somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমাদের শাহেদ জামাল- ৭৮

০৪ ঠা মে, ২০২৫ দুপুর ২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমার বন্ধু শাহেদ। শাহেদ জামাল।
খুবই ভালো একটা ছেলে। সামাজিক এবং মানবিক। হৃদয়বান তো অবশ্যই। দুঃখের বিষয় শাহেদের সাথে আমার দেখা হয় মাসে একবার। অথচ আমরা একই শহরে থাকি। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য শাহেদ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে না। খুব প্রয়োজন হলে শাহেদ কারো কাছ থেকে মোবাইল ধার নিয়ে ফোন দেয়। শাহেদ জামাল ফেসবুকেও নাই। আজ শাহেদ জামালের ব্যথিত। তার মন মেজাজ খুব বিক্ষিপ্ত। কারন, তার চোখের সামনে এক শিক্ষক কে কিছু লোক মারছে। সমানে মেরেই যাচ্ছে নাকমুখ দিয়ে রক্ত পড়ছে। জামা ছিরে গেছে। লোকটার অপরাধ সে আওয়ামীলীগ করতো। কেউ আওয়ামীলীগ করলেই তাকে মারতে হবে? সে যদি অন্যায় করে থাকে তাহলে দেশের আইন অনুযায়ী তার শাস্তি হবে। কিন্তু কতিপয় লোক সেই আওয়ামীলীগারকে সমানে মেরেই চলেছে। এমন মার গুলিস্তান এলাকায় চোর ছিনতাইকারীকে মারা হয়। না ইহা ঠিক নয়। দেশে কি কোনো আইন নেই? নিজের হাতে আইন কারা তুলে নিচ্ছে? কেন নিচ্ছে? ইউনুস সাহেব চুপ কেন? নাকি তার ইশারাতেই এমনটা হচ্ছে?

গতকালের কথা।
শাহেদ জামাল দেখলো- সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অসংখ্য হুজুর জড়ো হয়েছে। তাদের কর্মকান্ড অস্বাভাবিক। একটা পুতুলকে শাড়ি ব্লাউজ পরানো হয়েছে। সেই পুতুলকে দড়ি দিয়ে ঝুলানো হয়েছে। তারপর একে একে প্রতিটা হুজুর সেই নারী পুতুলকে জুতো দিয়ে মারছে। থু থুথু দিচ্ছে। যেন হাজার জনমের জমে থাকা রাগ জিদ নারী পুতুলকে জুতো মেরে প্রতিশোধ নিচ্ছে। এমন কুৎসিত দৃশ্য জাতি আগে দেখেনি। ইউনুস সরকারের আমলে নারীকে চূড়ান্ত রকম অপমান করা হলো! সরকার থেকে তাদের বাঁধা দেওয়া হলো না। বলা হলো না, তারা অন্যায় কাজ করেছে। ভুল কাজ করেছে। এই ঘটনা নিজ চোখে দেখে- শাহেদ জামালের খুব খারাপ লাগে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা না থাকাতে দেশে এরকম হচ্ছে। শেখ হাসিনা সমস্ত বদদের থামিয়ে রাখতে পেরেছিলেন। এই সমস্ত ধার্মিকেরা জাতিকে কলুষিত করছে। আসলে এরা পরিবার এবং মাদ্রাসা থেকে সঠিক শিক্ষা পায়নি। বিশ্ব এগিয়ে গেছে, ধার্মিকেরা পেছনেই রয়ে গেছে। শেখ হাসিনা ছাড়া এদের আর কে লাইনে আনবেন?

শাহেদ জামাল একজন রিকশাচালকের কথা শুনে মুগ্ধ হলো।
হুজুররা যখন নারীদের অপমান করছে, বাজে কথা বলছে, কুশপুত্তলিকায় জুতো দিয়ে মারছে। থু থু দিচ্ছে। শাড়ি খুলে গেছে। রিকশাচালক হুজুরদের কর্মকান্ড দেখে ভীষন মন খারাপ করেছে। সে বলল- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেন। এটাকে গরুর খামার বানিয়ে দেন। এখানে যারা লেখাপড়া করে তারা নিজেদের বড় শেঠ ভাবে। আসলে তারা ছাগল। ইয়াবা খায় আর প্রেম করে। এরা যদি খাটি মানুষ হতো- তাহলে তারা এই সমস্ত হুজুরদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতো। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উচিৎ ছিলো- আজ হুজুরদের পিটিয়ে পিঠের ছাল তুলে ফেলা। রিকশা চালকের মতো শাহেদ জামালের ইচ্ছা করছিলো- প্রতিটা হুজুরকে জিজ্ঞেস করা- জুতো দিয়ে মারছো, কাকে মারছো? তোমার মা, স্ত্রী আর বোনকে? নারীর উপর তোমাদের এত রাগ কেন? হুজুরদের কর্মকান্ড দেখে পুরো জাতি হতবাক! কিন্তু ইউনুস সাহেব চুপ। তার নিরবতাই বলে দিচ্ছে- পুত্তলিকায় জুতো দিয়ে মারাতে তার সায় আছে। যতদিন যাচ্ছে, মানুষ তত শেখ হাসিনার অভাব বোধ করছে।

শাহেদ জামাল জানে, সাময়িক ভাবে জামাত শিবির দেশটাকে দখল করেছে।
সেটা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। এরা ভেসে যাবে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক চুপ থাকবে না। এনসিপি দলটা সারাক্ষন ভয়ে আছে। তাদের ভয় আওয়ামীলীগ। তারা যে ক'বার আওয়ামীলীগের নাম মুখে নেয়, ততবার আল্লাহর নামও মুখে নেয় না। দেশের সাধারন মানুষ আওয়ামীলীগকে ভয় পাচ্ছে না, এমন কি বিএনপিও আওয়ামীলীগকে ভয় পাচ্ছে না। শুধু ভয় পাচ্ছে হাসনাত, সারজিস, নাহিদসহ সমস্ত জামাত শিবির। ভয় কারা পায়? যারা অন্যায় করে তারাই ভয় পায়। অন্যায় না করলে ভয় পাওয়ার কোনো কারন নেই। হাসনাত, সারজিসসহ জামাত শিবির যে অন্যায় করেছে, তাদের ক্ষমা করে দেওয়া উচিৎ হবে না। তারা শেখ মুজিবের বাড়ি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে, শেখ মুজিবের ভাস্কর্য ভেঙ্গে দিয়েছে, আওয়ামীলীগের পার্টি অফিসে আগুন দিয়েছে। জঘন্য সব অন্যায় করেছে তথাকথিত এইসব ছাত্ররা। এদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। কঠিন শাস্তি। ভুলে গেলে চলবে না, দেশ স্বাধীন হওয়ার অনেক পরে রাজাকাদের বিচার হয়েছিলো। শেখ মুজিবকে হত্যার অনেক বছর পর অপরাধীদের বিচার হয়েছিলো। নব্য রাজাকারদেরও বিচার হবে। হবেই।

এই দেশ আমাদের।
এই দেশে আনন্দ নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য আমাদের সবার গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা পালন করতে হবে। এমনিতেই আমরা উন্নত দেশের তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছি। আমাদের দুঃখ দুর্দশার জন্য দায়ী দেশের কুসন্তানেরা। এরা জাতিকে সামনের দিকে নিতে দিচ্ছে না। জাতির জন্য মাদ্রাসা আজ অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা ভুল শিক্ষা। মাদ্রাসা শিক্ষা দিয়ে জাতি কি করে এগোবে? স্কুলের সংখ্যার চেয়ে মাদ্রাসা সংখ্যা বেশি। লাইব্রেরীর চেয়ে মসজিদের সংখ্যা বেশি। গাছের চেয়ে আগাছার সংখ্যা বেশি। শেখ হাসিনা না থাকাতে ৭১ এর পরাজিত শক্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এরা জাতিকে শেষ করে দিতে চায়। চারপাশ দেখে শুনে দেশের মানুষ আজ ভালো নেই। স্বাধীনতাকামী মানুষেরা ভালো নেই। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকেরা ভালো নেই। তবে আমরা আশাবাদী। শেখ হাসিনা রাজাকারদের বিচার করেছেন, নব্য রাজাকারদেরও বিচার হবে। এই জামাত শিবির আবার গর্তে লুকাবে। কবি বলেছেন, দেরী হোক যায়নি সময়। এইসব নব্যরাজাকারদের বিচার হবেই। এই দেশ আমাদের। ৭১ এর পরাজিতদের না। জয় বাংলা।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মে, ২০২৫ দুপুর ২:৩৭
১১টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেঁচে থাকাই পরম বিস্ময়

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩


পথেঘাটে ঘুরিফিরি, যেকোনো সময়
পটল তুলতে পারি গাড়ির ধাক্কায়।
মাঝেমধ্যে থাকি এমনও আশঙ্কায়,
নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়ে
মাথা ফেটে রক্তক্ষরণে প্রাণটা যায়!
এমন পরিণতিতে লোকে দুঃখ করে।
গাড়ি, ট্রেন, প্লেন, হয়তোবা ইস্টিমার
দুর্ঘটনায় প্রাণটা চলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মা'কে লেখা প্রীতিলতার শেষ চিঠি

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৯




আমায় তুমি পিছু ডেকো না'গো মা
আমার ফেরা সম্ভব  না।
দেশ মাতৃকায় উৎসর্গিতা আমি
আমি তো সেই ক্ষণজন্মা! 

আমায় তুমি আশীর্বাদ করো মা,
মোছো তোমার চোখের জল।
নিপীড়িতদের আর্তনাদ শুনছো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-২)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ২:০৮



সূরাঃ ২ বাকারা, ২১ নং আয়াতের অনুবাদ-
২১। হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা তোমোদের সেই রবের ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা মোত্তাকী হও।

সূরাঃ ২... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিনাশ গ্রহাণুপুঞ্জের অধিবাসী - সাইন্স ফিকশন

লিখেছেন আরাফাত৫২৯, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১০




১/
বিজ্ঞান একাডেমির প্রধাণ মহামতি গ্রাহাম উনার অফিসের বিশাল জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সময়টা প্রায় শেষ বিকেল। সন্ধ্যার রক্তিম আভা দূর আকাশে দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে পুরো আকাশটাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৪

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মসজিদে ইমামতি করা, আযান দেয়া, কুরআন শিক্ষাদান করা কিংবা সাধারণভাবে দ্বীন প্রচারের কাজে বিনিময়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×