somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ইউনূস নবীকে আল্লাহ শাস্তি দিয়েছিলেন

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৪:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বাইবেল ও কোরআন অনুসারে ইউনূস একজন নবী।
ইরাকের 'নীনাওয়া' বাসীদেরকে হিদায়াতের জন্য আল্লাহপাক ইউনূস নবীকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছিলেন। বাইবেলে ইউনূস (আ:) এর নাম 'যোনা'। নবী ইউনূসের পিতার নাম ছিল 'মাত্তা'। মায়ের নাম ছিলো মাতাশা। ইউনূস নবী ইরাকের 'মুসল' নগরীতে জীবনযাপন করেছেন। ইউনূস নবী ধনী ছিলেন না। 'মুসল' নগরীর নাগরিকদের ইউনূস নবী লাইনে আনতে পারেন নাই। রাগে দুঃখে ইউনূস নবী 'মুসল' নগরী ছেড়ে দেন। ফোরাত নদীর কাছে চলে যান এবং একটা নৌকায় উঠে বসেন। সেই নৌকায় আরো বেশ কয়েকজন লোক ছিলো। তারা ইয়েমেনের দিকে যাচ্ছিলো। যাইহোক, নৌকা মাঝ নদীতে যায় এবং তখন হঠাত ঝোড় ওঠে। নৌকায় থাকা লোকজন মনে করে অবশ্যই এই নৌকায় কোনো দুষ্টলোক আছে। তাই হঠাত এই ঝড় এসেছে।

ইউনূস নবী বলেন, আমিই সেই দুষ্টলোক।
আল্লাহ আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, সেই দায়িত্ব আমি যথাযথভাবে পালন করতে পারিনি। উলটা আমি পালিয়ে যাচ্ছি। ইউনূস নবী কান্না শুরু করলেন। নৌকায় থাকা লোকেরা বলল, ইউনূস তো ভালো মানুষ। নিজের দোষ স্বীকার করেছে। কিন্তু ইউনূসকে শাস্তি পেতেই হবে। ইহাই আল্লাহর বিধান। লোকজন ধরে ইউনূস নবীকে নৌকায় ফেলে দিলো। ইউনূস নবী সাঁতার জানতেন না। ফলাফল বিশাল এক মাছ ইউনূস নবীকে গিলে ফেলল। ধরে নিলাম মাছটির নাম তিমি মাছ। তিমি মাছটি শুধু আল্লাহর ইশারায় কাজ করে যাচ্ছিলো। ইউনূস নবী তিমি মাছের পেটে বসেই কান্না শুরু করলেন। এবং আল্লাহর কাছে বারবার ক্ষমা চাইতে লাগলেন। ইউনূস নবীর কান্না দেখে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। আসলে আল্লাহ চেয়েছিলেন ইউনূস নবীকে একটা শিক্ষা দেবেন। মাছের পেটে অন্ধকারের মধ্যে ইউনূস নবী খুব ভয় পাচ্ছিলেন। ইউনূস নবীর ঘটনা টা থেকে আমরা শিখতে পারি- আল্লাহ মহান।

আল্লাহর ইচ্ছায় তিমি মাছ ইউনূস নবীকে বমি করে ফেলে দিলো।
প্রথমে তিমি মাছ নবীকে পেটে করেই নবীর পাড়ে নিয়ে আসে এবং তারপর পেট থেকে উগলে ফেলে। বিষয়টা খুব সহজ ছিলো না। নবীজীকে দীর্ঘদিন মাছের পেটে থাকতে হয়েছিলো। মাছের পেটে থেকে-থেকে নবীজি অসুস্থ হয়ে পড়েন। আল্লাহ অলৌকিক লাউ গাছ তৈরি করে দেন। সেই লাউ ডাল দিয়ে খেয়ে ইউনূস নবী সুস্থ হয়ে ওঠেন। মাছ ইউনূস নবীজির কোনো ক্ষতি করে নি। এরকমটাই আল্লাহর নির্দেশ ছিলো। যাইহোক, কোরআনে একটি সূরা আছে- 'সুরা ইউনুস'। এ ছাড়াও কোরআনে আরও ছয়টি সুরায় ইউনূস নবী সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। অর্থ্যাত সূরা ইউনূস থেকে আমরা এই শিক্ষা পাই- 'আল্লাহর হুকুম আমাদের মেনে চলতে হবে। হবেই। নইলে কোনো 'ছাড়' নাই। ইউনূস নবী এবং হযরত আদম (সাঃ) কোথায় আছেন?

আমাদের শেষ নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন,
ইউনুস (আঃ) মাছের পেটে দোয়া করেছিলেন, 'লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন'। কোনো মুসলমান যখনই এই দোয়া পড়ে, আল্লাহ অবশ্যই তার দোয়া কবুল করে থাকেন। ইউনূস নবী যদি সময় মতো আল্লাহর কাছে প্রার্থনা না করতো তাহলে নবীকে কেয়ামত পর্যন্ত মাছের পেটে থাকতে হতো। ইউনূস নবী কত দিন ছিলেন মাছের পেটে? কেউ কেউ বলেন ৭ দিন, আবার কেউ বলেন- তিন শ' দিন। কেউ কেউ বলেন চল্লিশ বছর। প্রকৃতপক্ষে, কতদিন ছিলেন তা মুখ্য বিষয় নয়। তিনি মাছের পেটে ছিলেন, এটাই আসল ব্যপার। ২৮ বছর বয়সে ইউনূস (আ.) নবুয়্যত লাভ করেন। নবী মাছের পেট থেকে মুক্তি পেয়ে 'নীনাওয়া' শহরেই ফিরে গিয়েছিলেন ও সেখানে তার আত্নীয়দের সাথেই জীবনের শেষ দিন পার করেছেন।

আল্লাহতাআলা আমাদের কে নবী-রাসুলদের জীবনী থেকে শিক্ষা নেওয়ার তাওফিক দান করুন। বিপদ-মসিবতে দোয়া ইউনুস পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনার তাওফিক দান করুন। আমিন।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৫:০৭
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"তোমরা জানাযা করে দ্রুত লাশ দাফন কর।"

লিখেছেন এমএলজি, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ৭:৩০

রাসূল (সাঃ) বলেছেন, "তোমরা জানাযা করে দ্রুত লাশ দাফন কর।" বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনায় এ কাজটি করা হয়নি বলে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যাচ্ছে।

বিষয়টি সত্য কিনা তা তদন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যক্তি বেগম খালেদা জিয়া কেমন ছিলেন?

লিখেছেন নতুন নকিব, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১২:০৪

ব্যক্তি বেগম খালেদা জিয়া কেমন ছিলেন?

ইয়াতিমদের সাথে ইফতার অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়া, ছবি https://www.risingbd.com/ থেকে সংগৃহিত।

তিন-তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্ত্রীও তিনি। তাকেই তার বৈধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বছরশেষের ভাবনা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১২:৪৮


এসএসসি পাস করে তখন একাদশ শ্রেণিতে উঠেছি। সেই সময়ে, এখন গাজায় যেমন ইসরাইল গণহত্যা চালাচ্ছে, তখন বসনিয়া নামে ইউরোপের ছোট একটা দেশে এরকম এক গণহত্যা চলছিল। গাজার গণহত্যার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

উৎসর্গ : জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP)

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৫:৩৮



খিচুড়ি

হাঁস ছিল, সজারু, (ব্যাকরণ মানি না),
হয়ে গেল “হাঁসজারু” কেমনে তা জানি না।
বক কহে কচ্ছপে—“বাহবা কি ফুর্তি!
অতি খাসা আমাদের বকচ্ছপ মূর্তি।”
টিয়ামুখো গিরগিটি মনে ভারি শঙ্কা—
পোকা ছেড়ে শেষে কিগো খাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালেদা জিয়ার জানাজা

লিখেছেন অপু তানভীর, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১১:৩৯

আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন আমার নানীর বোন মারা যান। নানীর বোন তখন নানাবাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন। সেইবারই আমি প্রথম কোনো মৃতদেহ সরাসরি দেখেছিলাম। রাতের বেলা যখন লাশ নিয়ে গ্রামের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×