somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

একটি বিহারী পরিবার

২০ শে জানুয়ারি, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি একটি বিহারী পরিবারকে চিনি।
এই পরিবারটি ঢাকার মিরপুর এলাকায় থাকে। এই পরিবারের কিছু লোক পাকিস্তানে ছিলো। তারা সুবিধা করতে না পেরে, দুই হাজার সালের দিকে সবাই বাংলাদেশে ফিরে আসে। সরকার থেকে তাদের যে থাকার জায়গা দিয়েছিলো, তারা সেখান থেকে বেড়িয়ে এসেছে। এখন বড় ফ্লাট ভাড়া নিয়ে থাকে। এখন যারা বিহারী ক্যাম্প গুলোতে আছে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। ঢাকার বস্তি গুলোর চেয়ে বিহারী ক্যাম্প গুলোর অবস্থা খারাপ। এখন যাদের আর্থিক অবস্থা একেবারে খারাপ তারাই ক্যাম্প গুলোতে থাকে। যারা চাকরি বা ব্যবসা করে আয় উন্নতি করেছে তারা ক্যাম্প ছেড়ে দিয়েছে। ফ্লাট কিনেছে অথবা ফ্লাট ভাড়া নিয়ে থাকে। তারা ভালো আছে। বাঙ্গালীদের সাথে তারা সুন্দর ভাবে মিশে গেছে। বাঙ্গালী হয়েছে।

আমি বিহারী পরিবারটির বাসায় যাই।
তারা সকালে ঘুম থেকে উঠে সকাল ১১/১২ টায়। সকালের নাস্তা খায় একটায়। আমি তাদের বাসায় গিয়েছি। আমাকে পরোটা, আলু ভাজি এবং ডিম সিদ্ধ খেতে দিয়েছে। এই পরিবারটি রাতের খাবার খায়- রাত একটায়। এরা পাকিস্তানী নাটক সিনেমার ভক্ত। এখনও তারা ঘরের মধ্যে নিজেদের সাথে উর্দু ভাষায় কথা বলে। পরিবারটির আর্থিক অবস্থা অনেক ভালো। দুই ছেলে লেখাপড়া শেষ করে চাকরি করছে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। তবু বিয়ের পর বাবা মায়ের সাথে থেকে গেছে। পরিবারটি বিহারী ক্যাম্প থেকে পুরোপুরি সরে গেছে। তাদের অনেক চেষ্টার কারনে তারা বিহারী নামটি মুছে ফেলতে পেরেছে। একেবারেই কি পেরেছে। আমি টের পাই আজও তাদের হৃদয়ে পাকিস্তান। ক্রিকেট খেলা হলে এরাই স্টেডিয়ামে যায় পাকিস্তানের জার্সি গায়ে দিয়ে।

একদিন বিহারী পরিবারটি আমাকে দাওয়া করেছে।
রাতে তাদের বাসায় গিয়েছি। তারা অনেক আয়োজন করেছে। গরুর মাংস রান্না করেছে। গরুর ভুড়ি রান্না করেছে। কলিজা রান্না করেছে। নেহারী রান্না করেছে। নেহারী খেতে হবে পরোটা দিয়ে। মহিলা বললেন আজ পাকিস্তানের মতো করে রান্না করেছি। পাকিস্তানে লাহোর এলাকায় এভাবে রান্না করে। 'পাকিস্তান' শব্দটা শুনলেই আমার রাগ হয়। রাগ সামলাতে পারলাম না। বললাম, এই দেশে আছেন ৪০/৫০ বছর পার হয়ে গেছে, তবু কেন আপনারা এখনও পাকিস্তান পাকিস্তান করেন? আপনাদের ঘরে টিভিতে সারাদিন পাকিস্তানী নাটক, সিনেমা ছেড়ে রাখেন। কেন বাংলাদেশের নাটক সিনেমা আপনারা দেখেন না? মহিলা বললেন, পাকিস্তান হচ্ছে আমাদের বাপ দাদার দেশ। ভুলি কেমন! করাচী শহরে দীর্ঘদিন থেকেছি। মুলতানে আমার এক চাচার বাড়ি ছিলো। মুলতানের আবহাওয়া অতি মনোরম।

আমি কিছুটা উচ্চস্বরে বললাম, এই দেশে খাবেন, এই দেশে থাকবেন-
আর করবেন পাকিস্তান পাকিস্তান। এটা অন্যায়। পাকিস্তান কি দিয়েছে আপনাদের? কেন আপনাদের ফিরিয়ে নিলো না? এখন আপনারা এই দেশের নাগরিক। ভোটার আইডি কার্ড পেয়েছেন। যেসব বাঙ্গালী এখন পাকিস্তানে আটকা পড়েছে, তারা খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা পাকিস্তান সরকার থেকে কোনো রকম সুবিধা পায় না। তাদের কোনো পরিচয় নেই। চাকরি পায় না। কুলিগিরি করছে, হকারগিরি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। বাজারে মাছ বিক্রি করে। সেই তুলনায় আপনারা বাংলাদেশে কত ভালো আছেন। মহিলা বললেন, অনেক বিহারীদের ঘরে খুজলে জিন্নাহর ছবি পাওয়া যাবে। আমরা আমাদের ঘরে জিন্নাহর ছবি রাখি নাই। আমি বললাম, জিন্নাহ ভালো মানুষ ছিলেন না। আমি বললাম, এখন যদি আপনাদের পাকিস্তান সরকার ফিরিয়ে নেয় এবং সেই দেশের নাগরিক করে তাহলে পাকিস্তান চলে যাবেন? মহিলা বললেন, হ্যা অবশ্যই ফিরে যাবো।

মহিলা বললেন, থাক তুমি রাগ করো না।
আমরা এখন বাঙ্গালী। ভোট দেই। বাংলায় কথা বলি। যাইহোক, তুমি খেতে বসো। আমি বললাম, আমি পাকিস্তানী খাবার খাবো না। মহিলা বললেন, এই খাবার গুলো পাকিস্তান থেকে আসে নাই। ১১ নম্বর বাজার থেকে এনেছি। আমি বললাম, ১১ নম্বর বাজারের বেশির ভাগ লোক বিহারী। সরকারের আইন করা উচিত বাংলাদেশে কেউ উর্দু ভাষায় কথা বলতে পারবে না। দেশ স্বাধীন হয়েছে ৫৩ বছর হয়ে গেছে। কারো মুখে উর্দু কথা শুনলে আমার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। কারো ঘরে টিভিতে পাকিস্তানী নাটক সিনেমা চললে আমার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। পাকিস্তান লিখিত ভাবে পুরো বিশ্বের সামনে আমাদের কাছে ক্ষমা চাইবে। চিৎকার করে ক্ষমা চাইতে হবে। তারপর ওদের নিয়ে চিন্তা ভাবনা করবো। ওদের আমরা ক্ষমা করে দিলে আল্লাহও আমাদের ক্ষমা করবেন না।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:৩২
২৮টি মন্তব্য ২৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"তোমরা জানাযা করে দ্রুত লাশ দাফন কর।"

লিখেছেন এমএলজি, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ৭:৩০

রাসূল (সাঃ) বলেছেন, "তোমরা জানাযা করে দ্রুত লাশ দাফন কর।" বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনায় এ কাজটি করা হয়নি বলে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যাচ্ছে।

বিষয়টি সত্য কিনা তা তদন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যক্তি বেগম খালেদা জিয়া কেমন ছিলেন?

লিখেছেন নতুন নকিব, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১২:০৪

ব্যক্তি বেগম খালেদা জিয়া কেমন ছিলেন?

ইয়াতিমদের সাথে ইফতার অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়া, ছবি https://www.risingbd.com/ থেকে সংগৃহিত।

তিন-তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্ত্রীও তিনি। তাকেই তার বৈধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বছরশেষের ভাবনা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১২:৪৮


এসএসসি পাস করে তখন একাদশ শ্রেণিতে উঠেছি। সেই সময়ে, এখন গাজায় যেমন ইসরাইল গণহত্যা চালাচ্ছে, তখন বসনিয়া নামে ইউরোপের ছোট একটা দেশে এরকম এক গণহত্যা চলছিল। গাজার গণহত্যার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

উৎসর্গ : জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP)

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৫:৩৮



খিচুড়ি

হাঁস ছিল, সজারু, (ব্যাকরণ মানি না),
হয়ে গেল “হাঁসজারু” কেমনে তা জানি না।
বক কহে কচ্ছপে—“বাহবা কি ফুর্তি!
অতি খাসা আমাদের বকচ্ছপ মূর্তি।”
টিয়ামুখো গিরগিটি মনে ভারি শঙ্কা—
পোকা ছেড়ে শেষে কিগো খাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালেদা জিয়ার জানাজা

লিখেছেন অপু তানভীর, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১১:৩৯

আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন আমার নানীর বোন মারা যান। নানীর বোন তখন নানাবাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন। সেইবারই আমি প্রথম কোনো মৃতদেহ সরাসরি দেখেছিলাম। রাতের বেলা যখন লাশ নিয়ে গ্রামের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×