
এই আধুনিক যুগে ওয়াজ মাহফিল কতটা গুরুত্বপূর্ন?
ওয়াজ মাহফিল যদি সমাজ থেকে অপরাধ কমাতে সমর্থ হত, দূর্নীতি কমাতে পারতো, তাহলে এর পক্ষে থাকতে আমার আপত্তি ছিলো না। কিন্ত বাস্তবে তো এইসব ওয়াজের ইতিবাচক কোন প্রভাব চোখে পড়ে না। আমাদের বিনোদনের অনেক অভাব। তাই বহু লোক বিনোদন হিসেবে মাহফিলে বা ইউটিউবে ওয়াজ শুনে। আমি নিজেও শুনি। ওয়াজ ব্যবস্যা খুব জমজমাট। প্রতিটা ওয়াজে মানুষের ঢল নামে। এই মানুষ গুলো কারা? কোন শ্রেনীর? যারা ওয়াজ করছেন, তাদের পড়াশোনা কি? তারা আইনস্টাইন এর নাম শুনেছেন? তারা কি বিজ্ঞানের কোনো সুত্র জানেন? মোবাইল কি করে কাজ করে তারা কি জানেন?
শুধু ধর্ম জানলেই কি জীবন চলবে?
আমরা মহানবীর উম্মত, যিনি ক্ষুধায় পেটে পাথর বেধে রাখতেন, অথচ আল্লাহর কাছে চাইলে পাহাড় সমান স্বর্ন পেতে পারতেন, কিন্তু ছেড়া চাদরে আর শোয়ার অযোগ্য জায়গায় ঘুমাতেন। হুজুররা এক খতম কোরান পড়াতে আগে থেকেই অনেক টাকা দাবী করে বসেন। যদিও কাউকে দিয়ে কুরআন খতম করানোর নিয়মটাই ইসলামে নেই। ওটা আমাদের বাংলাদেশী মুসলিমদের মূর্খতা। কেউ মারা গেলে এতিমখানা বা মাদ্রাসা থেকে লোকজন এসে কোরআন খতম দিয়ে যায়। বিনিময়ে খেয়ে যায় এবং কিছু হাদিয়া নিয়ে যায়। আমার আব্বা যখন মারা গেলো। তখন এতিমখানার বারো জন ছেলেরা এসে কোরআন পড়লো। বিনিময়ে তারা পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছে।
ওয়াজ গুলোতে অদ্ভুত বানোয়াট কথা বলা হয়।
এক হুজুরের চেয়ে আরেক হুজুর এগিয়ে এক্ষেত্রে। ইদানিং হুজুরেরা খুব রসিক হয়েছেন। খুব রসিয়ে রসিয়ে কথা বলেন। হুজুর গুলোর ইউটিউব চ্যানেল আছে। যেমন দেশ তেমন ওয়াজ, লক্ষ লোকের সামনে তাই 'বেল গেড, আইফোনের মালিকের সাথে সাক্ষাতের গল্প' আয়েশ করে বলা যায়, জো বাইডেন এর জন্ম বাংলাদেশে বলা যায়, তারপর জোর করে জোর গলায় 'সোবহান আল্লাহ' আদায় করা যায়। হারাম টাকা নেয়ার ব্যপারে আমাদের হুজুরদের খুব আগ্রহ দেখা যায়। আসল কথা, হুজুরেরা টাকা দিয়ে মার্সিডিজ চালান নাকি রকেটে করে চাঁদে যান, সেটা মোটেও বিবেচ্য না। তাদেরকে টাকা দিয়ে আমরা কি পেলাম, সেটাই বিবেচ্য। সরকারি ভাবে কি ওয়াজ বন্ধের ঘোষনা দেওয়া যেতে পারে না? জিয়ার খেতাব মুছে দেওয়া সম্ভব। তাহলে ওয়াজ কারিদের ভন্ডামি বন্ধ করা নিশ্চয়ই অসম্ভব নয়।
মানুষ যদি ধর্ম জানতে চায়-
বই পড়ে জানবে। প্রচুর ভালো ভালো ধর্মীয় বই আছে। সবচেয়ে বড় কথা এত এত বই না পড়ে কোরআন আর হাদীস ভালো করে পড়লে আর কিছু পড়ার দরকার নাই। যা আছে কোরআন হাদীসেই আছে। হযরত আব্দুর রাহমান ইবন আওফ রাঃ ধন-সম্পদে অনেক ধনী ছিলেন। উনারা ঐ সময়ের জন্য বিলগেটসের চেয়েও কম ছিলেন না। কিন্তু তাদের প্রত্যেকটি আয় স্বচ্ছ ছিলো। ভালো মানুষের কাছে যদি অর্থ থাকে, ধন-সম্পদ থাকে, ক্ষমতা থাকে -সেটা সবার জন্য মঙ্গল। তবে, হ্যাঁ। সেই ধনী হওয়াটা একেবারে ক্লিন হতে হবে। আমাদের দেশে তো সৎ লোকের বড় অভাব। চারপাশে যারা জাকজমক অনুষ্ঠান করে তারা কালো টাকার মালিক চোখ বন্ধ করেই বলা যায়। এদের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে।
বাংলাদেশে ওয়াজ নতুন কিছু না।
দেশে ডজন ডজন শত শত ওয়াজি মওলানা। এরা গ্রামে গঞ্জে ওয়াজ করতো, যাচ্ছেতাই ভাষায় সত্য মিথ্যা মুখে যা আসে তাই বলতো। এখনো বলে। ওয়াজের নামে অত্যাচার ও দান খয়রাতের নামে অর্থের লোপাট বন্দ হোক। ইউটিউবে আমি প্রচুর ওয়াজ শুনেছি। এবং বিরক্ত হয়েছি। ওয়াজে মানুষ মানবিক হওয়ার মতো কথা বলা হয় না। নিজ আঞ্চলিক ভাষায় হুজুরেরা ফালতু এবং অদরকারী কথা বলেন। এদের শাস্তি হওয়া দরকার। প্রতিবন্ধীদের প্রতি মায়া দয়া করা যায়। কিন্তু ওয়াজ কারিদের জন্য নয়। এদের ব্যাপারে সরকার চুপ কেন? নব্য ধনীদের বিষয়ে সরকার চুপ। হুজুররা তো আর দূর্নীতিবাজ না। তবে দুষ্টলোক।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


