somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমাদের শাহেদ জামাল- (ষাট)

০১ লা অক্টোবর, ২০২৩ বিকাল ৫:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



অনেকদিন শাহেদ জামালকে নিয়ে কিছু লেখা হয় নাই।
শাহেদ জামাল আমার বন্ধু। ভেরি ক্লোজ ফ্রেন্ড। একদম ন্যাংটা কালের বন্ধু। আপনারা তো জানেন'ই শাহেদ জামাল নীলা নামের একটা মেয়েকে ভালোবাসতো। সেই মেয়েটা অন্য একটা ছেলেকে বিয়ে করে এখন স্বামী সন্তান নিয়ে আমেরিকাতে সুখেই আছে। অবশ্য নীলাকে দোষ দেওয়া যাবে না। দোষ শাহেদ জামালের। সে একটা চাকরি জোটাতে পারেনি। এদিকে নীলা আর কত অপেক্ষা করবে? কোনো বাপ তো একজন বেকারের সাথে নিজের মেয়ে দিবে না। শাহেদ জামালের সমস্যা হলো তার নাক উঁচু। মনের মতো চাকরি পায়নি বলে, সে চাকরি করলো না। অথচ কত বিলিয়ান্ট ছাত্র ছিলো শাহেদ। সবচেয়ে বড় কথা সে একজন সহজ সরল ভালো মানুষ। মানবিক এবং হৃদয়বান।

শাহেদ আর আমি একই স্কুল-কলেজে পড়েছি।
আমার মনে আছে কলেজে উঠেই আমরা দুজন দুটা নতুন হিরো সাইকেল কিনি। সে সাইকেল দিয়ে সারা ঢাকা শহর আমরা ঘুরে বেড়িয়েছি। ঢাকা শহরের এমন কোনো অলি গলি বাদ নেই যেখানে আমরা যাইনি। পুরান ঢাকায় গিয়ে আমরা দুই বন্ধু মিলে বিরানী খেয়েছি, চা দিয়ে বাকরখানি খেয়েছি। ডাল পুরী, আলু পুরী খেয়েছি। আমি আর শাহেদ একবার তো সাইকেলে করে মুন্সিগঞ্জ চলে গেলাম। তখন আমাদের চ্যাংড়া বয়স। রক্ত গরম। এখন কিন্তু সাইকেল চালিয়ে মুন্সিগঞ্জ যেতে পারবো না। যাইহোক, নীলার বিয়ে হওয়ার পর সেই শাহেদ জামাল এখন কেমন পাগল পাগল হয়ে গেছে। সারাদিন রমনা পার্কে বসে থাকে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। একদিন রমনা পার্কে গেলাম। শাহেদের সাথে দেখা হলো।

শাহেদ জামাল একবার আমাকে এক পীর বাবার কাছে নিয়ে গেলো।
কেরানীগঞ্জে পীর বাবার আস্তানা। গেলাম সেখানে। পীর বাবার নাকি অনেক ক্ষমতা। দীর্ঘদিন ধরে অলৌকিক ক্ষমতা দেখার আমার খুব শখ। অলৌকিক ক্ষমতা, কোনো কৌশল নয়। পীর বাবা ধ্যানে বসেছেন। আমি আর শাহেদ পীর বাবার ধ্যান ভাঙ্গার অপেক্ষা করেছি। একসময় পীর বাবার ধ্যান ভাঙ্গল। আমাদের ডাক পড়লো। অতি সাধারন এক লোক। চোখে সুরমা দিয়েছে। মুখ ভরতি দাঁড়ি। ভগ্ন স্বাস্থ্য। চুলে জট। পীর বাবা গাঁজা খাচ্ছেন। গন্ধে আমার বমি পাচ্ছে। শাহেদ বলল, বাবা আজ আমার বন্ধুকে সাথে এনেছি। খুব ভালো ছেলে। পীর আমাকে হাতের ইশারায় তার সামনে বসতে বললেন। গাঁজার গন্ধে আমার বমি পাচ্ছে, চোখ জ্বলছে। পীর বলল, বাবাজ্বী খাজা খাবেন? গাঁজা খাওয়ার পর দুধ দিয়ে রুটি খেলে মজা পাবেন।

একদিন শাহেদ আমাকে কলতাবাজার নিয়ে গেলো।
চিপা গলির শেষ মাথায় এক বাড়িতে। পুরানা আমলের ছোট দোতলা বাড়ি। বসার ঘরে বসলাম। পুরো ঘরে দরিদ্রতার ছাপ স্পষ্ট। শাহেদ আমাকে বসিয়ে রেখে উধাও হয়ে গেলো। কার বাড়ি, কার কাছে এলাম কিছুই জানি না। শাহেদ হঠাত কোথায় গেলো সেটাও জানি না। এক মেয়ে এলো। সুন্দর মেয়ে। চোখে মুখে চটক আছে। ভরাট বক্ষ। মেয়েটা একটা সাধারন সূতি শাড়ি পড়েছে। মেয়েটা বলল, আপনার কথা শাহেদের কাছে অনেক শুনেছি। আপনার কথা শুনে শুনে আপনাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করলো। অনেকদিন বলার পর আজ শাহেদ আপনাকে আমার কাছে নিয়ে এসেছে। আমার অবাধ্য চোখ বারবার মেয়েটার দিকে চলে যাচ্ছে। মেয়েটার শাড়ির আঁচল সরে গেছে। বারবার চোখ সেখানেই যাচ্ছে। মেয়েটাকে কি বলল, শাড়ির আচল ঠিক করুণ। প্লীজ।

যাইহোক, সেই পীর বাবার কথা বলি-
পীর বাবা বললেন, মনের দুঃখে পীর হয়ে গেছি। বিয়ে করেছিলাম কিন্তু বউ মাগী খেতে বসলে ভাত তরকারী সব দেয়। কিন্তু পানি দেয় না। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর- একই ঘটনা। পানি দেয় না। পানির কথা বললেই বলে, পানি নিজে নিয়া খান। একদিন এমন রাগ উঠলো, দিয়ে দিলাম বেটিরে তালাক। এরপর থেকে পীর হয়ে গেলাম। পীর বাবা আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমার ভাগ্যেও পানি জুটবে না। তোমার বউ তোমাকে সব দিবে। ভাত তরকারী সব কিন্তু পানি দিবে না। পানির কথা জিজ্ঞেস করলেই বলবে, পানি ফ্রিজ থেকে নিয়ে খাও। ইদানিং আমি লক্ষ্য করছি, খেতে বসলে সুরভি আমাকে পানি দেয় না। কিন্তু ভাত তরকারী সব দেয়। পানির কথা জিজ্ঞেস করলে বলে- পানির বোতলটা ফ্রিজ থেকে নিয়ে নিতে পারছো না!

কলতাবাজারের সেই মেয়েটার কথা বলে লেখাটা শেষ করি।
মেয়েটার নাম মুনা। আসল নাম কিনা জানি না। মুনা আমাকে চা দিলো। চমৎকার চা। সুন্দর এক সন্ধ্যা। সাথে সুন্দর চা। তার সাথে আবার যুক্ত হয়েছে এক রহস্যময় নারী। মুনা বলল, আজ আর আপনার বন্ধু আসবে না। আজ রাতে আপনি আমার মেহমান। সারারাত আপনার সেবা-যত্ন করবো আমি। আমি বললাম, কি সেবা যত্ন? মুনা হাসলো। সহজ সরল সুন্দর হাসি। মুনা আমার পাশে ঘনিষ্ঠ হয়ে বসলো। মুনার শরীর থেকে সুন্দর পারফিউমের গন্ধ এলো। ভার্সেস পারফিউমের গন্ধ পুরুষকে মাতাল করে দেয়। মুনা বলল, আমি গান গাইতে পারি, নাচতে পারি। খুব সুন্দর করে আদরও করতে পারি। মেয়েটা একের পর এক টোপ ফেলছে। বোকা মেয়েটা জানে না- আমি অন্য ধাতুতে গড়া। আমাকে কোনো কিছু দিয়েই বেঁধে রাখা যাবে না।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা অক্টোবর, ২০২৩ বিকাল ৫:২৩
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আচুক্কা প্রেশ্ন!

লিখেছেন মৌন পাঠক, ১৪ ই জুন, ২০২৪ বিকাল ৫:৪৮

দেশে বিরোধী দল নাই, আর ও অনেক কিছু নাই।

আবার গুজব শুনি, হাসিনা - রেহানার উষ্ণ মধুর সম্পর্ক,
তা আচুক্কা প্রশ্ন জাগল, রেহানা ক্যান আলাদা দল গঠন করে না,
লাস্ট নির্বাচনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের সাতকাহন

লিখেছেন বিষাদ সময়, ১৪ ই জুন, ২০২৪ রাত ৮:০১

অনেকদিন হল জানা আপার খবর জানিনা, ব্লগে কোন আপডেটও নেই বা হয়তো চোখে পড়েনি। তাঁর স্বাস্খ্য নিয়ে ব্লগে নিয়মিত আপডেট থাকা উচিত ছিল। এ ব্লগের প্রায় সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কামিয়াব!!!!

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ১৪ ই জুন, ২০২৪ রাত ৮:২৯

কষ্টে কেষ্ট মেলে পরিশ্রমে সৌভাগ্য
তুমি আমি যে সোনায় সোহাগা
আমাদের দুজনের সঙ্গম অভিসার
তাই সবারই আরাধ্য ।
সুস্থতা অসুস্থতা আসে স্রষ্টার হুকুমে
ধনী দারিদ্র্যও ঠিক তাই
প্রচেষ্টায় বান্দা মদদে খোদা
তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মস্মৃতি: কাঁটালতা উঠবে ঘরের দ্বারগুলায় (চতুর্থাংশ)

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৪ ই জুন, ২০২৪ রাত ৯:২৭


আত্মস্মৃতি: কাঁটালতা উঠবে ঘরের দ্বারগুলায় (তৃতীয়াংশ)
আমার ছয় কাকার কোনো কাকা আমাদের কখনও একটা লজেন্স বা একটা বিস্কুট কিনে দিয়েছেন বলে মনে পড়ে না। আমাদের দুর্দিনে তারা কখনও এগিয়ে আসেননি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আটকে থাকা বেতন পেয়ে বাবার কথা মনে পড়ায় যা করলাম...

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ১৫ ই জুন, ২০২৪ রাত ১২:০৮

অবশেষে অনেক সংগ্রাম করে বেতন চালু করা গেলো। শুধু আমারটা না, কলেজে ফান্ডের অভাবে আরও যারা বেতন পাচ্ছিলেন না, তাদের বেতনেরও ব্যবস্থা করলাম। নিজে দুমাসের বেতন একসাথে পেলাম। বেশ বড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×