
হাসান রাজার গান গুলো শুনতে ভালো লাগে।
রবীন্দ্রনাথের সাথে হাসান রাজার পরিচয় কখনও হয়নি। সেরকম কোনও তথ্য নেই। যদিও পরিচয় হতে পারত। হাসান রাজা রবীন্দ্রনাথের থেকে মাত্র সাত বছরের বড়, তিনি বেঁচে ছিলেন ১৯২২ সাল পর্যন্ত। অবশ্য তার পরিচয় তখনও সীমাবদ্ধ ছিল সিলেটের একটি ছোট গন্ডির মধ্যে। তার গানের সংগ্রহ ছাপা হয়েছিল ১৯১৪ সালে। সে বই যে রবীন্দ্রনাথের চোখে পড়েনি, তার প্রমাণ আছে।
এই দুইজন মানুষের দেখা হলে ভালো হতো।
যতদূর জানা যায়, প্রভাতচন্দ্র গুপ্ত নামে সিলেটের মুরাদি চাঁদ কলেজের একটি ছাত্র তার কলেজ ম্যাগাজিনে হাসান রাজার গান সম্পর্কে একটি প্রবন্ধ লিখেন। হাসান-ভক্ত এই ছেলেটির সাধ হয়েছিল হাসানের গান রবীন্দ্রনাথের গোচরে আনার। সে উদ্দেশ্যে সে চলে এসেছিল শান্তিনিকেতনে। রবীন্দ্রনাথ তার সাথে দেখা করেন এবং তার কথা শুনে হাসানের আটটি গান পড়ে দেখেন। তিনি বলেছিলেন, মাত্র এই ক'টি গানে ঠিক সিলেটের কবিটির পরিচয় বোঝা যাচ্ছে না, আরও কিছু লেখা চাই।
প্রভাতচন্দ্র ভুল করেছেন।
তার উচিত ছিলো হাসান রাজাকে সাথে করে শান্তিনিকেতনে নিয়ে যাওয়া। যাই হোক, সিলেটে ফিরে এসে প্রভাতচন্দ্র তার সংগ্রহ থেকে ৭৮টি গান পাঠিয়ে দেয় রবীন্দ্রনাথকে। সেসব পড়েই রবীন্দ্রনাথ বুঝতে পারেন হাসান রাজার জীবন-ভাষ্য। এতই মুগ্ধ হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ যে ১৯৩১ সালে অক্সফোর্ডের বিখ্যাত হিউবার্ট লেকচারে হাসানের নাম উল্লেখ করে বলেছিলেন যে, "It is a village poet of East Bengal who preaches in a song the philosphical doctrine that universe has its reality in its relation to the person." তারপর থেকেই হাসান রাজা সম্পর্কে শিক্ষিত সমাজের আগ্রহ জন্মায়।
"আমিই মূল নাগর রে আসিয়াছি খেউড় খেলিতে ভব সাগরে
আমি রাধা, আমি কানু, আমি শিব শংকরী অধর চাঁদ হই আমি, আমি গৌর হরি
আমি মূল, আমি কূল, আমি সর্ব ঠাঁই আমি বিনে এ সংসারে অন্য কিছু নাই...
(হাসান রাজার এই গানটি রবীন্দ্রনাথকে খুব প্রভাবিত করেছিল।)
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


