
ছবিঃ আমার তোলা।
সরকার কঠোর লকডাউন দিয়েছে।
আমি লকডাউন মেনে চলার চেষ্টা করছি। খুব দররকার না হলে বাইরে যাচ্ছি না। বাসাতেই বিন্দাস সময় পার করছি। ঘুম পেলেই ঘুমাচ্ছি। খাচ্ছি, লুডু খেলছি, দাবা খেলছি, মোবাইলে গেমস খেলছি। মুভি দেখছি, নাটক দেখছি, ইউটিউবে খুঁজে খুঁজে ফানি ভিডিও দেখছি। বই পড়ছি। সন্ধ্যায় নিজেই নুডুলস বানাচ্ছি। সবাই খেয়ে ভালৈ বলেছে। ফুডপান্ডা থেকে খাবার অর্ডার দিচ্ছি। কখনও পিজা, কখনও চিকেন ফ্রাই। কখনও বার্গার। অনলাইনে অর্ডার দিচ্ছি আম আর কাঁঠাল। বাসায় এসে দিয়ে যাচ্ছে।

আমি টিকটক করছি।
আমার কন্যাকে নিয়ে টিকটক করছি। কন্যা খুশি, আমিও খুশি। টিকটক ভিডিও সামুতে কিভাবে দেয় জানি না। তাই আপনাদের দেখাতে পারলাম না। সন্ধ্যা হলেই আমার দুই চাচা আমাদের বাসায় চলে আসেন লুডু খেলার জন্য। চাচাদের বাসার দূরত্ব আমাদের বাসা থেকে তেরো মিনিটের। লুডুর চেয়ে দাবা খেলতে আমার বেশি ভালো লাগে। যদিও দাবা আমি ভালো খেলি না। আমাদের বাসার লোকজনের দাবা খেলার প্রতি আগ্রহ নেই। আমার মা লুডু খেলায় ওস্তাদ। মার সাথে লুডু খেলায় কেউ পারে না। লুডু খেলা কে এবং কখন আবিস্কার হয়েছে? সম্ভবত মুঘল আমলে।

ফুডপান্ডার সার্ভিস খুব ভালো।
অর্ডার করলেই খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাসায় এসে দিয়ে যায়। কেএফসি'র চিকেন ফ্রাইটা মাঝে মাঝে খেতে ভালোই লাগে। পিজা আমি খাই না। কিন্তু বাসার মানুষ পিজা খুব পছন্দ করে। সুবিধা হলো- রবিবার পিজা কিনলে একটার সাথে আরেকটা ফ্রি দেয়। সাথে কোক স্প্রাইট ফ্রি দিলে আরো ভালো হতো। পিজার চেয়ে আমি বেশি পছন্দ করি চা। পরী চা খায় না কিন্তু চা দিয়ে বিস্কুট খেতে খুব পছন্দ করে। ক'দিন ধরে আলুর পরোটা খেতে খুব ইচ্ছা করছিলো। সুরভিকে বললাম। বানালো। সুরভি বাসায় মোগলাই পরোটাও ভালো বানায়।

ডিম চপ, মোগলাই পরোটা আর আলুর পরোটা-
সুরভি ভালো বানায়। খেতে ভালো লাগে। সব কিছু মিলিয়ে লকডাউন বিরক্তকর লাগছে না। সবচেয়ে বড় কথা কন্যা ফাইহাকে নিয়ে ব্যস্ত থাকায় কখন সময় চলে যায় বুঝি না। আজ সুরভিকে বলেছি ইলিশ মাছ রান্না করতে। লকডাউনের আগের রাতে বাজার করেছিলাম। সেদিন সন্ধ্যা থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছিলো। বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে বাজার করেছি। খুব সাহস করে এক কেজির একটা ইলিশ কিনে ফেলেছিলাম পনের শ' টাকা দিয়ে। আমি সব সময় ডিমওলা ইলিশ কিনি। যদিও লোকে বলে ডিমওলা ইলিশ খেতে স্বাদ হয় না। আমি ইলিশ মাছ কিনলে ইলিশ মাছের সাথে ডিম না থাকলে মনে হয় ঠকে গেলাম।

মানুষের জীবন খুব মূল্যবান।
বাইরে থেকে কেউ এসে আপনার জীবন আনন্দময় করে দিবে না। আপনার জীবন আপনাকেই আনন্দময় করে নিতে হবে। জীবনে যেন বিরক্তি না আসে সেদিকে পুরো খেয়াল রাখা দরকার। জীবনের পথে ঝামেলা করার লোকের অভাব হয় না। তাই খুব সাবধান থাকতে হয়। মনে রাখবেন- দুষ্টলোক সব জায়গায় থাকে। মক্কা মদীনায়ও আছে। চেষ্টা করলে পরিবার পরিজন নিয়ে ভালো থাকা যায়, আনন্দে থাকা যায়। মানুষের জীবন তো একটাই। এলোমেলো পথ না মাড়িয়ে কিভাবে ভালো থাকা যায় সেই চেষ্টা করা উচিত সকলের।

আমি রান্না করতে জানি না।
তবু মাঝে মাঝে এটা সেটা রান্না করি। খেতে খারাপ হয় না। নুডুলস রান্না করাটা আমার কাছে সবচেয়ে সহজ মনে হয়। তবে চা টা ভালো বানাতে পারি না। পাতি, দুধ-চিনির হিসাবটা সঠিক বুঝি না। এলোমেলো ঠেকে। আজ পাশের বাসায় আমাদের সকলের দাওয়াত। কথা ছিলো আর্জেন্টিনা জিতলে একটা পার্টি হবে। সেই পার্টি। যদিও এই দাওয়াতে আমি যাবো না। যাই হোক, লেখা এইখানেই শেষ করছি। অনেকদিন ব্যানে ছিলাম। তাই অনেক লেখা মাথার মধ্যে জমে গেছে। লেখা গুলো মাথা থেকে না নামানো পর্যন্ত শান্তি নাই। ধীরে ধীরে সব লিখব।

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০২১ বিকাল ৫:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




