somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজকের ডায়েরী- ১০২

০৬ ই জুলাই, ২০২২ রাত ১১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবিঃ আমার তোলা।

সুরভি বলল 'চাল' নেই।
আমি খুবই অবাক হলাম! মেজাজও কিছুটা গরম হলো। আমি নিজে বাজারে গিয়ে চারদিন আগে এক বস্তা চাল কিনেছি। কাটারী ভোগ। আগে মিনিকেট খেতাম। এখন কাটারী ভোগ খাই। যাইহোক, সুরভিকে বললাম, এক বস্তা চাল এনেছি। একমাসের চাল এনেছি। হেসেখেলে একমাস হয়ে যাওয়ার কথা। তুমি বলছো চাল নেই! সুরভি বলল, এমাসে তুমি চাল আনো নাই। আমি বললাম, মাসের অন্যান্য বাজারের সাথে এক বস্তা চাল আমি কিনেছি। সুরভি বলল, তাহলে চাল কোথায়? আমি ভাবতে শুরু করলাম- চাল কোথায়? চাল গেলে কই? এক বস্তা চাল! বাজারে যার কাছ থেকে চাল কিনি তাকে ফোন দিলাম। সে বলল, আপনি চালের টাকা দিয়ে গেছেন কিন্তু চাল নেননি। মনে মনে বললাম, হায় কপাল!

পরীকে নিয়ে হাঁটে গেলাম।
প্রতি বছরই তাকে নিয়ে একবার হাঁটে যাই। বাসার কাছেই হাঁট বসে। হেঁটে যেতে ১০/১৫ মিনিট সময় লাগে। পুরো এলাকা গরু দিয়ে ভরে গেছে। বাজারের মাঠ, অলি-গলি কিচ্ছু বাদ নেই। হাঁটা যায়না এমন অবস্থা। প্রচুর গরু। তবে দাম অনেক। একটা সামান্য বাছুরের দাম চাচ্ছে ৭৫ হাজার টাকা। ৩/৪ বছর আগেও একটা বাছুর ৩৫/৪০ হাজার টাকা দিয়ে পাওয়া যেত। গরু বিক্রেতাদের সাথে কথা বললাম। বেশির ভাগ গরু এসেছে জামালপুর, সিরাজগঞ্জ আর ঝিনাইদহ থেকে। একটা মাঝারি সাইজের গরুর দাম দেড় লাখ টাকা। এবার একা একটা গরু কোরবানী দিতে পারবো না। ভাগে দিতে হবে। অবস্থা বেগতিক। ভাগের জিনিস আমার কোনো কালেই পছন্দ না।

হাঁটের কারনে পুরো এলাকা জমজমাট হয়ে গেছে।
দিনরাত ২৪ ঘন্টা মাইক বেজেই চলেছে। এবার মনে হয় ইজারাদার মাইক গতবারের চেয়ে বেশী লাগিয়েছে। সারাক্ষণ মাইকে একটা গানই বাজতে থাকে- 'কোরবানী কোরবানী আল্লাহ কো পেয়ারী হে কোরবানী'। মাঝে মাঝে গান থামিয়ে একজন বিকট গলায় বলে, হাসলি ছাড়া যেন কোনো গরু বাইরে না যায়। ভালো করে তারিখ চেক করে দেখবেন। তারপর কাগজটি ছিড়ে দিবেন। এরপর কেউ একজন মাইকে বলে, 'পশু ডাক্তার রফিক। রফিক। রফিক ভাই আপনি ৩ নম্বর গেটের কাছে যান'। 'পল্টন থেকে আগত মন্টু। মন্টু তুমি যেখানেই থাকো না কেন ১ নং গেটের কাছে আসো। তোমার জন্য তোমার মামা অপেক্ষা করছে। মন্টু।

আমি কন্যাকে নিয়ে হাঁট ঘুরে ঘুরে দেখছি।
কন্যা শুধু বলছে- বাসায় চলো বাবা। বাসায় চলো। আমার পড়া আছে। সাথে ছোট ভাইয়ের ছেলে আরিশও আছে। সে খুব মজা পাচ্ছে। তার সাহস বেশি সে হাত দিয়ে গরু ধরে দেখছে। মাইকে এখন বলছে, ইলেকট্রিক মিস্ত্রি শামসু দক্ষিন দিকে লাইট জ্বলছে না কেন? শামসু। শামসু। দক্ষিন দিকে যাও। দেখো কি হয়েছে। আমরা তিন জন আইসক্রিম খাচ্ছি। তিনজন না দুজন। পরী আইসক্রীম খাচ্ছে না। সে নাকি রাস্তায় দাঁড়িয়ে, এই হাঁটে ভিড়ের মধ্যে আইসক্রীম খেতে পারবে না। মরে গেলেও পারবে না। অগত্যা আমরা হাঁট থেকে বের হলাম। হাঁটে প্রবেশ মুখে বিশাল গেট করছে। বিয়ের বাড়ির মতোন গেট। আবার লাইটিংও করেছে।

রাজশাহী থেকে ২৫ কেজি আম এনেছি।
হাড়িভাঙ্গা আম। আম গুলো ভালো হয়নি। খরচও বেশী পড়েছে। এরচেয়ে ঢাকাতে ভালো আম পাওয়া যায়। সবচেয়ে বড় কথা- নিজের হাতে বেছে নেওয়া যায়। আমার পছন্দ হিমসাগর। লিচুর মতোন হিমসাগর আমটা খুবই অল্প সময় থাকে। সুরভি হাড়িভাঙ্গা আমটা পছন্দ করে। এদিকে আমার ছোট কন্যার পছন্দ আম্রপালি। আবার অর্ডার করলাম ২৫ কেজি। ২৫ কেজি থেকে ৩ কেজি আম প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। মনে হয় গরমে নষ্ট হয়েছে। ইদানিং আমি আম খাওয়ার একটা নতুন স্টাইল আবিস্কার করেছি। আম ফ্রিজে রাখি। অনেক ঠান্ডা হয়। তারপর সেই ঠান্ডা আম খাই। মনে হয় যেন আইসক্রিম খাচ্ছি। ফিলিং গুড।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুলাই, ২০২২ রাত ১১:১৬
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×