somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

এই সমাজ- ৪৩

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১২:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবিঃ আমার তোলা।

সব কিছু বদলে যায়।
মানুষ, সমাজ এবং দেশ। সময়ের সাথে সাথে বদলে যায়। যান কেউ থামাতে পারবে না। ৯০ এর দশকে দেশ যেমন ছিলো আজ তেমন নেই। দুনিয়াতে শুধু মাত্র ধর্ম, কোরআন আর হাদীস বদলায় না। এমনকি ধার্মিকরা বদলায়। এযুগে তেরো বছরের ছেলেরও একজন গার্ল ফ্রেন্ড আছে। এমনকি সেই ছেলে তার গার্ল ফ্রেন্ড নিয়ে পার্কে বেড়াতে যায়। রাত জেগে চ্যাটিং করে। আমি যখন ছোট ছিলাম- তখন প্রেম, ভালোবাসা, গার্লফ্রেন্ড ইত্যাদি শব্দ গুলো কখনও ব্যবহার করতাম না। মনে করতাম এসব শব্দ বড়দের জন্য।

এযুগের ছেলেমেয়েদের লজ্জা কম।
ইন্টারনেট তাদের লজ্জা কমিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের সবচেয়ে বড় খারাপ পরিবর্তন করেছে ইন্টারনেট। ইন্টারনেট আশার পর চ্যাংড়া পোলাপান থেকে শুরু করে বয়স্করা পর্যন্ত বদলে গেছে। এখন যদি বাংলাদেশে ফেসবুক, টিকটক এবং ইউটিউব বন্ধ করে দেওয়া হয় তাহলে এই প্রজন্ম পাগল হয়ে যাবে। ভালো করে খেয়াল করলে দেখা যায় সমস্ত চ্যাংড়া পোলাপানদের হাতে স্মার্ট ফোন। এমন কি দরিদ্র বাবা মায়ের সন্তানের হাতেও দামী ফোন। এরা সব সময় ফোন টিপতেই থাকে।

দেশ, সমাজ আর মানুষের কথা কি বলব!
বলতে গেলে রাগ লাগে। নিজের অজান্তেই মুখে গালি চলে আসে। কুৎসিত গালি। তার চেয়ে বরং নিজের কথাই বলি- সেদিন বাজারে গেলাম। ইলিশ মাসের দাম জিজ্ঞেস করলাম। বিক্রেতা চারটা ইলিশ মাছ পলিথিনে দিয়ে বলল, নিয়ে যান। পদ্মার ইলিশ। ছয় হাজার টাকা দেন। আমি অবাক! আমি তো বিক্রেতাকে বলি নাই- আমাকে এক হালি ইলিশ দেন। শুধু দাম জানতে চেয়েছিলাম। মানুষ গুলো এরকম কেন? আরেক দোকানে রুই মাছের দাম জানতে চাইলাম সে-ও ব্যাগে সাড়ে চার কেজি মাছ দিয়ে বলল- নিয়ে যান। একদম জেতা। বাইশ শ' টাকা দেন। আপনার কাছে দাম কম রাখছি।

মূরগী কিনতে গেলাম-
সেখানেও একই কাহিনী! ফল বা সবজি কিনতে গেলেও এরকম করে। গরুর মাংসের দোকানে গেলেও দুই কেজি কিনতে গেলে দোকানদার জোর করে পাঁচ কেজি দিয়ে দিতে চায়। আমি তো পাঁচ কেজি দিতে বলি নি। মানুষ গুলো এমন করে কেন? কেনাকাটাও কি নিজের ইচ্ছায় করতে পারবো না? তাদের ইচ্ছায় কিনতে হবে? ডিম কিনতে গেলাম। আমি সব সময় একসাথে চার ডজন ডিম কিনি। বিক্রেতা তা ভালো করেই জানে। কিন্তু সে পাঁচ ডজন দিয়ে দিলো। বলল, নিয়ে নিন। সামনে ডিমের দাম বাড়বে। ছোট মেয়ের জন্য দেশী মূরগীর ডিম কিনি। ১৮০ টাকা ডজন। সে শুধু ডিমের কুসুম খায়। যাই হোক, ক'দিন আগে জানতে পারলাম- এতদিন বিক্রেতা আমাকে দেশী মূরগীর ডিম দেয় নি। দিয়েছে কক বা সোনালী মূরগীর ডিম।

আমি সব সময় পকেটে নতুন টাকা রাখি।
ছেঁড়া, নোংরা বা ময়লা টাকা আমার ভালো লাগে না। হাত দিয়ে ধরতেও ইচ্ছা করে না। জিনিস কেনার পর দোকানি আমাকে সব সময় বেছে বেছে ছেঁড়া, নোংরা আর ময়লা টাকা দেয়। সেই টাকা অন্য দোকানদার নেয় না। আমি বললাম- আমি তো নিয়েছি- আপনি কেন নিবেন না? দোকানদার বিরক্ত হয়ে বলে- আপনি নিয়েছেন বলে কি আমারও নিতে হবে? বেশির ভাগ দোকানদারই এই কাজ করে। ছেঁড়া ময়লা টাকা দেয়। ক্যাশে ভালো টাকা থাকলেও বেছে বেছে ময়লা টাকা দেয়। আজিব! দুইটা পাঁচ শ' টাকা নোট কে যেনো আমাকে ছিড়া দিয়েছে। এখন চালাতে পারছি না।

আজ এক কাজে মুন্সিগঞ্জ গিয়েছিলাম।
যেখানে কাজে গিয়েছিলাম সেখান থেকে বাসে বা অটোতে বিশ-পঁচিশ মিনিট দুরত্বে আমার গ্রামের বাড়ি। অথচ গ্রামে যাই নি। যাওয়া উচিত ছিলো। তাহলে আব্বার কবরটা দেখে আসতে পারতাম। যাই হোক, বিকেলে ঢাকা ফিরলাম। বাস থেকে নামলাম গুলিস্তান। এক দোকানে চা খাচ্ছি। এমন সময় দেখি এক মহিলা ভিক্ষা করছে। সাথে তার দুই কন্যা। দুই কন্যার বয়স যথাক্রমে আড়াই এবং চার বছর হবে। দুইটা মেয়ে দেখতে ভীষন সুন্দর। দেখে খুব মায়া লাগলো। আমার কাছে বাচ্চা মেয়েটা বলল- টাকা দেন মজা খাবো। আমি বললাম- কি খাবে বলো। আমি কিনে দিচ্ছি। তাদের মা বলল- টাকা দিলেই হবে। আমি এক শ' টাকা দিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১২:২১
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যুক্তিবাদী সম্পাদক অক্ষয়কুমার দত্ত

লিখেছেন জ্যোতির্ময় ধর, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১১:০৮



উনিশ শতকের দ্বিতীয় দশক থেকে মধ্যভাগ পর্যন্ত যারা চিন্তায় ও কর্মে যুগান্তকারী আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন তাঁদের মধ্যে রামমোহন , ডিরোজিও , ডিরোজিও শিষ্যবর্গ এবং বিদ্যাসাগরের নাম সর্বজন স্বীকৃত ।এঁদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২০ সালের সেরা কয়েকজন হ্যান্ডসাম পুরুষ

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১১:১৬

হ্যান্ডসাম এই কথাটি পুরুষদের সাথেই প্রযোজ্য। কারণ সুন্দর কথাটা পুরুষদের ক্ষেত্রে খাটে না সেটি মহিলাদের জন্যই তোলা থাকে। হ্যান্ডসাম হওয়া কেবল সুন্দর চেহারার মুখোমুখি হওয়া নয়, বরং এটি শরীর, চেহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রিজিক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১২:১১



ধুসর কালো মৃত্যুর গাঁয়ে রক্তক্ষরণ কান্না
অম্লান করে যাচ্ছে- সময় কাল;
অথচ বিধাতা জানাজা করার রিজিক রাখলেন না-
ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস- ভাবায় যায় না!
মনের কষ্টটুকু প্রতিধ্বনি হচ্ছে-
গন্ধ সুবাস বিমুখ বাতাসে- বাতাসে;
... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি !

লিখেছেন স্প্যানকড, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২১ বিকাল ৩:১৬

ছবি নেট ।


তুমি,
জুলাই মাসের জমিন ফাটা রোদ্দুর
গরম চা জুড়ানো ফু
ছুঁলেই ফোসকা পড়ে
ভেতর বাহির থরথর কাঁপে
গোটা শরীর ঘামে।

তুমি তো
আর কাছে এলে না
আসি আসি বলে
ঝুলিয়েই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিমণির কুরুচি নৃত্য আমার ভালো লাগছে

লিখেছেন ব্রাত্য রাইসু, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৩৭



জন্মদিনে লুঙ্গি কাছা দিয়া নাইচা পরিমণি রুচিহীনতা প্রদর্শন করছেন। আমার তা ভালো লাগছে।

রুচিহীনতা বা কুরুচি প্রদর্শন করার অধিকার তার আছে। তেমনি রুচিহীনতারে রুচিহীনতা বলার অধিকারও ভদ্র সমাজের আছে তো!

অনেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×