
আমরা কোরআন থেকে জানতে পারি নূহ একজন নবী ছিলেন।
অবশ্য নূহ নবীর কোনো অলৌকিক ক্ষমতা ছিলো না। কুরআনে ৪৩ বার নূহ নবীর কথা এসেছে। বাইবেলেও নূহ সম্পর্কে অনেক কিছু লেখা আছে। আরবের লোকেরা মূর্তি পূজা করে। নাচ গান করে। তাদের লাইনে আনার জন্য আল্লাহপাক নূহ নবীকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু নূহ নবী তাদের মুর্তিপূজা থেকে বিরত করতে পারেন নি। তবু তিনি বারবার তাদের মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। লোকজন তার কথা আমলে নেয় নাই। বরং হাসাহাসি করেছে।
নূহ (আঃ) ৯শ' বছরের বেশী সময় বেঁচে ছিলেন।
একজন মানুষ কিভাবে নয় শ' বছর বেচে থাকতে পারে? বাস্তব জীবনে ইহা সম্ভব নয়। অবশ্যই এটা বানোয়াট। বলা হয় আদম (আঃ) ৯৬০ বছর বেচে ছিলেন। এটা বাস্তব সম্মত কথা নয়। তারা ৮/৯শ' বছর বেচে ছিলেন- এর কোনো প্রমান পাওয়া যায়নি। আমাদের নবীজি এত লম্বা হায়াত পাননি। তিনি অনেক রোগে ভূগে মারা গেছেন। যাইহোক, আমৃত্যু নূহ নবী মানুষকে সঠিক পথে আনতে চেষ্টা করেছেন। এবং বারবার ব্যর্থ হয়েছেন। তবু নূহ নবী হাল ছাড়েননি। কোরআনে নূহ নবীর কথা না থাকলে বিশ্ববাসী এই রাসূলকে চিনতে পারতো না।
নূহ নবীর কথা না মানায় আল্লাহ তার ক্ষমতা দেখাতে বাধ্য হোন।
ফলাফল সমস্ত লোকজন বন্যায় ভেসে যায়। মরে যায়। কিন্তু নূহ এবং তার কাছের অল্প কিছু লোকজন নৌকায় থাকায় প্রানে বেঁচে যায়। মহা প্লাবনের কারনে পুরো পৃথিবী লন্ডভন্ড হয়ে যায়। মুলত আল্লাহর ইচ্ছাতে এমনটা ঘটেছে। এর আগে আল্লাহপাক ছয়টি জাতিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছেন। তবু মানুষজন লাইনে আসে না। ইবাদর করে না। মূর্তি বানায়, মূর্তি পূজা করে। মানুষের হেদায়েতের জন্য আল্লাহ নূহ নবীকে পাঠিয়েছেন। কিন্তু লোকজন নূহ নবীর কথা শোনে নাই।
নূহ নবীর মায়ের কোনো ইতিহাস জানা যায়নি।
এর কারন কোরআনে তার মা সম্পর্কে কিছুই লেখা নেই। নূহ নবীর স্ত্রীদের সম্পর্কেও কিছু জানা যায়নি। নূহ (আঃ) অনেক গুলো বিয়ে করেছেন। আচ্ছা, সে সময় কি বিয়ে হতো? কিভাবে হতো? তখন তো কলেমা আবিষ্কার হয় নাই। তখন কি মুসলমান বা হিন্দু বলে কিছু ছিলো? যাইহোক, নূহ নবীর সন্তান ছিলো মাত্র চারটি। নূহ'র এক ছেলে মূর্তি পূজা করতো। এজন্য সে বন্যায় মারা যায়। নূহ নবী নিজের সন্তানকেও লাইনে আনতে পারেন নাই। আমাদের নবীজি অনেক বিধর্মীকে লাইনে আনতে পেরেছিলেন।
আমাদের নূহ নবী বাস করতেন ইরাকের মূছেল নগরীতে।
আল্লাহর হুকুমে নূহ একটি নৌকা তৈরি করেন। দুই বছর সময় লেগেছে এই নৌকা তৈরি করতে। নৌকা বানানো দেখে বহু লোক হেসেছে। তখন নূহ বলেছেন, আল্লাহর তরফ থেকে কঠিন আযাব আসবে। বাচতে চাইলে আমার নৌকায় উঠো। নইলে তোমরা ভেসে যাবে বন্যায়। নূহের নৌকার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমান বিজ্ঞানীরা খুঁজে পায়নি। নূহ শব্দের অর্থ হলো- কান্না। কারণ নূহ নবী মানুষকে সঠিক পথে আনার জন্য শুধু কান্না করতেন। নূহ (আঃ) ছিলেন মানব জাতির জন্য প্রথম রাসূল। নুহ (আ.)-এর জাতির নাম ছিল রাসিব।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৪:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


