somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

একটা শিশু যেভাবে বড় হয় (ছবি ব্লগ)

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০২১ বিকাল ৩:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি আমার কন্যার কথা বলছি-
আমার চোখের সামনে আমার কন্যা একটু একটু করে বড় হচ্ছে। জন্মের পর শিশুরা একদম অসহায় থাকে। মাথাটা পর্যন্ত একা নাড়াতে পারে না। আস্তে আস্তে বড় হয়- মাথা ডান দিকে, বাম দিকে নিতে পারে। একদিন একাএকা উঠে বসতে শিখে যায়। শিখে যায় একাএকা উলটে যেতে। এরপর শিখে হামাগুড়ি দিতে। এরপর এটা-সেটা ধরে একাএকা দাঁড়াতে চেস্টা করে। দাঁড়ায়। রাগ দেখায়। কান্না করে। হাতের কাছে যা পায় সেটাই মুখে দেয়। শিশু বমি করে, তার ঠান্ডা লাগে। জ্বর আসে। ডাক্তার, ওষুধ- নানান রকম দিকদারি। একটার পর একটা আছেই। শিশুর সময় মতো গোছল। একটা শিশুকে খাওয়াতে অনেক সময় লাগে। শিশুর মুখে খাবার দিলে সে খাবার ফেলে দেয়। হামাগুড়ি দিয়ে সারা ঘরজুড়ে ঘুরে বেড়ায়। শিশুর মা শিশুর পেছনে খাবার হাতে ছুটতে থাকে। প্রতিদিন একই রুটিন। যাই হোক, ৩১ ডিসেম্বর কন্যার প্রথম জন্মদিন। কন্যার জন্য দোয়া করবেন।

১।


আমার কন্যার জন্মের পর কন্যার মামী প্রথম এই ছবিটা তোলে। কন্যা শাল দুধ খেয়ে, আরাম করে ঘুমাচ্ছে। তখন শীতকাল ছিলো। এবং বছরের শেষ দিন ছিলো। আর কয়েকদিন পর কন্যার এক বছর পূর্ন হবে।

২।

প্রতিদিন কন্যাকে ছাদে নিয়ে যাওয়া হতো রোদে। বাংলাদেশে শিশু জন্মের পরপর জন্ডিস দেখা দেয়। জন্ডিসের একমাত্র চিকিৎসা শিশুকে রোদে রাখা। টানা পনের দিন কন্যাকে রোদে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম।

৩।

কন্যা আস্তে আস্তে বড় হয়। অবাক হয়ে চারপাশ দেখে। ফ্যানের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে।

৪।

কোনো রকমে চার মাস পার করে দেওয়ার পর কন্যা বেশ পাকনা হয়ে উঠে। হাসে। সব কিছু ধরতে চায়।

৫।

পাঁচ মাস হয়ে গেলে কন্যা হাত পা ছড়াছড়ি করতে পারে। তাকিয়ে থাকে। খুব হাসে। আয়নায় নিজেকে দেখে চিনতে পারে না। ভাবে অন্য কেউ হয়তো। অবাক হয়!

৬।

কন্যার ছয় মাস হয়ে গেলে শুরু হয় আসল যুদ্ধ। তাকে এখন নানান রকম সবজি দিয়ে খিচুড়ি খাওয়াতে হয়। খাওয়ার পরিমান আস্তে আস্তে বাড়াতে হয়। ধীরে ধীরে খিচুড়িতে মাছ, মূরগী দিতে হয়।

৭।

সাত মাস হয়ে গেলে কন্যা নানান রকম কর্মকান্ড শুরু করে নিজে থেকে। সে এক পা উঁচু করে রেখেছে। পা নামিয়ে দিলেও আবার সে উঁচু করে। প্রতিটা শিশু অদ্ভুত অদ্ভুত খেলা নিজ থেকে আবিস্কার করে। খিলখিল করে হাসতে শিখে যায়।

৮।

হামাগুড়ি দেওয়ার আগে শিশুরা বসতে শিখে। ঘুম থেকে উঠে বসে থাকে। বাবা মাকে খুঁজে। বাবা মাকে না পেলে কান্না করে। আর ঘুম থেকে উঠেই বাবা মাকে দেখলেই একটা হাসি দেয়। হাসিটা এসে একদম বুকে লাগে!

৯।

নয় মাস হয়ে গেলে, কন্যা অনেক কিছু শিখে যায়। তখন সে বাইরে বেড়াতে যেতে চায়। তাকে জামা পরাতেই বুঝে যায়- বাবা তাকে নিয়ে বাইরে বেড়াতে যাবে। বাইরে গিয়ে কন্যা অনেক খুশি হয়। যা দেখে তাতেই মুগ্ধ হয়! চোখে মুখে খেলা করে এক আকাশ বিস্ময়।

১০।

দশ মাস হয়ে গেলে কন্যা নানান রকম ঢং শুরু করে। ছবি তোলার সময় ক্যামেরা দিকে তাকিয়ে পোজ দেয়। নানান রকম দুষ্টমি করে।

১১।

একাএকা হাঁটতে না পারলেও দাঁড়াতে শিখে যায়। যে কোনো কিছু ধরে দাঁড়ানো তার কাছে কোনো ব্যাপার না। এসময় দাঁত উঠতে শুরু করে। অবশ্য দাঁত কারো আগে উঠে কারো পরে। কেউ আগে আগে হাঁটতে শিখে যায়। কারো দেরী হয়।

১২।

কন্যা আগে হামাগুড়ি দিয়ে এই দরজার সামনে বসে থাকতো। এখন দরজা ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০২১ বিকাল ৩:৩৮
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

উৎসর্গ : জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP)

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৫:৩৮



খিচুড়ি

হাঁস ছিল, সজারু, (ব্যাকরণ মানি না),
হয়ে গেল “হাঁসজারু” কেমনে তা জানি না।
বক কহে কচ্ছপে—“বাহবা কি ফুর্তি!
অতি খাসা আমাদের বকচ্ছপ মূর্তি।”
টিয়ামুখো গিরগিটি মনে ভারি শঙ্কা—
পোকা ছেড়ে শেষে কিগো খাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুস্পষ্ট প্রমাণ সহকারে উপদেশ গ্রহণের জন্য আল্লাহ কোরআন সহজ করে দিলেও মুসলমান মতভেদে লিপ্ত হয় কোন কারণে?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৮:৫২



সূরাঃ ৫৪, কামার ১৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৭। কোরআন আমরা সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য; অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির বড় এবং দৃশ্যমান বিপর্যয় শুরু খালেদা জিয়ার হাত ধরে

লিখেছেন মিশু মিলন, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৯:৪৯



একটা সময় লোকশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল যাত্রাপালা। পালাকাররা সামাজিক, ঐতিহাসিক, পৌরাণিক যাত্রাপালা লিখতেন। বাংলাদেশের শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামে-গঞ্জে মঞ্চস্থ হতো সেইসব যাত্রাপালা, মানুষ সারারাত জেগে দেখতেন। ফলে যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালেদা জিয়ার জানাজা

লিখেছেন অপু তানভীর, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১১:৩৯

আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন আমার নানীর বোন মারা যান। নানীর বোন তখন নানাবাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন। সেইবারই আমি প্রথম কোনো মৃতদেহ সরাসরি দেখেছিলাম। রাতের বেলা যখন লাশ নিয়ে গ্রামের... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালেদা জিয়ার জানাজা - নৃতত্ত্ব এবং বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:০৭


সাধারণ মানুষকে আমরা তার ব্যক্তি চরিত্র দিয়ে বিচার করি, কিন্তু একজন ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রপ্রধান বা রাজনীতিবিদকে ব্যক্তিজীবন দিয়ে নয়, বরং তার কর্ম, নীতি, আদর্শ ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×