somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমাদের শাহেদ জামাল- ৬৮

১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৪ রাত ১১:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজ ভোরবেলা বাসা থেকে বের হয়েছি।
প্রতিদিন গোছল করা আমার অভ্যাস। চলছে শীত কাল। রাতে আমি খালি গায় ঘুমাই। এটা আমার ছোটবেলার অভ্যাস। শীতকালেও আমি খালি গায় ঘুমাই। মোলায়েম কম্বল গায়ে দিয়ে খালি গায় ঘুমাতে ভালোই লাগে। আমি আবার ফ্যান ছেড়ে রাখি। জানালাটা খুলে রাখি। হু হু করে ঠান্ডা বাতাস আসে। সব মিলিয়ে ভালো লাগে। নিজেকে মিশরের সম্রাট বলে মনে হয়। একটা ঘোড়া আর তরবারি অথবা চাবুক থাকলে ভালো হতো। ঘোড়া নিয়ে ঘুরে বেড়াতাম। যেখানে অন্যায় দেখতাম লাগাতাম দুই ঘা করে।

সুরভি ঘুম। আমার কন্যা ফারাজাও ঘুম।
আমি সুরভিকে ডাক দিলাম না। নিজেই গরম পানি করলাম। গিজার আছে। কিন্তু গিজার আমার পছন্দ নয়। দাত ব্রাশ করতে করতে এক পাতিল গরম পানি হয়ে গেলো। ইচ্ছে করছে এক কাপ চা বানিয়ে খাই। কিন্তু সেটা সম্ভব না। রান্নাঘরে খুটখাট করলে সুরভি আর কন্যা ফারাজার ঘুম ভেঙে যেতে পারে। আমি কাউকে বিরক্ত করতে চা না। বাইরে থেকে চা খেয়ে নিবো। আমি আরাম করে গোছল করলাম।

বাসা থেকে বের হয়ে বড় রাস্তায় এসে দাড়ালাম।
সময় তখন সকাল ৭ টা ১৭ মিনিট। চারিদিকে কুয়াশা। ঠান্ডা বাতাস। আমি সবুজ রঙের একটা সুয়েটার পরেছি। তাই খুব একটা শীত লাগছে না। অবশ্য আমার শীত কম। ঢাকা শহরে আহামরি শীত হয় না। নদীর পাড়ের গ্রাম গুলোতে শীত বেশি হয়। বাসের জন্য দাড়িয়ে আছি। যাবো এলিফ্যান্ট রোড। দূরে একটা বাস দেখা যাচ্ছে। কি সুন্দর হেলে দুলে আসছে। বাসটা কাছে আসতেই আমি লাফিয়ে উঠলাম। ভাগ্য ভালো সিট পাওয়া গেলো। বেশির ভাগ সময় বাসে সিট পাওয়া যায় না। দাঁড়িয়ে গন্তব্যে যেতে হয়।

কোনো কারন ছাড়াই বাসে হুট করে ঘুমিয়ে গেলাম।
যখন ঘুম ভাঙ্গালো তখন আমি মিরপুর ১০ নম্বরে। অর্থ্যাৎ আমি ভুল বাসে উঠেছিলাম। আমার যাওয়ার কথা ছিলো- এলিফ্যান্ট রোড। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সাড়ে আট টা বেজে গেছে। ক্ষুধা পেয়েছে। রাব্বানী হোটেল কাছেই। অনেক কিছু অর্ডার করে খেতে বসলাম। আজকাল কমপক্ষে ৪/৫ পদ সামনে না থাকলে ভালো লাগে না। কিছুই খেতে স্বাদ লাগলো না। নেহারি, গরুর মাংস, স্যুপ, হালুয়া। এমনকি চা। শুধু শুধু ৪৪০ টাকা বিল দিলাম। খাবার গুলো যেন নষ্ট না হয়, তার জন্য পার্সেল নিয়ে নিলাম। রাস্তায় দরিদ্র কোনো মানুষকে দিয়ে দেওয়া যাবে। খাবার অপচয় আমার খুব অপছন্দ। দরিদ্র দেশে যারা খাবার অপচয় করে তাদের থাপড়ানো উচিৎ।

এখন কি কিরবো? কোথায় যাবো বুঝতে পারছি না।
অবশ্য কাছেই চিড়িয়াখানা। বাঘ, সিংহ, হাতি দেখা যেতে পারে। চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখি, বন্ধ। আজ রবিবার। রবিবার সাপ্তাহিক বন্ধ। আজকের দিনটা আমার খারাপ যাচ্ছে কেন? বোটানিক্যাল গার্ডেন খোলা আছে। গেলাম। শান্ত নিরিবিলি পরিবেশ। অনেক গাছপালা। গাছপালা আমার সব সময় ভালো লাগে। একটা বেঞ্চে অনেকক্ষন বসে থাকলাম। কত কি ভাবলাম। আগে একবার সুরভি আর আমি বোটানিক্যাল গার্ডেন এসেছিলাম। সুরভির কি মনে আছে? হ্যাঁ অবশ্যই মনে আছে। তার সব মনে থাকে। দিন তারিখ সহ। আরেকদিন সুরভিকে নিয়ে আসবো।

আপাতত আমার ইচ্ছা ঢাকার আশেপাশে কোথাও কিছু জমি কিনবো।
অনেক গাছ লাগাবো। গাছ গুলোর যত্ন আমি নিজের হাতে করবো। একটা পুকুর থাকবে। বরশি দিয়ে মাছ ধরবো। পুকুরটা মার্বেল টাইলস দিয়ে সুন্দর করে বাঁধাই করবো। থাকার জন্য ঘর করবো। মাঝে মাঝে পরিবার নিয়ে এসে কয়েকদিন থেকে যাবো। একটা লাইব্রেরী করবো। গাছের নিচে শুয়ে বসে বই পড়বো। তবেই না চিৎকার করে বলতে পারবো লাইফ ইজ বিউটিফুল। অসম্ভব কিছু না। আমি পারবো।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৪ রাত ১১:৩১
১৪টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমিও পারি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৬



জ্ঞানী মানুষ পড়ালেখা করে বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে। কেউবা পড়ালেখা করে একটি ভালো জবের জন্যে, কেউবা জ্ঞান আহরণের জন্যে, আবার কেউবা করে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্যে। আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভোজ

লিখেছেন ইসিয়াক, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৪০


গতকাল শরীরটা ভালো ছিলো না। তার জেরেই সম্ভবত ঘুম থেকে উঠতে বেশ বেলা হয়ে গেল। ঘুম ভাঙলেই আমি প্রথমে মোবাইল চেক করে দেখি কোন জরুরী কল এসেছিল কিনা। আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরার ট্রেন

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:১২


ঈদের ছুটিটা যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। বারোটা দিন—ক্যালেন্ডারের হিসেবে ছোট, কিন্তু হৃদয়ের হিসেবে এক বিশাল পৃথিবী। সেই পৃথিবীতে ছিল হাসি, ছিল কান্না, ছিল ঘরের গন্ধ, ছিল প্রিয় মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক: একটি প্রগতিশীল (?) অগ্রযাত্রা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:০৮


আমি আসলে জন্মগতভাবেই খুব আশাবাদী মানুষ। সত্যি বলছি। ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে যখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন নীতিমালা জারি করল, আমি মনে মনে বললাম , অবশেষে কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×