somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজ আব্বার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী

১১ ই ডিসেম্বর, ২০২১ রাত ১:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গত বছর ১১ ডিসেম্বর আব্বা মারা যায়।
৬০/৬২ বছর হবে আব্বার। আব্বার তেমন কোনো অসুখ ছিলো না। ডায়বেটিকস ছাড়া। ডায়বেটিক চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসা চলছে। আব্বা ভালোর দিকে। ঠিক তখন হাসপাতালেই আব্বা করোনায় আক্রান্ত হয়। করোনা চিকিৎসা চলা অবস্থায় আব্বা মারা যায়। তখনও করোনার ভ্যাকসিন আসেনি। সত্যি কথা বলি- আব্বার আচমকা মৃত্যুতে আমি ভীষন ধাক্কা খাই। আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। আব্বা এত তাড়াতাড়ি মরে যাবে আমি এটা ভাবিনি। আমাদের বংশে সবাই দীর্ঘদিন বাঁচে। আমার দাদা দাদী ৮০/৮৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। গত বছরের ১১ ডিসেম্বর, সেদিন ছিলো শুক্রবার। আমি গভীর ঘুমে। মোবাইলে ফোন বেজেই চলেছে। সকাল আট টায় জানতে পারি আব্বা মারা গেছে।

আব্বা মারা গেছে এক বছর হয়ে গেলো আজ।
অথচ এখনও আমার মনে হয় আব্বা মারা যায় নি। জরুরী কাজে ঢাকার বাইরে গেছে। একদিন আব্বাকে ফোন দিলাম। দেখি মোবাইল বন্ধ। পরে আমার মনে পড়লো, আব্বা তো নেই। মারা গেছে। যদি আবার আব্বাকে ভুলে ফোন দেই। তাই আব্বার নাম্বারটি মোবাইল থেকে ডিলিট করে দিলাম। আমার কাছে আব্বার কিছু ছবি ছিলো। সেই ছবি গুলো আমি ডিলিট করে দিয়েছি। কারন ছবি গুলো দেখলেই ভীষন কষ্ট হয় আমার। ভীষন। বাবা কি জিনিস বাবা বেঁচে থাকতে বুঝি নাই। যেদিন আমি নিজে বাবা হলাম সেদিন থেকে বুঝতে পেরেছি বাবা কি জিনিস। আমার অনেক কথা ছিলো। গল্প ছিলো- আব্বাকে বলার। বলব, বলব করে আর বলা হয়নি। আমার মনে অনেক জমানো কথা গুলো শুধুই আব্বার জন্য। সেই সমস্ত কথা গুলো আমৃত্যু আমাকে বহন করে চলতে হবে।

গ্রামে গতকাল মিলাদ হয়েছে।
কোরআন খতম দেওয়া হয়েছে। গরীব দুঃখীদের খাওয়ানো হয়েছে। মেন্যু ছিলো- সাদা ভাত। করলা ভাজি চিংড়ি মাছ দিয়ে। রুই মাছ দিয়ে লাউ। ডাল। গরুর মাংস। মূরগীর মাংস। পায়েস ছিলো। রান্না বেশ ভালো হয়েছে। আজ সারাদিন আমি গ্রামের বাড়িতেই ছিলাম। আমাদের ছোট গাড়ি। পরিবারের সবার জায়গা হবে না। তাই বড় গাড়ি ভাড়া নিয়ে সবাই একসাথে গ্রামে যাই। সবাই আব্বার কবরে গিয়েছে। কবর জিয়ারত করেছে। আমি আব্বার কবরের কাছে যাইনি। কবর জিয়ারত করি নি। আমি কেন আব্বার কবরে যাইনি তা শুধু আমিই জানি। আমার কতখানি জুড়ে আব্বা আছে তা শুধু আমিই জানি। আমি আজ খুব শান্ত ছিলাম। আব্বার জন্য আমার যে শোক, কষ্ট সেটা আমি একাই অনুভব করেছি। কাউকে বুঝতে দেইনি।

আজ দুপুরে ঢাকায় মাদ্রাসায় খাওয়ানো হবে।
কোরআন খতম ও দোয়া হবে। সারা দুনিয়াতে একজন মানুষ ছিলো আমার। যে আমার যেকোনো বিপদে সবার আগে সামনে এসে দাড়াতো। ভরসা দিতো। সাহস দিতো। আব্বা মারা যাওয়ার পর আমি মানসিকভাবে খুব ভেঙ্গে পড়েছি। আমার আত্মবিশ্বাস ও সাহস কমে গেছে। নিজেকে বড্ড বেশি দুর্বল মনে হয়- যখন মনে পড়ে আব্বা নেই। মারা গেছে। দুনিয়াতে বাপের মতো কেউ হয় না। সম্ভব না। আমি আমার কন্যাকে যতটুকু ভালোবাসি, আমার মতো করে কি আমার কন্যাকে আর কেউ ভালোবাসতে পারবে? পারবে না। সম্ভব না। আমার কাছে সারা দুনিয়া একদিকে, আর আমার কন্যা আরেক দিকে। দুনিয়াতে সবার আগে আমার কন্যা। ঠিক তেমনি আমি ছিলাম আমার আব্বার কাছে সবার আগে।

একটা ছোটবেলার ঘটনা বলি, নতুন একটা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ভরতি হয়েছি। এবং বার্ষিক পরীক্ষায় চারটা সাবজেক্টে ফেল করেছি। স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্বাকে ডেকে নিয়ে গেলো। প্রধান শিক্ষন বললেন, দেখুন আপনার ছেলের কি অবস্থা। সেদিন আব্বা আমাকে কোলে করে স্কুল থেকে বাসায় নিয়ে এসেছিলো। বলেছিলো, মন খারাপ করিস না। ফেল করলে কি হয়? কিছুই হয় না। আগামী বছর ভালো করে পড়বি। পাশ করবি। ব্যস। ঝামেলা শেষ! এইবার হাসি দে। বড় করে হাসি দে। হাসি সুন্দর হলে বিরানী খেতে নিয়ে যাবো এখনই। বিরানীর কথা শুনে আমি বিশাল সাইজের এক হাসি দিলাম।

আমার কাছে আব্বা ছিলো একজন ম্যাজিশিয়ান।
আমার কাছে আব্বা ছিলো একজন সুপারম্যান। আব্বাকে কখনও মুখ ফুটে কিছু বলতে হতো না আমার। তিনি নিজে থেকেই সব বুঝে যেতেন। আমার মন খারাপ দেখলেই আব্বা বলতো- তোমার কোনো কিছু নিয়ে চিন্তার দরকার নেই। তোমার বাবা বেঁচে আছে। তুমি নিশ্চিন্ত থাকো। আসলেও জীবনে আমাকে কোনো কিছু নিয়ে বেগ পেতে হয়নি। বিনদাস ছিলাম। আব্বাকে যদি ফোন করে বলতাম, আব্বা মরন চাঁদের মিষ্টি খেতে ইচ্ছা করছে। আব্বা মিষ্টি নিয়ে আসতো। আব্বাকে বলতাম, পুরান ঢাকার বিরানী খেতে ইচ্ছা করছে- আব্বা কাউকে দিয়ে বিরানী পাঠিয়ে দিতো। আব্বাকে যদি বলতাম- আব্বা আমার কেনাকাটা করতে হবে- আব্বা বলতো চলো যাই মার্কেটে। কুইক। একটা ঘটনা বলি- তখন আমি অনেক ছোট। আব্বা অনেক রাতে বাসায় ফিরতো ক্লান্ত হয়ে। আমি বলতাম, মা ছোট মাছ রান্না করেছে। আমি ছোট মাছ খাই না। আমি বিরানী খাবো। সেই রাত বারটায় আব্বা আমাকে বিরানী খেতে নিয়ে যেতো।

একবার রাজশাহী গিয়ে আটকা পড়লাম।
সুরভি আর আমি। বাস বন্ধ। কিন্তু আমাদের ঢাকা আসতে হবে। আব্বাকে ফোন করে বললাম, আমার ঢাকা আসা জরুরী। আব্বা হেলিকাপ্টারের ব্যবস্থা করে দিলো। আমার আব্বা কোনো মন্ত্রী মিনিস্টার না। কিন্তু আমার মনে হতো চারজন মন্ত্রী মিনিস্টারের ক্ষমতা আব্বার পকেটে ছিলো। কোনো কিছুতেই আব্বা ভয় পেতো না। অথচ আব্বা খুবই একজন নরম মনের মানুষ। সবার সাথে আব্বা হাসি মুখে কথা বলতো। পরিচিত অপরিচিত যে কারো বিপদে নিজে থেকে এগিয়ে যেতো। একবার হরতালের সময় পুলিশ দুইজন ছেলেকে গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছিলো। আব্বা গিয়ে ছেলে দুজনকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসে। পুলিশ জিজ্ঞেস করেছিলো- ছেলে দুটা আপনার পরিচিত? আব্বা বলেছিলো না। আমার পরিচিত না। কিন্তু ওদের অন্যায়ভাবে আপনাড়া নিয়ে যাচ্ছিলেন।

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ডিসেম্বর, ২০২১ রাত ১:০৪
১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রতিদ্বন্দ্বী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪৮


গফুর মিয়া অভাবের তাড়নায় গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় এসেছিল। সংসারে মানুষ মোট ছয়জন, গফুর, তার স্ত্রী আর চার সন্তান। দুই সন্তান হওয়ার পর তার স্ত্রী আর সন্তান নিতে চায়নি। সে গফুরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জজ মিয়া চিত্রনাট্য নিয়ে নির্মিত হোচ্ছে ভয়ংকর নতুন সিক‍্যুয়াল!!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৪:৪৭



বিএনপির পুলিশ এতো করিৎকর্মা যে চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে । খুনের তদন্ত করে একেবারে আদালতের রায় সহ রিপোর্ট দিয়ে দেয় ! পৃথিবীর সবচেয়ে আপগ্রেডেড আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন শিলং সালাউদ্দিনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাসওয়ার্ড রিসেট করতে সমস্যা এবং ওয়েবসাইটে ক্যাপচা এরর (Invalid site key) সংক্রান্ত।

লিখেছেন চারাগাছ, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:১৪


পাসওয়ার্ড রিসেট করতে সমস্যা এবং ওয়েবসাইটে ক্যাপচা এরর (Invalid site key) সংক্রান্ত।


প্রিয় সামু সাপোর্ট টিম,
আশা করি ভালো আছেন। আমি সামহোয়্যার ইন ব্লগের একজন নিয়মিত পাঠক ও লেখক। দীর্ঘদিন ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কালবেলার মুগ্ধতা থেকে নবকুমারের গ্ল্যামার দুনিয়ায়

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০



সমরেশ মজুমদার আমার বরাবরই প্রিয় লেখকদের একজন। কৈশোর আর যৌবনের এক বড় অংশ জুড়ে তিনি ছিলেন আমার মনোজগতে। বই কিনে পড়া, পাড়ার লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার যদি ৩% হারে লোন দেয় দেশের প্রতিটি বাড়ীর ছাতে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করলে বিদ্যুের কস্টের অনেকটাই কিছুটা সমাধান হইতে পারে।

লিখেছেন নতুন, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:০৬


দেশে বর্তমানে Net Metering Guideline–2025 অনুযায়ী অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে দেওয়া যায় এবং তা বিলের সঙ্গে সমন্বয় হয়। এটা খুবই ভালো একটা ব্যবস্থা, সরকারের উচিত এটাকে আরো উতসাহিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×