ মিনিট পরে বন্ধ হয়ে যায়। অনেকে বললেন, এরূপ ঘটনা তারা এর আগেও দেখেছেন। কিন্তু আমি আমার জীবনে নিজে চোখে একবারই দেখেছি। হয়তো এর ব্যাখ্যা আছে অবশ্যই। কিন্তু সেটা আমার জানা নেই।
এক জীবনে বেশ কয়েকবার অদ্ভুত ব্যাপার ঘটে।
আপনি যদি আপনার টেবিলের উপর রাখা আপনার পানির গ্লাসটিকে নড়তে দেখেন, আপনি ভয় পেয়ে যাবেন বা শিহরিত হয়ে চিতকার দিয়ে উঠবেন। কারন আপনি তা দেখে অভ্যস্ত নন বা আপনি জানেন না কোন শক্তি গ্লাসটিকে নাড়াচ্ছে। আপনার কাছে এটা অলৌকিক মনে হবে। আসলে বিষয়টি আমাদের এখনো অজানা। তা অলৌকিক।
পৃথিবীতে অলৌকিক শক্তিধর ব্যক্তি একজন নয়, অনেকেই ছিলেন, অনেকেই আছেন এবং অনেকেই থাকবেন। তবে হ্যাঁ যত না অলৌকিক শক্তি মানুষ সত্যি সত্যি আছেন তার চেয়ে অনেক গুণ বেশি ভণ্ড আছেন যারা ব্যবসা করতে চান। আমি অলৌকিক শক্তি সম্পন্ন মানুষ। তবে আমি মানুষ ঠকাই না। এমন কি আমার অলৌকিক ক্ষমতা কাউকে দেখাই না। তবে হ্যাঁ পানির উপর দিয়ে হাঁটতে পারি না বা আকাশে উড়তে পারি না।
মূর্খ ব্যক্তি কিভাবে প্রার্থনা করতে হয় তা বই থেকে পড়ে।
কিভাবে প্রার্থনা করলে নিরাকার খুশি হবে তা শেখে, কিভাবে নিরাকারের হাত থেকে বাঁচা যায় তা করে, কিভাবে নিরাকারের থেকে পুরস্কার পাওয়া যায় তাও করে। জ্ঞানী ব্যক্তি নিরাকারের প্রতি মন থেকে শ্রদ্ধা জানায়, ভালোবাসা জানায়। নিরাকারের সাথে মনে মনে একাত্ম হয়।
কেভিট-১৯ থেকে নিরাপদে থাকুন।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই নভেম্বর, ২০২০ রাত ১১:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




