
কোনো কোনো দিন কারণ ছাড়াই অস্থির লাগে, খুব অস্থির লাগে।
আর এই অজানা অস্থিরতা চক্রবৃদ্ধি হারে ক্রমাগত বাড়তেই থাকে। কোনো ভাবেই এই অস্থিরতা আমি কমাতে পারি না। তখন শুধু একা একা হাঁটতে ভালো লাগে। চা ভালো লাগে না। কেক ভালো লাগে না। বন্ধুদের ভালো লাগে না। মুভি দেখতে ইচ্ছা করে না। বই পড়তে ভালো লাগে না। আজ আমার সেই রকম একটা দিন। ভালো না লাগার দিন।
আমি একা ধানমন্ডি ৩২ নম্বর দিয়ে হাটছি বিকেলবেলা।
আমার হঠাৎ কি হলো কে জানে- একটা মেয়ে আমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় জিজ্ঞেস করলাম- আচ্ছা, এখন কয়টা বাজে? মেয়েটি দু'হাত দেখিয়ে বলল- আমার হাতে ঘড়ি নেই। সময় বলতে পারব না। আমি বললাম, উফ আন্দাজে বলুন, অনেকে আছে না, আকাশের দিকে তাকিয়েই ঘড়ির টাইম বলে দিতে পারেন। মেয়েটি হেসে বলল- আমি অনেকের মতোন পারি না যে! আমি পকেট থেকে মোবাইল বের করে বললাম- এখন বিকেল সাড়ে পাঁচটা।
মেয়েটি আমার দিকে অবাক চোখে একবার তাকিয়ে কিছু না বলে চলে যাচ্ছিল।
আমি খুব বিনীত ভাবে বললাম- প্লীজ শুনুন, মেয়েটি ফিরে তাকালো। বললাম, আমাকে একটা বার্গার আর কোক খাওয়াবেন? আমার খুব ক্ষুধা লাগছে। দুপুরে কিছু খাইনি। মেয়েটি বলল- আমার কাছে বার্গার আর কোক খাওয়ানোর টাকা নেই, ঝাল মুড়ি আর চা খাওয়াতে পারি। আমি পকেট থেকে ম্যানিব্যাগ বের করে বললাম- আমার কাছে অনেক টাকা আছে। টাকা আমিই দিবো। আপনি শুধু সাথে থাকবেন। আর আপনি কোক খেলে খাওয়াতে পারি। মেয়েটি বলল- আপনি একা গিয়ে খাচ্ছেন না কেন? আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে বললাম- একাএকা আমি কিছু খেতে পারি না। খাবো আর কথা বলব, তবে না আনন্দ। মেয়েটি বলল- আচ্ছা, চলুন।
খাবারের অর্ডার দিয়ে আমরা কোনার একটা টেবিলে বসলাম।
আমি এতক্ষণ পর মেয়েটিকে ভালো করে লক্ষ্য করলাম, আকাশী রঙের একটা শাড়ি পরেছে, চড়া সোনালী পাড়। শাড়িটা পরেছেও খুব সুন্দর করে। অনেক মেয়েই আজকাল শখ করে শাড়ি পড়ে কিন্তু তাদের আঁচল আর শাড়ির কুচি গুলো সুন্দর হয় না। এই মেয়ের দুই হাত ভরতি কাচের চুড়ি। চোখে কাজল। দুই ভুরু'র মাঝখানে একটা ছোট্র টিপ।
হঠাৎ মেয়েটি প্রশ্ন করলো- এমন অবাক দৃষ্টিতে কি দেখছেন?
'আমি এখন অন্য মানুষ ভিন্নভাবে কথা বলি/ কথার ভেতর অকথিত অনেক কথা জড়িয়ে ফেলি/ এবং চলি পথ বেপথে যখন তখন'। হেলাল হাফিজের তিন লাইন কবিতা আবৃত্তি করে বললাম- বিয়ে করবেন আমাকে? মেয়েটি চুপ করে নিরব চোখে তাকিয়ে রইল। তাকে চোখে বিস্ময়! আমি হাত বাড়িয়ে দিলাম। মেয়েটা এক আকাশ ভালোবাসা নিয়ে আমার হাত ধরলো। দেখলাম, মেয়েটির চোখ ভেজা। আমি দু'হাত বাড়াতেই মেয়েটি আমার বুকে মাথা রাখল। আমি বললাম- কাঁদে না, কাদে না। আমি আছি!
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১২:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



