
প্রিয় কন্যা আমার-
প্রতিদিন কত কিছু যে ঘটে যাচ্ছে। তোমার ছোট চাচার খুব শ্রীঘই বিয়ে হয়ে যাবে। আজ বাসায় অনেক লোকজন এসেছে। বিয়ের দিন তারিখ ঠিক হয়ে গেছে। তোমার মা, আর তোমার বড় মা অনেক কিছু রান্না করেছেন। সাথে আছে নানান রকমের পিঠা। আমার প্রিয় বিবিখানা পিঠাও বানানো হয়েছে। পোলাউ, গরুর মাংস, চিংড়ি ফ্রাই, রোস্ট, টিকিয়া, সেমাই, পায়েস ইত্যাদি। প্রতিটা খাবারই খুব মজা হয়েছে। চিংড়ি ফ্রাইটা আর গরুর মাংসটা অসাধারণ হয়েছে খেতে। অবশ্য আমি খুবই অল্প খেয়েছি। কারন সকাল থেকেই আমার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়েছে। খুব গলা বুক জ্বলছিল। যদিও গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়েছি। কিন্তু কোনো উপকার পাইনি।
গতকাল রাতেও পোলাও টোলাউ খেতে হয়েছে।
এলিফ্যান্ট রোড গিয়েছিলাম আমার ফুপুর বাসায়। রাত বারোটায় বাসায় ফিরেছি। ফুপু দুনিয়ার খাবার রান্না করেছেন। যদিও পোলাউ এখন ভালো লাগে না। ভালো লাগে সাদা ভাত। ঝরঝরে সাদা ভাত। আজ সকালেও পোলাউ খেতে হয়েছে। ফুপু অনেক খাবার দিয়েছেন। সকালে ভাবী গরম করে পোলাও আর রোষ্ট খেতে দিয়েছেন। যখন ভাবি খাবার খাওয়া কমিয়ে দিবো, তখনই আরো বেশী খেতে হয়। আমার একমাস আগে ওজন ছিলো ৮৫ কেজি। আজ মেপে দেখলাম ওজন হয়েছে আশি কেজি। অর্থ্যাত পাচ কেজি কমেছি। আমি আরো দশ/বিশ কেজি কমতে চাই। আমি চাই আমার ওজন ৬০ কেজির মধ্যে থাকুক।
প্রিয় কন্যা আমার-
ছাদে আমার যে আম গাছটা রয়েছে তাতে মুকুল দিয়ে পুরো গাছ ভরে গেছে। মনে হচ্ছে এবার খুব আম হবে। অবশ্য এবার আমি আম গাছের খুব যত্ন নিয়েছি। আম গাছের পাশে আছে পেয়ারা গাছ। তবে পেয়ারা গাছটা মনে হয় বাঁচবে না। সব পাতা পড়ে গেছে। অথচ অনেক যত্ন করেছিলাম। যাই হোক, এখন তোমাকে অন্য খবর জানাই। আমাদের দেশে করোনা পরিস্থিতি ভালো হতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। নতুন আক্রান্ত হয়েছে ৩৬৩ জন। সুস্থ হয়েছেন ৩৩৭ জন। নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১২০৮৪ জনের। এখন পর্যন্ত মোট মৃত ৮১১১ জন। আক্রান্ত ৫৩৪৭৭০, সুস্থ ৪৭৯২৯৭ জন। এদিকে চিন্তার কিছু নাই- ভ্যাকসিন এসে গেছে আমাদের দেশে।
প্রিয় কন্যা আমার-
ফারাজা তাবাসসুম খান (ফাইহা)। তোমার নামটা কি তোমার পছন্দ হবে? আমার নাম রেখেছিলেন আমার দাদা। তোমার নাম রেখেছেন তোমার বড় চাচা। আজ তোমার এক মাস হয়ে গেছে। এই তো সেদিন তোমার জন্ম হলো! সময় কত দ্রুত চলে যায়। আমি তোমাকে প্রতিদিন কোলে নিই। তোমার সাথে অনেক গল্প করি। তুমি আমার কথা গুলো খুব মন দিয়ে শুনো। তোমার চোখ মুখ দেখে আমি বুঝতে পারি- তুমি আমার কথা গুলো বুঝতে চেষ্টা করছো। হয়তো বুঝতেও পারো। তোমাকে নিয়ে আমার অনেক পরিকল্পনা আছে। আমার কোলে উঠতে তুমি খুব পছন্দ করো। মাঝে মাঝে আমি তোমাকে গোছল করিয়ে দেই। তোমার ডায়পার বদলে দেই। জামা পড়িয়ে দেই। ছাদে নিয়ে গিয়ে তোমাকে রোদে দেই। এত বেশী রোদে দিয়েছি যে তোমার গায়ের রঙ কালো হয়ে গেছে।
প্রিয় কন্যা আমার-
আমি প্রতিদিন তোমার কপালে একটি করে চুমু দেই। তোমার জন্য প্রার্থনা করি। এখন আমি নিজেকে নিয়ে ভাবি না। তোমাকে নিয়ে ভাবি। আমি যতক্ষন বাইরে থাকি, একটু পরপর বাসায় ফোন দিয়ে তোমার খবর নিই। রাতে ঠিক মতো ঘুমাই না। একটু পরপর ঘুম থেকে উঠে তোমার দিকে তাকাই। তোমার গায়ে কোনো মশা বসেছে কিনা চেক করি। যদিও প্রতিদিন মশারী টানাই। কিন্তু আগে কোনো দিন আমি মশারীর ভেতর ঘুমাই নাই। আমি ঘরে আলো জ্বেলে ঘুমাতে পারি না। অথচ এখন সারারাত ঘরে বাতি ছাড়াই থাকে। এক মুহুর্তের জন্যও বন্ধ করি না। আমার দীর্ঘ দিনের রুটিন পুরো বদলে দিয়েছো তুমি। মুভি দেখি না, ব্লগেও বসতে পারি না। গান শুনতে পারি না। বাইরে বেশীক্ষন আড্ডা দিতে পারি না। তবু আমি খুশি তোমাকে নিয়ে।
সেদিন সামুর ব্লগার কবীর হুমায়ূন তোমাকে নিয়ে একটি সুন্দর সনেট লিখেছেন।
অতুল সুগন্ধী যতো পৃথিবীতে আছে,
আনন্দের সুখকর; কবি-গৃহকোণ
আলোকিত করে যেনো এলো ধরা মাঝে
এক টুকরো হীরে-খণ্ড; ঘটে বিচ্ছুরণ
বছরের শেষ দিন বৃহস্পতিবারে।
দুই হাজার একুশে করোনার ত্রাসে
কম্পমান বিশ্ব; তুমি যে এলে সংসারে
ফারিজা ফাইহান নামে, অনন্ত উল্লাসে।
মানুষের দাসত্বের সকল শৃঙ্খল
একদিন ছিন্ন হবে পরশে তোমার;
এমন বলিষ্ঠ জ্ঞান, মেধা, শক্তিবল
অর্জন করো হে তুমি, প্রার্থনা আমার।
সুস্থ ও সুন্দর থেকো এই কামনায়;
স্নেহ ও প্রেমে, এ চাচ্চু আশিস জানায়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ২:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


