somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

প্রিয় কন্যা আমার- ৭৮

২৬ শে জুন, ২০২৫ দুপুর ১২:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রিয় কন্যা আমার-
তোমার প্রায় একমাস স্কুল বন্ধ। তুমি অত্যন্ত সফলতার সাথে প্লে-গ্রুপ থেকে পাশ করে নার্সারীতে উঠেছো। তুমি একটা বুদ্ধিমতি মেয়ে। স্মার্ট এবং আধুনিক। কথাবার্তা চালচলনে তুমি ভালো। যথেষ্ঠ মানবিক। তোমাকে যত দেখি, তত মুগ্ধ হই। মাঝে মাঝে আমি অবাক হয়ে তোমার দিকে তাকিয়ে থাকি, ভাবি এটা আমার মেয়ে!! এই মেয়েটা আমার!! আমার গর্ব হয়। আনন্দ হয়। আমি এবং তোমার মা- তোমার মতো বয়সে এত চালাক চতুর ছিলাম না। ছোটবেলা থেকেই আমি তোমাকে বাজারে নিয়ে গেছি, বড় শপিংমলে নিয়ে গেছি, রিকশায় উঠিয়েছি, ব্যস্ত রাস্তায় নিয়ে ভিড়ের মধ্যে তোমাকে ছেড়ে দিয়েছি, লোকাল বাসে উঠিয়েছি। ফুটপাতে একা ছেড়ে দিয়েছি। যেন সব অবস্থায় তুমি মানিয়ে নিতে পারো। ভয় যেন না পাও। বলা যেতে পারে তোমাকে ট্রেনিং দিয়েছি। কিন্তু তুমি টের পাওনি।

ফারাজা তাবাসসুম খান-
মাঝে মাঝে তুমি দুপুরে আমাকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করো- বাবা খেয়েছো? মাত্র দুটা শব্দ- বাবা খেয়েছো? আমার অনেক ভালো লাগে। একসময় তোমার মা জিজ্ঞেস করতো খেয়েছো? আজকাল জিজ্ঞেস করে না। হয়তো তুমি জানতে চাও বলেই, তোমার মা জানতে চায় না। অবশ্য এজন্য আমার কোনো রাগ নেই। কারন সারাদিন তোমার মা সংসারের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তোমার মায়ের বেশির ভাগ সময় তুমিই নিয়ে নাও। সকালের নাস্তা তুমি একা খাও। কিন্তু দুপুর ও রাতে তোমাকে খাইয়ে দেওয়া হয়। তোমাকে খাওয়াতে অনেক সময় লাগে। খাবার মুখে নিয়ে তুমি বসে থাকো। এই ঘর থেকে ওই ঘরে চলে যাও, টিভি দেখো। একটু পর-পর তোমাকে মনে করিয়ে দিতে হয়, মুখের খাবার শেষ করো। চাবাও। আমি মাঝে মাঝে তোমাকে খাইয়ে দেই। তখন তুমি তালবাহানা কম করো।

প্রিয় কন্যা আমার-
শামীম আপা মারা গেলেন। আমার খালাতো বোন। তার ক্যান্সার হয়েছিলো। শামীম আপার মৃত্যু তোমাকে ভাবিয়েছে। এই প্রথম তুমি মৃত্যু সম্পর্কে জানলে। হয়তো কিছুটা বুঝতেও পেরেছো। কারন তোমার মা তোমাকে নিয়ে হাসপাতালে গেছে শামীম আপাকে দেখতে। অনেক লোকজন এসেছে, তারা শামীম আপাকে নিয়ে কথা বলেছে, তুমি তাদের কথা শুনেছো। একদিন তুমি মন খারাপ করে আমায় বললে, বাবা তুমি মরে যেও না। আমি মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি- মেয়ের ভীষন মন খারাপ। তার চোখে প্রায় পানি চলে এসেছে। শামীর আপা মৃত্যুর সাত দিন পর। রাতের খাওয়া দাওয়া শেষ। আমরা বিছানায়। ঘুমাবো। ঘরের লাইট বন্ধ। হঠাত তুমি বলল- বাবা, মা তোমরা মরে যেও না। প্লীজ। ফাজ্জা মানুষের মৃত্যু হবেই। মৃত্যু থেকে কেউ বাচতে পারবে না। তবে আমরা জানি না, কার কখন মৃত্যু হবে!

ফারাজা তাবাসসুম-
আজকাল তুমি খুব বেশি প্রশ্ন করো। কঠিন সব প্রশ্ন। অবশ্য উত্তর আমার জানা। সেই উত্তর তোমাকে বললে তুমি কিছুই বুঝবে না। তুমি অনেক ছোট। মাত্র সাড়ে চার বছর। সেদিন তুমি প্রশ্ন করলে- বাবা মানুষ মারা যায় কেন? তুমিও কি মরে যাবে বাবা? আল্লাহ দেখতে কেমন বাবা? আল্লাহ কোথায় থাকে বাবা? একটা বাচ্চা মেয়েকে এই প্রশ্নের উত্তর কি দিবো আমি? সেদিন তুমি বললে, বাবা মশারা রক্ত খায় কেন? গতকাল রাতে তুমি বললে, বাবা তোমার বাবা নেই। আর মায়ের মা নেই। তারা দুজন মরে গেছে। একজন আমার দাদা, একজন আমার নানু। ফারাজা, আমার ধারনা তুমি অন্য সবার মতো হবে না। তুমি অন্য সবার থেকে আলাদা হবে। জ্ঞানে, ব্যবহারে, মানসিকতায়, মহত্বে, শিক্ষায় এবং ভালোবাসায়। ফারাজা মাঝে মাঝে তুমি আমার মাসে মজা করো। তুমি আমাকে সব সময় 'বাবা' 'বাবা' বলে ডাকো। সেদিন হঠাত 'আব্বু' 'আব্বু' বলে ডাকলে। আর খিলখিল করে হাসো।

ফাজ্জা প্রিয় কন্যা আমার-
দেশের পরিস্থির কথা কিছু বলতে চাই। ইসরায়েল আর ইরান যুদ্ধ শুরু করেছে। ভয়াবহ যুদ্ধ! এখন তো আদি যুগের মতো তীর আর তরোয়াল দিয়ে যুদ্ধ হয় না। যুদ্ধ হয় বোমা দিয়ে। এদিকে গাজা শেষ করে দিয়েছে ইসরায়েল। যুদ্ধ খুবই ডেঞ্জারাস। আমাদের দেশে ১৯৭১ সালে নয় মাস যুদ্ধ হয়েছিলো। লাখ লাখ মানুষ মারা গেছে। এখন আমাদের দেশে সরকার প্রধান হচ্ছেন ইউনুস। উনি নোবেল পুরস্কার প্রাপ্ত মানুষ। উনার সময়ে শেখ মুজিবের ৩২ নম্বর বাড়ি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ইহা অত্যন্ত দুঃখজনক। ইদানিং আরেক কাহিনি শুরু হয়েছে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া। যার নাম মব। মব সৃষ্টি করে মানুষকে মারা হচ্ছে। জুতার মালা পড়ানো হচ্ছে। মেরে আধমরা করে পুলিশের কাছে দেওয়া হচ্ছে। কি ভয়াবহ চিন্তা করো!


সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুন, ২০২৫ দুপুর ১২:৫৬
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্বাধীনতা বলতে আপনি কি বুঝেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৩


২০২৩ সালের কথা। আমরা কয়েকজন মিলে অনলাইনে একজন ইংরেজি স্যারের কাছে কোর্সে ভর্তি হয়েছিলাম। একদিন ক্লাস চলছে, স্যার হঠাৎ বই থেকে মুখ তুলে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা ছোটবেলায় যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৪

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১৪



বিশেষ দিন গুলো শাহেদ জামালের জন্য কষ্টকর।
যেমন ইদের দিন শাহেদ কোথায় যাবে? কার কাছে যাবে? তার তো কেউ নেই। এমনকি বন্ধুবান্ধবও নেই। তার এমন'ই পোড়া কপাল মেসেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই যে জীবন

লিখেছেন সামিয়া, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:২৪



এই যে আমার জীবনে কিছুই করা হলোনা, সেটা নিয়ে এখন আর খুব বড় কোনো আফসোস করি না। জীবন আসলে নিজের মতোই চলতে থাকে। সকালে ঘুম থেকে উঠি, রান্নাঘরে গিয়ে চায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব পাঠ

লিখেছেন আবু সিদ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

I. পড়ার সাধারণ অর্থ
সাধারণভাবে, পড়া বা Reading হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন দেখে তার অর্থ উদ্ধার করার উপায়। পড়া কেবল শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং লেখার বিষয়বস্তুর সাথে নিজের চিন্তার যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×