
লেখক শিবরাম চক্রবর্তী বিহারে রাতের ট্রেনে ভ্রমন করছিলেন। রাত বাড়তে পাশে বসা সহযাত্রীরা ক্রমশঃ কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে পড়তে লাগলেন। লেখকের ট্রেন যাত্রায় ঘুম আসেনা। তিনি একটি বই খুলে পড়তে শুরু করলেন উল্টো দিকের সিটে বসা ৫-৬ জনের মাঝখান থেকে লেখককে উদ্দেশ্য করে বললেন- "আপনি ঘুমাবেন না?" "না ট্রেনের দুলুনিতে ঘুম আসেনা। বই পড়ে রাত কাটিয়ে দেব"--
" -তাহলে আমার একটা উপকার করতে হবে"_
"কী?
রাত আড়াইটায় আমাকে ঘুম থেকে তুলে দিতে হবে। তার পরেই আমার ষ্টেশন এসে যাবে
লেখক সন্মত হলেন। যাত্রীটি অন্যদের মতোই কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।
শীতের শেষ রাতে লেখকেরও চোখের পাতা জড়িয়ে এলো।
হঠাৎ সহযাত্রীর চিৎকারে সচকিত হলেন। চোখ খুলে দেখেন, সেই সহযাত্রী তারই সামনে দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে কামরা মাথায় তুলছেন। অন্য যাত্রীরাও জেগে গিয়েছেন। জানলার ওপাশে হালকা ভোরের আলো ফুটেছে। সময় মতো জাগিয়ে না দেওয়ার জন্য ও নির্দিষ্ট ষ্টেশন পার হয়ে যাওয়ার জন্য লোকটি লেখককে তুমুল গালাগালি দিতে লাগলো। লেখক ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে নীরবে তিরষ্কার হজম করতে লাগলেন। কামরার অন্য যাত্রীরা এবার লেখকের পক্ষ নিয়ে এগিয়ে এলো এবং ওই যাত্রীকে থামিয়ে বললো, অনুরোধ রাখতে না পারা এমন কোনো অপরাধ নয় যে, ওই ভদ্র সন্তান কে এত গালাগালি শুনতে হবে। যাকে মাঝরাত পার করে নামতে হবে, জেগে থাকার দায় তারই।"
লোকটিকে কোন মতে থামিয়ে অন্য সহযাত্রীরা লেখককে বললেন, আপনি বা কেন নীরবে এত তিরষ্কার হজম করছেন? আমরা আপনার হয়ে কথা বলছি, অথচ আপনি আগাগোড়া চুপ,আশ্চর্য্য তো?
লেখক শান্ত ভাবে বললেন, যে লোকটাকে কম্বল মুড়ি দেওয়া অবস্থায় প্রায় জোর করে তুলে দিয়ে অন্ধকার ষ্টেশনে নামিয়ে দিলাম, সে না জানি কত গালাগালি করছে। তার কথা ভেবে এনার কথায় চুপ করে আছি।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ৮:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


