
''ওশোকে একজন মৃত্যুর ভয় নিয়ে প্রশ্ন করলো।
ওশো বলেন, তোমরা তো মৃত, এজন্য মৃত্যুকে ভয় পাও।
যে জীবিত, যে জীবনের স্বাদ পেয়েছে সে জানে মৃত্যু একটি ভ্রান্তি।
জীবন'ই সত্য, জীবনই অনন্ত। তাই মৃত্যু নিয়ে অযথা ভীত না হয়ে বেঁচে ওঠার ট্রাই করো।
পরিপূর্ণ ভাবে বাঁচো, তাহলেই মৃত্যু নিয়ে কোন ভয় থাকবে না। মৃত্যুকে তো ভয় পায় যারা বাঁচতে জানে না তারা।''
ভারতের পুনেতে অবস্থিত ওশো আশ্রম।
একজন ভারতীয় ধর্মগুরু যার নাম রাজনীশ। তাকে সবাই চিনে 'ওশো' নামে। ওশো ধ্যানের উপর খুব গুরুত্ব দেন। ওশো বিশাল এক জনগোষ্ঠিকে তার দিকে টেনে নিতে পেরেছেন। ধর্ম গুরুদের কি অলৌকিক ক্ষমতা থাকে? ওশো ডাইনামিক মেডিটেশন নামে ধ্যান করার একটা পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। তার অনুসারিরা এজন্য চুম্বকের মতো তার দিকে ছুটে আসে। ওশো'র মৃত্যু হয় ১৯৯০ সালে। জন্ম ১৯৩১ সালে। ওশো অর্থ্যাত রজনীশ মানে রজনীর ঈশ্বর। অর্থাৎ কলির অবতার। ওশো রজনীশ তাই একজন সফল জাদুকর। হ্যা তাকে যাদুকর বলা যেতে পারে। পৃথিবীর সেরা সেরা ধনীরা তাঁর শিষ্য-শিষ্যা। যখন তাঁকে প্রশ্ন করা হতো, তাঁর ভক্তরা ধনী কেন? তাঁর সপাট উত্তর, সব মহাপুরুষ গরীবদের উদ্ধারের জন্য এসেছেন, আমি না হয় ধনীদের উদ্ধারের জন্যই রইলাম। ওশো'র দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু হলো- ধ্যান। শুধু ধ্যান। ধ্যান মানুষকে সব মন্দ থেকে দূরে রাখে।
ওশো ধর্মীয় গোড়ামি পছন্দ করেন না।
ওশো সারা ভারত ঘুরে বেড়িয়েছেন। দেখেছেন, সব জায়গায় ধর্মীয় গোড়ামি। এই ধর্মীয় গোড়ামির অবসান নেই। যুগ যুগ ধরে ধর্মীয় গোঁড়ামি অব্যহত আছে'ই। মহাত্মা গান্ধীর চিন্তা ভাবনা ওশো'র পছন্দ ছিলো না। ওশো তার অনুসারীদের নিজে দীক্ষা দিয়েছেন। ১৯৭৪ সালে ওশো'র নামে একটা আশ্রম প্রতিষ্ঠিত হয়। ওশো বেশ কিছু কবিতা লিখেছেন। ওশো'র নামে অনেক বদনাম আছে। মিউজিকের তালে তালে সবাই ধ্যান করতো। ধ্যান করার পর নর নারী চলে যেতো আবদ্ধ কক্ষে। তারপর চলতো সেক্স। অনেকেই ওশো'কে বলতেন- সেক্স গুরু। অনেক নারী ওশো'র জন্য পাগল ছিলো। শীলা নামের এক মেয়ের সাথে ওশোর গভীর সম্পর্ক ছিলো। গভীর প্রেম বলা যেতে পারে। যদিও ওশোকে খুব দুঃখ দেন শীলা। ওশো এবং শীলা কাহিনী অনেক দূর গড়ায়। শীলাকে কারাগারে যেতে হয়েছিলো। এই শীলা আমেরিকাতে লেখাপড়া করেন। ওশো আমেরিকা যায়। তারপর শীলা তার স্বামীকে ছেড়ে ওশো'র জন্য পাগল হয়ে যায়। ওশো আমেরিকাতে অনেক জনপ্রিয়তা পেয়ে যায়।
তথ্যচিত্র 'ওয়াইল্ড ওয়াইল্ড কান্ট্রি' দেখলে অনেক কিছু জানা যাবে।
ভারতের করন জোহার তৈরি করেন, 'সার্চিং ফর শীলা'। ওশো বলেছেন, জীবন কোনো সমস্যা নয়, বরং এটি একটি রহস্য, যা উপভোগ করতে হয়। ওশো বলেছেন, মুসলীমরা বিশ্বাস করে যদি তুমি ধর্ম যুদ্ধে মৃত্যু বরণ কর তাহলে স্বর্গে যাবে। তাহলে তোমার সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। এবং কোটি কোটি মানুষ মারা যাচ্ছে এবং অপরকে হত্যা করছে আর তুমি ধরে নিচ্ছ তা সত্য। ''ধর্ম হচ্ছে মানুষের তৈরি করা সবচেয়ে বড় মিথ্যা।'' ধর্ম নিয়ে এই তির্যক মন্তব্য করার পর ওশো'র জনপ্রিয় অনেক বেড়ে যায়। ১৯৭০-১৯৯০ এই কুড়ি বছর বিশ্বের সকল ধর্মকে এবং আমেরিকাসহ বিশ্বের বড় বড় দেশের সরকারকে নাস্তানাবুদ করে দিয়েছিলেন ভারতের জব্বলপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের প্রাক্তন অধ্যাপক শ্রী চন্দ্রমোহন জৈন ওরফে রজনীশ। ওশো।
"গৌতম বুদ্ধ মানুষের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম পুষ্প।
তাঁর চেয়ে বড় কোনো ফুল আর ফোটেনি।
বুদ্ধ কোনো বিশ্বাস দেন না, তিনি দেন অভিজ্ঞতা। তিনি বলেননি যে আমাকে বিশ্বাস করো,
তিনি বলেছেন- পরীক্ষা করো, অনুভব করো এবং যদি সত্য পাও তবেই গ্রহণ করো।"

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


