
১। মেঘনা নদীতে লঞ্চ চলছে।
লঞ্চের নামটি এই মুহুর্তে মনে করতে পারছি না। আমরা বাড়ির সবাই মিলে একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে কুমিল্লা যাচ্ছিলাম। আমি লঞ্চের ছাদে বল খেলছিলাম। হঠাৎ আমার বলটি মেঘনা নদীতে পড়ে যায়। আমি লাফ দিয়ে বলটি ধরতে গিয়ে মেঘনা নদীতে পড়ে যাই। তখন আমার বয়স ১৩ বছর। জানি না সাঁতার। মুহূর্তের মধ্যে ডুবে গিয়ে মেঘনা নদীর পানি খেয়ে নিলাম পেট ভরে। তারপর কে বা কারা আমাকে বাঁচায় কিছু মনে নেই।
আমার ধারনা, আমার মৃত্যু হবে একদিন নদীতে ডুবে।
২। পাবনা যাচ্ছিলাম, বড় ভাইয়ের সাথে দেখা করতে।
তখন বড় ভাই পাবনা ক্যাডেট কলেজে লেখাপড়া করতো। আরিচা ফেরী ঘাটে। ফেরীর দোতলায় রেলিং এ বসতে গিয়ে ধাম করে নদীতে পড়ে যাই। ভাগ্য ভালো ছিল, তখনও ফেরী ছাড়েনি। তখন আমার বয়স ১৬ বছর। অল্প পানির মধ্যেই ডুবে গেলাম। কে বা কারা আমাকে যথা সময়ে বাচিয়েছিল মনে নেই, একটুও মনে নেই। বাংলাদেশের প্রতিটা নদী আমার খুব ভালো লাগে। পৃথিবীর কোথাও আর এতো সুন্দর সুন্দর নদী নেই। আমাদের দেশের নদীর নাম গুলোও অনেক সুন্দর।
৩। আমাদের গ্রামের বাড়ির কাছেই পদ্মা নদী।
পদ্মা নদী আমার অনেক প্রিয় একটি নদী। ইচ্ছা করলো মনের স্বাদ মিটিয়ে পদ্মা নদীতে লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে গোছল করবো। একদিন সব বন্ধু-বান্ধব নিয়ে চলে গেলাম গ্রামের বাড়িতে। আমার গ্রামের বাড়ি বিক্রমপুর। মধ্যদুপুর বেলা সব বন্ধু নিয়ে নামলাম নদীতে। আমি হাফ প্যান্ট নিতে ভুলে গিয়েছিলাম। তাই চাচার কাছ থেকে একটা গামছা নিয়ে কোমরে প্যাচিয়ে নদীতে নামলাম। মনের স্বাদ মিটিয়ে বিকেল পর্যন্ত নদীতে লাফালাফি করলাম। কিন্তু আমি নদী থেকে লজ্জার কারণে উঠতে পারছি না। কোথায় কখন যেন আমার গামছাটি খুলে গেছে। বন্ধুদের কাছেও গামছা হারিয়ে যাবার কথা বলতে পারছি না। যদি বলি ওরা হাসাহাসি করবে। উফফ...ভয়াবহ লজ্জায় পড়েছিলাম।
৪। ঢাকার বাসাবো রাজারবাগ কালি বাড়িতে একটি বড় পুকুর আছে।
পুকুর না বলে দিঘী বলাই ভালো। বিশাল দিঘী। পুকুরের পাশেই কালী মন্দির। সেই পুকুরে মাছ ধরতে গিয়েছিলাম ৩৪ নং ওয়ার্ডের কমিশনারের সাথে। মাছ বড়শি ফেলতে গিয়ে আমিই ঘাট থেকে পুকুরে পড়ে গেলাম, আর কি আশ্চর্য সাথে সাথে ডুবেও গেলাম। পুকুরের মাটি অসম্ভব নরম- আমি কিছুতেই দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না। সেদিন অনেক পুকুরের পানি খেয়েছিলাম। পেট ফূলে গিয়েছিল। এখনও মনে আছে- অনেক গুলো স্যালাইন খেতে হয়েছিল।
৫। দুই হাজার সালে জাহাজে করে বঙ্গোপসাগর গিয়েছিলাম।
চারদিন আমাদের জাহাজ বঙ্গোপসাগরে উপরেই ছিলো। সাগর পাড়ের বাতাস কি ঠান্ডা! মধ্যরাতে জাহাজের ছাদে উঠলাম একলা। জোছনা রাত ছিল। চাঁদের আলো পড়েছে সাগরে। সাগরের পানি ঝকমক করছিলো। চিকচিক করছিল। দেখে খুব ভালো লাগছিলো। আমাদের জাহাজ যাচ্ছিলো সুন্দরবনের দিকে। হঠাত আমার খুব তীব্র ইচ্ছা হলো- বঙ্গোপসাগরে ঝাঁপিয়ে পড়ি। চারপাশ এত সুন্দর সহ্য হচ্ছিল না। সেই প্রথম আমার মাথায় স্বেচ্চায় মৃত্যু চিন্তা এলো। স্থির সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না- ঝাপ দিবো কিনা। আমার কপাল ঘামে ভিজে উঠলো! অতঃপর সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেললাম ঝাঁপ দিবো- কিন্তু তার আগে একটা সিগারেট শেষ করবো। সিগারেট শেষ হওয়ার আগেই দেখি আব্বা পেছনে এসে দাঁড়িয়ে আছেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সকাল ১১:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


