somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

জামাতের ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভবনা কত %?

২১ শে নভেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৫:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



জামাত অলরেডি ক্ষমতায়ই আছে।
শেখ হাসিনা চলে যাবার পর দেশ জামাতের হাতেই রয়েছে। ইউনুস গ্যাং যা করছে জামাতের কথা মতোই করছে। আমরা সিনেমাতে দেখি- ভিলেন নায়কের বাবা মা আর প্রেমিকার মাথায় পিস্তল ধরে আছে। নায়ক কথা না শুনলে পিতা মাতা আর প্রেমিকাকে গুলি করা হবে। তখন নায়কের দিশেহারা অবস্থা। নায়ক একের পর এক মন্দ কাজ করতে থাকে। মানুষ তখন অবাক হয়ে যায়! আসলে নায়কের কোনো দোষ নেই। মন্দ কাজ করতে নায়ককে বাধ্য করা হয়েছে। ইউনুস গং এর বর্তমান অবস্থা হয়তো অনেকটা এরকম। ইউনুস গং জামাতের কথা মতো কাজ করে যাচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত সরকার শুধু মাত্র পুতুলের মতো কাজ করে যাচ্ছে। বন্দুক হাতে জামাত। কথা না শুনলেই ঠুশ। অর্থ্যাত গুলি। জামাতকে সমীহ না করেও উপায় নাই। তারা দেশ থেকে আওয়ামীলীগকে তাড়িয়েছে। এখন তাদের কথা না শুনে উপায় নাই। সাজা প্রাপ্ত দাগী আসামীদের কারাগার থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

হ্যা নির্বাচন হবে ফ্রেরুয়ারীতে। কথা সত্য।
সেই নির্বাচনে ক্ষমতায় আসবে জামাত। এটা প্রায় নিশ্চিত। কারন বিএনপি কোমর সোজা করে দাঁড়ালেও তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই। তারেক সাহেব দেশে ফিরছেন না। তারেক সাহেব ভালো করেই জানেন, তার নামে সব মামলা খালাস হয়নি। অলরেডি কয়েকটা মামলার ওয়ারেন্ট বের হয়ে গেছে। তারেক সাহেব দেশে ফিরলেই তাকে কারাগারে যেতে হবে। এটা জামতের চাল। অনেক আগে থেকেই ঠিক করা। জামাত ইচ্ছা করেই তারেক সাহেবের সব মামলা খারিজ করে নাই। স্বাধীনতার পর এবং শেখ মুজিবের হত্যার পর থেকেই জামাত নানান রকম কুট কৌশল করে যাচ্ছে। তারা সফল হতে পারেনি। কিন্তু এবার তারা কৌশলে এগিয়ে গেছে। দাবার চালে তারা এগিয়ে। অলরেডি মহিলারা শহরে গ্রামে গিয়ে লোকদের বুঝাচ্ছে, জামাত মানে আল্লাহর দল। জামাতে ভোট দিলে সওয়াব। মুসলিমরা সওয়াবের কাঙ্গাল। বেহেশতের পাগল। তবে আশার কথা হচ্ছে- মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক হাত গুটিয়ে বসে থাকিবে না।

জামাত কতটা শক্তিশালী বুঝুন-
আওয়ামীলীগের মতো দলকে দেশ ছাড়া করে দিয়েছে। হাসিনার ফাঁসির রায় দিয়ে দিয়েছে। দেশে আওয়ামীলীগের সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। এখন রাস্তায় আওয়ামীলীগ করা লোকজন পেলে গন ধোলাই দিচ্ছে। ৩২ নম্বর গুড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের সব কারাগারে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী দিয়ে ভরা। অর্থ্যাত জামাত আওয়ামীলীগের কোমর ভেঙ্গে দিয়েছে। একসময় আওয়ামীলীগ বিএনপির কোমর ভেঙ্গে দিয়েছিলো। দেশের লোকজন ধরেই নিয়েছিলো- আমৃত্যু শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকবেন। দ্বিতীয় অপশন তো কিছু ছিলো না। আওয়ামীলীগের বিকল্প তো কিছু ছিলো না। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিলো বছরের পর বছর শুধু দূর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো। দেশে আহামরি কোনো উন্নয়ন হয়নি। দেশের আধুনিক ও শিক্ষিত মানুষরা মনে করেন জামাতের চেয়ে বিএনপি ভালো। অন্তত দেশ ১৪০০ শ' বছর আগের নিয়ম কানুনে চলবে না।

তবে আওয়ামীলীগের লোকজন দূর্নীতি করলেও-
দেশের উন্নয়ন অব্যহত ছিলো। দেশে রাস্তাঘাট, কলকারখানা প্রচুর হয়েছিলো। তাহলে আওয়ামীলীগের ভুল কি ছিলো? শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নে মন দিতে গিয়ে জামাতের দিকে খেয়াল রাখেন নাই। সেই সুযোগে জামাত তলে তলে নীল নকশা করেছে। এই নীল নকশায় আওয়ামীলীগ ধরাশায়ী হয়েছে। আওয়ামীলীগ এতটাই বেখাল হয়ে পড়েছিলো যে, তাদের দলের মধ্যে জামাত ঢুকে পড়েছে। বসার ঘরে, শোয়ার রুমে। ছাত্রলীগে ঢুকেছে, যুবলীগে ঢুকেছে, সচিবালয়ে ঢুকেছে, পুলিশে ঢুকেছে, আর্মিতে ঢুকেছে- সব জায়গায় জামাত তাদের লোক ঢুকিয়ে দিয়েছে। যেখানেই যাই- সব জামাতের প্রোডাক্ট। আওয়ামীলীগ সেদিকে ফিরেও তাকায়নি। খেয়াল করেনি। জামাত আওয়ামীলীগের বারোটা বাজিয়েছে। Survival of the fittest. আওয়ামীলীগে মাটিতে শুইয়ে দিয়েছে। আওয়ামীলীগের কবর রচনা করে দিয়েছে জামাত। তবে ৩২ নম্বর আবার আবার উঠবে। জামাতের একদিন আবার বিচার হবে। দেরী হোক যায়নি সময়।

এখন জামাত ক্ষমতায় এলো বলে।
নির্বাচন হলেই জামাত ক্ষমতায় এসে যাবে। তারপর দেশের মানুষের খবর আছে। অসংখ্য মেয়েকে দোররা মারা হবে। মেয়েদের লেখাপড়া স্কুল পর্যন্তই হবে। জাস্ট আফগান। আমাদের দেশটা হবে আফগান। অলরেডি আমাদের হুজুরেরা আফগান গিয়ে ট্রেনিং নিয়ে এসেছে। ধর্ম যেমন নারীদের কোনঠাসা করে রেখেছে, তেমনি পুরো দেশকে কোনটাহসা করে রাখবে জামাত। জামাত ক্ষমতায় এলে দেশ পরিচালনা করবে পাকিস্তান। সেই ৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে দুই ভাই (জামাত এবং পাকিস্তান) মরিয়া। জামাত ক্ষমতায় আসার পরই দেশের জনগনকে মনে করবে দাস। দাসের সাথে কেউ ভালো ব্যবহার করে না। সৌদিতে দেখেছি, শেখ'রা আচকান পড়ে মাথায় গোল কালো দড়ি পেচিয়ে রাখে। কারো উপর রাগ হলেই মাথার কালো দড়িটা দিয়ে মারতে শুরু করে। জামাত ক্ষমতায় এলেও এক, দুই বছরের বেশি সময় থাকতে পারবে না। ফজলুর রহমান, অনেকে ফজু পাগলা বলে। এই লোকের সাহস আছে। বুদ্ধি আছে। লজিক আছে। এরকম মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অনেক লোক আছে, তারা একদিন জামাতকে দাবড়ানি দেবে।

আওয়ামীলীগ একদিন ক্ষমতায় আসবে।
৩২ নম্বর ভাঙ্গার বিচার করবে, থানায় আগুন এবং পুলিশ হত্যার বিচার করবে, গোপালগঞ্জ গিয়ে মুজিব মুর্দাবাদ বলার বিচার করবে, শেখ মুজিবের ভাস্কর্যে মুতে দেওয়ার বিচার করবে, আগুন-জ্বালাও পোড়াও এর বিচার করবে। আওয়ামীলীগ ছাড়া এসব বিচার আর কেউ করতে পারবে না। আওয়ামীলীগের বিচার করার অভ্যাস আছে। তারা রাজাকারদের বিচার করেছে, শেখ মুজিবের হত্যার বিচার করেছে। জঙ্গীদের ধরেছে। থামিয়েছে। জামাত এলেই পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় মহল্লায় জঙ্গী তৈরি হবে। জঙ্গীরা জিহাদ করবে। দুষ্ট পুরুষেরা ধর্মের দোহাই দিয়ে একের পর এক বিয়ে করবে। জামাত তাদের বিয়ে করার জন্য আশকারা দেবে। যেসব মহিলারা হিজাব বোরখা পরে না, তাদের হিজাব বোরকা পড়তেই হবে। নইলে দোররা। হুজুরেরা নিজেদের সুখ বিলাসের জন্য বান্দী দাসী রাখবেন। জামাতের সাথে লড়ে বিএনপি পারিবে না। বিএনপিকে ঠান্ডা মাথায় কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে আওয়ামীলীগের কাছ থেকে বুদ্ধি নিতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে নভেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৫:০৮
১৩টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্বাধীনতা বলতে আপনি কি বুঝেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৩


২০২৩ সালের কথা। আমরা কয়েকজন মিলে অনলাইনে একজন ইংরেজি স্যারের কাছে কোর্সে ভর্তি হয়েছিলাম। একদিন ক্লাস চলছে, স্যার হঠাৎ বই থেকে মুখ তুলে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা ছোটবেলায় যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৪

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১৪



বিশেষ দিন গুলো শাহেদ জামালের জন্য কষ্টকর।
যেমন ইদের দিন শাহেদ কোথায় যাবে? কার কাছে যাবে? তার তো কেউ নেই। এমনকি বন্ধুবান্ধবও নেই। তার এমন'ই পোড়া কপাল মেসেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই যে জীবন

লিখেছেন সামিয়া, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:২৪



এই যে আমার জীবনে কিছুই করা হলোনা, সেটা নিয়ে এখন আর খুব বড় কোনো আফসোস করি না। জীবন আসলে নিজের মতোই চলতে থাকে। সকালে ঘুম থেকে উঠি, রান্নাঘরে গিয়ে চায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব পাঠ

লিখেছেন আবু সিদ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

I. পড়ার সাধারণ অর্থ
সাধারণভাবে, পড়া বা Reading হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন দেখে তার অর্থ উদ্ধার করার উপায়। পড়া কেবল শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং লেখার বিষয়বস্তুর সাথে নিজের চিন্তার যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×