somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

উদ্দেশ্যহীনভাবে কারা আপনাকে ভালোবাসে?

২৮ শে জুলাই, ২০২৩ দুপুর ১২:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবিঃ আমার তোলা।

এক জীবনে মানুষ কতটুকু বা কতজনের ভালোবাসা পায়?
একদম নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। হ্যাঁ নিজের বাবা মা তো ভালোবাসবেই। ভালোবাসবে ভাইবোন এবং আত্মীয় স্বজনেরা। নিজের সন্তানেরা। নিজের পরিবার এবং আত্মীয়স্বজনের বাইরের মানুষের ভালোবাসা পাওয়াটা বিরাট ভাগ্যের ব্যাপার। আমি অতি সাধারণ ও তুচ্ছ মানুষ হয়েও এতটুকু বয়সে বেশ কিছু মানুষের সহজ সরল স্বচ্ছ ভালোবাসা পেয়েছি। যা আমাকে আনন্দ দিয়েছে, মুগ্ধ করেছে। বেঁচে থাকতে শিখিয়েছে। এবং মনে করিয়ে দিয়েছে, জীবন সুন্দর। আনন্দ নিয়ে বেঁচে থাকো, জীবনটাকে উপভোগ করো। কোনোরকম কারন ছাড়াই যাদের কাছ থেকে ভালোবাসা পেয়েছি, আজ তাদের কয়েকজনের ঘটনা বলব। তাদের ভালোবাসা স্বার্থ ও উদ্দেশ্যহীন।

১। খিলগাও রেললাইনের ধারে সন্ধ্যার পর মাছের বাজার বসে।
খুব জমজমাট বাজার। লোকজন পাগলের মতো মাছ কিনেন। সেখানে ১৮ বছরের রবিউল নামে এক ছেলে আছে, সে মাছ কাটে। বড় একটা বটিতে মুহুর্তের মধ্যেই বড় বড় মাছ কেটে ফেলে। মাছ কাটা দেখা দারুন ব্যপার। আমি মুগ্ধ হয়ে দেখি। যাইহোক, এই রবিউল আমাকে বেশ খাতির করে। কয়েকদিন তার কাছে না গেলেই সে রাগ করে। রবিউলের কাছে গেলেই সে ভীষন খুশি হয়। আমাকে তার পাশে বসায়। আমাকে চা খেতে দেয়। বেনসন সিগারেট এনে দেয়। অথচ রবিউল আমার কোনো আত্মীয়স্বজন না। কোনোদিন আমি রবিউলের কোনো উপকারও করিনি। কেন যে সে আমাকে এত আন্তরিকতা দেখায় আমি ভেবে পাই না। চারিদিক থেকে তুচ্ছ আর অবহেলা পাওয়ার পর রবিউলের ভালোবাসা আমাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায়।

২। কলকাতাবাজার এলাকায় চা বিক্রি করেন, মতি ভাই।
এক সময় আমি কবি নজরুল কলেজে আড্ডা দিতাম। তখন থেকেই মতি ভাইকে চিনি। প্রতি মাসে ২/৩ বার তার কাছে যেতেই হয়। নইলে সে অনেক রাগ করেন। এখন মতি ভাইয়ের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। চায়ের পাশাপাশি সিঙ্গারা বিক্রি করেন। প্রতিদিন ৩শ' সিঙ্গারা দেড় ঘন্টার মধ্যে বিক্রি হয়ে যায়। বিকেলে পুরী, পিয়াজু, বেগুনি বিক্রি করেন। কোনো এক বিচিত্র কারনে মতি ভাই আমাকে অনেক স্নেহ করেন। যারা আমাকে আন্তরিকতা দেখায়, ভালোবাসা দেখায় আমি তাদের কখনও অবহেলা করি না। আমি যাই মতি ভাইয়ের কাছে। উনি চা-সিঙ্গারা খেতে দেন। আমার খেতে ইচ্ছা না করলেও আমি তাকে খুশি করার জন্য আগ্রহ নিয়ে হাসিমুখে খেয়ে নিই। বাসায় ফেরার সময় মতি ভাই জোর করে অনেক গুলো সিঙ্গারা দিয়ে দেন। টাকা দিতে গেলে বলেন, এরচেয়ে ভালো আমাকে জুতো দিয়ে মারেন।

৩। সিজার ভাই। বয়সে আমার চেয়ে অনেক বড়।
সিজার ভাই মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোড এলাকার এক বাড়ির দাড়োয়ান। খুব ধার্মিক মানুষ। মাথায় নামাজের টুপি সব সময় থাকে। কপালের মাঝখানে কালো দাগ। সারাদিন বাড়ির গেটের কাছে বসে কোরআন শরীফ পড়তেই থাকেন। তার এক ছেলে, এক মেয়ে। বহু বছরর আগেই তাদের বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। সিজার ভাই আমাকে নিজের ছেলের মতোন করে ভালোবাসেন। আমাকে আব্বাজ্বী বলে ডাকেন। উনি নিজেই রান্না করে খান। তার ওখানে গেলে আমাকে না খাইয়ে ফিরতে দেন না। মাছের বড় পিছটা আমাকে দিবেন। তার হাতের রান্না ভালো না। কিন্তু মানুষটা আমাকে এতখানি ভালোবাসা দেখান আমি মুগ্ধ হুয়ে যাই। একজীবনে কত মানুষের ভালোবাসা পেলাম! আমি ভাগ্যবান। সিজার ভাইয়ের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার আগে উনি প্রত্যেক বার আমাকে সূরা পড়ে ফুঁ দিয়ে দেন।

৪। মগবাজার এলাকায় সিটি ব্যাংকের একটা বুথ আছে।
সেই বুথের সিকিউরিটি গার্ড মোজ্জাফর ভাই। মোজ্জাফর ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় সৌদি গিয়েছিলো। তার ভাগ্য বদলায়নি। বরং জমিজমা গেছে, সেই সাথে অনেক টাকা দেনা হয়েছে। মোজ্জাফর আমাকে খুবই খাতির করে। আমার অনেক ফালতু কথাও খুব মন দিয়ে শোনে। আমি যদি একবার বলি, মোজ্জাফর একপায়ে দাঁড়িয়ে থাকো, তাহলে মোজ্জাফর কোনো প্রশ্ন না করে এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকবে। মোজ্জাফর গ্রামের বাড়ি গেলে আমার জন্য কিছু না কিছু নিয়ে আসবেই। অথচ আমি কখনও মোজ্জাফরের জন্য কিছু করতে পারিনি। মোজ্জাফর কেন আমাকে খাতির করে আমি জানি না। সহজ সরল সম্পর্ক আমাদের। আমি মানুষকে ভালোবাসি। সে ধনী না দরিদ্র সেটা আমার কাছে কোনো বিষয় না। এজন্যই হয়তো এক শ্রেণীর মানুষ আমাকে দ্রুত আপন ও বিশ্বাস করে নেয়।

৫। একসময় আমাদের বাসায় কাজ করতো কোহিনূর।
কোহিনূর আমাদের এলাকায় সমস্ত বুয়াদের ওস্তাদ। এখন কোহিনূর বাসা বাড়িতে কাজ করে না। সে একটা মূরগীর দোকান দিয়েছে। প্রায়'ই আমাকে তার দোকানের সামনে দিয়ে যেতে হয়। আমাকে দেখলেই কোহিনূর আপা চিৎকার করে ডাক দেন। তাড়াহুড়া করে পাশের দোকান থেকে একটা ঠান্ডা কোক নিয়ে আমার হাতে ধরিয়ে দেন। আমি মানা করলেও আমার কথা শুনেন না। সুরভির কথা জিজ্ঞেস করে, আমার কন্যাদের কথা জিজ্ঞেস করে। আমি থাকা অবস্থায় যদি তার দোকানে কোনো কাস্টমার আসে, তাহলে কোহিনূর বলে দেয়, এখন মূরগী বেচা বন্ধ। একবার এলাকায় আমার সাথে কিছু বখাটের সাথে ঝামেলা হয়েছিলো। বখাটেরা দলবল নিয়ে আমাকে মারতে এসেছিলো। তখন এই কোহিনূর আপা সামনে এসে দাঁড়িয়েছিলেন, বলেছিলেন, দেখি কোন বান্দির পুত আমার ভাইয়ের গায়ে হাত দেয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুলাই, ২০২৩ দুপুর ১২:১৬
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি বড়দের গল্প - ছোটরাও পড়তে পারে

লিখেছেন মুনতাসির, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫০

বিজ্ঞানীরা তিনটা আলাদা দ্বীপে দুইজন পুরুষ আর একজন মহিলা মানুষকে এক বছরের জন্য ফেলে রেখে এসেছে। একটা দ্বীপ ব্রিটিশদের, একটা ফ্রেঞ্চদের, আর শেষটা আমাদের বাংলাদেশীদের। এক বছর পর যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০০

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বহুবার প্রমাণ হয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি থাকে তার তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তাদের শ্রম, ত্যাগ, জেল-জুলুম সহ্য করার মানসিকতা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাজনা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



মন! মানুষের মন! মানুষকে তছনছ করে দেয়!
কখনো সে বাঘ, কখনো সে অজগর, কখনো সে শত্রু, কখনো সে বন্ধু!
কখনো সে ঈশ্বর, কখনো সে শয়তান, কখনো সে নিয়তি!
বিদিকিচ্ছিরি কান্ড!

লম্বা টানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের ওভারব্রীজ

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:০৪

বেশ অনেকদিন আগের কথা। আমি কোন এক দুর্ঘটনায় পা এ ব্যাথা পাই। হাসপাতালে ইমারজেন্সি চিকিৎসা নেই। কিন্তু সুস্থ হতে আরো অনেক দেরী। সম্ভবত চিটাগাং রোডে (নারায়ণগঞ্জ) এ রাস্তা পার হবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের পক্ষে বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি দাঁড়ানো সম্ভব নয়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:১৫


ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত যখন মাইক্রোফোনের সামনে কথা বলা শুরু করলেন , তখন তার চোখে রাগ ছিল না, ছিল এক ধরনের ক্লান্ত অভিমান। একটা মুসলিম দেশ, কোটি কোটি মুসলিম মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×