somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

সামু্র উন্নয়নে যা করা যেতে পারে

১৮ ই নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ২:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আসসালামু আলাইকুম।
দীর্ঘদিন ধরে সামুতে আছি। টিকে আছি, ঝুলে আছি। তবুও আছি। নিজের পরিবারের প্রতি আমার যেরকম মায়া, সামুর প্রতিও আমার সেরকম মায়া-ভালোবাসা রয়েছে। বহু কিছু দেখেছি এই ব্লগ জীবনে। মারামারি, কাটাকাটি, খুন, ঝগড়া, অকথ্য ভাষায় গালাগালি, আন্তরিকতা, প্রেম ভালোবাসা, রাগ, অভিমান। বহু কিছুর সাক্ষী এই আমি। কেউ কেউ ব্লগিং করেই জাতে উঠে গেছেন। উন্নত দেশে চলে গেছেন, তারপর ব্লগিং ছেড়ে দিয়েছেন। নিজেই একটা সাইট খুলে নিয়েছেন। বহু ব্লগার রাগ- অভিমান করে সামু ছেড়ে দিয়েছেন। কারো কারো ব্যস্ততার কারনে ব্লগে আসা হয় না। আবার বহু ব্লগ হারিয়েছে গেছেন। সামুর ব্লগের উপর দিয়ে অনেক ঝড় ঝাপটা গিয়েছে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় সামু মাথা উঁচু করে ঠিকই দাঁড়িয়ে আছে। বিষয়টা আমাকে আনন্দ দেয়।

বেশ কিছুক্ষন যাবৎ ব্লগটা যেন থেমে আছে।
একটা লেখা পোস্ট করলে বারো ঘন্টা পার হয়ে যায়। তবু লেখা প্রথম পাতায় থেকে যায়। অর্থ্যাত পোষ্ট কম আসছে। কিন্তু এমনটা হওয়ার কথা ছিলো না। একসময় তো একটা লেখা প্রথম পাতায় পনের মিনিটের বেশি থাকতো না। প্রচুর মন্তব্য আসতো। হাজারবার করে প্রতিটা পোষ্ট পড়া হতো। এখন কেন এত ধীর গতি? এর কারন কি, সমস্যাটা কোথায় তা আমরা সকলেই কম বেশি জানি। এই সমস্যা সমাধানে সামু কি কি করছে তা আমরা জানি না। কি করে, কিভাবে ব্লগটাকে সব সময় প্রানবন্ত রাখা যায়- সেই চেষ্টা কতটূকু করা হচ্ছে তাও জানি না। জানি, সামু লালন-পালন করতে অনেক টাকা খরচ হয়। বছরের পর বছরের একজনের পক্ষে এই খরচ বহন করা বেশ কষ্টকর। চেষ্টা করলে এই খরচ সামু থেকেই উঠানো সম্ভব।

পত্রিকাওয়ালারা কি করে?
তারা মাছের তেল দিয়েই মাছ ভাজে। সামুকেও মাছের তেল দিয়ে মাছ ভাজা শিখতে হবে। সেই পথ আছে। সামুতে প্রতি মাসে দশ পনেরটা বিজ্ঞাপন থাকলে, সমস্ত খরচ দিয়েও- আরো টাকা জমবে। তখন একটা ফাউন্ডেশন দাঁড় করানো যাবে। ফেসবুকে বহু পেজ আছে। সেখানে মানুষ গল্প, কবিতা, ছবি পোস্ট করে। কিছুদিন পর তারা একটা ফাউন্ডেশন দাঁড় করিয়ে ফেলেছেন। বেশ ভালো ব্যবসা করছেন তারা। অথচ কোনো ইনভেস্ট করতে হয় নি। মাছের তেল দিয়েই মাছ ভাজা। সামুর বয়স তো কম না। সামুর কি কোনো ফাউন্ডেশন আছে? সামুর কি কোনো প্রকাশনী আছে? সামুর কি কোনো সংগঠন আছে? সামু কি আজও পেরেছে টাকা আসার কনো পথ তৈরি করতে? সামু কি পেরেছে তার গোল্ডেন ব্লগারদের সহযোগিতা নিতে বা সহযোগিতা করতে?

সামু হতে পারে সমাজ পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
একটা দৈনিক পত্রিকা বা অনলাইন নিউজ পোর্টাল থেকে সামু ব্লগ কোনো অংশে কম না। ঘরে ঘরে সামু ব্লগটাকে পৌঁছে দেওয়া দরকার ছিলো। তা সামু পারে নি। মনে হয় সেই চেষ্টা করেও নি। আমি বিশ্বাস করি, লিখে লিখে সমাজ, দেশ, সর্ব্বোপরি মানুষ বদলে দেওয়া সম্ভব। সামুর কাজ কি শুধু বছরে একবার কয়েকজন ব্লগারকে নিয়ে ব্লগ দিবস পালন করা? বছরে একবার বইমেলাতে বই বের করা? আর কোনো কাজ নেই? দায় দায়িত্ব নেই? সামুর উচিত প্রতি মাসে একবার 'গোল টেবিল' বৈঠক করা। শুধু ঢাকাতে না, দেশের সসব জেলাতে। এমন কি আমেরিকাতেও। সেই বৈঠকে ব্লগার যেমন থাকবে, থাকবে দেশের শিক্ষিত সমাজের মুক্তমনা লোকজন। তাদের দাওয়াত দিয়ে নিয়ে আসতে হবে। তাদের মুখ থেকে জোর করে ভালো ভালো কথা বের করে নিয়ে আসতে হবে।

কমপক্ষে দশ জন লোক নিয়োগ দিতে হবে।
এই দশজন লোক হবে শিক্ষিত, আধুনিক, পরিশ্রমী এবং স্মার্ট। তারা শুধু সামুর জন্য বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত কাজ করবে। তারা সারা ঢাকা শহর ঘুরে বেড়াবে। তারা ছোট বড় সব কোম্পানীতে যাবে। পাবলিক রিলেশন ডিভিশন (পিআরডি) গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকবে, গল্প করবে এবং বিজ্ঞাপন নিয়ে আসবে। কমপক্ষে প্রতিমাসে ৫ থেকে ৮ লাখ টাকা আসার কথা। ধীরে ধীরে টাকার পরিমান আরো বাড়বে। এটা অসম্ভব কিছু না। প্রচুর পত্রিকা আর অনলাইন নিউজ পোর্টাল তাই করছে। এবং তারা টিকে আছে। বহু ব্লগার বিজ্ঞাপন পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করতে পারবে। সেই সব ব্লগারদের সহযোগিতা নিতে হবে। বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য বহু প্রতিষ্ঠান বসে আছে। তাদেরকে বুঝিয়ে সুজিয়ে, মাথায় হাত বুলিয়ে, সোনা ভাই, মিয়াঁ ভাই বলে বিজ্ঞাপন পাওয়া অসম্ভব কিছু না। বিজ্ঞাপনের জন্য বড় বড় দশটা প্রতিষ্ঠান ধরতে পারলে আর পেছন ফিরে তাকাতে হবে না। সামুকে নড়াচড়া দিয়ে বসতে হবে।

সামুতে কিছু দুষ্টলোক আছে।
এদের সারা বছর কোনো খোঁজ খবর থাকে না। এরা হুটহাঁট এসে একটা খোঁচা দিয়ে চলে যায়। এদের বিষয়ে সাবধান থাকতে হবে। আজ লেখার খাতিরে আমি একটা কথা বলেই ফেলি- গত দশ বছর ধরে আমি যেখানেই গিয়েছি, সামুর গুনগান করেছি। বহু সচিব, সরকারী আমলা, বেসরকারী চাকরিজীবি, ব্যবসায়ী, বেকার, ছাত্রছাত্রী ইত্যাদি নানান পেশার লোকদের কাছে আমি সামুর কথা বলেছি। তাদেরকে লেখার জন্য সামুতে আসার জন্য আমন্ত্রন জানিয়েছি। ক'দিন আগে আমি বান্দরবান গিয়েছিলাম। সেখানে পাঁচজন বিডিআর'কে সামুর কথা বলেছি। তাদের বলেছি, সামুতে আসুন। লিখুন। লিখতে না পারলে পড়ুন। ভালো লাগবে। ভাল সময় কাটবে। ভোটার আইডি কার্ড দেখাতে রোয়াংছড়ি থানায় গিয়েও পুলিশকে সামুর কথা বলেছি। এমনকি আমাদের গাইড 'মায়াং ছিং'কে সামুর কথা বলেছি। মায়াং বলেছে, সামুতে সে আসবে।

সামুর ব্র্যান্ডিং করা খুব বেশি জরুরী।
যেমন ত্রিশ হাজার পিছ গেঞ্জি বিতরন করা যেতে পারে। গেঞ্জিতে সামুর লোগো থাকবে, থাকবে সামহ্যোয়ারইন ব্লগ লেখা। সেই সাথে লেখা থাকবে, 'পেশা, বয়স, মত- ভিন্নমত ও ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে বিশ্বজুড়ে বাংলাভাষাভাষির বাংলায় পড়ালেখার একটি শক্তিশালী মাধ্যম'। গেঞ্জি গুলো রিকশাচালকদের দেওয়া হবে। বাসের হেল্পারদের দেওয়া হবে। দশ হাজার মগ দেওয়া হবে। মগে থাকবে সামুর লোগো। প্রতিটা বড় বড় অফিসের চেয়ারম্যান, এমডি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সিইও, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টেবিলে থাকবে সামুর মগ। প্রতি বছর প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে, মন্ত্রী, এমপি এবং কবি, সাহিত্যিক, অভিনেতা, নাট্যকর্মী এবং মিডিয়ার জন্মদিনে সামুর পক্ষ থেকে দিতে হবে ফুলের শুভেচ্ছা। স্কুল কলেজে গিয়ে রচনা লেখার আয়োজন করতে হবে। যার রচনা ভালো হবে তাকে দেওয়া হবে সামুর পক্ষ থেকে এক বান্ডিল বই। এভাবে কয়েক বছর করতে পারলেই সামু থাকবে প্রতিটা মানুষের মুখে মুখে, প্রতিটা মানুষের ঘরে ঘরে।

জীবনের অর্ধেক সময় পার করে ফেলেছি।
আর ত্রিশ বছর কি বেঁচে থাকবো? আমার ইচ্ছা আছে আমৃত্যু আমি সামুতে থেকে যাবো। মৃত্যুর দশ মিনিট আগেও যদি সময় পাই একটা পোস্ট দিয়ে যাবো। অবশ্য শেষ পোষ্টের মন্তব্যের উত্তর দিতে পারবো না। আফসোস! আমার মেয়ের পনের বছর হলেই তাকে সামুতে নিয়ে আসবো। সে লিখবে তার হাসি, আনন্দের কথা। তার স্বপ্নের কথা। আজ লেখা এখানেই শেষ করছি। লেখায় কোনো ভুলটুল থাকলে বলবেন, সাথে সাথে শুধরে নিবো। সবাই ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন। করোনা থেকে খুব বেশি সাবধান থাকতে হবে। বাইরে গেলে মাস্ক মাস্ট। এবং ঘরে বাইরে সব সময় পনের মিনিট পরপর সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নেবেন। করোনা খুব ডেঞ্জারাস। ব্লগিং হোক আনন্দময়, লেখা ও পড়া হোক আনন্দময়। জীবন হোক আনন্দময়।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ২:২৭
১৮টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×