somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ইষ্টিশন মাস্টার

০৫ ই মার্চ, ২০২৪ রাত ১২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ইদানিং রাতে শশীভূষনের একেবারেই ঘুম আসে না।
স্ত্রীও বেঁচে নেই যে রাত জেগে গল্প করবেন। দুজন মিলে চা খাবেন। তার স্ত্রী অপলা ছিল তার বন্ধু। অপলা’র এত তাড়াতাড়ি মরে যাওয়া ঠিক হয়নি। খুব ভালো বন্ধু অপলা। যে বন্ধুর কাঁধে মাথা রেখে নিশ্চিন্ত হওয়া যায়। ইচ্ছা করলে কান্নাও করা যায়। এখন সে বড্ড একা। একমাত্র মেয়ে অলকা সেও লেখা পড়তে করতে চলে গেলো দেশের বাইরে। এখন মধ্যে রাত্রে চা খেতে ইচ্ছা করলেও বানিয়ে দেবার কেউ নেই। শশীভূষন চা বানাতে পারেন না। অনেক বার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। বৃদ্ধ বয়সে একা থাকা দারুন কষ্টের। তখন সারাক্ষন আশেপাশে কেউ না থাকলে দুঃখবোধ হয়।

শশীভূষনের সময় কাটে না।
দিনের বেলা এদিক সেদিক যাওয়া যায়। এ পাড়ায় একটা লাইব্রেরী আছে, সেখানে বই নিয়ে বসলে সময় কিভাবে চলে যায় টের পাওয়া যায় না। রাতটা পার করাই বড্ড মুশকিল। রাতের বেলা কোথাও যাওয়া যায় না। সময় তো পার করতে হবে তাই শশীভূষন ক্লান্তিহীন ভাবে তার ডায়েরীতে লিখে চলেছেন- ‘ভারতের মানুষ সহজেই বুক বাজিয়ে বলতে পারতেন তাঁদের ইতিহাসও মিশর, ইউনান আর চীনের সভ্যতার মতোই হাজার হাজার বছরের পুরনো। সমস্ত পৃথিবী জুড়েই দু’টি ভাগে বিভক্ত হয়ে আছে মানুষ। তাদের একটি দল হচ্ছে শাসক শ্রেণী, অন্যটি শোষিত শ্রেণী। পৃথিবীর আদিতে এই সব শ্রেণী বিভাজ্যতা ছিল না। কারণ তখন রাজা প্রজার ভেদ বুঝতে পারতো না মানুষ। পশ্চিমা দেশগুলো সভ্যতার সংগ্রামের ইতিহাস দীর্ঘদিনের।

শশীভূষনের লেখা থামালেন।
বাইরে উথাল পাথাল জোছনা। এখন তার মধ্যে কবিতা লেখার ভাব এসেছে। কলেজে পড়ার সময় তিনি প্রচুর কবিতা লিখতেন। পত্রিকাতে তার কবিতা ছাপানো হতো। তার কবিতার মুগ্ধ পাঠক ছিলেন অপলা, তার স্ত্রী। অবশ্য সেসব কবিতা তিনি জমা করে রাখেন নি। যদি কবিতা গুলো জমা করে রাখতেন তাহলে হাজার খানেক কবিতা হতো। বিয়ের আগে অপলার সাথে শশীভূষনের কখনও দেখা হয় নাই। পূজোর ছুটিতে কলকাতা থেকে বিক্রমপুর যায় শশীভূষন। তখন তার দাদা বললেন, আগামীকাল তোর বিয়ে। ব্যস বিয়ে হয়ে গেলো। অপলা দেখতে কেমন সেটাও তিনি জানতেন না। তাদের সময় মেয়ে দেখাদেখির এত চল ছিলো না। শশীভূষন ব্যলকনিতে গিয়ে কিছুক্ষন রাতের আকশের দিকে তাকালেন তারপর তিনি কবিতা লিখতে শুরু করলেন।

’অদৃশ্য কুয়াশায় দেখা যায় না ইষ্টিশন মাস্টারের ঘর
ওয়েটিং রুমে বসে চোখে ভাসে তোমার কপালের টিপ
তুমি তো জানো- আমি আমার ইচ্ছা মতো লিখি
যেখানে ইচ্ছা কমা বসাই, যেখানে ইচ্ছা দাড়ি দেই।
বাড়িয়ে রাখো তোমার হাত- সময় মতো ধরে নিবো।


এতটুকু লিখে কবিতা আর এগোয় না।
শিশীভূষন মাথা চুলকায়। না নতুন কোনো শব্দ আসছে না। অথচ তিনি নিজের কাছে জিদ ধরে বসে আছেন কবিতাটা শেষ না করে ঘুমাতে যাবেন না। দুটা সিগারেট শেষ করলেন। না এলো না। নতুন কোনো শব্দ মাথায় এলো না। তার ইচ্ছা করছে মুঠো ভরে নিজের মাথার চুল টানতে। তিনি তাই করতে যাচ্ছিলেন। হঠাত তার মনে হলো- তার মাথায় চুল নেই। সেই কবে টাক পরে গেছে। তবে অল্প কিছু চুল অবশিষ্ঠ আছে এখনও মাথার পেছনে। ৫২'তে তার মাথায় অনেক চুল ছিলো। ঝাকড়া ঝাকড়া চুল। তখন তরুন বয়স। ৭১ এর পর তার চুল ঝড়তে শুরু করে। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখতেন বালিশে কত চুল। প্রতিটা চুলকে তার এক একটা সৈনিক বলে মনে হতো। সেই সময় ধারাবাহিকভাবে প্রতিদিন তার সৈনিকের পতন হতে থাকলো।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মার্চ, ২০২৪ রাত ১২:১৯
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবন পর্ব -১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

'তুমি আমাকে এটা কোন ধরনের হোটেলে নিয়ে এলে?'

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

এ লেখাটি ম্যাচিউর পাঠকদের জন্য। সে কারণে reader discretion is advised, অর্থাৎ, অস্বস্তি লাগলে পড়বেন না।

ব্যবসায়িক কাজে চায়না গেলেন হাজি মামুন (ছদ্মনাম)।

পঞ্চাশোর্ধ বয়সের সংসারী মানুষ তিনি। ঘরে পরহেজগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২২



আজ শুক্রবার। শুক্রবার মুসলমানদের জন্য বিশেষ একটি দিন।
আজ বাংলা আষাঢ় মাসের ৫ তারিখ। যদিও বর্ষাকাল। আজ আকাশে মেঘ নেই। বরং রোদ উঠেছে। রোদের তাপ ভালোই। শাহেদ পথে বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউরোপের সবচেয়ে বড় ফিনটেঁক কোম্পানী রিপাবলিক ইউরোপকে ছেড়ে দেওয়ার সত্য ঘটনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩

বাংলাদেশের আইটি ফার্মগুলোর মাঝে আমার ফার্মই তাঁর ইঞ্জিনিয়রাদের সবচেয়ে বেশি বেতন দিতো। আমার সিনিয়র রুবি অন রেইলস ব্যাকএন্ড ডেভেলপার ছিলো রিফাত। বয়স ৩০, সেই বয়সেই সে মাসে পেতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো পূর্ণিমায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



তুমি ছাড়া ভালো লাগে না পূর্ণিমা চাঁদ, তুমি লুকিয়ে চন্দ্রিমার হলুদ বর্ণে। মায়াবী জোছনা মাখা রাত সবই যেন নিস্ফল, মন যেন হারিয়েছে আঁধারে সব সময় কাঁদে। চারিদিকে যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×