somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমার একটি পাপের কাহিনী

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবিঃ ছবি সুত্র

আমি যখন পাপ করি, তখন আমার খুব অপরাধবোধ হয়।
রাতে ঘুমাতে পারি না। তবুও পাপ করি। হা হা হা...। সবচেয়ে মজার ম্যাপার হলো- একটা পাপ করার পর- সেটা যখন লিখে ফেলি দারুন একটা আত্মতৃপ্তি হয়। আজ একটা অন্যরকম পাপের কথা বলব। যদিও প্রতিদিন এই রকম অসংখ্য পাপের ঘটনা ঘটছে - গোপনে। গভীর গোপনে। গভীর গোপন পাপটা আমিও করে ফেললাম- হায় আল্লাহ! আজ সকালে ঘুম থেকে উঠার পরই একটা পুরোনো দিনের গান খুব মনে পড়ছে- 'পথ ছাড়ো ওগো শ্যাম, কথা রাখো মোর/ এমন করে তুমি আঁচল ধোরো না/ এখনি যে শেষ রাত হয়ে যাবে ভোর!' ইউটিউবে সার্চ দিয়ে গানটা কোথাও খুঁজে পেলাম না। তবে অন্য একটা গান খুঁজে পেলাম- 'অভিমানী ভালবাসা চায় যে হারাতে ঐ দূর অজানাতে/ তুমি আমি ভেসে যাব মেঘলা বাতাসে এই হাত রেখে হাতে'।

মেয়েটার নাম লাবনী (অবশ্যই ছদ্মনাম)।
আসল নাম দিয়ে কি ঝামেলায় পড়বো নাকি? আমার বন্ধুর গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে তার সাথে প্রথম দেখা এবং পরিচয়। পরের দিন বিয়ের অনুষ্ঠানে দেখা এবং তার দুইদিন পর বউ-ভাত অনুষ্ঠানে আবার দেখা। মজার ব্যাপার হলো পর-পর সাত দিন মেয়েটার সাথে আমার দেখা হয়। একদিন সন্ধ্যায় দেখা হয় KFC'তে। পরের দিন তখন বইমেলা চলছিল- বই মেলাতেও দেখা হয়। শ্রাবনী প্রকাশনীতে।তার হাতে হুমায়ূন আহমেদের 'তিথির নীল তোয়ালে' বইটা ছিল। একটা কথা বলে রাখি- আমার স্মৃতি শক্তি অনেক ভালো। অনেক তুচ্ছ ঘটনাও আমি ভুলি না। সব মনে থাকে আমার। সপ্ বার তার সাথে আমার দেখা হয় নিউ মার্কেটে। সেদিন রাত ৮ পর্যন্ত লাবনী আমার সাথে ছিল। ইচ্ছা করলে চুমু দিতে পারতাম কিন্তু দেইনি। শুধু হাতে হাত রেখেছিলাম। তাড়াহুড়ার কিছু নেই। আমি জানি আমার হাতে সময় আছে। দেরী হোক, যায়নি সময়।

এরপর লাবনী'র সাথে আমার নিয়মিত দেখা হয়।
মেয়েটা আমার সাথে দেখা করার জন্য অস্থির হয়ে থাকত। দেখা হলে সারাক্ষণ আমার হাত ধরে থাকত। আর রিকশায় বসলে কঠিন ভাবে হাত ধরে থাকত। যেন কেউ আমাকে কেড়ে নিয়ে যেতে না পারে। মেয়েটা আমার জন্য নানান খাবার রান্না করে নিয়ে আসত। মুখে তুলে খাইয়ে দিত। মিথ্যা বলব না- হাতের রান্না দারুন। লাবনী ইডেন কলেজ থেকে রাষ্টবিজ্ঞানে অনার্স শেষ করেছে। চাকরী করতে চেয়েছিল- তার পরিবার কঠিন গলায় মানা করে দিয়েছে। পরিবারের নিষেধ সে অগ্রাহ্য করতে পারেনি। দেখতে দেখতে দুই বছর পার হয়ে গেল আমাদের প্রেম জীবনের। এই দুই বছরে আমরা সারা ঢাকা শহর চষে বেড়ালাম। বেশ কয়েকবার ঢাকার বাইরেও বেড়াতে গেলাম। হাত ধরা ছাড়া আমাদের মধ্যে আর কিছুই হয়নি। তা-ও হাত ধরেছি বাধ্য হয়ে, লাবনী রাস্তা পার হতে পারে না। তখন আমি হাত ধরে পার করে দিলাম, নিশ্চয়ই এটা কোনো দোষের মধ্যে পরে না। তাছাড়া নোংরামী ব্যাপার টা আমার কখনই ভালো লাগে না। ইচ্ছা করলে, লাবনী'র সাথে আমি যা খুশি তাই-ই করতে পারতাম।

এইবার আমি আমার পাপের কাহিনীটা বলব-
হটাৎ একদিন আমি লাবনী'র খুব কাছাকাছি চলে আসি। সেদিন সারা বাড়িতে আমি আর লাবনী ছাড়া অন্য কেউ নেই। লাবনী আমাকে অনেক কিছু রান্না করে খাওয়ালো। আমিও খেলুম খুব মজা করে। বেশ কয়েকবার চা করে খাওয়ালো। তখন বিকেল আমার একট ঘুম ঘুম পেয়েছিল, আমি বিছানায় বসলাম। আমার পাশে লাবনী। লাবনী বলল- তুমি আরাম করে একটু ঘুমাও, আমি তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দেই। আমি বললাম, আচ্ছা। হঠাৎ লাবনী আমার ঠোঁটে একটা চুমু দিল। কি অদ্ভুত লাগল আমার! জীবনে প্রথম কোনো নারী আমার ঠোঁটে ঠোঁট রাখল! আমি গভীর এক আকাশ আনন্দে অভিভুত হলাম। তারপর আমি পাগলের মতন লাবনীকে অনেক আদর করলাম, অনেকক্ষন আদর করলাম। এক আকাশ ভালো লাগায় মন এবং শরীর ভরে রইলো। লাবনী'র চোখে মুখে দেখতে পেলাম এক আকাশ আনন্দ। সেদিন আদরের পর আমরা অনেকক্ষন রিকশায় করে ঘুরে বেড়ালাম। রাতে দুইজন বাইরে খেলাম। তারপর আমি বিদায় নিয়ে বাসায় চলে আসি। আমি জানতাম না এটাই আমাদের শেষ দেখা।

লাবনীর সাথে আমার বিয়ে হয়নি।
আজ লাবনী কোথায় আছে আমি জানি না। মেয়েটাকে আমার অনেক মনে পড়ে। অফিসের কাজে পনের দিনের জন্য আমি ঢাকার বাইরে যাই, কিন্তু কাজ শেষ করতে সময় লাগল এক মাস। লাবনী আমাকে ফোন করে জানায়- তার পেটে বাচ্চা। তখন আমার আর্থিক অবস্থা খুব ভালো ছিল না। বাবা- মায়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে লাবনীকে বিয়ে করাও সম্ভব ছিল না। আমি পড়ে গেলাম মহা সমুদ্রে। একদিকে বাবা মা অন্য দিকে লাবনী। আমি একটুও বুঝতে পারিনি- যে একদিন আদর করলেই বাচ্চা হতে পারে। এসব ব্যাপারে আমার একেবারেই ধারনা কম। লাবনীকে আমি কোনো পজেটিভ উত্তর দিতে পারিনি। বলেছিলাম- ডাক্তার দেখাও, ঝামেলা মিটিয়ে ফেলো। সে অনেক কষ্ট পেয়েছে। আমি আছি অস্থিরতার মধ্যে। ঢাকা ফেরার পর দেখি মা আমার বিয়ের জন্য মেয়ে দেখে রেখেছেন। আমি বাপ মাকে কষ্ট দিতে পারি না। হাসি মুখে বিয়ে করে ফেললাম।

এরপর আমি আর লাবনী'র কোনো খোজ পাইনি।
তন্নতন্ন করে সারা ঢাকা শহর খুঁজে বেড়িয়েছি। সম্ভবত লাবনী অস্টেলিয়া চলে যায়। অনেক চেষ্টা করেও কোনো যোগাযো করতে পারিনি। আমার বাচ্চাটিকে সে পৃথিবীতে এনেছিল কিনা তা-ও জানি না। লাবনী বিয়ে করেছে কিনা তা ও জানি না। আমারা বাচ্চাটিকে খুব দেখতে ইচ্ছা করে। এতদিনে বাচ্চাটির সাত বছর হওয়ার কথা। এই জন্য রাস্তায় ছোট ছোট বাচ্চা দেখলে বুকের মধ্যে যেন কেমন করে উঠে। বোকা মেয়েটা ভেবেছে- আমি মা'র পছন্দের মেয়েটাকে বিয়ে করে ফেলেছি। হ্যা, আমি বিয়ে করেছি। তবে, আজও আমি লাবনী'র অপেক্ষায় আছি। আসলে ইচ্ছা করেই লাবনী আমার কাছ থেকে হারিয়ে যায়। লাবনী'র ধারনা ছিল, যদি আমি মাকে কষ্ট দিয়ে লাবনীকে বিয়ে করতাম তাহলে সংসার জীবনে কখনও সুখী হতাম না। লাবনী আমাকে সব সময় হাসি খুশি দেখতে চাইতো। মধ্যরাত্রে আমি আকাশের দিকে তাকাই- আর আমার চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়ে। তখন নিজেকে বলি- না, না তোমার কোনো কষ্ট নেই। চোখে সমস্যা তাই পানি পড়ছে। ভালো ডাক্তার দেখাও।

লাবনী ফিরে আসবে।
আমি জানি লাবনী ফিরে আসবে।
আমি অপেক্ষা করি-
অপেক্ষা করতে আমার ভালো লাগে।
দেরী হোক, যায়নি সময়।

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১২:২০
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন-উচাটন

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:৫০


তিড়িং বিড়িং ফাল পাড়ি,
যাচ্ছে রে মন কার বাড়ি?
পুড়ছে তেলে কার হাঁড়ি,
আমি কি তার ধার ধারি!

পানে চুনে পুড়ল মুখ,
ধুকছে পরান টাপুর-টুপ;
তাই বলে কি থাকব চুপ?
উথাল সাগর দিলাম ডুব।

আর পারি না... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভয়ংকর সেই খবরের পর… সন্তানের হাতটা শক্ত করে ধরুন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৫

আজ সকালে খবরটি পড়ে আমার মনটা একদম ভেঙে গেল। ভাবতেই ভয় লাগছে—আমাদের সন্তানদের আমরা আসলে কতটা অরক্ষিত পরিবেশে বড় করছি! ছোট্ট একটি নিষ্পাপ শিশু, যে পৃথিবীটাকে ঠিকমতো চিনতেই শেখেনি, তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু খতরে মেঁ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


শুধুমাত্র মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে শুভেন্দু। তার বক্তব্যের মূলপ্রতিপাদ্য হলো হিন্দু খতরে মেঁ! আশ্চর্যের বিষয় হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা নাকি মুসলিমদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে, কিছুদিন পরেই নাকি পশ্চিমবঙ্গ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময় খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে।

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩০

দিনগুলো কেমন যেন দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে!
দেখতে দেখতে মাস শেষ হয়ে যাচ্ছে,
এইতো সেদিন থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করলাম,
আর এদিকে দেখি চার মাস শেষ হয়ে পাঁচ মাস চলছে। অথচ আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্য পশ্চিম দিকে উঠে:)

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৩ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:২০


আমাদের দেশে রাজনীতিতে নেতা যাই বলে তার কর্মীরা সেটাকে সঠিক মনে করে। সেটা নিয়ে দ্বিমত করে না। এখন ধরুন নেতা মুখ ফসকে বলে ফেলেছে “সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উঠে।” তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×