
ছবিঃ ফেসবুক।
এক লোকোকে জ্বীনে ধরেছে।
সেই লোক এখন মরে যেতে চায়। তার কিচ্ছু ভালো লাগে না। তাকে এখন চোখে চোখে রাখতে হয়। সুযোগ পেলেই সে ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে মরতে চায়। ছুরি, বটি দিয়ে নিজেকে শেষ করে দিতে চায়। এখন সে আগের চেয়ে তিন গুন বেশী খায়। দুই কেজি আঙ্গুর এক বসায় খেয়ে ফেলে। অথচ এই লোক আঙ্গুর পছন্দ করতো না আগে। এই জ্বীনে ধরা লোককে নিয়ে তার পরিবার বিরাট বিপদে পড়েছে। সারারাত ঘুমায় না। চিৎকার চ্যাঁচামেচি করে। পরিবারের প্রধান ব্যাক্তির এই রকম দশা হলে সেই পরিবারে অন্ধকারে নেমে আসে।
ঘটনা চক্রে এই জ্বীনে ধরা লোকটাকে আমি চিনি।
ভদ্রলোক ভালো মানুষ। ব্যবসা করেন ফারফিউমের। বাবু বাজার ব্রীজের নিচে তার দোকান ছিলো। কোটি টাকার ব্যবসা। ধরে নিলাম ভদ্রলোকের নাম আবদুল জলিল। জলিল সাহেব বিয়ে করেছেন। তার এক ছেলে, এক মেয়ে। ছেলের বয়স পাঁচ বছর। মেয়ের বয়স তিন বছর। জলিল সাহেব ভালো মানুষ। দুই হাতে টাকা খরচ করেন। সব মিলিয়ে তার সুখের সংসার। আমি তার দোকানে গেলেই জলিল সাহেব নাজিরা বাজার থেকে বিরানী আনাতেন। বড় ভালো লোক ছিলেন।
জলিল সাহেবকে নাকি কুফরি করা হয়েছে।
কুফরি হচ্ছে কোরআন শরীফ উলটা করে পড়া। এরকম কিছু একটা হবে। আমি সঠিক জানি না। জলিল সাহেবের অনেক শত্রু। সেই শত্রুদের মধ্যে কেউ একজন কুফরি করেছে। এখন খারাপ একটা জ্বীন জলিল সাহেবের উপর আছর করেছে। জলিল সাহেব কথা বললে অন্য ভয়েসে কথা বলেন। সেই কন্ঠস্বর শুনলেই কলিজা কেপে উঠে। ডাক্তার দেখানো হয়েছে। ডাক্তার কোনো ওষুধ দেয় নি। বলেছে, বিশ্রাম নিতে। এবং ভালো ঘুম হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। চিন্তার কিছু নাই। কিন্তু তার পরিবারের ধারনা জলিলকে খারাপ জ্বীন ধরেছে।
একজন পীরের সন্ধান পাওয়া গেলো।
কেরানীগঞ্জ থাকে। খুব পাওয়ার ফুল পীর। তার জ্বীন সাধনা আছে। উনি জলিল সাহেবকে সুস্থ করে তুললেন। এখন জলিল এক বসায় দুই কেজি আঙ্গুর খায় না। ছাদে উঠে আত্মহত্যার চেষ্টা করে না। রাতে আরাম করে ঘুমায়। চিৎকার চেচামেচি করে না। জলিলকে আছর করা খারাপ জ্বীনটাকে পীর সাহেব বন্ধী করে ফেলেছেন। সেই জ্বীন পীরের কাছে ক্ষমা চেয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে ভেগেছে। কামিলদার পীরের কেরামতি দেখে তাকে এক লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। যে কাজ ডাক্তার পারেনি, পীর পেরেছেন।
পরিশিষ্ঠঃ
কিছু কিছু ঘটনার শেষ পরিনতি খুব মর্মান্তিক হয়।
জলিল সাহেবের পুরো পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়। জলিল সাহেব একদিন হঠাত মরে যান। তার সমস্ত সম্পত্তি কে বা কারা দখল করে নেয়। জলিল সাহেবের স্ত্রী তার সাবেক প্রেমিকের সাথে পালিয়ে আমেরিকা চলে যায়। জলিল সাহবের দুই সন্তান (ছেলে মেয়ে) এতিমখানায় বড় হচ্ছে এখন। আমার ধারনা জলিল সাহেবকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যার পেছনে তার স্ত্রীর হাত আছে। সঠিক তদন্ত হয়নি। সব ধামাচাপা পরে গেছে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ৮:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


