
আমার জন্য আর ঝরে না শিশির...
পাপড়িতে জমে না সুগন্ধ...
১। আমরা ঘাটের পয়সা খরচ করে নিজ ইচ্ছায় ব্লগ লেখি।
আমাদের মধ্যে অনেক সময় বিভিন্ন বিষয়ের পক্ষে বিপক্ষে কমেন্ট যুদ্ধ হয়। এই আমাদের বেঁচে থাকা। এই আমাদের আলিংঙ্গন। তারপরও আমরা একটি পরিবারের মত। আমরা সবাই ভাই বোন। আমরা যুক্তি তর্ক নিজ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে ভালোটা বুঝতে শিখি। আমরা ব্লগাররা অস্ত্র হাতে নিতে জানি না, রগ কাটতে পারি না, গলা কাটার কথা ভাবি না, টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজি করি না।
২। হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে সব কথাই বলা হয়ে গেছে,সব বিশেষণই দেওয়া হয়ে গেছে। তিনি আমাদের কালের সবচেয়ে বড় নায়ক, আমাদের সময়ের সবচেয়ে ধারালো চোখের অধিকারী, সবচেয়ে বড় ম্যাজিশিয়ান। কিন্তু সময় এসেছে হুমায়ূন আহমেদ মানুষটাকে নির্মোহভাবে বোঝার। যে যার মতো করে বুঝুক। গল্পের চরিত্রকে যেমন একেকজন পাঠক একেকভাবে বোঝেন, একেকভাবে পাঠ করেন, সেই রকম করে তাঁকে বোঝাবুঝি হোক।
৩। “মহাত্মা গান্ধী মৃত্যুর আগে বলে গেছেন, ভগবান তুমি ভারতকে দেখো। পাকিস্তানের লিয়াকত আলী খান মৃত্যুর আগে শেষ কথা বলেছেন, আল্লাহ পাকিস্তানকে হেফাজত করো। পৃথিবীর বিখ্যাত নেতারা মৃত্যুর আগে শেষ কথাটি বলে গেছেন দেশ ও দেশের মানুষ সম্পর্কে। দেশের কল্যাণ কামনা করেই তারা পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। আমাদের এক নেতা গুলি খাওয়ার পর দেহরক্ষীর নাম ধরে বললেন, ‘আমাকে শেষ করে ফেলেছে, আমাকে বাঁচা।’
৪। একটা সিগারেট ধরালাম।
দেখতে দেখতে সিগারেট শেষ হয়ে যাচ্ছিল। খুব সাধানে টান দিচ্ছিলাম যাতে ছাইটা না ভাঙ্গে। আগুনটা যত নেমে আসছে তত সিগারেটের চেহারা বদলে যাচ্ছে। হালকা ছাইটা লম্বা হয়ে একটু বেঁকে আছে। দুই আঙ্গুলে সেটাকে ধরে রেখেছি। শেষের দিকে আর টান দিতে ভরসা পাচ্ছি না। এখন একটু নড়াচড়া হলে ছাইটা নির্ঘাৎ পড়ে যাবে। অথচ এখন ধোয়া টানতে ইচ্ছা করছে। আমি সাবধানে ওটাকে ঠোটের কাছে নিয়ে আসতেই ঝুরঝুর করে ঝরে পড়ল এতক্ষণের বাঁচানো ছাই। নিজের উপর বিরক্ত হয়ে আমি ছুড়ে ফেললাম সিগারেটটা।
৫। জীবন শেষ করে দেওয়ার মতন অনেক কিছু আছে- রেললাইন আছে, সমুদ্র আছে, দড়ি আছে, বাড়ির ছাদ আছে, আগুন আছে, পাহাড় আছে, বিষ আছে- আমাকে আলিঙ্গন করতে সবাই প্রস্তুত।
দু'কূল রাখা যায় না । ছাইটা হলো গিয়ে সৃস্মি আর আগুনটা হলো বর্তমান ।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


