somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

The hurt is not enough

২৫ শে জুন, ২০২৩ রাত ১০:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ইংরেজি সাহিত্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় কবি হচ্ছেন-
রবার্ট ফ্রস্ট। তার জন্ম আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকোতে ১৮৭৪ সালে। বলা যেতে পারে- আমাদের রবীন্দ্রনাথ সময়কার কবি তিনি। ফ্রস্ট রবীন্দ্রনাথকে চিনতেন। তবে তাদের সাথে কখনও দেখা সাক্ষাৎ হয়নি। ১৯৬৩ সালে এই মহান কবি ফ্রস্ট মারা যান। ফ্রস্টের কবিতা মানেই গ্রামীন জীবন। প্রেম, হাহাকার, না পাওয়া, হতাশা, বিষন্নতা। অথচ এই কবি বেড়ে ওঠা, জীবনযাপন শহরে। বিশ্বে একমাত্র কবি তিনি, যে কবিতায় চারটি পুলিতজার পুরস্কার জয় করেন। ফ্রস্টের যখন এগারো বছর বয়স তখন তার বাবা মারা যান। বাবা পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।

''The woods are lovely, dark and deep.
But I have promises to keep,
And miles to go before I sleep,
And miles to go before I sleep'


ফ্রস্ট হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করেন।
লেখাপড়া শেষ করার আগে তিনি শারীরিক অসুস্থতার জন্য লেখাপড়া ছেড়ে দেন। কিন্তু ঝোকের মাথায় 'মিরিয়াম' নামের এক মেয়েকে ভালোবেসে বিয়ে করে ফেলেন। সংসার জীবনে অভাব দেখা দেয়। এরপর তিনি নানান রকম কাজ করেছেন। কাঠ মিস্ত্রি থেকে শুরু করে মুচির কাজ করেছেন আবার পত্রিকা অফিসেও কাজ করেছেন। শেষমেষ কোনো উপায় না দেখে জীবিকার জন্য তিনি শিক্ষকতাকে বেছে নেন। আমি ছাত্র থাকালীন ফ্রস্টের 'রোড নট টেইকেন' কবিতাটা আমাকে বেশ নাড়া দিয়েছিলো। ফ্রস্ট সারা জীবন সহজ সরল জীবনযাপন করেছেন। প্রতিটা আমেরিকান নাগরিকের প্রিয় কবি রবার্ট ফ্রস্ট। তরুণী মেয়েরা ফ্রস্টের কবিতা পড়ে দিন শুরু করতো।

বিশ্বের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে রবার্ট ফ্রস্টের কবিতা পড়ানো হয়।
ফ্রস্টের কবিতা গুলো বাংলা অনুবাদ করতে গেলেই কবিতার স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। ফ্রস্টের কবিতার আসল স্বাদ পেতে হলে- ইংরেজিতেই পড়তে হবে। নেরুদা, পুসকিন, রুমি, হাফেজ, অ্যাপোলোনিয়ার ইত্যাদি মহান লেখকের গল্প কবিতা গুলো অনুবাদ পড়ে মন ভরেনি। অনুবাদ পড়া মানে ঠকে যাওয়া। আসল স্বাদ না পাওয়া। আমাদের ইংরেজি সাহিত্য পড়াতেন নিত্য স্যার। ফ্রস্টের অনেক কবিতা স্যারের মুখস্ত ছিলো। একদিন স্যার আমাদের ক্লাশ নিচ্ছিলেন। এমন সময় হঠাত শুরু হলো বৃষ্টি। স্যার বললেন, আজ তোমাদের এক মহান কবির কবিতা আবৃত্তি করে শোনাবো। সেই থেকেই আমার রবার্ট ফ্রস্টকে ভালো লেগে গিয়েছিলো।

রবার্ট ফ্রস্টের প্রথম দুটি কবিতা প্রকাশিত হয় ১৮৯০ সালে।
তার স্কুল ম্যাগাজিনে। এরপর পত্রিকায় দুটা কবিতা ছাপা হয়। এবং কবিতার জন্য পনের ডলার পান। ফ্রস্ট ১৯৪২ সালে প্রকাশ করেন A winter age নামের একটি কাব্যগ্রন্থ। মাত্র দু মাসেই বইটি প্রায় দশ হাজার কপি বিক্রি হয়। ফ্রস্ট বলেছেন, 'অর্ধেক পৃথিবী এমন লোকেদের নিয়ে গঠিত যাদের কিছু বলার আছে এবং বলতে পারে না, এবং বাকি অর্ধেক যাদের বলার কিছু নেই এবং বলতে থাকে''। ১৯৫০ সালের টাইম ম্যাগাজিনের সেরা ব্যক্তিত্বের সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন ফ্রস্ট। ফ্রস্টের ''Fire and Ice'' নামে একটা কবিতা আছে। কবিতাটা আমার ভীষণ রকমের পছন্দ।

Some say the world will end in fire,
Some say in ice.
From what I've tasted of desire
I hold with those who favor fire.
But if it had to perish twice,
I think I know enough of hate
To say that for destruction ice
Is also great
And would suffice.


আমাকে যদি বলা হয়-
বাংলা সাহিত্যে কোন কবি আছেন, রবার্ট ফ্রস্টের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। তাহলে আমি ভয় না পেয়ে স্পষ্ট বলে দিবো- আমাদের জীবনানন্দ দাশ। আমরা যেমন ফ্রস্টের কবিতা অনুবাদ পড়ে আসল স্বাদ পাই না। তেমনি জীবনানন্দের কবিতা ইংরেজিতে অনুবাদ করলে আমেরিকানরা মজা পাবেন না। বরং তাদের বিরক্ত লাগবে। এই দুজন কবির জীবনযাপনে কোনো মিল না থাকলেও তাদের কবিতায় অনেক মিল আছে। তাঁরা দুজন'ই আজীবন বিষন্ন কবি। তাঁরা কবিতায় বিষন্নতা বোধ ছড়িয়ে দিয়েছেন। সেই বিষন্নতাবোধ পাঠক পাঠিকাদের হৃদয় স্পর্শ করেছে।

সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুন, ২০২৩ রাত ১০:৫১
১৩টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমুদ

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৪৯

আমুদ
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সে এক রাজ্যে রাজার রাজকন্যা
তাঁর রূপ, লাবণ্য, গড়নে মুগ্ধ!
সে বিকশিত গুণবতী
তাকে দেখে জাগে মনে প্রীতি!

তাঁর খুব রাগ কিন্তু মায়াবতী
তাকে দেখলে উদ্ভূত হয় প্রেম রাতারাতি।
সে উড়ে নীল আকাশে
আমি কাতর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের পক্ষে বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি দাঁড়ানো সম্ভব নয়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:১৫


ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত যখন মাইক্রোফোনের সামনে কথা বলা শুরু করলেন , তখন তার চোখে রাগ ছিল না, ছিল এক ধরনের ক্লান্ত অভিমান। একটা মুসলিম দেশ, কোটি কোটি মুসলিম মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহর সুন্নাতের পরিবর্তে রাসূলের (সা.) বিভিন্ন মতের অনুমোদন সংক্রান্ত হাদিস বাতিল হবে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৪৭



সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতিটি শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি নির্মম দলিল।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

প্রতিটি শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি নির্মম দলিল।
ইউনূস ক্ষমতা দখল ছিল লুটের উদ্দেশ্যে। কেন শিশুদের টিকা দেয়া হয় নাই? তাদের দায়িত্ব ছিল টিকা পৌঁছে দেওয়া, জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×