somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ম্যাজিক

৩০ শে মে, ২০২১ সকাল ১০:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



একবার এক যাদুকর আড্ডা দিচ্ছেন তার কিছু ভক্তদের নিয়ে।
হঠাৎ এক ভক্ত যাদু সম্পর্কে জানতে চাইলো। যাদুকর বর্ণনা দেয়ার সময় বার বার ধর্মকেই টানছিলেন। তখন আরেকজন বললেন, আপনি যাদুর কথা বলতে গিয়ে ধর্মকে টানছেন কেনো? যাদু হচ্ছে মানুষের চোখের ফাঁকি। আর ধর্মতো ধর্ম। তখন যাদুকর বললেন, যাদুর কথা বলতে গেলে ধর্মকে আনতেই হবে। কারণ যেদিন থেকে ধর্মের উৎপত্তি হয়েছে সেদিন থেকেই যাদুর উৎপত্তি হয়েছে। দুটোই এতো জটিল যে, ব্যাখ্যায় দাঁড় করানো যাবে না। লজিক যেখানে অসহায়। তাই ধর্ম ও যাদু দুটোই টিকতে পারে অন্ধ বিশ্বাস দিয়ে।

প্রকৃত সত্য এবং যাদু একে অপরের বিপরীত।
যাদু মিথ্যা ও প্রতারণার উপরে প্রতিষ্ঠিত। যা মিথ্যা যা অশুভ তা প্রতারণার সাহায্যে নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। কিন্তু তা কখনও স্থায়ী হতে পারে না। সত্য শেষ পর্যন্ত প্রকাশ হবেই। আপাতঃ দৃষ্টিতে মিথ্যাকে ন্যায় সঙ্গত মনে হলেও তার স্থায়ীত্ব ক্ষণস্থায়ী। সত্যের আলোয় মিথ্যার অন্ধকার দূরীভূত হতে বাধ্য। এ কথা পৃথিবীতে সর্বকালে সর্বযুগের জন্য সত্য। বাংলাদেশে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী বলে বহু ব্যক্তি নিজেকে দাবী করে- যারা নিজেকে পীর রূপে প্রতিষ্ঠিত করে। এদের বহুভক্ত বা মুরীদ আছেন।

ভারত বর্ষের বিখ্যাত জাদুকর পি. সি. সরকার (প্রতুল চন্দ্র সরকার) জন্ম: ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯১৩। মৃত্যু: ৬ জানুয়ারি ১৯৭১। জন্মগ্রহণ করেন বাংলাদেশের টাঙ্গাইলের অশোকপুর নামে ছোট্ট একটা গ্রামের কুঁড়ে ঘরে। প্রচণ্ড দারিদ্রের মধ্যে কাটে তার শৈশব। তিনি বলেছেন- আমি চিরজীবন শুধু ম্যাজিকের জগতেই বসবাস করেছি। স্বপ্নের রঙ গায়ে মেখে জীবন কাটিয়েছি। পৃথিবীর বহু দেশেই আমি গিয়েছি, সেখানকার মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করেছি। যতই তাদের নৈকট্য বেড়েছে, আমি নিজের দেশকে আরো বেশি করে শ্রদ্ধা করতে, চিনতে পেরেছি। আমি পুরোপুরিভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছি যে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দেশ ভারত।

পিসি সরকার, নিজেই বলেছেন, ম্যাজিক একটা শিল্প।
এতে বিজ্ঞান, টেকনোলজি, শারীরিক দক্ষতা আর শোম্যানশিপ সব-ই লাগে। কোনো অলৌকিক কিছুই নেই। প্রতুল বাবুকে অনেক সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে বিখ্যাত যাদুকর হতে হয়েছে। তিনি একটি মেস বাড়িতে থাকতেন। ম্যাজিক দেখিয়ে সংসার চালান দুঃসহ হয়ে উঠেছিল। গ্রামের বাড়িতে টাকা পাঠাতে পারতেন না তিনি। ঠিক সেই সময়ে একটি চিঠি এসে হাজির। চিঠিতে তৎকালীন পশ্চিম বঙ্গের গভর্ণরের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে অনুরোধ করা হয়েছে যাদুকর হিসেবে প্রতুলবাবুকে।

‘ম্যাজাই’ থেকে ‘ম্যাজিক’ শব্দের উৎপত্তি।
ম্যাজিকের অপর নাম পান্ডিত্য। বিশ্বকবির ভাষায়- “যেটা যা হয়েই থাকে, হয় না যা, তা-ই হল ম্যাজিক ট্রফি”। একদিকে কলকারখানা অর্থাৎ ইন্ডাসট্রিয়াল শিল্প ,অন্যদিকে আছে প্রতিভা শিল্প। অন্তর্জগতের বহিঃপ্রকাশই হল প্রতিভা শিল্প। কবিতা, গান, ছবি আঁকা প্রভৃতি প্রতিভা শিল্পের অন্তর্গত। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনও একটি কলমের কালি দিয়ে একটি সুন্দর ছবি আঁকা হল। এর কৃতিত্ব কলমের নয়, যিনি ছবিটি এঁকেছেন কৃতিত্ব তাঁর। এই প্রতিভা শিল্পের চরম বিকাশ হল ম্যাজিক। যে খুব ভাল তবলা বাজায়, তাকে তবলার যাদুকর বলা যায়। এভাবে ফুটবলের যাদুকর, হকির যাদুকর প্রভৃতির উল্লেখ করা যায়।

সবার জীবনের স্বপ্ন হল যাদুকর হবার, জগতের যাদুকর হবার।
কিন্তু সবাই পারে না যাদুকর হতে। পৃথিবীর সেরা যাদুকর ঈশ্বর-প্রকৃতি। যিনি প্রকৃতি, তিনিই ঈশ্বর। তিনি মহাজাগতিক। তাঁকে আঁকাও যায় না, ভাবাও যায় না। শুধুমাত্র কল্পনা করা যায়। ম্যাজিক হল এক ধরনের বিজ্ঞান, বুদ্ধিসত্ত্বার পরিচয় বহনকারী ঘটনা। প্রদীপ বাবুর মতে, একজন বিখ্যাত যাদুকর ছিলেন চীনদেশের কনফুসিয়াস। তাঁর কথাবার্তা শুনে সবাই ‘কনফিউস’ হয়ে যেতেন। মাথা চুলকে চিন্তা করতে হত সবাইকে। সব মনের কথা তালগোল পাকিয়ে যেত। তাঁর কথায়ই সবাইকে সায় দিতে হতো।

জুয়েল আইচ বাংলাদেশের একজন যাদুশিল্পী, বাঁশী বাদক ও চিত্রশিল্পী।
দেশের শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি ইউনিসেফের অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ করছেন। জাদুর প্রতি তাঁর ভালোবাসাটা উন্মাদনায় পরিণত হয় সিরাজগঞ্জের জাদুকর আবদুর রশিদের জাদু দেখে, আর বন্দে আলী মিয়ার রূপকথা পড়ে। একটু একটু করে জাদু শিখতে লাগলেন তখন থেকেই, নানা জনের কাছে। তাঁর বিখ্যাত জাদু কাগজ থেকে ডলার বানানো, চোখ বেধে গাড়ি চালানো, কাটা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জোড়া লাগানো ইত্যাদি।

ইন্দোনেশিয়ার সমুত্রা দ্বীপে একটা এমন একটা যাদু বিধান আছে-
কোন নারীর সন্তান হচ্ছে না, তখন করা হয় কি একটা কাঠের ছোট শিশু বানিয়ে নিঃসন্তান রমনীটি কোলে বসিয়ে আদর করে! এর ফলে তার সন্তান হবে এমন ভাবা হয়! প্রাচীন হিন্দু সমাজে জন্ডিস (পান্ডুর) রোগের চিকিৎসার জন্য মন্ত্র পাঠ করে রোগীর চোখের হলুদ অংশ সূর্যের কাছে পাঠানো হত!
যাদু বিদ্যার প্রাচীন ইতিহাস যদি আমরা খুজে দেখতে চাই তাহলে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে সেই প্যালিওলিথিক যুগের গুহামানবদের গুহা চিত্রের দিকে। তবে যাদু বিদ্যায় যারা সবচাইতে বেশি ভূমিকা রেখেছে তারা হলো প্রাচীন মিশরীয়রা। যাদুর উৎপত্তি স্থল সম্পর্কে। বলা হয়, যাদুর উৎপত্তি বাবিল নামক স্থান থেকে। বাবিল হচ্ছে, ইরাকের একটি জায়গা। ইতিহাস এই শহরটিকে বেবিলন সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে স্বরণ করে।

ধর্ম বা যে কোন কিছুকেই টিকিয়ে রাখা যায় বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে।
যাদুও টিকে যায় বিশ্বাসের উপর। হয়তো তা কুসংস্কার আবার হয়তো তার অস্তিত্ব আছে। ধর্মে বলা হচ্ছে অস্তিত্ব আছে। যুক্তি তর্কে ধর্ম বিশ্লেষণ করতে গেলে তা ধ্বসে পড়বে আর তাই ধর্মও টিকে আছে অন্ধ বিশ্বাসের উপর। আরজ আলী মাতুব্বর বলেছেন, বিজ্ঞান প্রত্যক্ষ ও অনুমানের উপর প্রতিষ্ঠিত, তাই বৈজ্ঞানিক তত্ত্বে আমাদের সন্দেহ নাই। বিজ্ঞান যাহা বলে, তাহা আমরা অকুন্ঠ চিত্তে বিশ্বাস করতে পারি। অতীতে অনাবৃষ্টি, মহামারী, সন্তানের মৃত্যু, রোগশোক এসব দূর্ঘটনাকে অলৌকিক শক্তির কাজ মনে করত। পানি ছিটিয়ে জমিতে নাচত-বৃষ্টির জন্য। বিভিন্ন আচার ও রীতি পালন করে অলৌকিক শক্তির কাছে চেয়ে নেয়াই ম্যাজিক বা যাদু।

ছোট বেলায় আমিও উড়ার চেষ্টা করতাম কিন্তু আমি পারি নাই, মানুষ কি উড়তে পারে? হ্যাঁ একজন পারে। বলুন তো কে সে? এই শূণ্যে ভেসে বেড়ানো ম্যাজিকটা দেখে আমি রীতিমতো অবাক!! কি ভাবে David Copperfield উড়তে পারেন!! অবশ্যই হয়তো সহজ কোনো কৌশল আছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মে, ২০২১ সকাল ১০:৫৫
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×