somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

চল্লিশা

২৫ শে আগস্ট, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবিঃ আমার তোলা।

অনেক মাজারে দেখা যায়-
লাল বা সবুজ কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। মোমবাতি, আগরবাতি জ্বালিয়ে রাখা হয়েছে। কেউ কেউ প্রার্থনা করছে। নামাজ পড়ছে। দান বাক্সে টাকা ফেলছে। অনেক রকমের ফকির দেখা যায় মাজার ঘিরে।। এই মাজারে যে শুয়ে আছে তার কোনো উপকার করার ক্ষমতা নেই। তবু মানুষ কেন তার কাছে যায়? মৃত ব্যাক্তিদের কোনো কিছু দেওয়ার ক্ষমতা নেই। ঢাকা শহরের এসি মসজিদ গুলো দেখলে আমার মেজাজ প্রচণ্ড খারাপ হয়। যেখানে দরিদ্র লোকেরা ফুটপাতে ঘুমাচ্ছে। ঢাকা শহরের মসজিদ গুলোতে বিলাসিতার চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই মসজিদ মানুষকে সঠিক পথে আনার ক্ষমতা রাখে না। মসজিদের বাইরে ভিক্ষুকেরা হাত পেতে দাঁড়িয়ে থাকে।

সারারাত ওয়াজ করা এটা আমার খুবই অপছন্দ।
মাইক লাগিয়ে রাখে আশেপাশে চৌদ্দ মাইল পর্যন্ত। আরেহ এটা কেমন অত্যাচার? ওয়াজ শুনে দেশ বা সমাজের কোনো উপকার হয় না। উপকার হয় ওয়াজকারীর আর মাইকওলাদের। সাধানত মানুষকে বিরক্ত করার জন্য এদের শাস্তি হওয়া দরকার। মহরমের সময় পুরান ঢাকায় দেখা যায়- অনেকে মিছিল করছে। নিজের গায়ে নিজে আঘাত করছে। রক্ত বের করছে। একটা ঘোড়াকে সাজায়। তারপর অনেকে দেখা যায় সেই ঘোড়াকে ভক্তি শ্রদ্ধা করছে। আরেহ ভাই এসব কি রকম পাগলামি? কোরআন হাদীস কি এসব করতে বলেছে? সরকারের উচিৎ আইন করে এসব পাগলামো বন্ধ করা।

হুজুররা এতিমখানা, মাদ্রাসা নিয়ে ব্যবসা করছে।
রাস্তায় মাইক লাগিয়ে এতিমখানা এবং মসজিদ নির্মানের জন্য লোকজনের কাছে টাকা চাইছে। ঢাকা শহরে আর একটা মসজিদেরও দরকার নাই। একসাথে ৫/৭ টা মসজিদ আযান শুরু করে। কানে লাগে। মসজিদ নির্মানের জন্য আর চাদা তুলো না ভাই। হুজুরদের ফুটপাত থেকে ইনকাম কম হয়, তাই এরা এখন বাসে বাসে টাকা সংগ্রহ করছে। হিজড়া সম্প্রদায়ও সিগনাল পড়লেই এসে টাকা চায়। নাম দিয়েছে এতিমখানা। এখন তাঁরা এতিমদের খাওয়াতে পারে না, তাই মানুষজনের কাছে হাত পাতছে। তাহলে তাঁরা এতিমদের দায়িত্ব নিতে যায় কেন? কোনো এতিমখানায় ইংরেজি শিখানো হয় না। ইংরেজি শিখানো কি পাপ? এক শ্রেনীর লোক আছে ইসলাম মানবে এবং ভন্ডামিও করবে। এই শ্রেনীকে আমার দুচক্ষে দেখতে ইচ্ছা করে না।

একটা শিশু জন্ম নিলে পশু জবাই করতে হয়।
ছেলে হলে দুটা ছাগল। মেয়ে হলে একটা ছাগল। কি আজিব নিয়ম। এই পশু জবো করলে শিশুর কি উপকার হবে? অথবা ধর্মের কি উপকারে আসবে? আমাদের পাশের বাসায় একলোকের ছেলে হয়েছে। সে বিরাট ধনী লোক। তার বহু বছর পর পুত্র হয়েছে। এই খুশিতে সে পাঁচ টা ছাগল জবাই করেছে। আমাদের বাসায় খানা পাঠিয়েছে। রান্না ভালো হয় নাই। আবার কেউ মারা গেলে চল্লিশ দিন পর লোকজন ডেকে এনে খাওয়াতে হবে। এটা কেমন নিয়ম? এমনিতে কি মানুষকে ডেকে এনে খাওয়ানো যায় না? ইদানিং তো কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া করে চল্লিশা হয়। আমার নিজের চোখে দেখা একটা চল্লিশার কথা বলি।

একলোক সীমাহীন টাকার মালিক।
এক মন্ত্রীর মাধ্যমে সে হাজার হাজার কোটি টাকা দূর্নীতি করেছে। এই লোক সম্ভবত এবার এমপি নির্বাচন করবে। যাইহোক, লোকটার বাবা মারা গেলো। বাবা ভূমি মন্ত্রনালয়ের অফিসের কেরানী ছিলো। শুনেছি তিনি সৎ লোক ছিলেন। এখন চল্লিশা করা হবে। সাতদিন আগে থেকে মাইকে করে আশে পাশের সাত গ্রামে ঘোষনা করা হলো। সবাইকে দাওয়াত দেওয়া হলো। স্কুল মাঠে অনুষ্ঠান। বিশাল মাঠ। পুরো মাঠ সাজানো হলো। ঢাকা শহর থেকে ২৫ জন বাবুর্চি নেওয়া হলো। বাবুর্চির সহকারী ৬০ জন। নানান রকম আইটেম রান্না করা হলো। সাদা ভাত, ডাল, গরুর মাংস, খিচুড়ি, কাচ্চি, তেহারি, মোরগ পোলাউ। শেষে দই মিষ্টি পান। রাস্তাসহ পুরো মাঠ জুড়ে ২৭ টা সিসি ক্যামেরা লাগানো হলো। মনিটর ১২টা। থানা থেকে পুলিশ আসছে ২৫ জন। আশেপাশের সব গ্রাম থেকে হাজার হাজার মানুষ এলো। সকাল দশটা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত খাওয়া চললো। মাঠের চারপাশে অস্থায়ী পান সিগারেটের দোকান বসেছে।

এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ঢাকা থেকে পুলিশ কমিশনার গেলো।
মন্ত্রী, এমপি এবং সরকারী আমলারা। তাদের কে আনার জন্য তিনটা হেলিকাপ্টার সারাদিন ব্যস্ত থাকলো। ঘটনা চক্রে এই চল্লিশায় আমার দাওয়াত ছিলো। সব কিছু নিজের চোখে দেখলাম। একটার পর একটা গরু জবাই হচ্ছে। ছাগল জবাই হচ্ছে। বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি সাংবাদিকদের দেখলাম। তাঁরা ভরপেট খেয়েছে। এখন হাত কচলাচ্ছে। তাদের কে নগদ অর্থ দিয়ে হাত কচলানো বন্ধ করা হলো। এবং তাঁরা চলে যাবার আগে কথা দিলো- এই চল্লিশা নিয়ে একটা নিউজ অবশ্যই করবে। সম্মানিত ব্যাক্তিরা খেয়ে, কিছুক্ষন গল্প করলো। তাদের আবার হেলিকাপ্টারে করে ঢাকা পৌঁছে দেওয়া হলো।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে আগস্ট, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:৪৪
৭টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোরআন , হাদিস ও ফিকাহ মতে ইসলামে সঠিক পথ অনুসরণ প্রসঙ্গ কথামালা ( সাময়িক পোস্ট)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:১৫


“আল্লাহ অভিন্ন ফিকাহ মানার কথা বললে রাসূল (সা.) কোরআন ও হাদিসের মানার কথা কিভাবে বললেন? “ এই শিরোনামে গতকাল সামুতে প্রকাশিত ব্লগার মহাজাগতিকচিন্তার একটি বিশালাকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বাসী মানব মনের উপর বিশুদ্ধ ও স্পষ্ট উচ্চারণে ক্বোরান পাঠের ঐশ্বরিক প্রভাব

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০৯

আমি গত প্রায় ১৮ বছর যাবত আমার বর্তমান এলাকায় বসবাস করছি। স্থানীয় মাসজিদটি আমার বাসা থেকে প্রায় চার মিনিটের মত হাঁটা পথে অবস্থিত বিধায় চেষ্টা থাকে দিনে যতবার সম্ভব, মাসজিদে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেঁচে আছি, বেঁচে আছি!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩



নতুন জেনারেশনের জ্ঞানগরিমায় যুগপৎ মুগ্ধ ও বিস্মিত হয়ে নিজেকে মনে হয় নিতান্তই জেনারেল!
তাহারা কতকিছু যে জানে, জানে না তাহারা যে জানে! তাবৎ দুনিয়ার খবর তাহাদের তালুর চিপায় নিদ্রামগ্ন!... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ ২০২৪: অস্থিরতার অন্তরালে কী ছিল? লেখকীয় বিশ্লেষণ | সমসাময়িক রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩৫

ছবি

বাংলাদেশে ২০২৪: ক্ষমতার পালাবদল নাকি গোপন সমন্বিত পরিকল্পনা?

২০২৪ সালের আগস্ট- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অস্থির ও বিতর্কিত অধ্যায়। ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করলে অনেকের কাছে এটি শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি র‍্যাপ সং কীভাবে সপ্তম শ্রেণীর বইয়ের কবিতা হলো ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:২৭


আজকে জুলাই আন্দোলনের একটা কবিতা পাঠ করলাম যেটা পড়ে মাথা হ্যাং হয়ে গেছে। এই কবিতা নাকি সপ্তম শ্রেণীর ‘সপ্তবর্ণা’ বইতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কবিতার নাম ‘সিঁথি’, লেখক হাসান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×