somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ভন্ড লেখক, প্রকাশক সাবধান

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১২:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবিঃ আমার তোলা।

এই বাংলায় লেখক কবি'র সংখ্যা একটু বেশী।
বেশী হওয়ারই কথা। প্রাচীন কাল থেকেই এই উপমহাদেশে দারিদ্র কবলিত হলেও সাহিত্য গদ্য, পদ্য পুথি, পালা, খনার বচন, লালন বচন ইত্যাদিতে 'বাংলা অঞ্চল' বেশ এগিয়ে ছিল। ভাত খেতে না পারলেও গুটি গুটি পুথিকাব্যের ছন্দ মিলানোর চেষ্টা করতো। বাউল গানের চাহিদা রবীন্দ্র সংগীতের চেয়ে চাহিদা কম নয়। সমস্যা হলো ইদানিং দুষ্টলোকজন সাহিত্য করতে বসেছে। তারা তাদের মন্দ কর্মকান্ড আড়াল করার জন্য সাহিত্য মূখী হয়েছে। কিন্তু ওদের সাহিত্য করার মতো জ্ঞান নাই।

কবি, সাহিত্যিকদের বিশাল ব্যক্তিত্ব থাকতে হয়।
হৃদয়বান হতে হয়। তেলবাজি আর চাটুকারিতা পরিহার করতে হয়। ছ্যাবলামি বন্ধ করতে হয়। চিন্তা, ভাবনা আর মন মানসিকতা আধুনিক হতে হয়। বেশির ভাগ লেখকগন তাদের বইয়ের প্রচারের জন্য ফেসবুককে বেছে নিয়েছেন। ফেসবুক না থাকলে তাদের কি হতো? লেখকরা এটা কেন বুঝেন না- যারা সারাদিন ফেসবুকে থাকে তারা বই পড়ে না। হুমায়ূন আহমেদ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সমরেশ মজুমদার, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ফেসবুক ব্যবহার করেন নাই। ফেসবুক আপনার সাহিত্যের মাপকাঠি হতে পারে না।

বই বের করাটা এখন একটা ফ্যাশন হয়ে গেছে।
সবচেয়ে বেশী খারাপ লাগে মেলার সময় বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের লাইভ অনুষ্ঠানে হ্যাংলার মত বই হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। তারপর উপস্থাপক পরিচয় দেয়ার এক মিনিটের মধ্যে লেখককে সরিয়ে দিয়ে আরেকজনকে ডাক দেয়। কথাও শেষ করতে দেয় না...! তথাকথিত লেখকগন নির্লজ্জের মতো সেটুকুতেই গর্ববোধ করে। সরকারি আমলারা এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। তারা অফিসের কামকাজ বাদ দিয়ে সাহিত্য নিয়ে বস্ত। অফিসে নিজের রুমে বসে বই নিয়ে জ্ঞানের কথা বলে। সেগুলো ভিডিও করে ফেসবুকে ছাড়ে।

আমি একজন লেখককে আরো উঁচু স্থানে বসাতে চাই।
লেখক মানুষ লেখে তার নিজের গরজে। নিজের নাম প্রচারের জন্যে, নিজেকে উঁচুতে তুলে ধরার মানস থেকেও কোনও কোনও মানুষ লেখে। এই দুই ধরনের লেখার মাঝে ফারাক অনেক। লেককদের মধ্যে ক্ষুদ্রতা দেখলে আমার কষ্ট হয়। ভন্ডামি দেখলে আমার রাগ হয়। আমি তো আমাদের দেশে শীর্ষেন্দুর মতো, সমরেশ মজুমদারের মতো কোনো লেখক দেখি না। একজন নিজেকে নিজেই লেখক দাবী করেন, কথা সাহিত্যিক দাবী করেন। তাহলে পাঠকের কাজ কি?

আমি লেখক এবং প্রকাশকদের নিয়ে হতাশ।
প্রচন্ড হতাশ। হাতে একটা এসএলআর ক্যামেরা থাকলে যেমন ফোটোগ্রাফার হয়ে যায়, তেমনি ২০/২৫ হাজার টাকা খরচ করলে যে কেউ এখন লেখক হতে পারে। কিন্তু সে সব বই কেউ পড়বে না। বইমেলার সময় বুঝা যায়- আমাদের ভালো লেখকও নাই, ভালো প্রকাশকও নাই। চাঁদগাজীর ভাষায় সবই গার্বেজ। আর সত্যি কথা বলতে কি, পাঠকও বই পড়ে না। অনুরোধে ঢেঁকি গেলার কারণে দু'একখানা বই কেনে মাত্র। দেশে নব্য ধনীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি নব্য লেখকের সংখ্যাও বেড়েছে। নব্য ধনীদের ধরার জন্য দুদক আছে। কিন্তু নব্য লেখকদের ধরার জন্য কেউ নেই।

লেখক বাড়ছে লেখার মান বড়ছে না।
তবে নতুন লেখকদের বই কিনে আমাদের উৎসাহ দেয়া উচিত। কিনতে না পারলেও তারা কষ্ট করে লিখেছে, যাই লিখুক এপ্রিশিয়েট করা উচিত। উচিত অনেক কিছুই। এই সমাজে কেউ উচিত কাজ করে না। সবার চোখে টিনের চশমা। দেশটা পচে গলে নষ্ট হয়ে গেছে। এজন্য যারা দায়ী তাদের আমি শাস্তি দেবো। আমি কাউকে ছাড়বো না। দেরী হোক, যায়নি সময়।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১২:২৪
১৮টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন-উচাটন

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:৫০


তিড়িং বিড়িং ফাল পাড়ি,
যাচ্ছে রে মন কার বাড়ি?
পুড়ছে তেলে কার হাঁড়ি,
আমি কি তার ধার ধারি!

পানে চুনে পুড়ল মুখ,
ধুকছে পরান টাপুর-টুপ;
তাই বলে কি থাকব চুপ?
উথাল সাগর দিলাম ডুব।

আর পারি না... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভয়ংকর সেই খবরের পর… সন্তানের হাতটা শক্ত করে ধরুন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৫

আজ সকালে খবরটি পড়ে আমার মনটা একদম ভেঙে গেল। ভাবতেই ভয় লাগছে—আমাদের সন্তানদের আমরা আসলে কতটা অরক্ষিত পরিবেশে বড় করছি! ছোট্ট একটি নিষ্পাপ শিশু, যে পৃথিবীটাকে ঠিকমতো চিনতেই শেখেনি, তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু খতরে মেঁ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


শুধুমাত্র মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে শুভেন্দু। তার বক্তব্যের মূলপ্রতিপাদ্য হলো হিন্দু খতরে মেঁ! আশ্চর্যের বিষয় হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা নাকি মুসলিমদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে, কিছুদিন পরেই নাকি পশ্চিমবঙ্গ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময় খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে।

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩০

দিনগুলো কেমন যেন দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে!
দেখতে দেখতে মাস শেষ হয়ে যাচ্ছে,
এইতো সেদিন থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করলাম,
আর এদিকে দেখি চার মাস শেষ হয়ে পাঁচ মাস চলছে। অথচ আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্য পশ্চিম দিকে উঠে:)

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৩ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:২০


আমাদের দেশে রাজনীতিতে নেতা যাই বলে তার কর্মীরা সেটাকে সঠিক মনে করে। সেটা নিয়ে দ্বিমত করে না। এখন ধরুন নেতা মুখ ফসকে বলে ফেলেছে “সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উঠে।” তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×