somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

প্রিয় কন্যা আমার- ৭৯

০৬ ই জুলাই, ২০২৫ রাত ৯:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




প্রিয় কন্যা আমার-
এই মুহুর্তে আমি আয়াত বাসে। বাস থামবে একদম বাসার কাছে। বাসায় গিয়ে দেখিব তুমি নেই। তোমার মা নেই। তোমার স্কুল বন্ধ। তাই তোমার মা তোমাকে নিয়ে গেছে তোমার নানা বাড়ি। তোমার নানা বাড়ি কাছেই। দূরত্ব খুব বেশি নয়। তোমার নানা বাড়ি যেতে আমার লজ্জা করে। অথচ দেখো তোমার মায়ের সাথে আমার বিয়ে হয়েছে অনেক বছর হয়ে গেছে। তোমার নানা বাড়িতে মানুষ মাত্র দুইজন। তোমার নানা আর ছোট মামা। বাকি সবাই বিদেশ। হয়তো একদিন তোমার ছোট মামাও বিদেশ চলে যাবে। ফাজ্জা, তুমি তোমার ছোট মামাকে মামু বলে ডাকো। কিন্তু বড় মামাকে মামু ডাকো না। মামা ডাকো।

ফারাজা তাবাসসুম খান-
আমি দুই একদিনের মধ্যে তোমার নানা বাড়ি যাবো। তোমাকে নিয়ে বাইরে কোথাও বেড়াতে যাবো। চিড়িয়াখানা যেতে পারি, তূরাগ নদীতে নৌকায় উঠতে পারি। অথবা যেতে পারি আহসান মঞ্জিল। সারাদিন তুমি আমি খুব ঘুরে বেড়াবো। ক্ষুধা পেলে রেস্টুরেন্ট থেকে কিছু খেয়ে নিবো। রেস্টুরেন্টে খেতে তুমি পছন্দ করো। তোমার মা-ও রেস্টুরেন্টে খেতে পছন্দ করে। একসময় তোমার মা আর আমি প্রতি সপ্তাহে একদিন বড় রেস্টুরেন্টে ডিনার করতাম। কারন ছাড়াই রিকশা করে ঘুরে বেড়াতাম। তখন অবশ্য তুমি ছিলে না। তোমার জন্মের পর আমাদের জীবন যাপন অনেকখানি বদলে গেছে।

প্রিয় কন্যা আমার-
আজ মহরম। মহরম কি জানো? বুঝো? সব কিছু জানার জন্য, বুঝার জন্য তোমাকে পড়তে হবে। পড়লেই সব জানতে পারবে, বুঝতে পারিবে। পড়া এবং জানা, সুন্দর ভাবে জীবনযাপনে জন্য খুব দরকার। মানুষ যখন কথা বলে, কিছু বাড়িয়ে বলে, কিছু কমিয়ে বলে। কারণ মানুষ নিরপেক্ষ নয়। এজন্য মহান সত্য জানতে ও বুঝতে পড়তে হয়। তুমি পড়বে, প্রচুর পড়বে। পড়ার চেয়ে, জানার চেয়ে সুন্দর আর কি আছে! এই যে আমি সময় সুযোগ হলেই পড়ি। তুমিও পড়ো। পড়াশোনা করেই তোমাকে জীবনে দক্ষ ও যোগ্য হতে হবে। এছাড়া অন্য কোনো অপশন নেই। সফলতা আপনাআপনি আসে না। অর্জন করে নিতে হয়। কর্মে, কথায় এবং জীবন যাপনে সৎ থাকাটা ভীষণ জরুরী। সৎ মানুষের সাহস এবং আত্মবিশ্বাস বেশি থাকে।

ফারাজা, প্রিয় কন্যা আমার-
আমি মাঝে মাঝে ভাবি তুমি বড় হয়ে কি হবে? ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার? চাকরিজীবি? নাকি বিয়ে করে শুধু ঘরসংসার করবে? তোমার মা অনেক লেখাপড়া করেছে। কিন্তু তার লেখাপড়া দেশ বা সমাজের কোনো কাজে এলো না। সে চাকরি করলো না, বিজনেসও করলো না। ঘরসংসার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। ফাজ্জা, তুমি তোমার মায়ের মতো করো না। অবশ্যই তোমাকে চাকরি বা বিজনেস করতে হবে। টাকা ইনকাম করতে হবে। প্রচুর টাকা ইনকাম করবে, দুই হাতে খরচ করবে। কখনো কৃপনতা করবে না। নো নেভার।

ফারাজা কন্যা আমার-
ফারাজা তুমি বড় হয়ে যা হবার হও। আমি জোর করে আমার ইচ্ছা তোমার উপর চাপিয়ে দিবো না। তোমার ব্যাপক স্বাধীনতা আছে। তুমি যত বড় হবে, তত উপলব্ধি করবে, তোমার বাবা অন্যসব বাবার মতো নয়। সেদিন বড় অদ্ভুত একটা স্বপ্ন দেখেছি, তুমি বড় হয়ে গেছো। আমি বুড়ো হয়ে গেছি। আমার শরীর খারাপ করেছে। তুমি আমার প্রেসার মেপে দিলে, ডায়বেটিস পরীক্ষা করলে। এবং আমাকে ওষুধ দিলে। স্বপ্নে তুমি ডাক্তার! স্বপ্নটা দেখে বড় ভালো লেগেছে। আজ লেখা এখানেই শেষ করছি।

প্রিয় কন্যা আমার-
ছুটির দিন বলে আজ রাস্তায় যানজট নেই। বাস অলরেডি ফার্মগেট চলে এসেছে। আমি জানালার পাশে বসেছি। জানালা খোলা। হুহু করে বাতাস আসছে। আর আমি তোমাকে নিয়ে লিখছি। তোমার জন্য লিখছি। বড় ভালো লাগে। পড়তে এবং লিখতে আমি কখনো ক্লান্তি বোধ করি না। Piku নামের একটা ইন্ডিয়ান মুভি আছে। মুভিটা আমি প্রায়ই দেখি। সুন্দর মুভি। কাহিনি সহজ সরল। জটিলতা কুটিলতা মুক্ত। বাবা এবং মেয়ের গল্প। সেদিন এই মুভিটা দেখছিলাম, তুমি এসে বললে, বাবা এই মুভিটা তো তুমি আগে দেখেছো!

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুলাই, ২০২৫ রাত ৯:১৯
১০টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুসা নবীর পাতা খেয়ে সুস্থ্য হওয়া সম্পর্কিত হাদিসটি ২৫টি হাদিসগ্রন্থে নেই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৭

আমি গতকাল হযরত মুসা (আ) গাছের পাতা খেয়ে সুস্থ্য হওয়া সম্পর্কে একটি হাদিস উল্লেখ করেছিলাম। এটা ব্লগার নতুন চ্যালেঞ্জ করেন। আমি এরপরে সিহাহ সিত্তাহ-এঁর ৬টি হাদিসগ্রন্থ-সহ ২৫টি হাদিসগ্রন্থ থেকে 'কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাতানো নির্বাচনে বিএনপিকে কিভাবে ক্ষমতায় বসানো হল-(১) অথচ দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনের পর চাওয়া ছিল একটি সুষ্ঠ নির্বাচন।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:২১

১/ ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভিতরে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। অর্থাৎ মানুষকে ফোন বাসায় রেখে আসতে হবে। কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার পক্ষপাতিত্ব করলে কেউ রেকর্ডও করতে পারবে না। কেন্দ্রে কোন অনিয়ম, জালভোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

শের

লিখেছেন এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৯


তিন শ' তিন
মুমিন তো নই, তবু খোদা টিকিয়ে রেখেছে!
প্রেমিক তো নই, তবু প্রেম বিকিয়ে রেখেছে!

তিন শ' চার

ভীষণ একাকী আমি, অপেক্ষায় কেটে যায় বেলা।
হতাশার মাঝে শুধু, পাশে আছে তার অবহেলা ! ...বাকিটুকু পড়ুন

কলেজ ও ভার্সিটির তরুণরা কেন ধর্মের দিকে ঝুঁকছে? করনীয় পথ নকশাটাই বা কী?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬


ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র

অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের কুয়াশায় ঢেকে গেছে কাল
শিক্ষা, কর্ম, সম্পর্ক সবই আজ প্রশ্নবিদ্ধ
কোথায় জীবনের মানে মন দ্বিধাবদ্ধ।

এই দোলাচলে ধর্ম দেয় দৃঢ় পরিচয়
উদ্দেশ্য, শৃঙ্খলা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঠাকুর ঘরের কে? কলা আমি খাই নি ! :D

লিখেছেন অপু তানভীর, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:১০



''শেকল ভাঙার পদযাত্রার'' যাত্রা শুরু ২০২০ সাল থেকে। নারী বৈষম্য ধর্ষণের মত অপরাধগুলোর বিরুদ্ধে তারা এই পদযাত্রা করে থাকে। নানান দাবী নিয়ে তারা এই পদযাত্র করে থাকে। এর আগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×