
সময় তখন ১৮৫৬ সাল।
মধ্যরাতে জন্ম হয় এক সুপারম্যানের। বাইরে তখন তুমুল ঝড় বৃষ্টি হচ্ছিলো। নাম তার নিকোলা টেলসা। তারা মোট পাচ ভাইবোন। টেলসা পাচ বছর বয়সে স্কুলে ভরতি হোন। সময় তখন ১৮৪০ সাল। টেলসা মুখে মুখে অংকের সমস্যার সমাধান করে দিতে পারতেন। তার সময়ের মানুষেরা তাকে বুদ্ধিজীবি হিসেবে সম্মান করতো। কিন্তু অনেক বিজ্ঞানী তাকে ভালো চোখে দেখতেন না। টেলসার ভাগ্য খারাপ ছিলো। তার ল্যাবে আগুন লেগে যায়। পুরো ল্যাব পুড়ে যায়। তার দরকারী সব কাগজ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তারপরও টেলসা থেমে যাননি। তার আবিষ্কারগুলো কোটি কোটি মানুষের কর্মসংস্থান করে গেছে এবং শত শত মিলিয়নিয়ার তৈরি করে গেছে। ১৮৮২ সালে টেসলা টমাস আলভা এডিসনের কোম্পানিতে কাজ করার সুযোগ পেয়ে যান। কিন্তু এডিসনের সাথে টেলসার কঠিন ঝগড়া হয়ে যায়। টমাস আলভা এডিসন টেলসাকে ব্যবহার করেছেন।
মৃত্যুর আগে টেলসা একটি আবাসিক হোটেলে স্থায়ীভাবে থাকতেন।
সেই হোটেলেই তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে তেসলা প্রতিদিন বিকেলে হাঁটতে বের হতেন। পকেটে করে পাখিদের জন্য খাবার নিয়ে যেতেন। আহত পাখি ও পশুদের তিনি সেবা যত্ন করতেন। একদিন তিনি পার্কে যেতে পারেন নি। সেদিন তিনি রাতে পাখিদের খাবার দিতে বের হোন এবং গাড়ি দূর্ঘটনা হয়। দূর্ঘনায় তার পাজরের হাড় ভেঙ্গে যায়। তবু তিনি ডাক্তারের কাছে যাননি। এই মহান বিজ্ঞানী ১৯৪৩ সালের ৭ জানুয়ারি মারা যান। অসহায় ও দরিদ্র অবস্থায় মারা যান। এই বিজ্ঞানী জন্মেছিলেন বর্তমান ক্রোশিয়ায়। টেলসার মা সব সময় বলতে আমার ছেলে পৃথিবীতে আলো নিয়ে আসবে। মায়ের কথা সত্যি হয়েছিলো। ৩০ জুলাই ১৮৯১ সালে টেসলা আমেরিকার নাগরিকত্ব অর্জন করেন। ২৮ বছরের তাগড়া জোয়ান টেসলা আমেরিকায় পা রাখেন।
পৃথিবীতে টেসলাই প্রথম বিদ্যুৎ নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন।
টেলসা আমাদের দিয়েছেন গ্যাসের টিউবলাইট, ফ্লুরোসেন্ট বাল্ব, হাই ফ্রিকোয়েন্সি বিদ্যুৎ। ছোটবেলায় একবার টেলসার কলেরা হয়। প্রায় মৃত্যুর কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু ভালো চিকিৎসার কারনে সেবার বেচে যান। এরপর কিছু পর তাদের গ্রামে অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির যৌথ বাহিনী লোকজন আক্রমন চালায়। তখন গ্রামের সব লোকজনের সাথে টেলসাও পাহাড়ে লুকিয়ে থাকলো। এই সময়ে টেলসা বই পড়তে শুরু করলো। বই পড়লে সময় খুব সুন্দর করে কাটে। ১৮৭৫ সালে টেসলার প্রকৌশলবিদ্যা পড়তে শুরু করে। টেলসা একটা দিনও ক্লাশ মিস করে নাই। বুদ্ধিমান ছাত্র পেয়ে শিক্ষকেরা ভীষন খুশি। কিন্তু শিক্ষকদের সাথে টেলসার ঝগড়া হয়। এবং তিনি লেখাপড়া শেষ না করেই কলেজ জীবনের ইতি টানেন। পড়াশোনা নিয়ে টেলসা ভীষন সিরিয়াস ছিলেন। এজন্য ছাত্র থাকা অবস্থায় প্রেম ভালোবাসা পর্যন্ত করেন নাই।
তখন শিল্পসমৃদ্ধির স্বর্ণযুগ ছিল আমেরিকাতে।
কিন্তু সন্ধ্যা হলেই চারপাশ অন্ধকার হয়ে যেতো। লোকজন ঘরে লন্ঠন জ্বালাতো। একদিকে এডিসন অন্যদিকে টেলসা তারা চায় চারপাশ আলোকিত হোক। পরিশ্রম করলে সাফল্য আসবেই। তাদের দুজনের কল্যাণে বিশ্ববাসী পেলো বিদ্যুৎ। টেলসা কোথাও বেড়াতে গেলে সব সময় নামী-দামী বিলাসবহুল হোটেলে থাকতে পছন্দ করতেন। কোনো দিন প্রেম ভালোবাসা করেন নি। বিয়েও করেন নি। তবে তিনি সব সময় নারীদের সম্মান করতেন। টেসলা বেঁচে ছিলেন ৮৬ বছর বয়স। বিলয়ার্ড খেলতে টেলসা খুবই পছন্দ করতেন। টানা ২৪ ঘণ্টা তিনি বিলিয়ার্ড খেলেছেন। টেলসা মনে করতেন বিয়ে করলে তার কাজে বাঁধা আসতো। সংসারের ঝামেলায় তার কাজের ক্ষতি হতো এজন্য টেলসা বিয়ে পর্যন্ত করেন নাই। টেলসা ভাবতে পছন্দ করতেন। ঘন্টার পর ঘণ্টা এক জায়গায় বসে ভাবতে থাকতেন। টাইম মেশিনের চিন্তা প্রথম মাথায় আসে টেলসার।
টেলসার সাথে আমাদের ব্লগার সোনাগাজীর বেশ মিল আছে।
দুজনেই দারুন বুদ্ধিমান। তারা দুজনেই বিশ্ব, দেশ, সমাজ এবং মানুষদের নিয়ে ভাবতেন। পৃথিবীবাসীর জন্য টেলসার অবদান অনেক। টেলসা পড়তে ভালোবাসতেন। উনি সবাইকে মন দিয়ে পড়ার কথা বলেছেন। চিন্তা করার কথা বলেছেন। আরো বলেছেন, প্রেম ভালোবাসা অতি তুচ্ছ ব্যাপার। তুচ্ছ ব্যাপারে সময় অপচয় করতে মানা করেছেন। বলেছেন, সময় খুব মূল্যবান। সময়কে কাজে লাগাতে হবে। তবেই জীবনে সফল হওয়া যাবে। এক মেয়ে টেলসার জন্য পাগল হয়ে যায়। টেলসা তাকে বলেছে, প্রেম ভালোয়াবসা আর বিয়ে আমার জন্য নয়। বিয়ে করে ঘর সংসারের মধ্যে আমার জীবন আবদ্ধ করতে চাই না। আমি পুরো বিশ্বের জন্য মহৎ সব কাজ করতে চাই। মানব জীবন তো একটাই। তাই সময়টা আমি ভালো কিছু করে কাজে লাগাতে চাই।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


