somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

খেলা

২০ শে মার্চ, ২০২১ রাত ১১:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবিঃ আমার তোলা।

ভয়াবহ এক গল্প পড়তে যাচ্ছেন।
ধরে নিন রাত বারোটা। খুব ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে। বাজ পড়ছে। বিজলি চমকাচ্ছে। অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটির তিন ছাত্র উইকএন্ড কাটাতে যাচ্ছে গাজীপুর। এক ডাক বাংলোয়। ওদের গাড়ি মাত্রই গাজীপুর চৌরাস্তা পার হয়েছে। ঝড় বৃষ্টির রাত বলেই রাস্তা বেশ ফাঁকা। গাড়ি চাল্লাচ্ছে রফিক। সে আস্তে গাড়ি চালাতে পারে না। তার লাইসেন্স নেই। সবাই রফিকের চাচার বাংলোয় যাচ্ছে। তারা তিন বন্ধু ছাড়াও তাদের সাথে একটা মেয়ে যাচ্ছে। মেয়েটাকে দুই দিনের জন্য ভাড়া করা হয়েছে। দালাল বলেছে, ঢাকা ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া মেয়ে স্যার। আসলে দালাল মিথ্যা বলেছে। এই মেয়ে লেখাপড়াই করে না। তবে চেহারায় চটক আছে। অবশ্য এরকম মেয়েদের চটক থাকতেই হয়। দুই দিন মেয়েটা তাদের মনোরঞ্জন করবে।

সুমন মেয়েটার সাথে খুনসুটি শুরু করেছে।
মেয়েটা বলছে, প্লীজ গাড়িতে কিছু না। প্লীজ। ধরে নিলাম মেয়েটার নাম রোজিনা। রোজিনা বেশ সুন্দর। স্বাস্থ্য ভালো। মুখটা ভীষণ মায়াময়। চোখে কাজল দিয়েছে। কাজল দেওয়াতে চেহারায় মায়া মায়া ভাব এসে গেছে। এদিকে মিজান বোতল খুলে ফেলেছে। রফিক গাড়ি চালাচ্ছে পাগলের মতোন। বৃষ্টি আগের চেয়ে আরো বেড়েছে। সামনের কিছুই দেখা যাচ্ছে না। গাড়ি চালাতে রফিকের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। রফিক চিৎকার করে বলছে, ঐ মিজান শালা গাড়িতে বোতল খুলতে গেলি কেন? মিজান বলল, গলাটা সামান্য ভিজালাম দোস্ত। রফিক, সুমনের দিকে তাকিয়ে বলল, রোজিনাকে ছেড়ে দে। অনেক সময় পাবি। গাড়িতে এসব বন্ধ কর হারামি। কে শুনে কার কথা। রফিক একটা সিগারেট ঠোটে নিলো। এরকম আনন্দ করে তার অভ্যাস আছে।

একটা দূর্ঘটনা ঘটলো।
গাড়ি মাওনা ব্রীজের কাছে আসতেই একলোক গাড়ি চাপা পড়লো। সম্ভবত লোকটি রাস্তা পার হচ্ছিলো। লোকটির বয়স চল্লিশ পঁয়তাল্লিশ হবে হয়তো। কথা হলো এই ঝর বৃষ্টির মধ্যে এই বদ রাস্তা পার হচ্ছিলো কেন? রোজিনাসহ তারা সবাই গাড়ি থেকে নামলো। না, লোকটি বেঁচে নেই। একদম মরে গছে। সুমন বলল, চল পালাই। রফিক বলল, পালিয়ে বাঁচা যাবে না। পুলিশ ঠিকই আমাদের খুঁজে বের করবে। তাহলে উপায়? মিজান বলল, আপাতত লাশ টা গাড়ির ডিকিতে তোল। পরে লাশ কোথাও পুতে ফেলব। রোজিনা ভয়ে কান্না শুরু করলো। বলল, আমি তোমাদের সাথে যাবো না। আমি সব পুলিশকে বলে দিবো। রফিক, রোজিনার গালে এক থাপ্পড় দিলো। বলল, তোরও একটা ব্যবস্থা করবো। সাক্ষী আমি রাখবো না। রোজিনা বলল, আমাকে ছেড়ে দাও- আমি কাউকে কিচ্ছু বলব না। প্লীজ। আল্লাহর দোহাই লাগে।

গাড়ি ময়মনসিংহ রোডে এসে থামলো।
এখানেই রফিকের চাচার ডাক বাংলো। বাংলো সুন্দর আছে। চাবি দিয়ে তালা খুলে তারা বাংলোয় প্রবেশ করলো। রোজিনার মুখ রুমাল দিয়ে বাঁধা। তাকে পাজাকোলে করে নেওয়া হলো। রফিক বলল, এখন রাত দুইটা। আমরা সবাই ক্লান্ত। এখন খাবো। তারা দুই দিনের খাবার সাথে করেই নিয়ে এসেছে। রফিক বলল, খেয়ে রোজিনার সাথে একে একে সময় কাটাবো আমরা। বোতল খোল। আর গাড়ির ডিকিতে যে লাশ আছে, সেটা আগামীকাল কোথাও কবর দিয়ে দিবো। কেউ জানবে না। কেউ টের পাবে না। কারন এ জায়গার নাম আলিমপুর। আমাদের ডাকবাংলোর আশেপাশে আর কোনো বাংলো নেই। এমন কি কোনো ঘরবাড়িও নেই। কাজেই নিশ্চিন্ত। ভয়ের কিছু নেই। অল্পের উপর দিয়ে বড় বাঁচা বেঁচে গেছি। এখন আনন্দ ফুর্তি করা যেতে পারে। হে হে---

সকাল ৯ টা। কলিং বেল বাজছে।
তারা সবাই লাফ দিয়ে ঘুম থেকে উঠলো। এত সকালে কে এলো? রোজিনাকে ভোরের দিকে জোর করে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে। তাকে ছাদে টাংকির নীচে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। আবার কলিংবেল বাজলো। দরজা খুলে তারা সবাই অবাক! পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে। পুলিশ বলল, আপনার বাড়িটা চেক করতে হবে। বাড়ি চেক করা হলো- কিছুই পাওয়া গেলো না। পুলিশ ফিরে যাওয়ার সময় গাড়িটা দেখতে পায়। পুলিশ বলল, গাড়ির ডিকি খুলুন। আমরা দেখবো। রফিক বলল, চাবি খুঁজে পাচ্ছি না। কাল অনেক রাতে আমরা এসেছি। ক্লান্ত ছিলাম। চাবি কোথায় রেখেছি মনে নেই। পুলিশ খেয়াল করে দেখলো- গাড়ি দরজা খোলা। রফিক বলল, কাল অনেক রাতে এসেছি- খেয়াল করি নি। হয়তো দরজা লাগানোর কথা মনে ছিলো না। যাই হোক, ডিকি খোলা হলো। ডিকি দেখে পুলিশ চলে গেলো। ডিকিতে কোনো লাশ নেই।

তিন বন্ধু প্রচন্ড অবাক!
লাশ গেলো কই? তারা তিনজন নিজের হাতে লাশ ডিকিতে তুলেছে। লাশ কই গেলো? আজীব ব্যাপার! লাশ গায়েব হলো কি করে? এটা কি করে সম্ভব? মিজান বলল, যা হয়েছে ভালৈ হয়েছে। ডিকিতে লাশ পেলে পুলিশ আমাদের ধরে নিয়ে যেত। আমাদের জেল হয়ে যেত। মাথার চুল সাদা হয়ে যাবে, আমরা বুড়ো হবো তারপর জেল থেকে ছাড়া পাবো। মানে আমাদের লাইফ শেষ। আমরা বড় বাঁচা বেঁচে গেছি রে। হঠাত সুমন বলল, চলতো ছাদে গিয়ে দেখি রোজিনার কি অবস্থা। ছাদে গিয়ে দেখা গেলো। রোজিনা নাই। অথচ রোজিনা কোথাও হেঁটে যাবার মতোন অবস্থা নাই। রাতে উপর অনেক অত্যাচার হয়েছে। ঘুমের ওষুধ খেয়ে সে অসেতন হয়ে গেছে। রোজিনা গেলো কোথায়? এসব কি হচ্ছে তাদের সাথে!

(দ্বিতীয় পর্ব আগামীকাল)
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০২১ রাত ১১:৩০
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×