somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ইফতার পার্টি মানে খাবারের বিপুল অপচয়

২৭ শে মার্চ, ২০২৪ বিকাল ৩:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গতকাল সরকারি ছুটির দিন ছিলো।
সারাদিন রাস্তাঘাট মোটামুটি ফাকাই ছিলো। ভাবলাম, আজ আরাম করে মেট্রোরেলে যাতায়াত করা যাবে। হায় কপাল! মেট্রো স্টেশনে গিয়ে দেখি গজব ভীড়! এত ভিড় যে আমি দম বন্ধ হয়ে মরে যাবো। ভীড় আমি একদম সহ্য করতে পারি না। ট্রাফিক পুলিশ ঘুষ না খেলে এবং পাবলিক যদি নিয়ম মেনে চলতো তাহলে যানজট অনেক কমে যেতো। একথা সত্য ঢাকা শহরে সুন্দর ভাবে জীবনযাপন করা সম্ভব না। সরকার যতই বলুক দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে। আমিরা জানি, কি উন্নয়ন, কতটা উন্নয়ন। কার উন্নয়ন।

ইদকে সামনে রেখে চোর, ছিনতাইকারী আর পকেটমার বেশ তৎপর আছে।
প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের পকেটমার হচ্ছে। নিয়ে যাচ্ছে মোবাইল, ওয়ালেট। বিশেষ করে মিরপুর ১ এবং ১০ নম্বর, ফার্মগেট, মালিবাগ মৌচাক, কমলাপুর, গুলিস্তান আর সদর ঘাট, যাত্রাবাড়ী পকেটমারের জন্য আদর্শ জায়গা। হ্যা টহল পুলিশ আছে। তারা ডিউটি বাদ দিয়ে, এক কোনায় বসে মোবাইল টিপাটিপিতে ভীষণ ব্যস্ত। দেখার কেউ নেই। জবাবদিহিতা নেই। যুগ যুগ ধরে এভাবেই তো চলছে দেশ। দেশের সবাই যদি তাদের দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করতো তাহলে দেশ সত্যিই এগিয়ে যেতো। এই দেশের কোনো মানুষের মধ্যে সততা আশা করা ভুল। এদিকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ইফতার পার্টি করতে নিষেধ করেছেন। তবু সবাই ইফতার পার্টি করছে। দেশের প্রধানমন্ত্রীর কথা কেউ শুনছেন না! নিজের চোখে দেখেছি, ইফতার পার্টি মানে খাবারের বিপুল অপচয়।

ইদকে সামনে রেখে ভিক্ষুকের সংখ্যা চার গুন বেড়েছে।
রমজান মাসে একজন কৃপন লোক পর্যন্ত দানখয়রাত করে। মানবিক কারণে লোকজন ভিক্ষা কম দেয়। বেশি দেয় ধার্মিক কারণে। দান করলে সোয়াব আছে। ধার্মিকরা সওয়াবের কাঙাল। ধার্মিকগণ ব্যস্ত ফজিলত, নেকী, সওয়াব আর আমল নিয়ে। মূলত দুনিয়াতে তার কোনো ফলাফল নেই। ধার্মিকগন মস্ত বড় ভুল লজিক নিয়ে জীবন পার করে দিচ্ছেন। সঠিক শিক্ষা পেলে তাদের চিন্তা ভাবনার পরিবর্তন হতো। ধার্মিকের সেই সামন্ত যুগেই পড়ে আছে। বিশ্ব এগিয়ে গেছে কিন্তু মুসলিম দেশ গুলো পেটেভাতে বেচে আছে। উন্নত দেশ গুলো দেখে মুসলিমরা শিক্ষা নেয় না। তারা বেসিনের উপর পা উঠিয়ে ওজু করে। তারা রাস্তা বন্ধ করে জুম্মার নামাজ পড়ে। ধার্মিকদের কর্মকাণ্ড হাস্যকর।

ভেবেছিলাম মেট্রোরেল হলে বাসে আর দাড়িয়ে থাকতে হবে না।
বসার জন্য সিট পাওয়া যাবে। না সেই আগের মতোই অবস্থা। বাসে সিট পাওয়া তো দূরের কথা বাস উঠাই বিরাট ভাগ্যের ব্যাপার। যখন ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ চলছিলো তখন ভেবেছিলাম যাক, এবার বুঝি জ্যাম কমবে। আরাম করে যাতায়াত করা যাবে। না মোটেই জ্যাম কমে নাই। পাতাল রেল, পাতাল সড়ক, উড়ন্ত সেতু ইত্যাদি কোনো কিছুতেই সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। মনে হয় আমাদের উপর ঈশ্বরের অভিশাপ আছে। এখন যদি ৬২ জন নবী আমাদের দেশে আসে তবুও পরিবর্তন হবে না। অসুখী দেশে বাস করছি। গজবের দেশে বাস করছি। দুষ্ট লোক দিয়ে ভরা দেশে বাস করছি। দূর্নীতিবাজদের দেশে বাস করছি। মূর্খ ধার্মিকদের দেশে বাস করছি।

ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায়,
কিছু লোক মানুষের কান পরিস্কার করে দেয়। মাত্র বিশ টাকা। স্পেশাল ভাবে কান পরিস্কার করালে ৫০ টাকা। একবার দেখলাম ফার্মগেট সিটি করপোরেশনের বাথরুমের সামনে এক মেয়ে কান পরিস্কার করাচ্ছে। মেয়েটা আরামে চোখ বন্ধ করে রেখেছে। লোকটা নিখুত ভাবে মেয়েটার কান পরিস্কার করে দিচ্ছে। বুঝা যাচ্ছে দুজনেই আরাম পাচ্ছে। আমার খুব ইচ্ছে একবার রাস্তায় কানটা পরিস্কার করাই। আমার মনে আছে, একবার আব্বা আর আমি রিকশা করে বংশাল যাচ্ছিলাম। গুলিস্তান পার্কের সামনে বেশ কয়েকজন কান পরিস্কারওলা বসে আছে। আব্বা বলল, তুই নিচে নেমে দাড়া। আব্বা রিকশায় বসে কান পরিস্কার করালেন। আব্বা একশ' টাকা দিলো। বলল, লোকটা দক্ষ। তুইও তোর কান পরিস্কার করে নে। এদের সব সময় পাওয়া যায় না। আমি বললাম, ওয়াক থু। আব্বা বলল, দূর বোকা ছেলে!

এই শহরে থেকে থেকে আমি আজকাল একজন অমানবিক মানুষে পরিনত হয়ে যাচ্ছি।
এখন বাসে মুরুব্বী বা কোনো মেয়ে মানুষ দেখলে লাফ দিয়ে সিট ছেড়ে দেই না। আরাম করে বসে পায়ের উপর পা তুলে মোবাইল চালাই। গেমস খেলি। হি হি। ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেই না। বরং কঠিন ধমক দেই। অসহায় ও দরিদ্র মানুষ হাত পাতলে সাহায্য করি না। বলি, যাও যাও কাজ করো। কেউ কেউ হয়তো বলে, কাজ পাই না। তখন আমি তেজ দেখিয়ে বলি, রিকশা চালাও। কেউ কেউ বলে স্যার সকাল থেকে না খেয়ে আছি, আমি বলি যা ভাগ সামনে থেকে। দরিদ্র আত্মীয়স্বজনের সাথে যোগাযোগ রাখি না। ধনী আত্মীয়স্বজন কে বাসায় দাওয়াত করে খাওয়াই। আমার সমস্ত চিন্তা ভাবনা হয়ে গেছে আত্মকেন্দ্রিক। পরিবারের বাইরে কারো জন্য কিছু করতে ইচ্ছে করে না। ভাবতেও ইচ্ছে করে না। চিন্তা ভাবনা এই রকম হয়ে গেছে, শুধু আমার পরিবার ভালো থাকুক, বাকি সব জাহান্নামে যাক।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মার্চ, ২০২৪ বিকাল ৩:৫৩
১২টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ব্লগার ভাবনা: ব্লগ জমছেনা কেন? এর পেছনে কারণ গুলো কি কি? ব্লগাররা কি ভাবছেন।

লিখেছেন লেখার খাতা, ১৩ ই জুন, ২০২৪ রাত ৮:৩৫


সুপ্রিয় ব্লগারবৃন্দ,
আম পাকা বৈশাখে বৈশাখী শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি। কাঠফাটা রোদ্দুরে তপ্ত বাতাস যেমন জনপ্রাণে একটু স্বস্তির সঞ্চার করে, ঠিক তেমনি প্রাণহীন ব্লগ জমে উঠলে অপার আনন্দ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকার ২৭ নম্বর সমুদ্রবন্দর থেকে

লিখেছেন অপু তানভীর, ১৩ ই জুন, ২০২৪ রাত ১১:০০

চারটার দিকে বাসায় ফেরার কথা ছিল । তবে বৃষ্টির কারণে ঘন্টা খানেক পরেই রওয়ানা দিতে হল । যদিও তখনও বৃষ্টি বেশ ভালই পড়ছিল । আমি অন্য দিন ব্যাগে করে রেইনকোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুক্তিযুদ্ধা কোটা ব্যাবস্থা কাউকে বঞ্চিত করছে না।

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ১৪ ই জুন, ২০২৪ রাত ৩:৩২

কোটা ব্যাবস্থা কাউকে বঞ্চিত করছে না।
সকল যোগ্যতা জিপিএ-্র প্রমান দিয়ে, এরপর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা, সেকেন্ডারি।
এরপর ভাইবা দিয়ে ৬ লাখ চাকুরি প্রার্থি থেকে বাছাই হয়ে ১০০ জন প্রাথমিক নির্বাচিত।

ধরুন ১০০... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউ জার্সিতে নেমন্তন্ন খেতে গিয়ে পেয়ে গেলাম একজন পুরনো ব্লগারের বই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৪ ই জুন, ২০২৪ দুপুর ১২:৩৭

জাকিউল ইসলাম ফারূকী (Zakiul Faruque) ওরফে সাকী আমার দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু; ডাঃ আনিসুর রহমান, এনডক্রিনোলজিস্ট আর ডাঃ শরীফ হাসান, প্লাস্টিক সার্জন এর। ওরা তিনজনই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের একই... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেনজীর তার মেয়েদের চোখে কীভাবে চোখ রাখে?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ১৪ ই জুন, ২০২৪ বিকাল ৩:০৬


১. আমি সবসময় ভাবি দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর যারা মিডিয়ায় আসার আগ পর্যন্ত পরিবারের কাছে সৎ ব্যক্তি হিসেবে থাকে, কিন্তু যখন সবার কাছে জানাজানি হয়ে যায় তখন তারা কীভাবে তাদের স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×