somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

কোনো কোনোদিন এমনও হয়!

২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১২:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কোনো কোনো দিন কারণ ছাড়াই অস্থির লাগে, খুব অস্থির লাগে।
আর এই অজানা অস্থিরতা চক্রবৃদ্ধি হারে ক্রমাগত বাড়তেই থাকে। কোনো ভাবেই এই অস্থিরতা আমি কমাতে পারি না। তখন শুধু একা একা হাঁটতে ভালো লাগে। চা ভালো লাগে না। কেক ভালো লাগে না। বন্ধুদের ভালো লাগে না। মুভি দেখতে ইচ্ছা করে না। বই পড়তে ভালো লাগে না। আজ আমার সেই রকম একটা দিন। ভালো না লাগার দিন।

আমি একা ধানমন্ডি ৩২ নম্বর দিয়ে হাটছি বিকেলবেলা।
আমার হঠাৎ কি হলো কে জানে- একটা মেয়ে আমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় জিজ্ঞেস করলাম- আচ্ছা, এখন কয়টা বাজে? মেয়েটি দু'হাত দেখিয়ে বলল- আমার হাতে ঘড়ি নেই। সময় বলতে পারব না। আমি বললাম, উফ আন্দাজে বলুন, অনেকে আছে না, আকাশের দিকে তাকিয়েই ঘড়ির টাইম বলে দিতে পারেন। মেয়েটি হেসে বলল- আমি অনেকের মতোন পারি না যে! আমি পকেট থেকে মোবাইল বের করে বললাম- এখন বিকেল সাড়ে পাঁচটা।

মেয়েটি আমার দিকে অবাক চোখে একবার তাকিয়ে কিছু না বলে চলে যাচ্ছিল।
আমি খুব বিনীত ভাবে বললাম- প্লীজ শুনুন, মেয়েটি ফিরে তাকালো। বললাম, আমাকে একটা বার্গার আর কোক খাওয়াবেন? আমার খুব ক্ষুধা লাগছে। দুপুরে কিছু খাইনি। মেয়েটি বলল- আমার কাছে বার্গার আর কোক খাওয়ানোর টাকা নেই, ঝাল মুড়ি আর চা খাওয়াতে পারি। আমি পকেট থেকে ম্যানিব্যাগ বের করে বললাম- আমার কাছে অনেক টাকা আছে। টাকা আমিই দিবো। আপনি শুধু সাথে থাকবেন। আর আপনি কোক খেলে খাওয়াতে পারি। মেয়েটি বলল- আপনি একা গিয়ে খাচ্ছেন না কেন? আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে বললাম- একাএকা আমি কিছু খেতে পারি না। খাবো আর কথা বলব, তবে না আনন্দ। মেয়েটি বলল- আচ্ছা, চলুন।

খাবারের অর্ডার দিয়ে আমরা কোনার একটা টেবিলে বসলাম।
আমি এতক্ষণ পর মেয়েটিকে ভালো করে লক্ষ্য করলাম, আকাশী রঙের একটা শাড়ি পরেছে, চড়া সোনালী পাড়। শাড়িটা পরেছেও খুব সুন্দর করে। অনেক মেয়েই আজকাল শখ করে শাড়ি পড়ে কিন্তু তাদের আঁচল আর শাড়ির কুচি গুলো সুন্দর হয় না। এই মেয়ের দুই হাত ভরতি কাচের চুড়ি। চোখে কাজল। দুই ভুরু'র মাঝখানে একটা ছোট্র টিপ।

হঠাৎ মেয়েটি প্রশ্ন করলো- এমন অবাক দৃষ্টিতে কি দেখছেন?
'আমি এখন অন্য মানুষ ভিন্নভাবে কথা বলি/ কথার ভেতর অকথিত অনেক কথা জড়িয়ে ফেলি/ এবং চলি পথ বেপথে যখন তখন'। হেলাল হাফিজের তিন লাইন কবিতা আবৃত্তি করে বললাম- বিয়ে করবেন আমাকে? মেয়েটি চুপ করে নিরব চোখে তাকিয়ে রইল। তাকে চোখে বিস্ময়! আমি হাত বাড়িয়ে দিলাম। মেয়েটা এক আকাশ ভালোবাসা নিয়ে আমার হাত ধরলো। দেখলাম, মেয়েটির চোখ ভেজা। আমি দু'হাত বাড়াতেই মেয়েটি আমার বুকে মাথা রাখল। আমি বললাম- কাঁদে না, কাদে না। আমি আছি!
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১২:২৭
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবন পর্ব -১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

'তুমি আমাকে এটা কোন ধরনের হোটেলে নিয়ে এলে?'

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

এ লেখাটি ম্যাচিউর পাঠকদের জন্য। সে কারণে reader discretion is advised, অর্থাৎ, অস্বস্তি লাগলে পড়বেন না।

ব্যবসায়িক কাজে চায়না গেলেন হাজি মামুন (ছদ্মনাম)।

পঞ্চাশোর্ধ বয়সের সংসারী মানুষ তিনি। ঘরে পরহেজগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২২



আজ শুক্রবার। শুক্রবার মুসলমানদের জন্য বিশেষ একটি দিন।
আজ বাংলা আষাঢ় মাসের ৫ তারিখ। যদিও বর্ষাকাল। আজ আকাশে মেঘ নেই। বরং রোদ উঠেছে। রোদের তাপ ভালোই। শাহেদ পথে বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউরোপের সবচেয়ে বড় ফিনটেঁক কোম্পানী রিপাবলিক ইউরোপকে ছেড়ে দেওয়ার সত্য ঘটনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩

বাংলাদেশের আইটি ফার্মগুলোর মাঝে আমার ফার্মই তাঁর ইঞ্জিনিয়রাদের সবচেয়ে বেশি বেতন দিতো। আমার সিনিয়র রুবি অন রেইলস ব্যাকএন্ড ডেভেলপার ছিলো রিফাত। বয়স ৩০, সেই বয়সেই সে মাসে পেতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো পূর্ণিমায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



তুমি ছাড়া ভালো লাগে না পূর্ণিমা চাঁদ, তুমি লুকিয়ে চন্দ্রিমার হলুদ বর্ণে। মায়াবী জোছনা মাখা রাত সবই যেন নিস্ফল, মন যেন হারিয়েছে আঁধারে সব সময় কাঁদে। চারিদিকে যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×