
নবীজির বাবার নাম- আবদুল্লাহ।
নবীর জন্মের আগেই তার মৃত্যু হয়। সন্তানের কর্মকান্ড তিনি কিছু দেখে যেতে পারেন নি। নবীজির পিতা আবদুল্লাহ ৫৪৫ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। মদিনায় খেজুর সংগ্রহ করতে যাওয়ার পর সেখানে অসুস্থ হয়ে তিনি মারা যান এবং বনু নাজিরে তাঁকে দাফন করা হয়। সেই সময় আরব জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং চিকিৎসায় উন্নত ছিলো না। সামান্য জ্বরেও মানুষ মরে যেতো। জ্বর হলে লোকজন মনে করতো তার শরীরে শয়তান আশ্রয় নিয়েছে অথবা তাকে যাদুটোনা করা হয়েছে।
ছয় বছর বয়সে নবীজি তার মাকে হারান।
মূলত নবীজি একজন দুঃখী মানুষ। প্রত্যেক জুম্মার নামাজ শেষে নবীজি তাঁর মায়ের কবর জিয়ারত করেন এবং কবরের পাশে অনেকক্ষন দাঁড়িয়ে থাকেন। কান্না করেন। ঈদের নামাজ পড়ে নবীজি তার বাবা মায়ের কবর জিয়ারত করতেন। নবীজির পিতা মৃত্যুকালে রেখে যান- পাঁচটি উট, এক পাল ছাগল এবং একটি হাবশি দাসী, যার নাম ছিলো বরকত ও উপনাম উম্মে আয়মান।
নবীজি বিজ্ঞানী ছিলেন না।
কোনো গবেষকও ছিলেন। দরিদ্র পরিবারে তার জন্ম। ভেড়া চড়াতেন। নবীজি দেখতে সুন্দর ছিলেন। এক বয়স্ক ব্যবসায়ী মহিলা নবীজিকে বিয়ে করে ফেলেন। এরপর নবীজি স্ত্রীর ব্যবসা নিজ হাতে তুলে নেন। ধর্ম প্রচার করতে গিয়ে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন নবীজি যুদ্ধ করতেন। যুদ্ধে জয়ী হয়ে অনেক ধন সম্পদ পেতে থাকলেন। সেই সাথে নারী। গনিমতের মাল। অবশ্য নবীজি সব একাই নিয়ে নিতেন না। সঙ্গী সাথীদেরও দিতেন।
পৃথিবীটা মানুষের।
মানুষের সীমাহীন পরিশ্রমের ফলে আজকের আধুনিক বিশ্ব গড়ে উঠেছে। কোনো ধর্মের প্রভুই মানুষের জন্য ঘর বাড়ি, জাহাজ, প্লেন, কম্পিউটার, ফ্রিজ টিভি ইত্যাদি তৈরি করে দেয় নাই। মানুষ বন, গুহা থেকে বের হয়ে এসে সব কিছু তৈরি করেছে, সৃষ্টি করেছে। আকাশ থেকে ফেরেশতা নেমে এসে মানুষের জন্য কিছু করে দিয়ে যায়নি। আমেরিকার নাসাকে সাহায্য করেনি প্রভুর ফেরেশতারা। ধর্মীয় কিতাব গুলো অলৌকিক ভাবে আসেনি আসমান থেকে। মানুষই লিখেছে। কোটি কোটি মানুষ প্রতি বছর হজ্ব করে। সৌদি হজ্বের টাকা দিয়ে বেশ ভালো আছে। আমাদের দেশে যদি এরকম কাবা থাকতো। সারা বিশ্ব থেকে লোকজন হজ্ব করতে আসতো- তাহলে আমাদের দেশটা ধনী হয়ে যেতো। অথবা তেলের ক্ষনি থাকলেও চলতো। আল্লাহ আমাদের ঠকিয়েছেন।
আমরা যাকে ভালোবাসি তাকে মহান করে দেখতে ভালোবাসি।
বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের যুগ। আধুনিক যুগ। এই যুগে মানুষ রুপকথা বিশ্বাস করে না। লাঠি সাপ হয়ে গেছে, একলোক মাছের পেটে ঢুকে গেছে, বোরাক নামের যান দিয়ে আসমানে যাওয়া যায়। খারাপ জ্বিন টয়লেটে থাকে। তাঁরা মৃত মানুষের হাড় খায়। শয়তান মানুষকে দিয়ে সকল মন্দ কাজ করিয়ে নেয়। ইত্যাদি। মূলত বিজ্ঞান ধর্মকে কোনঠাসা করে ফেলেছে। নবীজির সময় যদি ইন্টারনেট থাকতো, মোবাইল ফোন থাকতো, উড়োজাহাজ থাকতো, নাসা থাকতো, মানুষজন জ্ঞান বিজ্ঞানে উন্নত থাকতো- তাহলে লোকজন রুপকথা বিশ্বাস করতো না। নবীজি অনেক কথা বলে গেছেন, আরবে যে তেলের খনি আছে সেই কথা বলে যাননি।
আমাদের পেছনে পড়ে থাকলে হবে না।
আমাদের যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। পুরোনো ধ্যান ধারণা, চিন্তা ভাবনা এবং কুসংস্কার থেকে দূরে থাকতে হবে। বিশ্ব তো আর কোরআন হাদীসের নিয়মে চলছে না। প্রতিটি দেশ চলছে তার নিজস্ব সংবিধান অনুযায়ী। মানুষের জীবনে প্যারার শেষ নেই। কাজেই হাদীসের প্যারা নেওয়ার দরকার নেই। দুনিয়াতে সহজ সরল সুন্দর জীবনযাপন করলেই হলো। হিংস্র হওয়া যাবে না। ছোট একটা হাদিস বলে লেখাটি শেষ করি। নবীজির কাছে একলোক এসে বলল, হুজুর আমি নতুন বিয়ে করেছি। কিন্তু ওমুকে প্রতিদিন রাতে আমার ঘরে উঁকি দেয়। নবীজি রেগে গিয়ে বললেন, হারামজাদাকে তিনবার বুঝিয়ে বলো। যদি না কথা না শুনে- তাহলে হারামজাদার চোখ উপড়ে ফেলো খেজুর কাটা দিয়ে। কি ভয়াবহ ব্যাপার!
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জানুয়ারি, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


