
আমি একটি বিহারী পরিবারকে চিনি।
এই পরিবারটি ঢাকার মিরপুর এলাকায় থাকে। এই পরিবারের কিছু লোক পাকিস্তানে ছিলো। তারা সুবিধা করতে না পেরে, দুই হাজার সালের দিকে সবাই বাংলাদেশে ফিরে আসে। সরকার থেকে তাদের যে থাকার জায়গা দিয়েছিলো, তারা সেখান থেকে বেড়িয়ে এসেছে। এখন বড় ফ্লাট ভাড়া নিয়ে থাকে। এখন যারা বিহারী ক্যাম্প গুলোতে আছে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। ঢাকার বস্তি গুলোর চেয়ে বিহারী ক্যাম্প গুলোর অবস্থা খারাপ। এখন যাদের আর্থিক অবস্থা একেবারে খারাপ তারাই ক্যাম্প গুলোতে থাকে। যারা চাকরি বা ব্যবসা করে আয় উন্নতি করেছে তারা ক্যাম্প ছেড়ে দিয়েছে। ফ্লাট কিনেছে অথবা ফ্লাট ভাড়া নিয়ে থাকে। তারা ভালো আছে। বাঙ্গালীদের সাথে তারা সুন্দর ভাবে মিশে গেছে। বাঙ্গালী হয়েছে।
আমি বিহারী পরিবারটির বাসায় যাই।
তারা সকালে ঘুম থেকে উঠে সকাল ১১/১২ টায়। সকালের নাস্তা খায় একটায়। আমি তাদের বাসায় গিয়েছি। আমাকে পরোটা, আলু ভাজি এবং ডিম সিদ্ধ খেতে দিয়েছে। এই পরিবারটি রাতের খাবার খায়- রাত একটায়। এরা পাকিস্তানী নাটক সিনেমার ভক্ত। এখনও তারা ঘরের মধ্যে নিজেদের সাথে উর্দু ভাষায় কথা বলে। পরিবারটির আর্থিক অবস্থা অনেক ভালো। দুই ছেলে লেখাপড়া শেষ করে চাকরি করছে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। তবু বিয়ের পর বাবা মায়ের সাথে থেকে গেছে। পরিবারটি বিহারী ক্যাম্প থেকে পুরোপুরি সরে গেছে। তাদের অনেক চেষ্টার কারনে তারা বিহারী নামটি মুছে ফেলতে পেরেছে। একেবারেই কি পেরেছে। আমি টের পাই আজও তাদের হৃদয়ে পাকিস্তান। ক্রিকেট খেলা হলে এরাই স্টেডিয়ামে যায় পাকিস্তানের জার্সি গায়ে দিয়ে।
একদিন বিহারী পরিবারটি আমাকে দাওয়া করেছে।
রাতে তাদের বাসায় গিয়েছি। তারা অনেক আয়োজন করেছে। গরুর মাংস রান্না করেছে। গরুর ভুড়ি রান্না করেছে। কলিজা রান্না করেছে। নেহারী রান্না করেছে। নেহারী খেতে হবে পরোটা দিয়ে। মহিলা বললেন আজ পাকিস্তানের মতো করে রান্না করেছি। পাকিস্তানে লাহোর এলাকায় এভাবে রান্না করে। 'পাকিস্তান' শব্দটা শুনলেই আমার রাগ হয়। রাগ সামলাতে পারলাম না। বললাম, এই দেশে আছেন ৪০/৫০ বছর পার হয়ে গেছে, তবু কেন আপনারা এখনও পাকিস্তান পাকিস্তান করেন? আপনাদের ঘরে টিভিতে সারাদিন পাকিস্তানী নাটক, সিনেমা ছেড়ে রাখেন। কেন বাংলাদেশের নাটক সিনেমা আপনারা দেখেন না? মহিলা বললেন, পাকিস্তান হচ্ছে আমাদের বাপ দাদার দেশ। ভুলি কেমন! করাচী শহরে দীর্ঘদিন থেকেছি। মুলতানে আমার এক চাচার বাড়ি ছিলো। মুলতানের আবহাওয়া অতি মনোরম।
আমি কিছুটা উচ্চস্বরে বললাম, এই দেশে খাবেন, এই দেশে থাকবেন-
আর করবেন পাকিস্তান পাকিস্তান। এটা অন্যায়। পাকিস্তান কি দিয়েছে আপনাদের? কেন আপনাদের ফিরিয়ে নিলো না? এখন আপনারা এই দেশের নাগরিক। ভোটার আইডি কার্ড পেয়েছেন। যেসব বাঙ্গালী এখন পাকিস্তানে আটকা পড়েছে, তারা খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা পাকিস্তান সরকার থেকে কোনো রকম সুবিধা পায় না। তাদের কোনো পরিচয় নেই। চাকরি পায় না। কুলিগিরি করছে, হকারগিরি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। বাজারে মাছ বিক্রি করে। সেই তুলনায় আপনারা বাংলাদেশে কত ভালো আছেন। মহিলা বললেন, অনেক বিহারীদের ঘরে খুজলে জিন্নাহর ছবি পাওয়া যাবে। আমরা আমাদের ঘরে জিন্নাহর ছবি রাখি নাই। আমি বললাম, জিন্নাহ ভালো মানুষ ছিলেন না। আমি বললাম, এখন যদি আপনাদের পাকিস্তান সরকার ফিরিয়ে নেয় এবং সেই দেশের নাগরিক করে তাহলে পাকিস্তান চলে যাবেন? মহিলা বললেন, হ্যা অবশ্যই ফিরে যাবো।
মহিলা বললেন, থাক তুমি রাগ করো না।
আমরা এখন বাঙ্গালী। ভোট দেই। বাংলায় কথা বলি। যাইহোক, তুমি খেতে বসো। আমি বললাম, আমি পাকিস্তানী খাবার খাবো না। মহিলা বললেন, এই খাবার গুলো পাকিস্তান থেকে আসে নাই। ১১ নম্বর বাজার থেকে এনেছি। আমি বললাম, ১১ নম্বর বাজারের বেশির ভাগ লোক বিহারী। সরকারের আইন করা উচিত বাংলাদেশে কেউ উর্দু ভাষায় কথা বলতে পারবে না। দেশ স্বাধীন হয়েছে ৫৩ বছর হয়ে গেছে। কারো মুখে উর্দু কথা শুনলে আমার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। কারো ঘরে টিভিতে পাকিস্তানী নাটক সিনেমা চললে আমার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। পাকিস্তান লিখিত ভাবে পুরো বিশ্বের সামনে আমাদের কাছে ক্ষমা চাইবে। চিৎকার করে ক্ষমা চাইতে হবে। তারপর ওদের নিয়ে চিন্তা ভাবনা করবো। ওদের আমরা ক্ষমা করে দিলে আল্লাহও আমাদের ক্ষমা করবেন না।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


