
আমি আমার কন্যার কথা বলছি-
আমার চোখের সামনে আমার কন্যা একটু একটু করে বড় হচ্ছে। জন্মের পর শিশুরা একদম অসহায় থাকে। মাথাটা পর্যন্ত একা নাড়াতে পারে না। আস্তে আস্তে বড় হয়- মাথা ডান দিকে, বাম দিকে নিতে পারে। একদিন একাএকা উঠে বসতে শিখে যায়। শিখে যায় একাএকা উলটে যেতে। এরপর শিখে হামাগুড়ি দিতে। এরপর এটা-সেটা ধরে একাএকা দাঁড়াতে চেস্টা করে। দাঁড়ায়। রাগ দেখায়। কান্না করে। হাতের কাছে যা পায় সেটাই মুখে দেয়। শিশু বমি করে, তার ঠান্ডা লাগে। জ্বর আসে। ডাক্তার, ওষুধ- নানান রকম দিকদারি। একটার পর একটা আছেই। শিশুর সময় মতো গোছল। একটা শিশুকে খাওয়াতে অনেক সময় লাগে। শিশুর মুখে খাবার দিলে সে খাবার ফেলে দেয়। হামাগুড়ি দিয়ে সারা ঘরজুড়ে ঘুরে বেড়ায়। শিশুর মা শিশুর পেছনে খাবার হাতে ছুটতে থাকে। প্রতিদিন একই রুটিন। যাই হোক, ৩১ ডিসেম্বর কন্যার প্রথম জন্মদিন। কন্যার জন্য দোয়া করবেন।
১।

আমার কন্যার জন্মের পর কন্যার মামী প্রথম এই ছবিটা তোলে। কন্যা শাল দুধ খেয়ে, আরাম করে ঘুমাচ্ছে। তখন শীতকাল ছিলো। এবং বছরের শেষ দিন ছিলো। আর কয়েকদিন পর কন্যার এক বছর পূর্ন হবে।
২।

প্রতিদিন কন্যাকে ছাদে নিয়ে যাওয়া হতো রোদে। বাংলাদেশে শিশু জন্মের পরপর জন্ডিস দেখা দেয়। জন্ডিসের একমাত্র চিকিৎসা শিশুকে রোদে রাখা। টানা পনের দিন কন্যাকে রোদে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
৩।

কন্যা আস্তে আস্তে বড় হয়। অবাক হয়ে চারপাশ দেখে। ফ্যানের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে।
৪।

কোনো রকমে চার মাস পার করে দেওয়ার পর কন্যা বেশ পাকনা হয়ে উঠে। হাসে। সব কিছু ধরতে চায়।
৫।

পাঁচ মাস হয়ে গেলে কন্যা হাত পা ছড়াছড়ি করতে পারে। তাকিয়ে থাকে। খুব হাসে। আয়নায় নিজেকে দেখে চিনতে পারে না। ভাবে অন্য কেউ হয়তো। অবাক হয়!
৬।

কন্যার ছয় মাস হয়ে গেলে শুরু হয় আসল যুদ্ধ। তাকে এখন নানান রকম সবজি দিয়ে খিচুড়ি খাওয়াতে হয়। খাওয়ার পরিমান আস্তে আস্তে বাড়াতে হয়। ধীরে ধীরে খিচুড়িতে মাছ, মূরগী দিতে হয়।
৭।

সাত মাস হয়ে গেলে কন্যা নানান রকম কর্মকান্ড শুরু করে নিজে থেকে। সে এক পা উঁচু করে রেখেছে। পা নামিয়ে দিলেও আবার সে উঁচু করে। প্রতিটা শিশু অদ্ভুত অদ্ভুত খেলা নিজ থেকে আবিস্কার করে। খিলখিল করে হাসতে শিখে যায়।
৮।

হামাগুড়ি দেওয়ার আগে শিশুরা বসতে শিখে। ঘুম থেকে উঠে বসে থাকে। বাবা মাকে খুঁজে। বাবা মাকে না পেলে কান্না করে। আর ঘুম থেকে উঠেই বাবা মাকে দেখলেই একটা হাসি দেয়। হাসিটা এসে একদম বুকে লাগে!
৯।

নয় মাস হয়ে গেলে, কন্যা অনেক কিছু শিখে যায়। তখন সে বাইরে বেড়াতে যেতে চায়। তাকে জামা পরাতেই বুঝে যায়- বাবা তাকে নিয়ে বাইরে বেড়াতে যাবে। বাইরে গিয়ে কন্যা অনেক খুশি হয়। যা দেখে তাতেই মুগ্ধ হয়! চোখে মুখে খেলা করে এক আকাশ বিস্ময়।
১০।

দশ মাস হয়ে গেলে কন্যা নানান রকম ঢং শুরু করে। ছবি তোলার সময় ক্যামেরা দিকে তাকিয়ে পোজ দেয়। নানান রকম দুষ্টমি করে।
১১।

একাএকা হাঁটতে না পারলেও দাঁড়াতে শিখে যায়। যে কোনো কিছু ধরে দাঁড়ানো তার কাছে কোনো ব্যাপার না। এসময় দাঁত উঠতে শুরু করে। অবশ্য দাঁত কারো আগে উঠে কারো পরে। কেউ আগে আগে হাঁটতে শিখে যায়। কারো দেরী হয়।
১২।

কন্যা আগে হামাগুড়ি দিয়ে এই দরজার সামনে বসে থাকতো। এখন দরজা ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০২১ বিকাল ৩:৩৮