somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

প্রিয় কন্যা আমার- ৪৮

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ রাত ১:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রিয় কন্যা আমার-
একমাস পর আজ তোমাকে নিয়ে লিখতে বসেছি। আমি লিখতে ভালোবাসি। ঘন্টার পর ঘন্টা লিখে যেতে আমার ক্লান্তি লাগে না। সে যাক গে- ইদানিং রাত তিনটায় তোমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। তারপর তুমি গল্প শুনতে চাও। এদিকে আমার চোখে ঘুম। ঘুম চোখ নিয়েই তোমাকে গল্প বলি। গল্প বলতে বলতে আমি ঘুমিয়ে যাই। তখন তুমি আমাকে ধাক্কা দিয়ে ঘুম থেকে জাগাও। আবার আমি গল্প বলতে থাকি। ঘুম চোখ নিয়ে তোমাকে কি গল্প বলি আমি জানি না। ফযরের আযান দিয়ে দেয়ে। তুমি ঘুমাও না। তখন আমি তোমার মাকে ডেকে তুলি। তোমার মা তোমাকে ঘুম পাড়াতে চেষ্টা করে। তুমি ঘুমাও না। কিন্তু আমি ঘুমিয়ে যাই। ইদানিং তুমি দুপুরবেলাও খুব অল্প সময় ঘুমাও। অথচ ঘুম সব মানুষের জন্য প্রয়জোন।

প্রিয় কন্যা ফারাজা তাবাসসুম-
আফগানিস্তান নামে একটা দেশ আছে। মুসলিম দেশ। সেই দেশে নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা নিষিদ্ধ করেছে তালেবানরা। ক্ষমতায় আছে তালেবানরা, তাদের কথা শুনতেই হবে। নইলে গুলি খেয়ে মরতে হবে। আমেরিকার উচিৎ ওদের ধ্বংস করে দেওয়া। যাইহোক, আমাদের দেশ আফগানিস্তানের মতো নয়। তুমি মন দিয়ে পড়াশোনা করবে। ভাল রেজাল্ট করবে। কোনো রকমে গোঁজামিল দিয়ে পাশ করে গেলে হবে। পাঁচ বছর বয়েসে ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হবে আর সেই পড়া শেষ হবে মাস্টার্সের পর। মোটামুটি সতের আটারো বছর লেখাপড়া করে যেতে হবে। মাটার্স শেষ করতে করতে তোমার তেইশ বা চব্বিশ বছর হয়ে যাবে। এরপর একটা সরকারী অথবা বেসরকারী চাকরি বা বিজনেস। পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালন করা। বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরন করা। নিজের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া। সবই সম্ভব যদি তুমি নিজেকে যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারো।

প্রিয় কন্যা আমার-
যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। যা বেশির ভাগ মানুষ পারে না। কিন্তু আমি পারি। তোমাকে পারতে হবে। হায় হায় করলে হবে না। তোমাকে বাস্তববাদী হতে হবে। মনে রাখবে আবেগ দিয়ে কবিতা লেখা যায় কিন্তু জীবন চলে না। উপমহাদেশ ব্রিটিশদের থেকে স্বাধীন হলেও দুঃখজনক ভাবে নারীর মুক্তি মেলে নি। নারীরা উন্মুক্ত বিহঙ্গের ন্যায় দিগন্তে বিচরন করবে এবং সমাজ, রাষ্ট্র, পরিবার এটা সুনিশ্চিত করবে সেদিন নারীর প্রকৃত মুক্তি ঘটবে। কিন্তু ধার্মিকেরা এটা হতে দিতে চায় না। যাইহোক, এইসব বিষয় নিয়ে তোমার সাথে পরে কথা বলব। ভূত, প্রেত বা জ্বিন নামক কিছু পৃথিবীতে নেই। এইসব বিষয়ে তুমি কোনো ভয় পাবে না। মাথা খাটাবে। মিথ্যা বলবে না, জীবনে সৎ থাকবে। বিবেক জাগ্রত রাখবে এবং লকিজহীন হয়ে যাবে না কখনও। মনে রাখবে কারন ছাড়া দুনিয়াতে কিছুই ঘটে না। প্রিয় কন্যা- একদিন আমি থাকবো না, কিন্তু আমার এই লেখা গুলো থেকে যাবে। আপাতত দৃষ্টিতে হাস্যকর মনে হলেও, একদিন আমার এই সব তুচ্ছ লেখা গুলোই তোমাকে সাহস দেবে, ভরসা দেবে অনুপ্রেরনা দিবে।

প্রিয় কন্যা ফারাজা-
গতকালের কথা। ফযরের আযান শেষ। দেখি তুমি কান্না করছো। তোমার মা তোমাকে জিজ্ঞেস করছে- তোমার ক্ষুধা পেয়েছে কিনা? তোমার মা বলল- আপেল খাবে? তুমি না বলো। তোমার মা বলে মুড়ি খাবে? তুমি মানা করো। তোমার মা বলে পাস্তা খাবে? তুমি হ্যাঁ বলেছো। ভোর পাচটায় তোমার মা তোমার জন্য পাস্তা রান্না করেছে। কোনো ক্লান্তি নেই। কোনো বিরক্তি নেই। তুমি পাস্তা খেয়ে তারপর ঘুমিয়েছো। এখন তোমার মা প্রতিদিন নানান রকম খাবার রেডি করে ঘুমাতে যায়। যদি তোমার ঘুম ভেঙ্গে যায় তখন তুমি খাবে। মিষ্টি আলু সিদ্ধ, ঘরে বানানো দুই রকমের কেক, রুটি, আপেল। প্রতিদিন তোমার মা তোমার জন্য আদালা খাবার রান্না করে। ঝাল ছাড়া খাবার। এখন আমি তোমার জন্য আলাদা বাজার করি। তবে তুমি আমার মতো হয়েছো। মাংস খেতে পছন্দ করো। আগামী শুক্রবার একটা বিয়ের দাওয়াত আছে। শুধু তুমি আর আমি যাবো।

প্রিয় কন্যা আমার-
ইদানিং তুমি খুব দুষ্ট হয়েছো। হুটহাঁট তুমি আমাকে বলো- বাবা তুমি টাক্কু। বাবা তুমি টাক্কু। তারপর হাসতে থাকো। আমি বেশ অবাক হই! আমার মাথা ভরতি চুল। তখন আমি তোমাকে বলি- বাবা কেউ টাক্কু বলে? তখন তুমি হাসতে হাসতে বলো- তুমি বিড়াল। তুমি বিড়াল। আমি করুণ গলায় তোমাকে বলি- বাবাকে কেউ বিড়াল বলে? তুমি হাসতে থাকো। তোমার হাসি ভালোবাসি। দুঃখজনক কথা হলো- এই বয়সেই তুমি মোবাইল ব্যবহার করতে শিখে গেছো। নিজে নিজেই ইউটিউব বের করে নাও। খুঁজে খুঁজে তোমার পছন্দের কার্টুন দেখো। এমনকি তুমি টিকটক দেখো। লাইক দাও। তোমার মা একেবারেই চায় না তুমি মোবাইল হাতে নাও। তুমি মোবাইল ধরলে তোমার মা আমার উপর রাগ করে। অথচ আমি তোমার হাতে মোবাইল দেইনি। তুমি নিজেই মোবাইল খুঁজে নিয়েছো।

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ রাত ১:৪৫
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি অমর দিশারী

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


তুমি সূর্য কিনারায় উঁকি দিয়েছ বলে-
মা.. তুমি সূর্য আলো!
তোমার জন্মদিনে চাঁদ পৃথিবী হাসছে
আমরা যে গর্বিত গর্বিত-
মা.. তুমি সূর্য আলো;

তোমার অনুশাসন
আমাদের প্রেরণার উড়ন্ত পায়রা
শান্তির জ্বলন্ত মশাল
তোমার জন্ম সাতশত মহীয়ান-
আমরা শুধু গর্বিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth-রূপের বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

প্রশ্ন ও প্রারম্ভিক জিজ্ঞাসাঃ
আমাদের মনে কি এমন প্রশ্নের উদয় হয় না যে,"আমরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবয়ব, গায়ের রঙ, চুল কিংবা পুরুষদের মুখের দাড়ি-গোঁফের দিকে তাকাই, তখন এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×