somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজকের ডায়েরী- ১৩৬

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ দুপুর ১:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবিঃ আমার তোলা।

সকাল ৭ টায় ঘুম থেকে ওঠা আমার জন্য খুব কষ্টকর।
দাত ব্রাশ করা। পানি গরম করা। গোছল করা। গিজার আছে কিন্তু গিজার আমার ভালো লাগে না। চুলায় গরম পানি আমার প্রথম পছন্দ। শীতকাল চলে গেলেও, শীত পুরোপুরি যায়নি। শীত আছে। রাতে পাতলা চাদর গায়ে দিয়ে ঘুমাতে হয়। ভোর চারটা থেকে সকাল ৯ টা পর্যন্ত আমার গভীর ঘুম হয়। গভীর ঘুম মানেই আমার কাছে আরামের ঘুম। রাত দুটার আগে আমি বিছানায় যাই না। এজন্য ভোরে ওঠা আমার জন্য কষ্টকর। একজনের মানুষ কমপক্ষে ৮ থেকে দশ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন আছে। ভালো ঘুম না হলে পরের দিন শরীর ম্যাজ ম্যাজ করে। ঘুমের চেয়ে সুন্দর আর কিছু নাই।

মানুষের জীবনের দুটা গুরুত্বপূর্ন জিনিস হচ্ছে- ঘুম এবং খাওয়া।
আপনি যেখানেই যান আপনাকে সময় মতো খেতে হবে। সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেচে থাকতে হলে খেতে হবেই। একবেলা না খেলে পরের বেলা দাউ দাউ ক্ষুধা লাগে। আমাদের দেশে চল্লিশার খাবার খেতে গিয়েও মানুষ পদদলিত হয়ে মারা যায়। বিয়ে বাড়িতে মানুষ পাগলের মতো খায়। ব্যুফে গেলেও মানুষ পাগলের মতো খায়। খেতেই থাকে। কিন্তু মানুষ কম খেলে মরে না। বেশি খেলেই মরে। সেদিন আমি ব্যুফে অনেক খেয়েছি। প্রয়োজনের চেয়ে বেশিই খেয়েছি। এরপর আমার অনেক কষ্ট হয়েছে। সব সময় পরিমিত ভাবে খাওয়া উচিৎ। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে সেটা যেন পুষ্টিকর খাবার হয়।

একসময় আমার কঠিন অসুখ হয়েছিলো।
অসুখটা হচ্ছে ঘুম না হওয়া। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস আমার ঘুম হতো না। সারারাত জেগে থাকতাম। মুভি দেখতাম। বই পড়তাম। ছাদে হাটাহাটি করতাম। ঘুম না হওয়াটা অনেক যন্ত্রনার। অনেক কষ্টের। এখন বুঝি, মানুষ শখ করে ঘুমের ওষুধ খায় না। এখন আমার ঘুমের সমস্যা নাই। এখন আমার শুধু ঘুম পায়। প্রচুর ঘুম পায়। এমনকি বাসের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ি। সেদিন বাসে উঠেছি। ধানমন্ডি যাবো। বাসে ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুম ভাঙল অনেক দেরীতে, ততক্ষনে বাস মোহাম্মদপুর ছাড়িয়ে মিরপুরের দিকে চলে গেছে। চা খেয়েও ঘুম তাড়াতে পারছি না। ইশ্বর আছেন মহা সুখে। তার ক্ষুধা নাই, ঘুম নাই। সেক্স নাই। দাত ব্রাশ করার ঝামেলা নাই। প্রসাব পায়খানার ঝামেলা নাই। চাকরি নাই, ব্যবসা নাই। স্ত্রী নাই, সন্তান নাই। রাস্তায় জ্যামে বসে থাকতে হয় না।

গতকাল শবে বরাত গেলো।
সারাটা দিন খুব ব্যস্ত ছিলাম। সুরভি অনেক রকম খাবার রান্না করেছে। পাচ রকমের হালুয়া বানিয়েছে। হালুয়া আমার পছন্দ না। তবু সুরভিকে খুশি করার জন্য সামান্য মুখে দিয়েছি। দুপুরে দেশী মূরগী ঝোল করে রান্না করেছে। ভাত এবং পোলাউ করেছে। পোলাউ আমার পছন্দ না। আমি পছন্দ করি সাদা ভাত। অবশ্য একসময় আমার পোলাউ খুব পছন্দ ছিলো। ছোট কন্যা ফারাজা পোলাউ পছন্দ করে। রাতে খেয়েছি পোলাউ আর গরুর মাংস। চালের আটার রুটি। ছোট ভাইয়ের বউ রান্না করেছে। না খেলে সে কষ্ট পেতো। ফার্মের মূরগী খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। এখন শুধু দেশী মূরগী। দেশী মূরগী দাম বেশি হলেও স্বাদ আছে। একদিন রাস্তায় দেখি সিদ্ধ ডিম বিক্রি করছে। একদম গরম। ধোয়া বের হচ্ছে। কি মনে করে একটা হাঁসের ডিম খেলাম। ডিম মাঝখান দিয়ে সমান করে কেটে লবন/মশলা দিয়ে দিলো। খেতে ভালো লাগলো। এক পিস ডিম ২৫ টাকা।

লোকটার নাম মোজাফফর।
বয়স ৫০। বয়সে আমার চেয়ে বড় হলেও, সে আমার বন্ধু হয়ে গেছে। মোজাফফর ব্যাংকে চাকরি করেন। দুটা ছোট ছেলে আছে তার। দুই ছেলে স্কুলে পড়ে। স্ত্রী অসুস্থ। মোজাফফরের সাথে থাকেন তার বিধবা অসুস্থ মা। মা একদম বিছানা থেকেই নামতে পারেন না। খুব বেশি অসুস্থ। মোজাফফরের তিন বোন ও দুই ভাই আছে। তারা সবাই ঢাকাতেই থাকেন। তারা তাদের মাকে নেয় না। দেখতেও আসে না। এমনকি কোনো খোজ খবরও করে না। চিকিৎসার জন্য কোনো টাকাও দেয় না। মোজাফফর সারাদিন অফিস করে এসে মায়ের সেবা যত্ন করে। অসুস্থ স্ত্রীর সেবা যত্ন করে। ছেলেদের পড়তে বসায়। এমন কি রাতে ছেলেদের ঘুম থেকে তুলে প্রসাব করান। সারারাত প্রায় জেগেই থাকতে হয় তার। তাই সকালে অফিস করতে পারেন না।

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ দুপুর ১:০৫
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবনের গল্প - ১০০

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫



আমার সাথে একজন সাবেক সচিবের পরিচয় হয়েছে।
উনি অবসরে গেছেন, ১০ বছর হয়ে গেছে। এখন উনি বেকার। কোনো কাজ নাই। বাসায় বাজার করেন অনেক বাজার ঘুরে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটু চালাক না হইলে আসলে এআইয়ের দুনিয়াতে টেকা মুশকিল।

লিখেছেন Sujon Mahmud, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:২৫



সকাল থেকে চ্যাটজিপিটি আর ন্যানো ব্যানানার কাছে ঘ্যান ঘ্যান করছিলাম, ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বলেছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তার পশ্চাৎদ্বেশ চাটে, এইটার একটা ছবি তৈরি করে দাও।

শালারা দিবেই না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডিপস্টেট তাহলে সসস্র বিপ্লবের গোলা বারুদের সরবরাহকারী! জঙ্গি আসিফ’কে কেউ প্রশ্ন করেনি ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:২৪



বাংলাদেশে একটা ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট-এর বিরুদ্ধে যখন জুলাই-আগস্ট মাসে তথাকথিত “মুভমেন্ট” চলতেছিল, তখন এটাকে অনেকে খুব ইনোসেন্টভাবে “পিপলস আপরাইজিং” বানানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রশ্নটা খুবই সিম্পল—এইটা কি আসলেই স্পনটেনিয়াস... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমলারা কেন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলে গেলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ২:২০


ডিপ স্টেট নিয়ে আজকাল চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ফেসবুকের কমেন্ট বক্স সবখানেই বেশ জমজমাট আলোচনা। কেউ বলছেন দূতাবাস, কেউ বলছেন মিলিটারি, কেউ আবার আঙুল তুলছেন কোনো বিশেষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৫

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:২৫



আমি একজন প্রতিভা শূন্য মানুষ।
আমি দুটো কাজই পারি, এক, মাথা নিচের দিকে রেখে পা উপরের দিকে রাখতে। তাও বেশিক্ষণ পারি না। বড়জোর এক মিনিট। দুই হচ্ছে আমি সুপারম্যান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×