
বাংলাদেশের মানুষের সমস্যা হলো-
নিজেকে সবাই পন্ডিত মনে করে। কেউ কেউ পন্ডিত ও মহৎ সাজতে চেষ্টা করে। অবশ্য আজকাল ইন্টারনেটের কারনে সকলেই পন্ডিত হয়ে বসে আছে। ক্লিক করলেই সব বেড়িয়ে আসে। কঠিন কঠিন রোগের নামও বেড়িয়ে আসে। সেই নাম লেখাতে ব্যবহার করে লেখাকে ভারী করে তোলার চেষ্টা করা যায়। কাউকে কিছু বলা না গেলে, নিজের লেখাতে মনের সুখে তাকে আঁকার ইঙ্গিতে যা-তা বলা যায়। অপমান করা যায়। এটা খুবই নিম্ম মানসিকতা। অনলাইনে এই এক অসুবিধা। সামনে যার দাঁড়ানোর সাহস নেই, অথচ ভার্চুয়াল জগতে বাপ মাকে নিয়ে গালি দিয়ে দেয়। কারন যে গালি দিয়েছে সে জানে তাকে ধরা যাবে না। ছোঁয়া যাবে না। তবে চাইলে ধরা যায়। অসম্ভব কিছু না। আমি এই শ্রেনীর মানুষদের ক্ষমা করে দেই। বরং ওদের জন্য আমার মায়া হয়।
দুই দিনের বৈরাগী, ভাতেরে কয় অন্ন।
মানে সামান্য কিছু একটা হয়ে হামবড়াই ভাব দেখানো। এই সমস্যা আমাদের দেশে খুব বেশি। অসৎ মানুষেরা এরকম বেশি করে। তোদের বলতে চাই- মস্ত বড় মনোবিজ্ঞানী হয়ে গেলি? সাইক্রিয়াটিস্ট? আরে গাধা তোর কর্মকান্ড দেখলেই বুঝা যায় তুই মানসিক ভাবে অসুস্থ। তুই অসুস্থ হয়ে কি করে আরেকজনকে বিচার করিস। তার সমস্যা খুঁজে বের করিস? অযথা সময় নষ্ট না করে, নিজের সমস্যা খুঁজে বের কর। হুম, ছোটবেলায় আদর পায় নি। কষ্টে বড় হয়েছে। এই জন্য আজ এমন করে। চিকিৎসা দরকার। আহ কি ভাব! আমরার মনোবিজ্ঞানীর! হাসি পায় আমার। আরে ছাগল চিকিৎসা দরকার তোর। তুই অসুস্থ। শুধু বাংলাদেশে না, সারা বিশ্বে মানসিক রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। তোমাদের চিকিৎসা আমার কাছে আছে। ডাক্তারি ভাষায় তোমাদের সমস্যা কে বলে- অটোফ্যাজিয়াক। এই রোগের চিকিৎসা আছে। ছয় থেকে এক বছর সময় লাগে।
তোমার মধ্যে 'মিথোম্যানিয়া' রোগটা প্রবল ভাবেই আছে।
একজন স্বাভাবিক মানুষ তার ভুল স্বীকার করে নেবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একজন 'মিথোম্যানিয়া' রোগী কোনোভাবেই তার ভুল বা দোষ মেনে নিবে না। এই রোগী নিজের ভুল দেখতে পায় না। তবে নিজের ভুল গুলো অন্যের মাঝে দেখতে পায়। এই রোগী প্রচুর মিথ্যা বলে। নানান রঙ ঢং করে। দিন শেষে বন্ধু ও আত্মীয়দের কাছে পাত্তা পায় না। কারো সাথে বেশি দিন সম্পর্ক ধরে রাখতে পারে না। নারী সঙ্গ পছন্দ করে কিন্তু নারীরা তাদের পছন্দ করে না। এরা ক্লাশমেটদের সাথে প্রেম করতে চায়। কোনো মেয়ে তার দিকে চাইলেই মনে করে মেয়েটা তার প্রেমে পড়ে গেছে। এই নিয়ে একটা গল্প লিখে ফেলে- 'জিনিয়ার সাথে প্রেম'। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করাতে পারলে এদের জীবন কাটে ভুলে ভুলে। মায়া হয় আমার এই ধরনের লোকদের জন্য।
'মিথোম্যানিয়া' রোগের একটা পরিস্কার উদাহরন দেই-
''এই রোগী একদিন গল্পচ্ছলে জানাল, তার সঙ্গে একটি দুর্ধর্ষ ডাকাত দলের সম্পর্ক আছে। সে তাদের আস্তানা চিনে। সে মাঝে-মাঝেই সেখানে যায়, তাদের সঙ্গে চা-নাশতা, গল্প-গুজব করে আসে। অনেকেই চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে অবিশ্বাসের সঙ্গে তার গল্প বিশ্বাস করে ফেলে। কেউ কেউ তার গল্পে দ্বিমত প্রকাশ করল। একজন তো বলেই বসল, আমিই না কাল তোকে তাদের আস্তানার কথা বললাম? তুই এর ভেতরে তাদের চিনলি কী করে? সেই লোকটি কিন্তু আসলেই এত কিছু জানে না। সে কালই শুধু জেনেছে ডাকাতদলের আস্তানার কথা। কিন্তু আগ বাড়িয়ে কথা বলতে গিয়েই তো বিপদে পড়ল''। আমাদের সমাজে 'মিথোম্যানিয়া' রোগ নারী স্বভাবের পুরুষদের বেশি হয়। এরা মনে করে দুনিয়ার সমস্ত মেয়ে তার সাথে প্রেম করতে চায়।
এবার এই পোষ্টের শিরোনামে ফিরে যাই-
হুমায়ূন আহমেদের 'চোর' নাটকে একজন ছিচকে চোর বলে- ''দেখলেন ওস্তাদ কেমন ভাবধারা কথা কয়! একজন দুষ্টলোক (স্কুল মাস্টার) ভালো ভালো কথা কয়। এলাকার ছিচকে চোরকে বলছে ভালো হয়ে যা। চুরী করিস না। নামাজ পড়। তখন চোর মনে মনে বলে, আরে হারামজাদা দুই যে মসজিদের টাকা চুরী করিস। স্কুলের ত্রিশ বস্তা গম চুরী করছিস''। দুষ্টলোকের মুখে জ্ঞানী কথা, ভালো কথা মানায় না। কারন তুই অসুস্থ। তোর মিথোম্যানিয়া রোগ আছে। যা চিকিৎসা করা। ভালো চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নিলে তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে এই রোগ ভালো হয়ে যায়। যা মিয়া ভাই, যা সোনা ভাই। নিজের চিকিৎসা করা। তারপর এসে জ্ঞান দে। ভালো কথা বল। সব মেনে নিবো। তোকে চা খাওয়াবো।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ডিসেম্বর, ২০২১ দুপুর ১:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



