somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ঘূর্নিঝড় সিত্রাং

২৬ শে অক্টোবর, ২০২২ দুপুর ২:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবিঃ দৈনিক যুগান্তর।

ঘুর্নিঝড় 'সিত্রাং' তার খেলা শুরুর দুদিন আগে থেকেই ঢাকায় কড়া রোদ উঠেছিলো। তাপমাত্রা ছিলো ৩৫ ডিগ্রী। তখনই আমি বুঝেছিলাম একটা ঝড় হবে। গত কয়েক বছর ধরেই দেখছি, একটা বড় ঝড় হওয়ার আগে কঠিন রোদ উঠে। অবশ্য পত্রিকা এবং টিভি দেখে জানতে পেরেছি 'ঝড়' আসছে। ঝড়ের নাম 'সিত্রাং'। এই নাম দিয়েছে থাইল্যান্ড। সিত্রাং অর্থ ফুল গাছ। ঝড়ের নাম গুলো আমাদের কাছে অদ্ভুত লাগে। ২০০৭ সালে ঘূর্নিঝড় সিডোর হানা দিয়েছিলো। খুবই কঠিন ঝড়। বাংলাদেশের অনেক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছিলো। সব কিছু লন্ডভন্ড করে দিয়েছিলো।

অনলাইন নিউজ পোর্টাল গুলো 'সিত্রাং' এর সঠিক নিউজ দিতে পারেনি। মূলত আমাদের দেশের অনলাইন নিউজ পোর্টাল গুলো টিভির খবর শুনে নিউজ তৈরি করে। অনলাইন নিউজ পোর্টাল গুলো তাদের ভিউ বাড়ানোর জন্য অনেক আজগুবি নিউজ তৈরি করে। কাজেই ওদের কাছ থেকে দূরে থাকাই ভালো। এজন্য আমি টিভিতে নিউজ শুনেছি। সিত্রাং এর অবস্থান জেনেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমি জানতে পারিনি- মোট কতজন মানুষ মারা গেছে সিত্রাং ঝড়ে। কোনো নিউজে বলছে, ৯ জন, কেউ বলছে ২২ জন্য আবার কেউ কেউ বলেছে ৩৫ জন মারা গেছে।

সিত্রাং এর তান্ডবে সারা বাংলাদেশে অসংখ্য গাছ ভেঙ্গে পড়েছে। ঢাকা শহরেও বহু গাছ ভেঙ্গে পড়েছে। একটা নিউজ চ্যানেল বলল, গাছ চাপা পড়ে ৯ জন মারা গেছে সারা দেশে। 'সিত্রাং' খুব শক্তিশালী ঝড় নয়। এরকম ছোট ঝড় মোকাবেলা করার যোগ্যতা বাংলাদেশের আছে। সরকারী হিসেবে প্রায় ৭ লাখ মানুষকে সরকার নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। টানা বৃষ্টির কারনে নদীর পানি বেড়ে গেছে। অনেক অঞ্চলের বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। বেশ কিছু পাখি মারা গেছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। তবে এই ঝড়ের কারনে এবার আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ যায়নি।

যেদিন 'সিত্রাং শুরু হলো- ভোর থেকেই ঢাকায় বৃষ্টি। আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি আকাশ মেঘলা। সমানে বৃষ্টি পড়ে যাচ্ছে। মনে ভাবলাম আজ খিচুড়ি খাবো না। কারন সিত্রাং ঝড়। এই ঝড়ে বহু মানুষ বিপদে পড়বে। তাদের ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। গবাদি পশু ক্ষতি গ্রস্ত হবে। ঘরের ভিতর পানি ঢুকে যাবে। আর আমি ঠান্ডা আবহাওয়ায় ঢাকায় নিজ বাসায় বসে আরাম করে খিচুরী ও গরুর মাংস খাবো! কারো সর্বনাশ, কারো পৌষ মাস। আমার ইথিক্স বলে, অন্যদের বিপদের দিনে নিজে খাবার নিয়ে বিলাসিতা করা ঠিক না।

সকাল দশটা। আমি ছাতা নিয়ে বাইরে গেলাম। রাস্তা ঘাটে গাড়ি, বাস, রিকশা খুবই কম। মানুষের ভিড় নেই। বড় রাস্তায় কোনো জ্যাম নেই। প্রচুর বাতাস। আমার ছাড়া উড়ে যাবে এমন অবস্থা। আমি তাড়াতারি করে এক দোকান থেকে এক কাপ চা খেয়ে নিলুম। তারপর বাসায় ফিরলাম। দুপুরে খেতে গিয়ে দেখি, সুরভি তেহারী রান্না করেছে। আমি বললাম, আজ তেহারী কেন? সুরভি বলল, গতকালই ঠিক করে রেখেছি আজ তেহারী রান্না করবো। অবশ্য যদি জানতাম আজ বৃষ্টি হবে, তাহলে অবশ্যই খুচিরী রান্না করতাম। আমি বললাম, আমি তেহারী খাবো না। আমাকে ভাত দাও ডিম ভেজে।

সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হলাম। সিত্রাং এর সঠিক অবস্থা অনুভব করার জন্য। বৃষ্টির বেগ অনেক বেশি। বাতাস যেন রেগে গেছে। সব কিছু ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিবে। রেস্টুরেন্ট গুলোতে লোকজন পাগলের মতো খাবার কিনে নিয়ে যাচ্ছে বাসায়। রাত আট টার মধ্যে অনেক রেস্টুরেন্টের সব খাবার শেষ। তবে মাছের বাজার খালি। মাছ বিক্রেতারা হতাশ মুখে বসে আছে। সব অলিতে গলিতে পানি জমে গেছে। আমি এক ঘন্টা পানি মাড়িয়ে ঘুরে বেড়ালাম। ছাতা থাকা অবস্থায়ও আমি ভিজে গেছি।

রাতে খেতে বসে দেখি সুরভি খিচুরী আর গরুর মাংস রান্না করেছে। আমি বললাম, খিচুরী কেন? সুরভি বলল, তুমি না দুপুরে খিচুরী খেতে চাইলে? আমি বললাম, সারা দেশে ঝড় হচ্ছে। কত মানুষ বিপদে পড়েছে। গাছ ভেঙ্গে পড়ছে, নদীর পানি বেড়ে গেছে, ঘর বাড়ি পানিতে ঢুবে গেছে। গবাদি পশু পানিতে ভেসে গেছে। মানুষ মরছে। আর তুমি খাবার নিয়ে বিলাসিতা শুরু করছো? সুরভি বলল, অনেকে তো সিত্রাং ঝড় উপভোগ করার জন্য কক্সবাজার গিয়েছে। আমরা না হয় খিচুরী খেলাম।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২২ দুপুর ২:৫৪
১৫টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৩



জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

১৫ আগস্ট আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গিয়েছিলাম জুলাই মিউজিয়ামে। সেখানে গিয়ে মনে হলো- এটি শুধু একটি জাদুঘর নয়; এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়ের বিরুদ্ধে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

থাক অহমিকায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


তোমার রঙিন আকাশে নেই
যে অমাবস্যার- অন্ধকার
ঝলমল করছে শুধু চাঁদ-
ডুবছ ডুবছ সুখমারী রাত!
উড়ছ শঙ্খচিলের ডানায়;
তোমার আকাশে অমাবস্যা নাই।

আমি মাটি বন্দি হয়েছি
মরার আগেই- মরার আগেই-
স্বপ্ন দেখি শুধু হুতুম পেঁচা হব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫০



বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন[

শেখ মুজিব ইতিহাসের খলনায়ক।
জাতীয় বেইমান।
পাকিস্তান ভাঙার অপরাধী।
- এই কথাগুলো আপনি বিশ্বাস করেন?
তাহলে আজ আপনাকে একটা অনুরোধ করব- একবার শুধু থামুন।

রাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×