somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

সরলা বিবি

০২ রা মার্চ, ২০২৪ রাত ৯:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পত্রিকা হাতে নিয়ে ওমর আলী সকালবেলা বারান্দায় বসেছেন।
সে এখন আরাম করে পত্রিকা পড়বেন এবং মগ ভর্তি করে চা খাবেন। এটা তার দীর্ঘদিনের অভ্যাস। দেশ বিদেশের খবর জানতে তার ভালো লাগে। সংসার ধর্ম তার মোটেই ভালো লাগে না। তার স্ত্রী সারাক্ষন চিবিয়ে চিবিয়ে কথা বলেন। তার জীবনের সবচেয়ে বড় হচ্ছে বিয়ে করা, সংসার করা। বিয়ে এবং সংসার মানুষের জীবন সংকীর্ন করে দেয়। ওমর আলীর হাতে দৈনিক আজাদ পত্রিকা। পত্রিকার একটি খবরের দিকে তার চোখ আটকে গেল। সে তার স্ত্রীকে বলল- তাড়াতাড়ি এক কাপ চা নিয়ে এসে আমার পাশে বসো। ওমর আলী চা শেষ করে- তার স্ত্রীকে পত্রিকা পড়ে শোনাচ্ছন।

ওমর আলীর স্ত্রীর নাম সরলা বিবি।
সরলা বিবি তার স্বামীর উপর মহা বিরক্ত। সরলা বিবি মনে করেন- তার স্বামীর মতন অলস মানুষ এই পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই। শুধু অলস হলেও চলতো- সাংঘাতিক বোকা। যে স্ত্রীর স্বামী বোকা, তার জীবন দুর্বিষহ। সবাই জানে বোকাটাইপ পুরুষ মানুষ নির্বোধ শ্রেনীর হয়। সরলা বিবির বিশাল ব্যবসা। ভারতের আসাম থেকে কাসার থালা, প্লেট, মগ এনে ঢাকায় বিক্রি করেন। এছাড়া তার তেরোটা বেবী টেক্সী আছে, ভাড়া খাটে। এবং শাড়ি কাপড়ের ব্যবসা আছে। সব তার একা সামলাতে হয়।

ওমর আলীর সহজ সরল মানুষ।
একবার সরলা বিবি ওমর আলীকে পঞ্চাশটা শাড়ি দিয়ে ইসলামপুর পাঠিয়ে ছিলেন দুইজন বেপারীকে দেওয়ার জন্য। ওমর আলী বাসায় ফিরে কিছুই বলতে পারলেন না- শাড়ি কোথায়? কাকে দিয়েছেন? ওমর আলী সব ভুলে যান। শুধু ভুলেন না অতীত দিনের সৃতি। তার আছে সোনালী অতীত। সরলা বিবি এখন নিজেই সব ব্যবসা দেখাশোনা করেন। আর ওমর আলী বাসায় বসে বই আর খবরের কাগজ পড়েন আর রেডিও শুনেন।

দেশ ভাগের কারনে ওমর আলী তার পরিবারকে নিয়ে আসাম থেকে এই দেশে চলে আসতে বাধ্য হয়।
তখন তার বড় মেয়ে ভানু’র বয়স দশ বছর আর ছোট কন্যা পুষ্প’র বয়স তিন মাস। ওমর আলী ও তার স্ত্রীর আর্থিক অবস্থা ভালো। ঢাকায় এবং বিক্রমপুরে তাদের নিজের বাড়ি আছে। একবার ঢাকা থেকে বিক্রমপুর আসার পথে ওমর আলী আর সরলা বিবিকে ডাকাত ধরে। ঘটনাটা এই রকমঃ বিয়ের পর ওমর আলি, সরলা বিবিকে নিয়ে ঢাকা আসছেন নৌকায় করে। শীতের রাত তাড়াতাড়ি আসে। নৌকা চলছে তো চলছেই। নৌকা তখন শীতলক্ষ্যা নদীতে। হঠাত তাদের নৌকার কাছে এক নৌকা আসে। সেই নৌকা থেকে পাচ জন লোক ওমর আলীর নৌকায় উঠে আসে। ওমর আলীর নৌকার মাঝি পাচজন লোক দেখে নদীতে ঝাঁপ দেয়। ডাকাত দল সরলা বিবির কাছে থাকা ত্রিশ ভরি সোনা নিয়ে নেয়।

ওমর আলীর কাছে বেশ ভালো পরিমান টাকা ছিলো।
সেই টাকাও ডাকাত দল নিয়ে নেয়। ডাকাত দল চলে যাচ্ছিলো। সরলা বিবি সমানে কান্না করে চলেছেন। হঠাত ডাকাত দলের সর্দার বলল, সরলা বিবিকে আমাদের নৌকায় তোলো। ওমর আলী বলল, আমাদের সাথে যা টাকা পয়সা ছিলো এবং গহনা ছিলো সব নিয়েছো। এবার তোমরা চলে যাও। ডাকাত সরদার ওমর আলির কথা শুনে হাসলো। একজন ডাকাত গিয়ে সরলা বিবির হাত ধরলো। এই দেখে ওমর আলী রেগে গেলেন। মুহুর্তের মধ্যে ওমর আলী ডাকাতদের মেরে তুলোধুনো করে দিলেন। ডাকাত সরদার ছুরি বের করেছিলো, শূন্য থেকে লাফিয়ে ওমর আলী ডাকাত সরকারের বুকে কিক মারলেন। ডাকাত ছিটকে নদীতে পড়েছিলো। সরলা বিবির ধারনা ডাকাত দুইশ' কেজি ওজনের লাথথি খেয়ে নদী থেকে আর উঠতে পারবে না।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মার্চ, ২০২৪ রাত ৯:৫৫
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সুস্পষ্ট প্রমাণ সহকারে উপদেশ গ্রহণের জন্য আল্লাহ কোরআন সহজ করে দিলেও মুসলমান মতভেদে লিপ্ত হয় কোন কারণে?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৮:৫২



সূরাঃ ৫৪, কামার ১৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৭। কোরআন আমরা সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য; অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির বড় এবং দৃশ্যমান বিপর্যয় শুরু খালেদা জিয়ার হাত ধরে

লিখেছেন মিশু মিলন, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৯:৪৯



একটা সময় লোকশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল যাত্রাপালা। পালাকাররা সামাজিক, ঐতিহাসিক, পৌরাণিক যাত্রাপালা লিখতেন। বাংলাদেশের শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামে-গঞ্জে মঞ্চস্থ হতো সেইসব যাত্রাপালা, মানুষ সারারাত জেগে দেখতেন। ফলে যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালেদা জিয়ার জানাজা

লিখেছেন অপু তানভীর, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১১:৩৯

আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন আমার নানীর বোন মারা যান। নানীর বোন তখন নানাবাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন। সেইবারই আমি প্রথম কোনো মৃতদেহ সরাসরি দেখেছিলাম। রাতের বেলা যখন লাশ নিয়ে গ্রামের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অমরত্বের মহাকাব্যে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:২৪


এই বাংলার আপসহীন মা কে
হারিয়ে ফেলাম শুধু মহাকাব্যে;
ধ্বনিত হবে এতটুকু আকাশ মাটিতে
আর অশ্রুসিক্ত শস্য শ্যামল মাঠে-
চোখ পুড়া সোনালি স্মৃতির পটে অপূর্ণ
গলাশূন্য হাহাকার পূর্ণিমায় চাঁদের ঘরে;
তবু আপসহীন মাকে খুঁজে পাবো?
সমস্ত কর্মের... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালেদা জিয়ার জানাজা - নৃতত্ত্ব এবং বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:০৭


সাধারণ মানুষকে আমরা তার ব্যক্তি চরিত্র দিয়ে বিচার করি, কিন্তু একজন ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রপ্রধান বা রাজনীতিবিদকে ব্যক্তিজীবন দিয়ে নয়, বরং তার কর্ম, নীতি, আদর্শ ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×