
মসজিদটা ধানমন্ডিতে। নাম- তাকওয়া মসজিদ।
শাহেদ জামাল শুক্রবার কোনো কারনে ধানমণ্ডি গেলে, জুম্মার নামাজটা 'তাকওয়া' মসজিদে আদায় করে। কারন জুম্মার নামাজে তাকওয়া মসজিদের ইমাম সুন্দর বয়ান করেন। অন্যান্য মসজিদের সাথে এই তাকওয়া মসজিদের বয়ানের সাথে কোনো মিল নাই। হুজুর আধুনিক বয়ান করেন। হুজুরের মধ্যে কোনো ধর্মীয় কুসংস্কার নেই। বয়ানে হুজুর বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করেন। বিজ্ঞানের কঠিন সব সুত্র বলেন। বিজ্ঞানের জয়জয়কার করেন। লাঠি সাপ হয়ে গেলো, এরকম গালগল্প করেন না। নবী মাছের পেটে ঢুকে গেলো এরকম রুপকথার গল্প বলেন না। নূহের নৌকার গল্প করেন না। বোরাকের গল্প বলেন না। বরং হুজুরের মুখে শোনা যায় বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীদের গল্প। শোনা যায় এরিস্টল, গৌতম বুদ্ধদের মতো মহান মানুষদের গল্প।
গতকাল এক মজার ব্যাপার ঘটেছে।
শাহেদ জামাল মোহাম্মদপুর গিয়েছে। তাজমহল রোড। সময় তখন দুপুর দুইটা। শাহেদ জামালের বেশ ক্ষুধা পেয়েছে। অবশ্য দশ মিনিট হেঁটে গেলেই একটা ভালো রেস্টুরেন্ট আছে। ওদের খাবার স্বাদ আছে। এমনকি ইলিশ মাছের ভর্তাও পাওয়া যায়। ওদের বিশেষত্ব হচ্ছে ওরা কাচের প্লেটে খাবার দেয় না। ওরা খাবার দেয় পিতলের থালা বাটিতে। এমনকি গ্লাসটাও পিতলের। রান্নাও হয় পিতলের হাড়িতে। শাহেদ জামালের ইচ্ছা আজ পিতলের প্লেটে করে ভাত খাবে। পিতলের গ্লাসে করে পানি খাবে। একসময় শাহেদ জামালের নানা নানী ভারতের আসামে পিতলের ব্যবসা করতেন। ব্যবসা বেশ জমজমাট ছিলো। ভারতে রায়ট হলো, ব্যবসা ফেলে তাদের চলে আসতে হলো বিক্রমপুরে। ভাগ্যিস তাদের বাপ দাদার বাড়ি ছিলো বিক্রমপুরে। অবশ্য সিরাজদিঘানের সে বাড়ি আজ আর নেই। পদ্মা গিলে নিয়েছে। পদ্মানদী মানুষের বহু বাড়িঘর গিলে নিয়েছে।
শাহেদ জামালের ভাগ্যটা মন্দ নাকি ভালো?
পিতলের প্লেটে খাবার খাওয়া হলো না তার। শাহদ জামাল দেখলো এক বাড়ির নিচে মিলাদ পরানো হচ্ছে। দুপুরবেলা মিলাদ খুব কম হয়। এদের ঘটনা কি? মিলাদের তবারক হিসেবে ভালো কিছু দেওয়া হবে সম্ভবত। দুটা বড় ডেগে রান্না হয়েছে। এখনও কয়লা থেকে ধোয়া বের হচ্ছে। শাহেদ জামালের ইচ্ছা আজকের দুপুরের খানা এখানেই খাবে। রিজিকের মালিক আল্লাহপাক। একটা পিঁপড়ার রিজিকের দায়িত্বও আল্লাহপাক নিজের কাছে রেখেছেন। শাহেদ জামালের দেখলো- মিলাদ শেষের দিকে। এখন সবাই মোনাজাত ধরেছে। এই ফাকে শাহেদ রাস্তার পাশের দোকান থেকে একটা সিগারেট শেষ করে নিতে চায়। সিগারেট শেষ করে এসে দেখে হুজুর মিলাদের মোনাজাত এখনও শেষ করে নাই। কিছু কিছু হুজুরের মোনাজাত শেষ হতে চায় না।
দুই ডেগে রান্না হয়েছে। কি রান্না হয়েছে? কাচ্চি না তেহারী?
শাহেদ জামালের ইচ্ছা করছে ডাকনা সরিয়ে দেখতে কি রান্না হয়েছে। মোনাজাত শেষ হলো। দেখা গেলো ডেগে পাতলা খিচুড়ি সবজি দিয়ে রান্না হয়েছে। শাহেদ জামালের মনটা খুব খারাপ হলো। সে ভেছেছিলো কাচ্চি অথবা তেহারী হবে। এই লেটকা খিচুড়ি তার মোটেও পছন্দ না। তাছাড়া গরম খিচুড়ি হাত দিয়ে মানুষ খাবে কিভাবে? যারা খাবে তাদের একটা করে চামচ দেওয়া উচিত ছিলো। শাহেদ জামাল মন খারাপ করে চলে যাচ্ছিলো। তখন এক মেয়েকে দেখা গেলো। মেয়েটা সুন্দর। মাত্রই গোছল করেছে। চুল থেকে পানি পড়ে পিঠ অনেকখানি ভিজে গেছে। মেয়েটা চোখে মোটা করে কাজল দিয়েছে। বাঙ্গালী মেয়েদের খুব সাজতে হয় না। চোখে সামান্য কাজল দিলেই তাদের দেবী প্রতিমার মতো লাগে। মেয়েটাকে শাহেদ জামালের ভালো লেগেছে।
শাহেদ জামাল চলে যাচ্ছিলো-
তখন মেয়েটা বলল, আপনি না খেয়ে চলে যাচ্ছেন যে? শাহেদ বলল, দুপুরবেলা লেটকা খিচুড়ি আমার পোষাবে না। মেয়েটা হাসলো। সুন্দর হাসি। বলল, তো এই দুপুরবেলা আপনার কি খেতে ইচ্ছা করছে? শাহেদ বলল, আমার গরম গরম তেহারী খেতে ইচ্ছা করছে। সাথে ঠান্ডা কোক। মেয়েটা বলল, আজ তো তেহারীই রান্না হয়েছে। শাহেদ বলল, পাতিলে তো ল্যাটকা খিচুড়ি দেখলাম। মেয়েটা বলল, হ্যা ঠিক দেখেছেন। তবে আরেকটা ডেগ আপনি খেয়াল করেননি। সেটাতে তেহারি রান্না হয়েছে। শাহেদ জামালের সত্যি সত্যি মেয়েটাকে এবার দেবী প্রতিমা বলেই মনে হলো। মেয়েটা শাহেদ জামালকে ডেকে ঘরের ভিতর নিয়ে গেলো। বলল, আজ আমার নানুর মৃত্যু বার্ষিকী। তাই মিলাদ পড়ানো হলো।
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জানুয়ারি, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


