somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমাদের শাহেদ জামাল- ৭০

২২ শে জানুয়ারি, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মসজিদটা ধানমন্ডিতে। নাম- তাকওয়া মসজিদ।
শাহেদ জামাল শুক্রবার কোনো কারনে ধানমণ্ডি গেলে, জুম্মার নামাজটা 'তাকওয়া' মসজিদে আদায় করে। কারন জুম্মার নামাজে তাকওয়া মসজিদের ইমাম সুন্দর বয়ান করেন। অন্যান্য মসজিদের সাথে এই তাকওয়া মসজিদের বয়ানের সাথে কোনো মিল নাই। হুজুর আধুনিক বয়ান করেন। হুজুরের মধ্যে কোনো ধর্মীয় কুসংস্কার নেই। বয়ানে হুজুর বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করেন। বিজ্ঞানের কঠিন সব সুত্র বলেন। বিজ্ঞানের জয়জয়কার করেন। লাঠি সাপ হয়ে গেলো, এরকম গালগল্প করেন না। নবী মাছের পেটে ঢুকে গেলো এরকম রুপকথার গল্প বলেন না। নূহের নৌকার গল্প করেন না। বোরাকের গল্প বলেন না। বরং হুজুরের মুখে শোনা যায় বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীদের গল্প। শোনা যায় এরিস্টল, গৌতম বুদ্ধদের মতো মহান মানুষদের গল্প।

গতকাল এক মজার ব্যাপার ঘটেছে।
শাহেদ জামাল মোহাম্মদপুর গিয়েছে। তাজমহল রোড। সময় তখন দুপুর দুইটা। শাহেদ জামালের বেশ ক্ষুধা পেয়েছে। অবশ্য দশ মিনিট হেঁটে গেলেই একটা ভালো রেস্টুরেন্ট আছে। ওদের খাবার স্বাদ আছে। এমনকি ইলিশ মাছের ভর্তাও পাওয়া যায়। ওদের বিশেষত্ব হচ্ছে ওরা কাচের প্লেটে খাবার দেয় না। ওরা খাবার দেয় পিতলের থালা বাটিতে। এমনকি গ্লাসটাও পিতলের। রান্নাও হয় পিতলের হাড়িতে। শাহেদ জামালের ইচ্ছা আজ পিতলের প্লেটে করে ভাত খাবে। পিতলের গ্লাসে করে পানি খাবে। একসময় শাহেদ জামালের নানা নানী ভারতের আসামে পিতলের ব্যবসা করতেন। ব্যবসা বেশ জমজমাট ছিলো। ভারতে রায়ট হলো, ব্যবসা ফেলে তাদের চলে আসতে হলো বিক্রমপুরে। ভাগ্যিস তাদের বাপ দাদার বাড়ি ছিলো বিক্রমপুরে। অবশ্য সিরাজদিঘানের সে বাড়ি আজ আর নেই। পদ্মা গিলে নিয়েছে। পদ্মানদী মানুষের বহু বাড়িঘর গিলে নিয়েছে।

শাহেদ জামালের ভাগ্যটা মন্দ নাকি ভালো?
পিতলের প্লেটে খাবার খাওয়া হলো না তার। শাহদ জামাল দেখলো এক বাড়ির নিচে মিলাদ পরানো হচ্ছে। দুপুরবেলা মিলাদ খুব কম হয়। এদের ঘটনা কি? মিলাদের তবারক হিসেবে ভালো কিছু দেওয়া হবে সম্ভবত। দুটা বড় ডেগে রান্না হয়েছে। এখনও কয়লা থেকে ধোয়া বের হচ্ছে। শাহেদ জামালের ইচ্ছা আজকের দুপুরের খানা এখানেই খাবে। রিজিকের মালিক আল্লাহপাক। একটা পিঁপড়ার রিজিকের দায়িত্বও আল্লাহপাক নিজের কাছে রেখেছেন। শাহেদ জামালের দেখলো- মিলাদ শেষের দিকে। এখন সবাই মোনাজাত ধরেছে। এই ফাকে শাহেদ রাস্তার পাশের দোকান থেকে একটা সিগারেট শেষ করে নিতে চায়। সিগারেট শেষ করে এসে দেখে হুজুর মিলাদের মোনাজাত এখনও শেষ করে নাই। কিছু কিছু হুজুরের মোনাজাত শেষ হতে চায় না।

দুই ডেগে রান্না হয়েছে। কি রান্না হয়েছে? কাচ্চি না তেহারী?
শাহেদ জামালের ইচ্ছা করছে ডাকনা সরিয়ে দেখতে কি রান্না হয়েছে। মোনাজাত শেষ হলো। দেখা গেলো ডেগে পাতলা খিচুড়ি সবজি দিয়ে রান্না হয়েছে। শাহেদ জামালের মনটা খুব খারাপ হলো। সে ভেছেছিলো কাচ্চি অথবা তেহারী হবে। এই লেটকা খিচুড়ি তার মোটেও পছন্দ না। তাছাড়া গরম খিচুড়ি হাত দিয়ে মানুষ খাবে কিভাবে? যারা খাবে তাদের একটা করে চামচ দেওয়া উচিত ছিলো। শাহেদ জামাল মন খারাপ করে চলে যাচ্ছিলো। তখন এক মেয়েকে দেখা গেলো। মেয়েটা সুন্দর। মাত্রই গোছল করেছে। চুল থেকে পানি পড়ে পিঠ অনেকখানি ভিজে গেছে। মেয়েটা চোখে মোটা করে কাজল দিয়েছে। বাঙ্গালী মেয়েদের খুব সাজতে হয় না। চোখে সামান্য কাজল দিলেই তাদের দেবী প্রতিমার মতো লাগে। মেয়েটাকে শাহেদ জামালের ভালো লেগেছে।

শাহেদ জামাল চলে যাচ্ছিলো-
তখন মেয়েটা বলল, আপনি না খেয়ে চলে যাচ্ছেন যে? শাহেদ বলল, দুপুরবেলা লেটকা খিচুড়ি আমার পোষাবে না। মেয়েটা হাসলো। সুন্দর হাসি। বলল, তো এই দুপুরবেলা আপনার কি খেতে ইচ্ছা করছে? শাহেদ বলল, আমার গরম গরম তেহারী খেতে ইচ্ছা করছে। সাথে ঠান্ডা কোক। মেয়েটা বলল, আজ তো তেহারীই রান্না হয়েছে। শাহেদ বলল, পাতিলে তো ল্যাটকা খিচুড়ি দেখলাম। মেয়েটা বলল, হ্যা ঠিক দেখেছেন। তবে আরেকটা ডেগ আপনি খেয়াল করেননি। সেটাতে তেহারি রান্না হয়েছে। শাহেদ জামালের সত্যি সত্যি মেয়েটাকে এবার দেবী প্রতিমা বলেই মনে হলো। মেয়েটা শাহেদ জামালকে ডেকে ঘরের ভিতর নিয়ে গেলো। বলল, আজ আমার নানুর মৃত্যু বার্ষিকী। তাই মিলাদ পড়ানো হলো।

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জানুয়ারি, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:২৮
৮টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"তোমরা জানাযা করে দ্রুত লাশ দাফন কর।"

লিখেছেন এমএলজি, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ৭:৩০

রাসূল (সাঃ) বলেছেন, "তোমরা জানাযা করে দ্রুত লাশ দাফন কর।" বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনায় এ কাজটি করা হয়নি বলে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যাচ্ছে।

বিষয়টি সত্য কিনা তা তদন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যক্তি বেগম খালেদা জিয়া কেমন ছিলেন?

লিখেছেন নতুন নকিব, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১২:০৪

ব্যক্তি বেগম খালেদা জিয়া কেমন ছিলেন?

ইয়াতিমদের সাথে ইফতার অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়া, ছবি https://www.risingbd.com/ থেকে সংগৃহিত।

তিন-তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্ত্রীও তিনি। তাকেই তার বৈধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বছরশেষের ভাবনা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১২:৪৮


এসএসসি পাস করে তখন একাদশ শ্রেণিতে উঠেছি। সেই সময়ে, এখন গাজায় যেমন ইসরাইল গণহত্যা চালাচ্ছে, তখন বসনিয়া নামে ইউরোপের ছোট একটা দেশে এরকম এক গণহত্যা চলছিল। গাজার গণহত্যার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

উৎসর্গ : জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP)

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৫:৩৮



খিচুড়ি

হাঁস ছিল, সজারু, (ব্যাকরণ মানি না),
হয়ে গেল “হাঁসজারু” কেমনে তা জানি না।
বক কহে কচ্ছপে—“বাহবা কি ফুর্তি!
অতি খাসা আমাদের বকচ্ছপ মূর্তি।”
টিয়ামুখো গিরগিটি মনে ভারি শঙ্কা—
পোকা ছেড়ে শেষে কিগো খাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালেদা জিয়ার জানাজা

লিখেছেন অপু তানভীর, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১১:৩৯

আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন আমার নানীর বোন মারা যান। নানীর বোন তখন নানাবাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন। সেইবারই আমি প্রথম কোনো মৃতদেহ সরাসরি দেখেছিলাম। রাতের বেলা যখন লাশ নিয়ে গ্রামের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×