somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমাদের শাহেদ জামাল- (ত্রিশ )

১২ ই জুলাই, ২০২১ দুপুর ১২:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবিঃ আমার তোলা।

ব্যাক্তিত্ব আসলে সব মানুষের মধ্যেই থাকতে হয়।
ব্যাক্তিত্ব শুধু কবি সাহিত্যিকদের থাকবে এটা কেমন কথা! ব্যাক্তিত্ব খুবই বড় ব্যাপার। ব্যাক্তিত্বহীন মানুষ তো আসলে নিম্মস্তরের প্রানীর মতোণ। সেদিন শাহেদ জামাল একটা লেখা পড়েছে, একভদ্রলোক ব্যাক্তিত্ব নিয়ে লিখেছেন। ভালো লেখা। লেখায় অভিজ্ঞতার ছাপ স্পষ্ট ছিলো। লেখক লিখেছেন- ''লেখকের টাকা পয়সা থাক বা না থাক কিন্তু ব্যক্তিত্ব থাকতে হয়। কবিতা, সাহিত্য, ভাষা, মানুষের সংস্কৃতির অংশ। সংস্কৃতির ফসল হচ্ছে মানুষের ব্যক্তিত্ব। লেখদের ব্যক্তিত্ব তাঁদের লেখার লাইনে লাইনে লেখা থাকে।'' চমৎকার কথা। যুক্তি সংগত কথা। লেখাটা পড়ে ইচ্ছা করেছে লেখককে নিজের হাতে বানিয়ে এক কাপ চা খাওয়াই।

হুমায়ূন আহমেদ সহজ সরল করে লিখতে জানতেন।
শাহেদ জামাল এক ছাগলকে দেখেছে সহজ বিষয় নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করতে। ছাগল পন্ডিতগিরি করতে নিয়ে নিজেকে নিম্মস্তরের প্রানীতে রুপান্তরিত করেছে। শাহেদ জামাল সেই ছাগলকে বলতে চায়- আগে তুই মানুষ। তারপর চেষ্টা করলে ব্যাক্তিত্ব অর্জন করতে পারবি। কিছু ছাগলের ব্যাক্তিত্বের আগে মানুষ হওয়া দরকার। কুটিল জটিল মানুষেরা এটা বুঝে না- আপনার কথা, আপনার দায়িত্ববোধ, আপনার ‍কাজ দিয়েই আপনাকে পরিমাপ করবে সবাই। আপনি মানুষের সামনে যেটা প্রকাশ করছেন সেটাই আপনার ব্যক্তিত্ব। মানুষের যে নীতি ও আদর্শ তার লক্ষ্যের চুড়ান্ত সফলতায় পৌছে, এমন ব্যাক্তিত্বকেই মানুষ সম্মান করে বা অনুসরন করে। কাজেই জটিলতা কুটিলতা বাদ দিয়ে আগে মানুষ হতে চেষ্টা কর।

শাহেদ জামাল সকালে বাসা থেকে বের হয়েছে।
হোটেলে নাস্তা খেয়েছে। হোটেলের মালিক শাহেদ জামালের পরিচিত। পকেটে টাকা না থাকলেও এই হোটেলে নাস্তা খাওয়া যায়। মাস শেষে টাকা দিলেই হলো। শাহেদ জামাল সকাল ১১ টায় রমনা পার্কে এসে তার প্রিয় বেঞ্চটায় বসেছে। গাছপালা শাহেদ জামালের ভালো লাগে। দীর্ঘ সময় গাছপালার মাঝে থাকলে নিজেকে প্রকৃতির অংশ বলে মনে হয়। তাই তখন নিজেকে তুচ্ছ বলে মনে হয় না। রমনা পার্কটা নতুন করে সাজিয়েছে। পায়ে চলা পথ গুলো ভেঙ্গে গিয়েছিলো। সেগুলো মেরামত করা হয়েছে। পুরো পার্ক জুড়ে কেমন একটা টিপটপ ভাব চলে এসেছে। দেখতে ভালো লাগে। এই রমনা পার্কটা শাহেদ জামালের বন্ধু। সবচেয়ে ভালো বন্ধু।

সুন্দর একটা মেয়ে শাহেদের পাশে বসলো।
শাহেদ মেয়েটার দিকে তাকালো। মেয়েটার বসার মধ্যে কোনো জড়তা নেই। একদম সহজ সরল ভাব। সবচেয়ে বড় কথা মেয়েটা দেখতে ভীষন মিষ্টি! সুন্দর একটা মেয়ে শাহেদ জামালের পাশে বসে আছে। শাহেদের নিজেকে মিশরের সম্রাট বলে মনে হচ্ছে। শাহেদ জামাল ভাবছে পার্কে এত বেঞ্চ খালি থাকতে মেয়েটা তার পাশে বসলো কেন? খারাপ মেয়ে নয় তো? অবশ্য মেয়েটার চোখ, মুখ আর পোশাক দেখে দেখে সেরকম কিছু মনে হচ্ছে না। মেয়েটা শাহেদ জামালের চোখের দিকে তাকিয়ে বললো, আমার জন্য কি আপনার অস্বস্তি হচ্ছে? আমি কি অন্য কোথাও গিয়ে বসব? শাহেদ জামাল মুগ্ধ! কি সুন্দর কন্ঠ! কথা গুলো বললও কত সুন্দর করে! শাহেদ বলল, মোটেও না। আপনি আমার পাশে বসে আমাকে মহৎ করেছেন।

দুজন মানুষ তো পাশাপাশি বসে চুপ করে থাকতে পারে না।
মেয়েটা বলল, আমার নাম নিশাত। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স করেছি। শালার এমন সাবজেক্টে পড়েছি কোথাও চাকরী পাচ্ছি না। অবশ্য আমার চাকরী করার খুব প্রয়োজন নেই। আমি বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। সবচেয়ে বড় কথা আমার বাপের যা সম্পদ আছে তা দিয়ে আমি পায়ের উপর পা তুলে একটা জীবন আনন্দে পার করে দিতে পারবো। কিন্তু দুঃখ হয়- শুধু শুধু লেখাপড়া করলাম। আমার লেখাপড়া দেশ বা সমাজের কোনো কাজে লাগলো না।
শাহেদ বললো, আপনি কোন বিষয়ে লেখাপড়া করলে সমাজের উপকার হতো বা বলা যায় সমাজকে কিছু দিতে পারতেন? নিশাত বলল, কথা বলার এত এত বিষয় থাকতে আমরা এরকম ফালতু বিষয় নিতে কথা বলছি কেন?

দুপুর দুইটা। যদিও বর্ষাকাল চলছে। কিন্তু বৃষ্টি নেই।
চারিদিকে কড়া রোদ। নিশাদ আর শাহেদ গেলো পুরান ঢাকায়। তাঁরা বিরানী খাবে। তাদের দুজনের মধ্যে খুব ভাব হয়ে গেছে। নিশাত বলেছে- আজ সারাদিনে যত খরচ হবে সব আমি দিবো। সব সময় ছেলেরাই শুধু খরচ করবে এটা কেমন কথা! আমি এই নিয়মটা ভাঙতে চাই। শাহেদ জামাল নিশাত নামের মহীয়সী নারীকে যত দেখছে তত মুগ্ধ হচ্ছে! তার এত খুশি লাগছে, ইচ্ছা করছে দুই হাত দিয়ে মেয়েটাকে জড়িতে ধরতে। মেয়েরা মনে হয় ছেলেদের মনের কথা বুঝতে পারে। নিশাত মিষ্টি হেসে বললো- তোমার চোখ মুখ দেখে মনে হচ্ছে তুমি আমার উপর খুব মুগ্ধ! আমাকে জড়িয়ে ধরতে চাও! শাহেদ খুব লজ্জা পেলো। নিশাত বলল, তোমাকে সেই সুযোগ দেওয়া হবে। কারন, তোমার চোখে মুখে কোনো লোভ নেই।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুলাই, ২০২১ দুপুর ১২:৩২
১০টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাফিয়া ট্রাম্পের নজর এবার ফুটবল বিশ্বকাপে....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


একটা ফোন কল কতটা শক্তিশালী হতে পারে, সেটা এবার হাড়ে হাড়ে টের পেল গোটা ফুটবল দুনিয়া। বসনিয়ার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখে মার্কিন ফুটবলার বালোগুনের নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল বেলজিয়াম... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি আমি চিরন্তন

লিখেছেন সামিয়া, ০৭ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:০৮



মানুষজন আমাকে জিজ্ঞেস করে, তোমার সঙ্গে নাকি আর যোগাযোগ নেই? আমি শুধু হাসি। কীভাবে বোঝাই, কথা না হলেও কিছু মানুষ প্রতি রাতেই এসে মনের ভেতর চুপচাপ বসে থাকে; ঘুমানোর প্রস্তুতি... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশপ্রেম হুমকি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৭ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২৬


তুমি আউয়াল বাওয়াল
দলকানা এক উম্মাদ;
তুমি কাকে বলছো সন্ত্রাস!
যদি সন্ত্রাস বুঝ- তাহলে
তুমি মস্তবড় সন্ত্রাস!

তুমি রক্ত দেখলে না
লাশ দেখলে না আর
লক্ষকোটি জনস্রোত-
ক্ষমতায় দেখলে সুদ্ধ
খুনির হাতে রক্তাক্ত-
বুঝলে না বুঝলে না।

তুমি আউয়াল বাওয়াল
দলকানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখিত! আবার একটা গিটার ভিডিও পোস্ট করলাম।

লিখেছেন আরাফাত৫২৯, ০৭ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:০০

দুঃখিত! আবার একটা গিটার ভিডিও পোস্ট করলাম।

কেমন লাগল জানালে খুশি হব।

C Note in E Major Scale



টিউনটা 'ই' মেজর স্কেলে করা কিন্তু টিউনের মধ্য ইচ্ছা করে অনেকবার 'সি' নোটটা বাজাইছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই বিপ্লব নাকি জুলাই CIDI?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:২৯



আমি মনে করি জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ সাধারণ জনগণ। যাদের মধ্যে দেশপ্রেম, মায়-মমতা আছে, যারা অন্যায়-অবিচার দেখলে প্রতিবাদ করেন, তারাই এই আন্দোলনের মূল শক্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×