somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

প্রিয় কন্যা আমার- ১৪

১১ ই জুলাই, ২০২১ রাত ১:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবিঃ Six Month Birthday Celebration.

প্রিয় কন্যা আমার, ফারাজা তাবাসসুম খান (ফাইহা)
আজ আমি সারারাত জেগে থাকবো। কারন সকাল ছয়টায় আমার প্রিয় দল আর্জেন্টিনার খেলা আছে। তাও আবার ব্রাজিলের সাথে। ভোরে খেলা দেখে তারপর ঘুমাতে যাবো। তুমি নিশ্চয়ই জানো আমি আর্জেন্টিনার সাপোর্টার। আমি জানি তুমিও বড় হয়ে আমার মতো আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করবে। আজ আমার খুব ইচ্ছা ছিলো তোমাকে আর্জেন্টিনার জার্সি পড়িয়ে ছবি তুলবো। কিন্তু তা হলো না। করোনার জন্য বাইরে যেতে পারি নি। তাছাড়া সব মার্কেট বন্ধ। এজন্য আমার মনটা কিঞ্চিৎ খারাপ। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে করোনা পৃথিবীতে আঘাত করেছে। চারিদিকে ভয়াবহ অবস্থা। প্রতিদিন একশ'র উপরে মানুষ মরছে। প্রতিদিন দশ হাজারের বেশি মানুষ নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। এদিকে জানি না কবে টিকা দিতে পারবো। আর দশ দিন পর কোরবানীর ঈদ।

প্রিয় কন্যা আমার,
প্রায় দেড় মাস পর তোমাকে নিয়ে লিখছি। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এতদিন লিখতে পারি নি। কারন যে ব্লগে আমি লিখি সেই ব্লগ আমাকে ব্যান করে দিয়েছে। এর আগেও আমি বেশ কয়েকবার ব্যান খেয়েছি। তবে এবার ব্যানমুক্ত হতে অনেক সময় লেগেছে। আমার অপরাধ আমি লেখার সাথে তথ্যসুত্র দেই নি। তাই বেশ কয়েকজন ব্লগার তেড়ে ফুড়ে এসে আমার গলা টিপে ধরলো। কেউ কেউ চোর, ডাকাত ইত্যাদি হাবিজাবি বলে দিলো। ফারাজা, প্রিয় কন্যা আমার- তুমি এতটুকু মাথায় রেখো, তোমার বাবা জেনে শুনে বুঝে কখনও অন্যায় কাজ করবে না। যাই হোক, মনে করো ব্লগে আমি আমার প্রিয় কবি জীবনানন্দের 'অদ্ভুত আঁধার এক' কবিতাটা ব্লগে পোষ্ট করলাম। এখন কেন আমার লিখে দিতে হবে- কবিতাটা আমার না? কবিতাটা জীবনানন্দের। কবিতাটা পড়ে যারা জানবে না, বুঝবে না এই বিখ্যাত কবিতা জীবন বাবুর এটা তাদের ব্যর্থতা। নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে কাউকে খালি দেওয়া কাপুরুষতা।

প্রিয় ফারাজা,
তুমি ছয় মাস পার করে ফেলেছো। তুমি এখন সাত মাসে পা রেখেছো। ছয় মাস পূর্ন করায় বাসায় তোমার ছয় মাসের জন্মদিন পালন করলাম। তুমি কেক কেটেছো। এবং সুরভি অনেক কিছু রান্না করেছে। পোলাউ, গরুর মাংস, রোষ্ট, টিকিয়া। সাথে ছিলো বোরহানি, সালাদ আর স্প্রাইট। বাসার সবাই মিলে মজা করে খেয়েছি। তবে জুন মাসে ছিলো তোমার বোন পরীর জন্মদিন। সেদিন কাছের কিছু আত্মীয়স্বজন দাওয়াত করেছিলাম। সন্ধ্যার মধ্যে আত্মীয়স্বজনরা সব এসে গেছে। কিন্তু এমন সময় খুব তুমি অসুস্থ হয়ে পড়লে। বমিটমি করে একাকার অবস্থা। বমি করার কারন বিকেলে তোমার মা তোমাকে কলা খাইয়েছিলো। কলা তুমি হজম করতে পারো নি। ফলাফল বমি। এবং তুমি বমি করতে করতে ভীষন অসুস্থ হয়ে পড়লে। একদম নেতিয়ে পড়লে। তোমার এতটুকু শরীর পুরো লুটিয়ে পড়লো। তোমার মা কান্নাকাটি শুরু করে দিলো। শেষে বাসায় গেস্ট রেখে তোমাকে নিয়ে যাওয়া হলো হাসপাতালে। যাই হোক, কয়েক ঘন্টা পর তুমি সুস্থ হলে।

প্রিয় কন্যা আমার,
এখন পর্যন্ত করোনায় আমাদের দেশে মোট মৃত ১৬,১৮৯। এবং করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১০০৯৩১৫ জন। দিন দিন আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আমার যদি করোনা হয়। এবং আমি যদি মরে যাই। তাহলে তোমাকে দেখবে কে? এই চিন্তায় আমার প্রেসার বেড়ে যায়। দম বন্ধ হয়ে আসে। তোমার জন্য হলেও আমাকে আরো কমপক্ষে বিশ বছর বেঁচে থাকতে হবে। আমি পৃথিবীতে না থাকলে কারো কিছু যাবে আসবে না। কিন্তু তোমার খুব কষ্ট হবে। তোমার মার খুব কষ্ট হবে। এজন্য আমি অন্তত আরো বিশটা বছর বেঁচে থাকতে চাই। তারপর আমি মরে গেলে তোমাকে কোনো বেগ পেতে হবে না। আমি সেই ব্যবস্থা করে রাখবো। তোমাকে বলে রাখি, আমি একজন ভালো বাবা হবো। এবং তুমি বিনা দ্বিধায় চিৎকার করে বলতে পারবে- আমার বাবা পৃথিবীর সেরা বাবাদের একজন। ফারাজা আমার কাছে সারা দুনিয়া একদিকে আর তুমি অন্যদিকে। তোমার চেয়ে আপন আমার আর কেউ নেই।

প্রিয় কন্যা ফাইহা,
তোমাকে নিয়ে এই করোনার মধ্যেও আমার সময় ভালো কাটছে। তুমি না থাকলে এই করোনাকাল আমার জন্য বিভীষিকাময়য় হতো। তুমি খেক খেক করে হাসো। হাত পা ছোড়াছোড়ি করো। তোমার হাসি আমাকে আনন্দ দেয়। শক্তি দেয়। তুমি বেশ আছো। এখন তোমাকে আপাতত আপেল আর নাসপাতির জুস খাওয়াচ্ছি প্রতিদিন অল্প অল্প করে। মাঝে মাঝে ডাল দিয়ে ভাত খাওয়াচ্ছি। দুপুরে তোমাকে খিচুরী খাওয়াচ্ছি। খিচুরিতে দেওয়া হয়- মিষ্টি কুমড়া, বরবটি, কিছু ভাতের চাল আর আলু। সবচেয়ে বড় কথা তুমি আগ্রহ নিয়ে খাও। তোমার জন্য আমি ফলটল কিনে ফ্রিজ ভরে রেখেছি। তবে পেঁপে টা খুঁজে পাচ্ছি না। এই লকডাইনের মধ্যে আমি তিনবার বের হয়েছি। কিন্তু পেঁপে টা পাইনি। এখম তুমি আরাম করে ঘুমাচ্ছো। ভোরে যদি তোমার ঘুম ভাঙ্গে তাহলে তোমাকে নিয়েই আর্জেন্টিনার খেলা দেখব। তোমার মা ফুটবল, ক্রিকেট কোনো খেলাই পছন্দ করে না। মনে হয় খেলা বুঝেও না। আজিব!

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০২১ রাত ১:৪৫
৩৬টি মন্তব্য ৩৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একাত্তরের আগের আর পরের জামাত এখনও এক

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ০২ রা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮


গোলাম পরওয়ার বলেছে একাত্তরের জামাত আর বর্তমান জামাত এক নয়। অথচ এক। স্বাধীনতার আগের জামাত আর পরের জামাত একই রকম।
একাত্তরের আগে জামাত পাকিস্তানের গো% চাটতো এখনও তাই চাটে। তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সোনার ধানে নোনা জল

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:১২



হঠাৎ একটা তীক্ষ্ণ শব্দে রেদোয়ানের ঘুম ভাঙল। না, কোনো স্বপ্ন নয়; মেঘের ডাক আর টিনের চালে বৃষ্টির উন্মত্ত তান্ডব। বিছানা ছেড়ে দরজায় এসে দাঁড়াতেই এক ঝলক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরহুম ওসমান হাদীর কারণে কবি নজরুলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯


ইনকিলাব মঞ্চের জাবের সাহেব মাইকের সামনে দাড়িয়ে যখন বললেন , শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের উসিলায় নাকি এদেশের মানুষ আজ কবি নজরুলের মাজার চিনতে পারছে, তখন মনে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের শিক্ষা - ১

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ৯:২৬



সমাজ আমাদের বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করে। কখনো ধন-সম্পদ দিয়ে, আবার কখনোবা কপর্দকশূন্যতা দিয়েও! সমাজের এই পরীক্ষায় কেউ জিতেন, আবার কেউবা পুরোপুরি পর্যুদস্ত হয়ে বিদায় নেন এই ধরাধাম থেকে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিষন্ন মেঘের ভেলায় ভেসে....

লিখেছেন ইন্দ্রনীলা, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ১০:২৯



তোমাকে শুধু একটাবার বড় দেখতে ইচ্ছা করে...
এই ইচ্ছায় আমি হয়ে যাই একটা ঘাসফড়িং
কিংবা আসন্ন শীতের লাল ঝরাপাতা,
উড়ে যাই ভেসে যাই দূর থেকে দূরে...
অজানায়...

শরতের কাঁশফুলের পেঁজা তুলো হয়ে
ফুঁড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×